বনকাটির পিতলের রথ
শ্যামল কুমার ঘোষ
পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা থানার অন্তর্গত একটি প্রাচীন ও বর্ধিষ্ণু গ্রাম বনকাটি। বাসে পানাগড়-ইলামবাজার রাস্তার ১১ মাইল স্টপেজে নেমে টোটোতে এই গ্রামে যাওয়া যায়। ঘন জঙ্গল কেটে বসতি স্থাপন করা হয়েছিল বলে গ্রামের নাম হয় বনকাটি। বনকাটির মন্দিরগুলি গ্রামের দ্রষ্টব্য হলেও মূল আকর্ষণ কিন্তু প্রচুর নকশি কাজে মন্ডিত এখানকার পিতলের রথ। গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবার লাক্ষার ব্যবসা করে প্রচুর ধন-সম্পত্তি করেন। এই মুখোপাধ্যায় পরিবারের রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ( অন্য মতে, শশীভূষণ মুখোপাধ্যায় ) এই রথটি নির্মাণ করান। বনকাটির গোপালেশ্বর মন্দিরটিও এঁদের তৈরি। বর্তমানে অবশ্য মন্দির ও রথ স্থানীয় রায় বংশের তত্ত্বাবধানে আছে।
তারাপদ সাঁতরা 'সাহিত্য পত্র' পত্রিকায় পশ্চিমবঙ্গের মোট একচল্লিশটি পিতলের রথের তালিকা প্রকাশ করেছিলেন। এই রথগুলির মধ্যে বনকাটির রথটি সর্বশ্রেষ্ট বললে অত্যুক্তি হবে না। শিল্পাচার্য নন্দলাল বসু কলাভবনের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে এখানে এসে রথের অলংকরণগুলির ড্রয়িং করে নিয়ে গিয়েছেলেন। সে সব 'মোটিফ' অনেক ক্ষেত্রে তাঁকে ও তাঁর ছাত্রছাত্রীদের নতুন সৃষ্টির প্রেরণা জুগিয়েছে। শান্তিনিকেতনের কালোবাড়ির দেওয়ালের কয়েকটি ভাস্কর্যের আদি নকশা বনকাটির রথ থেকে সংগৃহিত।
চিরাচরিত কাঠের রথের বদলে পিতলের রথ তৈরি হয়েছে নানা কারণে। তার মূল কারণ এর স্থায়িত্ব। কাঠের রথ বৃষ্টির জলে, ঘুনপোকার আক্রমণে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পিতলের রথের ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা থাকে না। তাই একই আয়তনের কাঠের রথের চেয়ে পিতলের রথের খরচ অনেক বেশি পড়লেও এর দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা বিবেচনা করে বিত্তশালী প্রতিষ্ঠাতারা পিতলের রথের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কারণ অর্থব্যয় করাটা তাঁদের কাছে কোন বড় ব্যাপার ছিল না।
লোহার ফ্রেমের উপরে পিতলের পাত বসিয়ে পঞ্চরত্ন মন্দিরের আদলেই এ রথগুলি সাধারণত তৈরি হয়েছে। দু রকম ভাবে পিতলের রথে নকশি কাজ করা হয়েছে। পিতলের চাদরের গায়ে ছেনি দিয়ে খোদাই করে নকশা আঁকা হয়েছে অথবা পিতলের পাতকে ছাঁচের উল্টো পিঠে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে 'রিলিফ' ভাস্কর্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সহজতর কারিগরির জন্য প্রথমোক্ত পদ্ধতিতেই অধিকাংশ পিতলের রথে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বনকাটির রথেও এই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, খোদাই করার আগে পিতলের পাতের উপর সম্ভবত খড়ি দিয়ে নকশাগুলি এঁকে নেওয়া হত।
৮ টি লোহার চাকার উপর অবস্থিত বনকাটির রথটি আকারে মাঝারি, উচ্চতা অনধিক ৪.৫৭ মিটার, একতলার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১.৯৫ মিটার, দোতালার ১.৩৪ মিটার। খোদাই কাজের প্রাচুর্য ও উৎকর্ষতায় এটি পশ্চিমবঙ্গের এই জাতীয় রথগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। " সন ১২৪১ সাল তাং ২ মাঘ য়ারাম্ভ সন ১২৪২ সাল ১৫ য়াশাড় তোয়র" - এই প্রতিষ্ঠালিপি থেকে বোঝা যায় এই বিপুল শিল্পকর্ম মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে সম্পন্ন হয়। একাধিক শিল্পী এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এটা কম কৃতিত্বের নয়।
কাঠ-খোদাই, পোড়ামাটির মন্দির-অলংকরণ বা পটচিত্রের আঙ্গিকের সঙ্গে পিতলের রথের নকশি কাজের বেশ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। বনকাটির রথের অলংকরণও তার ব্যতিক্রম নয়। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী, পৌরাণিক উপাখ্যান, দশাবতার, সামাজিক জীবনযাত্রা, শিকার দৃশ্য ও অজস্র ফুলকারি নকশায় মোড়া এই রথটি। কিন্তু চরম অবহেলায় রথটি সারা বছর পড়ে থাকে পল্লীর এক কোনে।
চিরাচরিত কাঠের রথের বদলে পিতলের রথ তৈরি হয়েছে নানা কারণে। তার মূল কারণ এর স্থায়িত্ব। কাঠের রথ বৃষ্টির জলে, ঘুনপোকার আক্রমণে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পিতলের রথের ক্ষেত্রে সে সম্ভাবনা থাকে না। তাই একই আয়তনের কাঠের রথের চেয়ে পিতলের রথের খরচ অনেক বেশি পড়লেও এর দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা বিবেচনা করে বিত্তশালী প্রতিষ্ঠাতারা পিতলের রথের দিকে ঝুঁকেছিলেন। কারণ অর্থব্যয় করাটা তাঁদের কাছে কোন বড় ব্যাপার ছিল না।
লোহার ফ্রেমের উপরে পিতলের পাত বসিয়ে পঞ্চরত্ন মন্দিরের আদলেই এ রথগুলি সাধারণত তৈরি হয়েছে। দু রকম ভাবে পিতলের রথে নকশি কাজ করা হয়েছে। পিতলের চাদরের গায়ে ছেনি দিয়ে খোদাই করে নকশা আঁকা হয়েছে অথবা পিতলের পাতকে ছাঁচের উল্টো পিঠে রেখে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে 'রিলিফ' ভাস্কর্য সৃষ্টি করা হয়েছে। সহজতর কারিগরির জন্য প্রথমোক্ত পদ্ধতিতেই অধিকাংশ পিতলের রথে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বনকাটির রথেও এই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, খোদাই করার আগে পিতলের পাতের উপর সম্ভবত খড়ি দিয়ে নকশাগুলি এঁকে নেওয়া হত।
৮ টি লোহার চাকার উপর অবস্থিত বনকাটির রথটি আকারে মাঝারি, উচ্চতা অনধিক ৪.৫৭ মিটার, একতলার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ১.৯৫ মিটার, দোতালার ১.৩৪ মিটার। খোদাই কাজের প্রাচুর্য ও উৎকর্ষতায় এটি পশ্চিমবঙ্গের এই জাতীয় রথগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট। " সন ১২৪১ সাল তাং ২ মাঘ য়ারাম্ভ সন ১২৪২ সাল ১৫ য়াশাড় তোয়র" - এই প্রতিষ্ঠালিপি থেকে বোঝা যায় এই বিপুল শিল্পকর্ম মাত্র সাড়ে পাঁচ মাসে সম্পন্ন হয়। একাধিক শিল্পী এর সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এটা কম কৃতিত্বের নয়।
কাঠ-খোদাই, পোড়ামাটির মন্দির-অলংকরণ বা পটচিত্রের আঙ্গিকের সঙ্গে পিতলের রথের নকশি কাজের বেশ সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। বনকাটির রথের অলংকরণও তার ব্যতিক্রম নয়। রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনী, পৌরাণিক উপাখ্যান, দশাবতার, সামাজিক জীবনযাত্রা, শিকার দৃশ্য ও অজস্র ফুলকারি নকশায় মোড়া এই রথটি। কিন্তু চরম অবহেলায় রথটি সারা বছর পড়ে থাকে পল্লীর এক কোনে।
*************************************
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে।
বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
প্রকাশনীতে বইটা বেস্টসেলার হয়েছে।


















































