বুধবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮

Singhabahini Temple, Sankari, Khandaghosh, Purba Bardhaman


সিংহবাহিনী  মন্দির,  শাঁখারী,  খণ্ডঘোষ,  পূর্ব  বর্ধমান  


               শ্যামল  কুমার  ঘোষ 


            পূর্ব  বর্ধমান  জেলার  খণ্ডঘোষ  ব্লকের  অন্তর্গত  একটি  গ্রাম  শাঁখারী  এই  গ্রামে  যেতে  হলে,  কলকাতা  থেকে  যাঁরা  ট্রেনে  যাবেন  তাঁরা  বর্ধমানের  নবাবহাট  বাসস্ট্যান্ড  থেকে  শাঁখারী   যাওয়ার  বাস  পাবেন।  স্টেশন  থেকেও  এই  বাসে  উঠতে  পারেন।  যাঁরা  কলকাতা  থেকে  SBST-এর   বাসে  যাবেন  তাঁরা  আলিশা   বাসস্ট্যান্ড  থেকে  বাঁকুড়ার  দিকে  যাওয়ার  বাসে  উঠে  বর্ধমান-বাঁকুড়া  রোডের  উপর  অবস্থিত  কেশবপুরে  নামুন।  সেখান  থেকে  শাঁখারী  যাওয়ার  বাস  পাবেন।  গ্রামে  পঞ্চরত্ন  শৈলীর  সিংহবাহিনী'র  মন্দিরটি   উল্লেখযোগ্য।

            মন্দিরটি  মাঝারি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  ও  ত্রিখিলান  প্রবেশপথ  বিশিষ্ট।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  দুটি  দরজা,  একটি  দক্ষিণ  দিকে,  অপরটি  পূর্ব  দিকে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়াল  টেরাকোটা  অলংকারে  অলংকৃত।  এই  টেরাকোটা  ফলকের  বেশির  ভাগই  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  ভিত্তিবেদী  সংলগ্ন  দেওয়াল  ও  স্তম্ভগুলির  'টেরাকোটা'  সম্পর্ণভাবে  বিনষ্ট।  মন্দিরের  দুই  প্রান্তের  ও  বাঁকানো  কার্নিসের  নিচের  এক  সারি  করে  কুলুঙ্গির  মধ্যের  ফলকগুলির  মাত্র  কয়েকটি  অবশিষ্ট  আছে।  বর্তমানে  অবশিষ্ট  টেরাকোটা  ফলকের  বিষয় :  অনন্ত  শয়নে  বিষ্ণু,  রাসমণ্ডল,  কদম্ব  গাছের  নিচে  দুই  সখিসহ  কৃষ্ণ,  হর-গৌরী,  রাম রাজা,  কংস  বধ,  বামন  অবতার,  গনেশ  মূর্তি  ও  শালভঞ্জিকা  ইত্যাদি।  দুটি  দরজার  খিলানের  উপরেও  কাজ  আছে।  যদিও  দরজা  দুটি  এখন  অপসারিত।  অলিন্দেও  কিছু  কিছু  কাজ  লক্ষ্য  করা  যায়।  মন্দিরটির  এখন  পরিত্যক্ত  অবস্থা।  এই  মন্দিরটি  অজয়  বাবুর ( অজয় কোনার )  পোস্টে  প্রথম  দেখেছিলাম।  তাঁকে  ধন্যবাদ।  

            শ্রদ্ধেয়  DAVID J. McCUTCHION-এর  লেখা  অনুযায়ী  মন্দিরটি  ১৭৬২  খ্রীঃ  অর্থাৎ  ১৬৮৪  শকাব্দে  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  তাতে  প্রথম  দুটি  অঙ্ক  না  থাকলেও   পরের  দুটি  অঙ্ক  অর্থাৎ  ৮৪  সংখ্যাটি  বোঝা  যাচ্ছে।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২২.১২.২০১৮

     
সিংহবাহিনী মন্দির ( বাঁ দিক থেকে তোলা )


সিংহবাহিনী মন্দির ( ডান দিক থেকে তোলা )

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

অনন্ত  শয়নে  বিষ্ণু

মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

রাসমণ্ডল

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

কদম্ব  গাছের  নিচে  দুই  সখিসহ  কৃষ্ণ

হর-গৌরী 

রাম রাজা 

কংস বধ 

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ২

বড় করে 

বামন অবতার ও অন্য চিত্র 

বামন অবতার

অলিন্দের কাজ 

প্রতিষ্ঠাফলক 

টেরাকোটার নকশা 

গর্ভগৃহের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ 

গর্ভগৃহের পূর্ব দিকের দরজার খিলানের উপরের কাজ 
                      

              ------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন