বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৬

Radhaballav Jiu Temple, Serampore, Hooghly District

শ্রীরাধাবল্লভ  জিউ'র  মন্দির,  শ্রীরামপুর,  হুগলি
               শ্যামল  কুমার  ঘোষ 
                                                                              

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৯.০৮.২০১৬ 


রাধাবল্লভ  মন্দির ( পূর্ব  দিক  থেকে তোলা )

রাধাবল্লভ  মন্দির ( পশ্চিম  দিক  থেকে তোলা )

মন্দিরের  শিখর-দেশ

মন্দিরের  কোনাচ

শ্রীরাধাবল্লভ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ

রাধাবল্লভের  পুরানো  মন্দির

মন্দিরের  ভগ্ন  খিলান

রাধাবল্লভের  রাসমঞ্চ

রাসমঞ্চের  শিখর
  


             সাইবনার ( উত্তর  ২৪ পরগণা )  নন্দদুলাল  জিউ  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিঙ্কে  ক্লিক  করুন :
          নন্দদুলাল  জিউ  মন্দির,  সাইবনা, উত্তর  ২৪  পরগণা 

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬

Gopalji Temple, near Siddheshwari Kali Temple, Ambika Kalna, Purba Bardhaman

গোপালজী  মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মন্দিরের  কাছে, অম্বিকা কালনা, বর্ধমান 

            শ্যামল কুমার  ঘোষ 

            অম্বিকা  কালনায়  সিদ্ধেশ্বরী  মন্দিরের  মোড়ের  কাছে  গোপালজীর  সুদৃশ্য  পঁচিশচূড়া  মন্দির  অবস্থিত।  এটি  কালনার  তিনটি  পঁচিশচূড়া  মন্দিরের  একটি।  মন্দিরের  গর্ভগৃহের  সামনের  দেওয়ালের  উপরে  পাথরের  ফলকে  সাত  সারির  একটি  সংস্কৃত  লিপি  আছে।  কিন্তু   লিপিটির  উপর  রঙের  প্রলেপ  দেওয়াতে  লিপিটির  পাঠ  সহজসাধ্য  হলেও  অক্ষরের  ছাঁদ  ভিন্ন  ধরনের  হওয়ায়  শুদ্ধ  পাঠ  সম্ভব  নয়।  উদ্ধারীকৃত  লিপিটির  পাঠ  হল  :

         'শুভমস্তু  শকাব্দাঃ  ১৬৮৮
         শাকাব্দে  শরভাক্তি   রাত্রিপকলা 
         কোটীর মৃক্তজভূসংখ্যে  বাহুজ
         বংশভুকোমলধীঃ  শ্রীকৃষ্ণচন্দ্রঃ
         সুধীঃ।  প্রসাদম্  প্রদদৌ  বিধিয়া  পর
         যা  ভক্ত্যাপরব্রহ্মণে  গোপালায়  সমস্ত 
         বাঙময়  পথাপ্রীতায়  বিশ্বাত্মনে ।।' 

           অর্থাৎ,  ১৬৮৮  শকাব্দে  ( ১৭৬৬ খ্রীষ্টাব্দে )  বাহুজ  বংশভূ  ( ক্ষত্রিয়  বংশজাত )  শুদ্ধবুদ্ধিসম্পন্ন  শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র  নামক  এক  সুধী  গোপালের  নিমিত্ত  এই  মন্দির  নির্মাণ  করেন।  এটি  রাজা  তিলকচন্দ্রের  রাজত্বকালে  প্রতিষ্ঠিত  হয়। 

            মন্দিরটি  পূর্বমুখী,  উচ্চ  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরের  সামনে  রয়েছে  ত্রিখিলান  অলিন্দ।  তার  সামনে  সন্নিবদ্ধ  রয়েছে  একটি  'একবাংলা '  মণ্ডপ।  মণ্ডপটির  মাথায়  লম্বা  একটি  মটকা  বাঁধা  যা  গ্রাম  বাংলার  খোড়ো  চালের  কথা  মনে  করিয়ে  দেয়।

             মন্দিরটির  প্রথম  তলের  ছাদের  চার  কোণে  যে  খাঁজের  সৃষ্টি  হয়েছে  তাতে  তিনটি  করে,  দুটি  চূড়া  সমমাপে  এগোনো,  মাঝেরটা  একটু  পিছানো,  মোট  ১২ টি  চূড়া  স্থাপিত।  তারপর  বেড়  কমিয়ে  খানিকটা  উপরে  অষ্টকোণাকৃতি  ২য়  তল  সৃষ্টি  করা  হয়েছে।  তার  ছাদে  আটকোণে  মোট  ৮ টি  চূড়া।  এরপর  বেড়ের  উচ্চতা  কমিয়ে  ২য়  তলের  চেয়ে  অপেক্ষাকৃত  কম  উচ্চতায়  ৩য়  তল  সৃষ্টি  করা  হয়েছে।  তার  চার  কোণে  ৪ টি  এবং  মাঝে  একটি  বড়  চূড়া।  অর্থাৎ  চূড়াগুলির  সজ্জা  হচ্ছে  ১২+৮+৪+১ ।  মোট  চূড়ার  সংখ্যা  পঁচিশ  এবং  উপরের  তলের  চূড়া  ধরে  মোট  চারতলা।  এই  চূড়াগুলি  চারকোণা  এবং  তাদের  ছাদ  উঁচু-নিচু  কার্নিসের  বিন্যাসে  কিছুটা  পীড়া  শিখরের  অনুরূপ।  

             মন্দিরের  যে  খাঁজ  থেকে   'একবাংলা '  মণ্ডপ  আরাম্ভ  তার  বাইরের  দু  পাশে  টেরাকোটার  কাজ  একতলার   কার্নিস  পর্যন্ত  উঠে  গেছে।  দেওয়ালের  গায়ে  রয়েছে  টেরাকোটার  ফুলকারি  কাজও।  ভাস্কর্যের  ক্ষেত্রে  'কল্পলতা'  বা  'মৃত্যুলতা'কে  দেওয়ালের  কোণে  বা  গায়ে  খাড়াভাবে  লাগানোই  প্রচলিত  রীতি।  এখানেও  তা  একতলার  কার্নিস  পর্যন্ত  উঠে  গেছে।  মন্দিরের  চারটি  দেওয়ালেই  টেরাকোটার  কাজ  আছে।  'কল্পলতা'  বা  'মৃত্যুলতা'  সম্বন্ধে  জানতে  ক্লিক  করুন :  
                 
                          
            স্থাপত্যের  ক্ষেত্রে  এই  গোপালজীর  পঁচিশচূড়া  মন্দির  এক  অনবদ্ধ  পুরাকীর্তি।  এর  সুচারু  খাঁজকাটা  রত্নগুলির  মধ্যে  এক  অপরূপ  সৌন্দর্য  ফুটে  উঠেছে। মন্দিরের  দেওয়ালে  যেসব  টেরাকোটা  ফলক  আছে  তা  খুবই  আকর্ষণীয়।  অবশ্য  সেই  টেরাকোটার  বেশিরভাগই  নষ্ট  হয়ে  গেছে  বা  নষ্ট  হতে  চলেছে।   দেবদেবী  লীলা  তো  আছেই।  সামাজিক  দৃশ্যের  মধ্যে  আছে  যুদ্ধদৃশ্য,  ইউরোপীয়দের  শ্বাপদ  শিকার,  ঢোলবাদক,  ঢাকবাদক,  দণ্ডায়মান  অবস্থায়  সাহেব  ও  এদেশীয়  স্ত্রীলোকের   মিথুনদৃশ্য, হাতির  উপর  মিথুনদৃশ্য  প্রভৃতি।  

            গর্ভগৃহে  রয়েছে  ১ ফুট  ৬  ইঞ্চির ( ৪৬ সেমি ) গোপাল,  দুটি  কৃষ্ণ  ও  দুটি  রাধার  মূর্তি। সদর  দ্বারের  ঢোকার  মুখের  দুপাশে  রয়েছে  দুটি  পশ্চিমমুখী  আটচালা  শিবমন্দির।   

            এখানে  যে  রথের  টান  হতো  তার  নিদর্শন  স্বরূপ  রয়েছে  একটি  ভাঙা  রথ।  তাছাড়া  মন্দিরের  বাইরে  রয়েছে  রাসমঞ্চ।  মন্দিরে  বিগ্রহের  নিত্যপূজা  ছাড়াও  অন্যান্য  উৎসবও  হয়ে  থাকে।


গোপালজী মন্দির, কালনা

মন্দিরের প্রতিষ্ঠালিপি

মন্দিরের দুটি ইমারতি থাম

মন্দিরে একটি খিলানের কাজ

মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটা বিন্যাস- ১

মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটা বিন্যাস- ২

মন্দিরের দেওয়ালে টেরাকোটা বিন্যাস- ৩

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ১

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ২

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ৩

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ৪

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ৫

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ৬

কুলুঙ্গির মধ্যে নিবদ্ধ টেরাকোটা মূর্তি - ৭

মন্দিরের কোণে মৃত্যুলতা

মৃত্যুলতার টেরাকোটা মূর্তি - ১

মৃত্যুলতার টেরাকোটা মূর্তি - ২

মৃত্যুলতার টেরাকোটা মূর্তি - ৩

মৃত্যুলতার টেরাকোটা মূর্তি - ৪

মিথুন মূর্তি - ১

মিথুন মূর্তি - ১

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক  - ১ 

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক - ২

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক - ৩ ( কৃষ্ণ লীলা )


মন্দিরে টেরাকোটার ফলক - ৪

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক - ৫

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক - ৬ ( কৃষ্ণ লীলা )

মন্দিরে টেরাকোটার ফলক  - ১ ( কৃষ্ণ লীলা )


গোপালজী ও অন্যান্য বিগ্রহ

             অম্বিকা  কালনার  এই  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  সকাল  ৮ টা  ৬ মিনিটের  কাটোয়া  লোকাল  বা  হাওড়া  থেকে  কাটোয়া  লোকাল  ধরুন।  ব্যাণ্ডেল  থেকেও  অম্বিকা  কালনা  যাওয়ার  গাড়ি  পাবেন।  স্টেশন  থেকে  রিকশা  বা  টোটোতে  মন্দিরে  পৌঁছে  যান।  নদিয়া  জেলার  শান্তিপুর  থেকেও  গঙ্গা  পেরিয়ে  কালনায়  যেতে  পারেন। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ০৩.০৭.২০১৬


   সহায়ক  গ্রন্থাবলি   :
      ১) কালনা  মহকুমার  প্রত্নতত্ত্ব  ও  ধর্মীয়  সংস্কৃতির  ইতিবৃত্ত  :   বিবেকানন্দ  দাস 
      ২)  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায় 

           -------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



সম্প্রতি প্রকাশনী থেকে বইটি জন্য 'রজতকলম ২০২৬' পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে।




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9836382920 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৬

Ananta Basudeb Temple, near Siddheshwari Temple, Ambika Kalna, Bardhaman

অনন্ত  বাসুদেব  মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী  কালী মন্দির,  অম্বিকা  কালনা, বর্ধমান 

                             শ্যামল কুমার ঘোষ 

            সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মন্দিরের  অদূরে  রাস্তার  বিপরীতে  অনন্ত  বাসুদেব  মন্দির।  উঁচু  ভিত্তি  বেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত  ইঁটের  তৈরি  'আটচালা'  মন্দির।  মন্দিরটি  দক্ষিণমুখী।  মন্দিরটির  সামনের  দেওয়ালের  কার্নিসের  নিচে  কয়েক  সারির  সংস্কৃত  ভাষার  লিপি  :  

                      ' রসাব্ধিরস  চন্দ্রাঙ্কগণিত্যেব্দে  শকাবধি।
                       চক্রে  বৈকুন্ঠনাথস্য  মন্দিরম্  সুমনোহরম্
                       জগদ্রামস্য  মহিষী  কৃত্তিচন্দ্রনৃপ প্রসু 
                       শ্রী  শ্রী  ত্রিলোকচন্দ্রস্য  নৃপতে র্যা  পিতামহী।।'  
   
            অর্থাৎ  রস = ৬,  অব্দি = ৭, রস = ৬, চন্দ্রাঙ্ক = ১ ।  অঙ্কের  বামাগতি  নিয়মানুসারে,  ১৬৭৬  শকাব্দ  বা  ১৭৫৪  খ্রীষ্টাব্দে  জগৎরাম  রায়ের  মহিষী,  কীর্তিচন্দ্রের  জননী   এবং  রাজা  ত্রিলোকচন্দ্রের  পিতামহী  বৈকুন্ঠনাথের  অতিরমণীয়  এই  মন্দির  নির্মাণ  করলেন। 

             অনন্তবাসুদেবের  মূর্তিটি  কালো  পাথরের  একটি  ফলকে  খোদিত  ভাস্কর্য।  মন্দিরটিতে  এখন  ( ২০১৬ )  সংস্কারের  কাজ  চলছে।  সেজন্য  বাসুদেবের  মূর্তি  ঢাকা  আছে।  শুধু  মুখ  খোলা।  অন্যান্য  মূর্তি  গুলি  সামনের  একটি  মন্দিরে  স্থানান্তরিত। 

            মন্দিরের  সামনে  ত্রিখিলান  অলিন্দ।  খিলানের  উপরে  রয়েছে  নানা  ফুলকারি  নকশা,  রথমধ্যস্থ  শিবলিঙ্গ  ইত্যাদি।   কয়েক  সারি   কুলুঙ্গির  মধ্যে  আছে  নানা  টেরারাকোটা  মূর্তি।  এই  টেরাকোটার   কাজ  ছাদের  বাঁকানো  কার্নিস  পর্যন্ত  উঠে  গেছে।  তবে  বারবার  সংস্কারে  রং  ও  সিমেন্টের  প্রলেপে  টেরাকোটার  অলঙ্করণ  অনেকাংশে  ঢাকা  পড়েছে। 

             অনন্ত  বাসুদেব  মূর্তি  ও  অন্যান্য  দেবদেবীর  মূর্তি  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  অন্যান্য  উৎসব  পালিত  হয়। 



অনন্ত  বাসুদেব  মন্দির,  কালনা 
মন্দিরের  সামনের  ত্রিখিলান  বিন্যাস 
মন্দিরের  প্রতিষ্ঠা-লিপি 
মন্দিরের  কোনাচ 
মন্দিরের  উপরের  চারচালা 
মন্দিরের  শিখর -দেশ 
মন্দিরের অন্যান্য  বিগ্রহ - ১
মন্দিরের অন্যান্য  বিগ্রহ - ২
অনন্ত  বাসুদেব  বিগ্রহ 


            অম্বিকা  কালনার  এই  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  সকাল  ৮ টা  ৬ মিনিটের  কাটোয়া  লোকাল  বা  হাওড়া  থেকে  কাটোয়া  লোকাল  ধরুন।  ব্যাণ্ডেল  থেকেও  অম্বিকা  কালনা  যাওয়ার  গাড়ি  পাবেন।  স্টেশন  থেকে  রিকশা  বা  টোটোতে  মন্দিরে  পৌঁছে  যান।  নদিয়া  জেলার  শান্তিপুর  থেকেও  গঙ্গা  পেরিয়ে  কালনায়  যেতে  পারেন। 


    সহায়ক  গ্রন্থাবলি   :
                 ১) কালনা  মহকুমার  প্রত্নতত্ত্ব   ও  ধর্মীয়  সংস্কৃতির  ইতিবৃত্ত  :   বিবেকানন্দ  দাস 
                 ২)  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায় 
    

                   -----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




সম্প্রতি প্রকাশনী থেকে বইটি জন্য 'রজতকলম ২০২৬' পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে।




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9836382920 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।