দামোদর মন্দির, বদনগঞ্জ, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
আরামবাগ মহকুমার গোঘাট থানার অন্তর্গত একটি গ্রাম বদনগঞ্জ। রেলপথে হাওড়া থেকে গোঘাটের দূরত্ব ৯২ কিমি। হাওড়া থেকে ট্রেনে গোঘাট গিয়ে সেখান থেকে বাসে বদনগঞ্জ যাওয়া যায়। আরামবাগ বা তারকেশ্বর থেকে বাসেও এখানে যেতে পারেন। একসময় গ্রামটি তসর ও রেশম শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ ছিল।
গ্রামে বরাট বংশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দামোদর মন্দিরটি উল্লেখযোগ্য। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী, ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত ও নবরত্ন শৈলীর মন্দির। গর্ভগৃহের সামনে অলিন্দ। মন্দিরে ঢোকার একটিই দরজা। নির্মাণকাল ১৮১০ খ্রিষ্টাব্দ বা ১২১৭ বঙ্গাব্দ। মন্দিরের উত্তর দিকের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। রঙের প্রলেপে লেখা অস্পষ্ট হলেও নির্মাণকাল বোঝা যাচ্ছে। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে 'টেরাকোটা'র অলংকরণ আছে। এই টেরাকোটার চিত্রাবলী খুবই আকর্ষণীয়। 'টেরাকোটা'র বিষয় : রাম-রাবণের যুদ্ধ, কৃষ্ণলীলা, কালী, ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ, নারদ, বরাহ অবতার, মৎস্যাবতার, ভক্ত হনুমান, মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি ইত্যাদি। মন্দিরের দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে কৃষ্ণকালীর একটি ফলক আছে। নবরত্ন মন্দিরের দ্বিতলের সামনের দেওয়ালে দুটি 'টেরাকোটা'র গনেশ মূর্তি এবং উত্তরদিকের দেওয়ালে পঙ্খের কাজ উল্লেখযোগ্য। গর্ভগৃহে শ্রীশ্রী দামোদর জিউ ( নারায়ণ শিলা ) নিত্য পূজিত।
মন্দিরটির আশু সংস্কারের প্রয়োজন। সরকারের কাছে এবং বদনগঞ্জের জন-প্রতিনিধিদের কাছে আবেদন করছি যাতে তাঁরা এ ব্যাপারে একটু সহৃদয় হন। পুরাতত্বের দিক থেকে এই মন্দির বদনগঞ্জবাসীদের কাছে সত্যই গর্বের বস্তু।
মন্দিরটির পরিদর্শনের তারিখ : ৩০.১২.২০১৭
 |
| দামোদর মন্দিরের একটি 'টেরাকোটা' মূর্তি |
 |
| দামোদর মন্দিরের উপরের অংশ |
 |
| মন্দিরের দ্বিতলের সামনের বিন্যাস |
 |
| সামনের খিলানের উপরের পঙ্খের কাজ |
 |
| বিভিন্ন মুখ |
 |
| এক দিকের সিদ্ধিদাতা গনেশ |
 |
| অপর দিকের সিদ্ধিদাতা গনেশ |
 |
| উত্তর দিকের খিলানের উপরের পঙ্খের কাজ |
 |
| মন্দিরের শিখর |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| রাম-রাবণের যুদ্ধ |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| বস্ত্রহরণ ও অন্যান্য চিত্র |
 |
| কৃষ্ণ |
 |
| বলরাম |
 |
| টেরাকোটার মূর্তি |
 |
| শিব পূজা ও মৎস্যাবতার |
 |
| বরাহ অবতার |
 |
| অশ্বারোহী যোদ্ধা ও গনেশ |
 |
| নারদ ও অন্য চিত্র |
 |
| কালী ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ |
 |
| কালী |
 |
| ছেলে কাঁকে মহিলা ও অন্য দুটি চিত্র |
 |
| ছেলে কাঁকে মহিলা ও ভক্ত হনুমান |
 |
| মহিষাসুরমর্দিনী ও দধিমন্থন |
 |
| মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তি |
 |
দক্ষিণ দিকের দেওয়ালের ফলক ( কৃষ্ণকালী ) |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
শ্রীশ্রী দামোদর জিউ ( নারায়ণ শিলা )
|
সহায়ক গ্রন্থাবলী :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
ধন্যবাদ জানাই আপনাকে। এই রকম আরো পোস্ট দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। উমাশংকর নিয়োগী
উত্তরমুছুনআপনাকেও ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুন