পরিত্যক্ত রঘুনাথ মন্দির, আকনাপুর, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া-তারকেশ্বর রেলপথে তারকেশ্বরের আগের স্টেশন লোকনাথ। রেলপথে হাওড়া থেকে দূরত্ব ৫৫ কিমি। লোকনাথ স্টেশন থেকে ২ / ৩ কিমি দূরের একটি গ্রাম বালিগোড়ী। বালিগোড়ী থেকে ৩ কিমি দূরের একটি গ্রাম আকনাপুর। বালিগোড়ী বাজার থেকে রিকশায় এই গ্রামে যাওয়া যায়। তারকেশ্বর থেকে বাসে বালিগোড়ী বাজারে নেমেও এই গ্রামে যেতে পারেন। গ্রামে স্থানীয় মল্লিক পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও 'টেরাকোটা' সমৃদ্ধ 'রঘুনাথ' মন্দির আছে। মন্দিরটি বর্তমানে পরিত্যক্ত।
মন্দিরটি উঁচু ভিত্তি বেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী, ত্রিখিলান প্রবেশপথ যুক্ত ও আটচালা শৈলীর। এক দ্বার বিশিষ্ট মন্দিরটি অলিন্দযুক্ত। মন্দিরের সামনের দেওয়াল 'টেরাকোটা' অলংকরণে অলংকৃত। পরিত্যক্ত হলেও মন্দিরের দেওয়ালে যেটুকু 'টেরাকোটা' অলংকরণ এখনও অবশিষ্ট আছে তা দেখে বোঝা যায় এই টেরাকোটা খুবিই উন্নত মানের। মন্দিরে টেরাকোটার বিষয় - প্রতীক শিবমন্দির ও তার মধ্যে শিবলিঙ্গ, রামরাবণের যুদ্ধ, ফুলকারি নকশা, পাখি ও বিভিন্ন মূর্তি ইত্যাদি। মন্দিরটি ১৬৬২ শকাব্দে ( ১৭৪০ খ্রিস্টাব্দে ) প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে আগে শ্রীশ্রী রঘুনাথ জিউ ( নারায়ণ শিলা ) পূজিত হতেন। বর্তমানে তিনি পাশের মল্লিক বাড়িতে পূজিত হচ্ছেন।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ২৬.১০.২০১৭
 |
| পরিত্যক্ত রঘুনাথ মন্দির |
 |
| মন্দিরের সামনের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বড় করে - ১ |
 |
| বড় করে - ২ |
 |
| মন্দিরের ডানদিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| মন্দিরের বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বড় করে |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
| একটি স্তম্ভের কাজ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ ও নকশা - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ ও নকশা - ২ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ ও নকশা - ৩ |
 |
| নকশা - ১ |
 |
| নকশা - ২ |
 |
| নকশা - ৩ |
 |
নকশা - ৪
|
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
-----------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন