বিষ্ণু মন্দির, শ্যামবাজার, গোঘাট, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
আরামবাগ মহকুমার গোঘাট ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম শ্যামবাজার। শ্যামবাজারে যেতে হলে তারকেশ্বর বা আরামবাগ থেকে বদনগঞ্জের বাসে উঠে কর্ণপুরে নামতে হবে। সেখান থেকে হেঁটে শ্যামবাজার গ্রাম। একসময় গ্রামটি তসর ও তাঁতের কাপড় এবং আবলুস কাঠের খেলনার জন্য বিখ্যাত ছিল। গ্রামে দত্ত ও দাস বংশ প্রতিষ্ঠিত দুটি 'টেরাকোটা' অলংকারযুক্ত মন্দির উল্লেখযোগ্য। এখানে আমরা দত্ত বংশ প্রতিষ্ঠিত মন্দিরটি সম্বন্ধে আলোচনা করব।
দত্ত বংশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বিষ্ণু মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী, ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত ও পঞ্চরত্ন শৈলীর। শিখরগুলি রেখধরণের খাঁজকাটা। গর্ভগৃহের সামনে অলিন্দ। মন্দিরে ঢোকার একটিই দরজা। নির্মাণকাল ১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ বা ১১৯৭ বঙ্গাব্দ। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। তবে মন্দিরটির অবস্থা খুবই খারাপ। ভিত্তিবেদি সংলগ্ন দুটি পূর্ণ স্তম্ভ ও বাঁদিকের অর্ধ স্তম্ভ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক ফলকও নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু যে সমস্ত টেরাকোটা ফলকগুলি অবশিষ্ট আছে তা খুবই উন্নত মানের। গর্ভগৃহে শ্রীশ্রী বিষ্ণু ( নারায়ণ শিলা ) নিত্য পূজিত।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ০৪.১২.২০১৮
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বিষ্ণু মন্দির, শ্যামবাজার, হুগলি |
 |
| মন্দিরের শিখর ( দক্ষিণ দিক থেকে তোলা ) |
 |
| মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| চতুরানন ( ব্রহ্মা ) |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| বড় করে |
 |
| কালী |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ |
 |
| পরশুরাম ও অন্য চিত্র |
 |
| বামন, বরাহ ও মৎস্যাবতার |
 |
| বরাহ ও মৎস্যাবতার |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
| অন্য একটি চিত্র - ১ |
 |
| অন্য একটি চিত্র - ২ |
 |
| ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভ অঞ্চল |
 |
| ভগীরথের গঙ্গা আনয়ন |
 |
| ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভ |
 |
| গোষ্ঠে যাত্রা |
 |
| শিকার দৃশ্য |
 |
| কেশীবধ, কুবলায়পীড় বধ ও অন্য চিত্র |
 |
| জমিদারের অন্যত্র গমন |
 |
| কংস বধ ও অন্য চিত্র |
 |
| গর্ভগৃহের দরজার খিলানের উপরের নকশা |
 |
| শ্রীশ্রী বিষ্ণু ( নারায়ণ শিলা ) |
সহায়ক গ্রন্থাবলী :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
-----------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন