দধিমাধব মন্দির, অমরাগড়ি, হাওড়া
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম অমরাগড়ি। হাওড়া স্টেশনের হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঝিখিরার বাসে এই গ্রামে যাওয়া যায়। সময় লাগে ঘন্টা দুয়েক। এখানকার উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তি, স্থানীয় রায় পরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত দধিমাধব মন্দির।
মন্দিরটি সামান্য উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট, দক্ষিণমুখী, অলিন্দযুক্ত ও বাংলা আটচালা শৈলীর। গর্ভগৃহে ঢোকার দুটি দরজা। একটি সামনে এবং অপরটি পশ্চিম দিকে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল উৎকৃষ্ট টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। যদিও অনেক ফলক এখন নষ্ট হয়ে গেছে। বাইরের দেওয়ালের তিনটি খিলানের উপরের টেরাকোটার বিষয় : রামরাবণের যুদ্ধ, অশোকবনে সীতা, শক্তিশেলের আঘাতে লক্ষণের মূর্ছা ও হনুমানের বিশল্যকরণী আনয়ন প্রভৃতি। ভিত্তিভূমির সংলগ্ন অনুভূমিক দুই সারির উপরের সারিতে আছে কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন দৃশ্য ও নিচের সারিতে আছে ইউরোপীয় জাহাজ ও নাবিক, হাতি ও ঘোড়ার পিঠ থেকে শিকার, ঘোড়ার গাড়িতে প্রমোদ ভ্রমণ, পালকিবাহিত বাবু ও দুটি মিথুন মূর্তি ইত্যাদি। বাঁকানো কার্নিসের নিচের দুই অনুভূমিক সারি ও দেওয়ালের ধারের দুই উলম্ব সারির বর্গাকার কুলুঙ্গিতে আছে বিভিন্ন মূর্তি। এছাড়া কয়েকটি নকশার ফলকও আছে। বাঁ দিকের পূর্ণ স্তম্ভে পরিবারসহ দুর্গা মূর্তি থাকলেও কার্তিক ও গণেশ মূর্তি এখন বিনষ্ট। আর একটি উল্লেখযোগ্য, সামনের ও পশ্চিম দিকের প্রবেশদ্বারের দুপাশে আছে দুটি করে চারটি দ্বারপালের মূর্তি।
দক্ষিণ দিকের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। এর পাঠ : শুভমস্তু শকাব্দা ১৬৮৬ . . বৈশাখ . . সন ১১৭১ সাল। অর্থাৎ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাকাল ১৬৮৬ শকাব্দ বা ১৭৬৪ খ্রীষ্টাব্দ। গর্ভগৃহে দধিমাধব ( শালগ্রামশিলা ) নিত্য পূজিত। মন্দিরটি পশ্চিম বঙ্গ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১১. ০৭. ২০১৮
 |
দধিমাধব মন্দির |
 |
মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
বড় করে |
 |
মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
লঙ্কা যুদ্ধ ও হনুমানের বিশল্যকরণী আনা |
 |
ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
কুম্ভকর্ণ ও অশোকবনে সীতা |
 |
প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ২ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৩ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৪ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৫ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৬ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৭ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৮ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ৯ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১০ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১১ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১২ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১৩ |
 |
বর্গাকার কুলুঙ্গির মধ্যের কাজ - ১ |
 |
জগন্নাথ ও অন্য চিত্র |
 |
কৃষ্ণ |
 |
মৎসাবতার |
 |
মন্দিরের কোনাচ |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন বাঁ দিকের অর্ধস্তম্ভের কাজ |
 |
ঘোড়ায় চড়ে শিকার |
 |
বন্দুক হাতে সাহেব - ১ |
 |
বন্দুক হাতে সাহেব - ২ |
 |
ঘোড়ার গাড়িতে প্রমোদ ভ্রমণ |
 |
শিঙা ও নাকাড়া বাদক এবং মিথুন দৃশ্য |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন বাঁ দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ |
 |
ইউরোপীয় জাহাজ ও অন্য চিত্র |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন ডান দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ |
 |
হুঁকো হাতে তামাক সেবন |
 |
নৌকায় গোপীদের দধিভান্ড বহন ও শ্রীকৃষ্ণকে প্রদান |
 |
জাহাজ |
 |
কেশি বধ ও অন্য চিত্র |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন ডান দিকের অর্ধস্তম্ভের কাজ |
 |
মিথুন মূর্তি ও ঘোড়সওয়ার |
 |
ঘোষণা |
 |
হাতিতে চড়ে শিকার |
 |
শিবিকায় গমন |
 |
ঘোড়ায় চড়ে শিকার |
 |
দুর্গা |
 |
পশ্চিম দিকের একজন দ্বারপাল |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হাওড়া জেলার পুরাকীর্তি : তারাপদ সাঁতরা
--------------------------------------------------------------
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে।
বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে। কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
--------------------------------------------------------------
শ্যামল , তুমি তো একটি অসাধারণ তথ্য বহুল পোস্ট দিয়েছো । প্যানেল ধরে ধরে তুমি যেভাবে হাওড়া জেলার এই অঞ্চলের মন্দিরের ভাস্কর্যগুলোকে তুলে ধরেছো ,কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয় । অসংখ্য ধন্যবাদ ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনAmi Satya Satya e abhibhuto
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনঅমরাগড়ীতে মামার বাড়ী এবং শ্বশুরবাড়ী হওয়ায় এই মন্দিরটিতে অনেকবারই গেছি এবং অনেক ছবিও তুলেছি ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ।
মুছুনএই মন্দিরে সকালের দিকে পূজা দেবার কোনো ব্যবস্থা আছে?
উত্তরমুছুন