বিষ্ণু মন্দির, মামুদপুর, গোঘাট, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
আরামবাগ মহকুমার গোঘাট ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম মামুদপুর। এই গ্রামে যেতে হলে তারকেশ্বর বা আরামবাগ থেকে বদনগঞ্জের বাসে উঠে মামুদপুর মোড়ে নামতে হবে। সেখান থেকে হেঁটে মামুদপুর গ্রাম। এই গ্রামের বিষ্ণু মন্দিরটি উল্লেখযোগ্য। মন্দিরটি সেন বংশ প্রতিষ্ঠিত। তবে বর্তমানে মন্দিরটি স্থানীয় রায় পরিবারের তত্ত্বাবধানে আছে।
মন্দিরটি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী, ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত ও পঞ্চরত্ন শৈলীর। গর্ভগৃহের সামনে অলিন্দ। মন্দিরে ঢোকার একটিই দরজা। নির্মাণকাল ১৭২৮ শকাব্দ অর্থাৎ ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দ বা ১২১৩ বঙ্গাব্দ। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। তিনটি খিলানের উপরের টেরাকোটার বিষয় : রামায়ণের কাহিনী। বাঁকানো কার্নিসের নিচের একটি অনুভূমিক সারি ও দেওয়ালের ধারের একটি করে উলম্ব সারির বর্গাকার কুলুঙ্গিতে আছে বিভিন্ন মূর্তি। ভিত্তিবেদি সংলগ্ন স্তম্ভের টেরাকোটার বিষয় : কৃষ্ণলীলা ও বিভিন্ন সামাজিক চিত্র। গর্ভগৃহের দরজার দুপাশে দুটি বড় মূর্তি আছে। মন্দিরটি বারবার রং করার ফলে বেশির ভাগ 'টেরাকোটা' ফলকের সূক্ষ্মতার হানি হয়েছে। মন্দিরটি পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। গর্ভগৃহে শ্রীশ্রী বিষ্ণু ( নারায়ণ শিলা ) নিত্য পূজিত।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ০৪.১২.২০১৮
 |
| বিষ্ণু মন্দির, মামুদপুর, হুগলি |
 |
| মন্দিরের শিখর ( সামনে থেকে তোলা ) |
 |
| মন্দিরের শিখর ( ডান দিক থেকে তোলা |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১ |
 |
| মহাদেব |
 |
| কৃষ্ণ ও দুই সখি |
 |
| মহিষাসুরমর্দিনী |
 |
| কল্কি ও নৃসিংহ অবতার |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ২ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৩ |
 |
| মন্দিরের কোনাচ |
 |
| বাঁ দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ |
 |
| বাঁ দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ |
 |
| ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ |
 |
| ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ |
 |
| দ্বারপাল |
 |
| শ্রীশ্রী বিষ্ণু ( নারায়ণ শিলা ) |
সহায়ক গ্রন্থাবলী :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
-----------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন