নৃসিংহদেবের মন্দির, গোকর্ণ, মুর্শিদাবাদ
শ্যামল কুমার ঘোষ
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার অন্তর্গত একটি প্রাচীন গ্রাম গোকর্ণ। পূর্ব রেলের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রেলপথে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনে নেমে টোটোতে এই গ্রামে যাওয়া যায়। গ্রামে নৃসিংহদেবের মন্দিরটি উল্লেখযোগ্য। বহরমপুর থেকে কান্দিগামী বাসেও এখানে যাওয়া যায়।
উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, পশ্চিমমুখী মন্দিরটি চারচালা শৈলীর। বহুবার সংস্কৃত মন্দিরটি ১৫০২ শকাব্দে বা ১৫৮০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। মন্দিরে সংস্কৃত ভাষায় রচিত লিপিটি বাংলা হরফে লিখিত। লিপিটি অস্পষ্ট হওয়াতে হরফের উপর অপরিপক্ক হাতে রং দিয়ে বোলানো হয়েছে। তাই পুরা লিপিটির পাঠোদ্ধার করা সম্ভব নয়।
পক্ষবিন্দুযুতে (ষুতে ? ) শাকে বাণচন্দ্র। ...
পক্ষ = ২, বিন্দু = ০, বাণ = ৫, চন্দ্র = ১ ধরে অঙ্কের বামা গতি নিয়মানুসারে প্রতিষ্ঠাকাল ১৫০২ শকাব্দ বা ১৫৮০ খ্রীষ্টাব্দ।
মন্দিরে কয়েকটি ক্ষয়িষ্ণু টেরাকোটা ফলক বর্তমান। এগুলি টেরাকোটা-সজ্জার প্রথম যুগের নিদর্শন। উল্লেখ্য, নৃসিংহদেবের মন্দিরের উপরে যে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা মূর্তিটি আছে তা বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন দুর্গা মূর্তি।
মন্দিরের গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের এক সুন্দর নৃসিংহ মূর্তি বর্তমান। বাম উরুর উপর স্থাপিত হিরণ্যকশিপুর উদরবিদারণরত নৃসিংহদেব।
নৃসিংহদেবের মন্দির চত্বরে আরও কয়েকটি মন্দির বর্তমান। মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ০৫.০৫.২০২০
![]() |
| নৃসিংহদেবের মন্দির, গোকর্ণ |
![]() |
| একটি টেরাকোটার নিদর্শন |
![]() |
| মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি |
![]() |
| নৃসিংহদেবের বিগ্রহ - ১ |
![]() |
| নৃসিংহদেবের বিগ্রহ - ২ |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বাংলার মন্দির : স্থাপত্য ও ভাস্কর্য - প্রণব রায়
-------------------------------------------------
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





