শ্যামসুন্দর মন্দির, মাঝের পাড়া, ঝিখিরা, হাওড়া
হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম ঝিখিরা। হাওড়া স্টেশনের হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঝিখিরার বাসে এই গ্রামে যাওয়া যায়। সময় লাগে ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। বাসটি ঝিখিরার হলেও রাউতারা পর্যন্ত যায়। ঝিখিরা ও রাউতারা পাশাপাশি দুটি গ্রাম। গ্রামের মাঝের পাড়ায় অবস্থিত মল্লিক পরিবারের গৃহদেবতা শ্যামসুন্দরজিউর টেরাকোটাযুক্ত মন্দিরটি গ্রামের প্রাচীনতম দেবালয়।
মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট, দক্ষিণমুখী, অলিন্দযুক্ত ও বাংলা আটচালা শৈলীর। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। লিপি-ফলকের পাঠ - "শুভমস্তু শকাব্দা ১৬১৩ ।" অর্থাৎ মন্দিরটি ১৬৯১ খ্রীষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ৪.৮ মি, প্রস্থ ৪.৬ ও উচ্চতা প্রায় ৭.৬ মি। ত্রিখিলান প্রবেশপথের উপর একটি গণেশমূর্তি আছে। বাকি অংশ বিভিন্ন নকশা ও পস্ফুটিত পদ্ম দ্বারা সজ্জিত। ভিত্তিদেদি সংলগ্ন অনুভূমিক সারির নিচের সারিতে শিকারযাত্রার মিছিল, ইউরোপীয় জলদস্যু-রণতরী প্রভৃতির দৃশ্য এবং উপরের সারিতে আছে কয়েকটি সুন্দর হাঁস। বাঁদিকের অর্ধস্তম্ভের একপাশে উপরে-নিচে দুটি মিথুন-ভাস্কর্যের একটি নরনারীর ও অপরটি দুটি হাঁসের। পশ্চিমবঙ্গের 'টেরাকোটা' মন্দিরে পশুপাখির মিথুন-ভাস্কর্য বিরল। মন্দিরটির সংস্কারের প্রয়োজন। মন্দিরে শ্যামসুন্দর ও রাধিকা বিগ্রহ নিত্য পূজিত।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১১. ০৭. ২০১৮
 |
| গণেশ মূর্তি |
 |
| শ্যামসুন্দর মন্দির, রাউতারা |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| বাঁদিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| নকশা - ১ |
 |
| নকশা - ২ |
 |
| মন্দিরের কোনাচ |
 |
| টেরাকোটার ফুল |
 |
| বাঁদিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ |
 |
| মিথুন-ভাস্কর্য |
 |
| বাঁদিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ |
 |
| ডানদিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ |
 |
| হার্মাদ নৌকা |
 |
| নৌকা বিহার |
 |
| ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ |
 |
| চুল বাঁধা |
 |
| শিকার |
 |
| গরুর গাড়ি |
 |
| শ্যামসুন্দর ও রাধিকা বিগ্রহ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হাওড়া জেলার পুরাকীর্তি : তারাপদ সাঁতরা
--------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।