নবরত্ন শিব মন্দির, উত্তর চন্দননগর, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া-ব্যাণ্ডেল রেলপথে চন্দননগর ত্রয়োদশতম রেলস্টেশন। রেলপথে হাওড়া থেকে দূরত্ব ৩২.৬ কিমি। চন্দননগর নামটি সম্ভবত 'চন্দ্র নগর' নাম থেকে এসেছে। কেউ কেউ বলেন যে গঙ্গানদী এখানে চন্দ্রাকার বলে প্রথমে 'চন্দ্রনগর' এবং তার থেকে 'চন্দননগর' হয়েছে। আবার অনেকের মতে একসময় এখানে চন্দনকাঠের বড় বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। তা থেকে 'চন্দননগর' নামটির উদ্ভব। এক সময় শহরটি ফরাসীদের অধিকারে থাকার জন্য নাম হয় 'ফরাসডাঙা'।
হুগলি জেলার চন্দননগরের উত্তরে বুড়োশিবতলা পোস্ট অফিসের উত্তরে, কিছুটা দূরে অবস্থিত নবরত্ন শিবমন্দির বিশেষ উল্লেখযোগ্য। মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল আনুমানিক আঠার শতকের দ্বিতীয়ার্ধ। সামান্য উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত শিবমন্দিরটি নবরত্ন শৈলীর। প্রতিটি শিখরের উপরিভাগ রেখদেউল ধরণের আড়াআড়িভাবে খাঁজকাটা। কেদ্রীয় চূড়াটি উঁচু। মন্দিরটির ভিত্তিবেদি মাটিতে অনেকটা বসে গেছে। উত্তরদিকে প্রবেশদ্বারের নিচে এখন একটি মাত্র অর্ধচন্দ্রাকার সিঁড়ি আছে। লেখক প্রণব রায়ের পরিদর্শন কালে ( ১৪ ই অক্টোবর, ১৯৭৭ ) এই সিঁড়ির সংখ্যা ছিল দুই। আগে নাকি এখানে অনেক গুলি সিঁড়ি ছিল। মন্দিরটির পূর্ব ও উত্তর দিকের দেওয়াল 'টেরাকোটা' অলংকরণে অলংকৃত। তবে এই 'টেরাকোটা'র অনেক ফলক নষ্ট হয়ে গেছে। পূর্ব ও উত্তর দিকে একটি করে দরজা। উভয় দিকে তিনটি করে খিলান। মাঝের খিলানদুটির নিচে দরজা। পাশের খিলান দুটির নিচে দুটি করে ভরাট করা দরজা। খিলানগুলির উপরে প্রতীক শিবমন্দির ও তার মধ্যে শিবলিঙ্গ। মন্দিরে 'টেরাকোটা'র বিষয়বস্তু - রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী, বাহকের কাঁধে রাজা বা জমিদারের গমন, বড় ফুল, রাসমণ্ডল, কালী মূর্তি, লতাপাতার নকশা ও ময়ূরের মুখে সাপ ইত্যাদি। দুই সারি কুলুঙ্গির মধ্যে অনেক ছোট ছোট 'টেরাকোটা' মূর্তি আছে। মন্দিরে কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্যপূজিত।
সহায়ক গ্রন্থ :
বাংলার মন্দির, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
![]() |
| নবরত্ন শিবমন্দির, উত্তর চন্দননগর |
![]() |
| মন্দিরের শিখর ( আমার ডান পাশ থেকে ) |
![]() |
| মন্দিরের শিখর ( সামনে থেকে ) |
![]() |
| পূর্বদিকের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১ |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১ক |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১খ |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ২ |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ২ক |
![]() |
| পূর্বদিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ২খ |
![]() |
| মন্দিরের কোনাচ ও কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ |
![]() |
| বড় করে |
![]() |
| বড় করে |
![]() |
| উত্তর দিকের খিলানের উপরের কাজ |
![]() |
| উত্তর দিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১ |
![]() |
| উত্তর দিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১ক |
![]() |
| উত্তর দিকের ভিত্তি বেদি সংলগ্ন কাজ - ১খ |
![]() |
| উত্তর দিকের কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ |
সহায়ক গ্রন্থ :
বাংলার মন্দির, স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।




















কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন