পঞ্চরত্ন দামোদর মন্দির, পশ্চিম পাড়া, অমরারগড় ( অমরাগড় ), পূর্ব বর্ধমান
শ্যামল কুমার ঘোষ
আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত অমরারগড় ( অমরাগড় ) একটি প্রাচীন ও বর্ধিষ্ণু গ্রাম। বর্ধমান-আসানসোল রেলপথে মানকর স্টেশনে নেমে বাসে এই গ্রামে যাওয়া যায়। এই গ্রামে অনেকগুলি মন্দির আছে। তবে বেশির ভাগ মন্দিরের টেরাকোটা অপসারিত। আমার পরিদর্শন কালে আমি তিনটি টেরাকোটা অলংকরণযুক্ত মন্দির দেখেছি। মাঝের পাড়ার পঞ্চরত্ন মন্দির নিয়ে আগেই লিখেছি। এখানে পশ্চিম পাড়ার দামোদর মন্দির নিয়ে আলোচনা করব। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় মণ্ডল ( স্থানীয়দের কাছে মোড়ল ) পরিবার।
উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট, উত্তরমুখী মন্দিরটি পঞ্চরত্ন শৈলীর। মন্দিরের সামনে অলিন্দ। গর্ভগৃহে ঢোকার দুটি দরজা, একটি সামনে অর্থাৎ উত্তর দিকে এবং অপরটি পশ্চিম দিকে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকরণে অলংকৃত। টেরাকোটার বিষয় : রাধা ও অন্যান্য গোপিনী সহ কৃষ্ণ, কংস বধ, রাসমণ্ডল, মহিষাসুরমর্দিনী, হর-পার্বতী ও বালকৃষ্ণ ইত্যাদি।
মন্দিরটির সামনে গাছ-গাছালি এমন ভাবে ঘিরে আছে যে ছবি তোলা খুবই কষ্টকর। অনেক দিন আগে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বিগ্রহ চুরি যায়। সেই থেকে মন্দিরে নিত্য পূজা হয় না। তবে ব্যৎসরিক পূজা হয়।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১৪.১২.২০১৯
 |
| রাধা ও অন্যান্য গোপিনীসহ কৃষ্ণ |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের শিখর |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| কংস বধ |
 |
| রাধা ও অন্যান্য গোপিনীসহ কৃষ্ণ |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| রাসমণ্ডল |
 |
| রাসমণ্ডল |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| টেরাকোটা চিত্র - ১ |
 |
| টেরাকোটা চিত্র - ২ |
 |
| কৃষ্ণ |
 |
| হর-পার্বতী |
 |
| বালকৃষ্ণ |
 |
| টেরাকোটা চিত্র - ৩ |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ - ২ |
 |
| দধিমন্থন কালে কৃষ্ণের দধিভান্ডে হস্তপ্রবেশ |
 |
| শিশু কৃষ্ণ ও যশোদা |
 |
| যশোদা শিশু কৃষ্ণের পায়ে নুপুর পড়াচ্ছেন |
 |
| কৃষ্ণ |
 |
| কৌণিক ভাস্কর্য - ১ |
 |
| কৌণিক ভাস্কর্য - ২ |
 |
| নকশা - ১ |
 |
| নকশা - ২ |
 |
| গর্ভগৃহের সামনের খিলানের উপরের কাজ |
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১৪.১২.২০১৯
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
খুব ভালো লাগলো .. কিছু দিন আগেই গেছিলাম ,এই নিদর্শন দেখেছি । মন্দিরের ভিতরে বিগ্রহ অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে বললেন স্থানীয়রা
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন