শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২১

Nrisinghadev Temple, Gokarna, Murshidabad


নৃসিংহদেবের মন্দির, গোকর্ণ, মুর্শিদাবাদ

                   শ্যামল কুমার ঘোষ  


            মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার অন্তর্গত একটি প্রাচীন গ্রাম গোকর্ণ। পূর্ব রেলের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রেলপথে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনে নেমে টোটোতে এই গ্রামে যাওয়া যায়। গ্রামে  নৃসিংহদেবের মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য। বহরমপুর থেকে কান্দিগামী বাসেও এখানে যাওয়া যায়। 
            উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমমুখী মন্দিরটি চারচালা শৈলীর। বহুবার সংস্কৃত মন্দিরটি ১৫০২ শকাব্দে বা ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। মন্দিরে সংস্কৃত ভাষায় রচিত লিপিটি বাংলা হরফে লিখিত। লিপিটি অস্পষ্ট হওয়াতে হরফের উপর অপরিপক্ক হাতে রং দিয়ে বোলানো হয়েছে। তাই পুরা লিপিটির পাঠোদ্ধার করা সম্ভব নয়। 

            পক্ষবিন্দুযুতে (ষুতে ? ) শাকে বাণচন্দ্র। ... 
           
            পক্ষ = ২, বিন্দু = ০, বাণ = ৫, চন্দ্র = ১  ধরে অঙ্কের বামা গতি নিয়মানুসারে প্রতিষ্ঠাকাল ১৫০২ শকাব্দ বা ১৫৮০ খ্রীষ্টাব্দ।
     
            মন্দিরে কয়েকটি ক্ষয়িষ্ণু টেরাকোটা ফলক বর্তমান। এগুলি টেরাকোটা-সজ্জার প্রথম যুগের নিদর্শন। উল্লেখ্য, নৃসিংহদেবের  মন্দিরের উপরে যে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা মূর্তিটি আছে তা বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন দুর্গা মূর্তি। 

            মন্দিরের গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের এক সুন্দর নৃসিংহ মূর্তি বর্তমান। বাম উরুর উপর স্থাপিত হিরণ্যকশিপুর উদরবিদারণরত নৃসিংহদেব। 

            নৃসিংহদেবের মন্দির চত্বরে আরও কয়েকটি মন্দির বর্তমান।  মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ :  ০৫.০৫.২০২০

নৃসিংহদেবের মন্দির, গোকর্ণ

একটি টেরাকোটার নিদর্শন

মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি 

নৃসিংহদেবের বিগ্রহ - ১

নৃসিংহদেবের বিগ্রহ - ২

 সহায়ক  গ্রন্থ :

             ১) বাংলার  মন্দির :  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য -  প্রণব  রায় 
        -------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                                  ------------------------------------------------------

           আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে  WhatsApp করতে পারেন।


শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২১

Maa Sarbamangala Temple, Bardhaman Town, Purba Bardhaman District


সর্বমঙ্গলা  মন্দির,  বর্ধমান  শহর,  পূর্ব  বর্ধমান 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ


 

সর্বমঙ্গলা মন্দির, বর্ধমান শহর 

          সর্বমঙ্গলার  মন্দিরের  পূর্ব  দিকে  প্রধান  প্রবেশ-দ্বার।  দক্ষিণ  দিকে  আর  একটি  প্রবেশ  দ্বার  আছে।  এই  প্রবেশ  দ্বার  দিয়ে  ঢুকলে  দেখা  যাবে,  সামনে  পথের  দু  দিকে  দুটি  শিব  মন্দির  আছে।  দুটি  মন্দিরেরই  গর্ভগৃহে   একটি  করে  কাল  পাথরের  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  বাঁ  দিকের  মন্দিরটির  নাম  মিন্দ্রেশ্বর ( ইন্দ্রেশ্বর )  শিব  মন্দির  ও  ডানদিকের  মন্দিরটির  নাম  চন্দ্রেশ্বর  শিব  মন্দির।  বাঁ  দিকের  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  ত্রিখিলানবিশিষ্ট,  দক্ষিণমুখী,  অলিন্দযুক্ত  ও  আটচালা  শৈলীর।  খিলানের  উপরে  টেরাকোটার  সুন্দর  কাজ  আছে।  এই  টেরাকোটার  বিষয় :  নন্দীর  পিঠে  হরগৌরী,  সপরিবারে  মহিষাসুরমর্দিনী  ও  সিংহাসনে  উপবিষ্ট  রাম-সীতা।  মন্দিরের  দেওয়ালে  একটি  শ্বেতপাথরের  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  গর্ভগৃহে  কালো  পাথরের  শিব  লিঙ্গ  নিত্য  পূজিত। 

মিন্দ্রেশ্বর ( ইন্দ্রেশ্বর ) শিব মন্দির 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস  

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ
( নন্দীর  পিঠে  হরগৌরী )

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

সপরিবারে মহিষাসুরমর্দিনী 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ
সিংহাসনে  উপবিষ্ট  রাম-সীতা )

প্রতিষ্ঠাফলক  

            ডানদিকের  মন্দিরটির  নাম  চন্দ্রেশ্বর  শিব  মন্দির।  এই  মন্দিরটিও  উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  ত্রিখিলানবিশিষ্ট,  দক্ষিণমুখী,  অলিন্দযুক্ত  ও  আটচালা  শৈলীর।  খিলানের  উপরে  টেরাকোটার  সুন্দর  কাজ  আছে।  এ  মন্দিরের  দেওয়ালেও  একটি  শ্বেতপাথরের  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  গর্ভগৃহে  কালো  পাথরের  শিব  লিঙ্গ  নিত্য  পূজিত। 
               
চন্দ্রেশ্বর শিব মন্দির 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

প্রতিষ্ঠাফলক

            এই  শিব  মন্দির  দুটি  পার  হয়ে  বাঁ  দিকে  গেলে  পর  পর  তিনটি  শিব  মন্দির  দেখা  যাবে।  প্রথম  মন্দিরটির  নাম  রামেশ্বর  শিব  মন্দির।   উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  উত্তরমুখী  মন্দিরটি  দেউল  শ্রেণীর।  মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটার  কাজ  আছে।  গর্ভগৃহে  সাদা  পাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরের  দেওয়ালে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  


রামেশ্বর  শিব  মন্দির

টেরাকোটার কাজ - ১

 টেরাকোটার কাজ - ২

প্রতিষ্ঠাফলক 
            তৃতীয়  মন্দিরটির  নাম  কমলেশ্বর  শিব  মন্দির।  উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  উত্তরমুখী  মন্দিরটি  দেউল  শ্রেণীর।  মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটার  কাজ  আছে।  টেরাকোটার  বিষয় :  'রামরাজা'  ইত্যাদি।  গর্ভগৃহে  সাদা  পাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরের  দেওয়ালে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  

কমলেশ্বর শিব মন্দির

টেরাকোটার কাজ - ১

'রামরাজা'

টেরাকোটার কাজ - ২

টেরাকোটার কাজ - ৩

প্রতিষ্ঠাফলক
            এই  দুটি  মন্দিরের  মাঝের  মন্দিরটির  নাম  মিত্রেশ্বর  শিব  মন্দির।  উঁচু  ভিত্তিবেদীর  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  মন্দিরে  কিছু  টেরাকোটা  ফলক  আছে।  এর  বেশির  ভাগই  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  মন্দিরের  দেওয়ালে  একটি  শ্বেতপাথরের  সংস্কার-ফলক  আছে।  গর্ভগৃহে  কালো  পাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত। 
  
মিত্রেশ্বর শিব মন্দির 

কূর্ম অবতার 

পরশুরাম 

সংস্কার-ফলক 



সর্বমঙ্গলা মন্দির, বর্ধমান শহর 

 টেরাকোটার কাজ - ১

টেরাকোটার কাজ - ২

টেরাকোটার কাজ - ৩

টেরাকোটার কাজ - ৪

মৃত্যুলতা - ১

মৃত্যুলতা - ২

দেবী সর্বমঙ্গলা 


            মন্দির  চৌহদ্দির  বাইরে  পূর্ব-দক্ষিণ  কোণে  একটি  কামান  আছে।  আগে  দুর্গা  পূজার  সময়  সন্ধিক্ষণ  জ্ঞাপনের  জন্য  এই  কামান  থেকে  তোপ  দাগা  হোত।  ১৯৯৭  সালে  দুর্ঘটনা  ঘটার  পর  থেকে  তা  বন্ধ  হয়ে  যায়।

            মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকের  গেটের  পাশে,  ইমারতের দেওয়ালের  খিলানের  উপর  খুব  সুন্দর  সুন্দর  পঙ্খের  কাজ  আছে।

            মন্দির  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২০.০২.২০২০ 

পঙ্খের কাজ - ১

পঙ্খের কাজ - ২

পঙ্খের কাজ - ৩

পঙ্খের কাজ - ৪
  


          -----------------------------------------------
 অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।