অনন্ত বাসুদেব মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, অম্বিকা কালনা, বর্ধমান
শ্যামল কুমার ঘোষ
সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের অদূরে রাস্তার বিপরীতে অনন্ত বাসুদেব মন্দির। উঁচু ভিত্তি বেদির উপর প্রতিষ্ঠিত ইঁটের তৈরি 'আটচালা' মন্দির। মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। মন্দিরটির সামনের দেওয়ালের কার্নিসের নিচে কয়েক সারির সংস্কৃত ভাষার লিপি :
' রসাব্ধিরস চন্দ্রাঙ্কগণিত্যেব্দে শকাবধি।
চক্রে বৈকুন্ঠনাথস্য মন্দিরম্ সুমনোহরম্
জগদ্রামস্য মহিষী কৃত্তিচন্দ্রনৃপ প্রসু
শ্রী শ্রী ত্রিলোকচন্দ্রস্য নৃপতে র্যা পিতামহী।।'
অর্থাৎ রস = ৬, অব্দি = ৭, রস = ৬, চন্দ্রাঙ্ক = ১ । অঙ্কের বামাগতি নিয়মানুসারে, ১৬৭৬ শকাব্দ বা ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দে জগৎরাম রায়ের মহিষী, কীর্তিচন্দ্রের জননী এবং রাজা ত্রিলোকচন্দ্রের পিতামহী বৈকুন্ঠনাথের অতিরমণীয় এই মন্দির নির্মাণ করলেন।
অনন্তবাসুদেবের মূর্তিটি কালো পাথরের একটি ফলকে খোদিত ভাস্কর্য। মন্দিরটিতে এখন ( ২০১৬ ) সংস্কারের কাজ চলছে। সেজন্য বাসুদেবের মূর্তি ঢাকা আছে। শুধু মুখ খোলা। অন্যান্য মূর্তি গুলি সামনের একটি মন্দিরে স্থানান্তরিত।
মন্দিরের সামনে ত্রিখিলান অলিন্দ। খিলানের উপরে রয়েছে নানা ফুলকারি নকশা, রথমধ্যস্থ শিবলিঙ্গ ইত্যাদি। কয়েক সারি কুলুঙ্গির মধ্যে আছে নানা টেরারাকোটা মূর্তি। এই টেরাকোটার কাজ ছাদের বাঁকানো কার্নিস পর্যন্ত উঠে গেছে। তবে বারবার সংস্কারে রং ও সিমেন্টের প্রলেপে টেরাকোটার অলঙ্করণ অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে।
অনন্ত বাসুদেব মূর্তি ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি নিত্য পূজিত। মন্দিরে নিত্য পূজা ছাড়াও অন্যান্য উৎসব পালিত হয়।
অম্বিকা কালনার এই মন্দিরে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে সকাল ৮ টা ৬ মিনিটের কাটোয়া লোকাল বা হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকাল ধরুন। ব্যাণ্ডেল থেকেও অম্বিকা কালনা যাওয়ার গাড়ি পাবেন। স্টেশন থেকে রিকশা বা টোটোতে মন্দিরে পৌঁছে যান। নদিয়া জেলার শান্তিপুর থেকেও গঙ্গা পেরিয়ে কালনায় যেতে পারেন।
সহায়ক গ্রন্থাবলি :
১) কালনা মহকুমার প্রত্নতত্ত্ব ও ধর্মীয় সংস্কৃতির ইতিবৃত্ত : বিবেকানন্দ দাস
২) বাংলার মন্দির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
শ্যামল কুমার ঘোষ
সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দিরের অদূরে রাস্তার বিপরীতে অনন্ত বাসুদেব মন্দির। উঁচু ভিত্তি বেদির উপর প্রতিষ্ঠিত ইঁটের তৈরি 'আটচালা' মন্দির। মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। মন্দিরটির সামনের দেওয়ালের কার্নিসের নিচে কয়েক সারির সংস্কৃত ভাষার লিপি :
' রসাব্ধিরস চন্দ্রাঙ্কগণিত্যেব্দে শকাবধি।
চক্রে বৈকুন্ঠনাথস্য মন্দিরম্ সুমনোহরম্
জগদ্রামস্য মহিষী কৃত্তিচন্দ্রনৃপ প্রসু
শ্রী শ্রী ত্রিলোকচন্দ্রস্য নৃপতে র্যা পিতামহী।।'
অর্থাৎ রস = ৬, অব্দি = ৭, রস = ৬, চন্দ্রাঙ্ক = ১ । অঙ্কের বামাগতি নিয়মানুসারে, ১৬৭৬ শকাব্দ বা ১৭৫৪ খ্রীষ্টাব্দে জগৎরাম রায়ের মহিষী, কীর্তিচন্দ্রের জননী এবং রাজা ত্রিলোকচন্দ্রের পিতামহী বৈকুন্ঠনাথের অতিরমণীয় এই মন্দির নির্মাণ করলেন।
অনন্তবাসুদেবের মূর্তিটি কালো পাথরের একটি ফলকে খোদিত ভাস্কর্য। মন্দিরটিতে এখন ( ২০১৬ ) সংস্কারের কাজ চলছে। সেজন্য বাসুদেবের মূর্তি ঢাকা আছে। শুধু মুখ খোলা। অন্যান্য মূর্তি গুলি সামনের একটি মন্দিরে স্থানান্তরিত।
মন্দিরের সামনে ত্রিখিলান অলিন্দ। খিলানের উপরে রয়েছে নানা ফুলকারি নকশা, রথমধ্যস্থ শিবলিঙ্গ ইত্যাদি। কয়েক সারি কুলুঙ্গির মধ্যে আছে নানা টেরারাকোটা মূর্তি। এই টেরাকোটার কাজ ছাদের বাঁকানো কার্নিস পর্যন্ত উঠে গেছে। তবে বারবার সংস্কারে রং ও সিমেন্টের প্রলেপে টেরাকোটার অলঙ্করণ অনেকাংশে ঢাকা পড়েছে।
অনন্ত বাসুদেব মূর্তি ও অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি নিত্য পূজিত। মন্দিরে নিত্য পূজা ছাড়াও অন্যান্য উৎসব পালিত হয়।
![]() |
| অনন্ত বাসুদেব মন্দির, কালনা |
![]() |
| মন্দিরের সামনের ত্রিখিলান বিন্যাস |
![]() |
| মন্দিরের প্রতিষ্ঠা-লিপি |
![]() |
| মন্দিরের কোনাচ |
![]() |
| মন্দিরের উপরের চারচালা |
![]() |
| মন্দিরের শিখর -দেশ |
![]() |
| মন্দিরের অন্যান্য বিগ্রহ - ১ |
![]() |
| মন্দিরের অন্যান্য বিগ্রহ - ২ |
![]() |
| অনন্ত বাসুদেব বিগ্রহ |
অম্বিকা কালনার এই মন্দিরে যেতে হলে শিয়ালদহ থেকে সকাল ৮ টা ৬ মিনিটের কাটোয়া লোকাল বা হাওড়া থেকে কাটোয়া লোকাল ধরুন। ব্যাণ্ডেল থেকেও অম্বিকা কালনা যাওয়ার গাড়ি পাবেন। স্টেশন থেকে রিকশা বা টোটোতে মন্দিরে পৌঁছে যান। নদিয়া জেলার শান্তিপুর থেকেও গঙ্গা পেরিয়ে কালনায় যেতে পারেন।
সহায়ক গ্রন্থাবলি :
১) কালনা মহকুমার প্রত্নতত্ত্ব ও ধর্মীয় সংস্কৃতির ইতিবৃত্ত : বিবেকানন্দ দাস
২) বাংলার মন্দির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
-----------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।











কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন