শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

Dwarika Chandi Temple, Dwarhatta, Haripal, Hooghly


শ্রীশ্রী দ্বারিকা  চণ্ডী  মন্দির,  দ্বারহাট্টা,  হরিপাল,  হুগলী

                     শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            দ্বারিকা  চণ্ডীর  পূর্বের  মন্দির  মোহিনী  মোহন  সিংহ  রায়ের  পূর্বপুরুষ  নির্মাণ  করেন।  মন্দিরটি  ১১২৬  সালে  স্থাপিত  বলে  মন্দিরের  গায়ে  একটি  প্রস্তর-ফলক  লাগানো  আছে।  সেই  মন্দির  টেরাকোটা  অলংকরণে  অলংকৃত  ছিল।  পরে  মন্দিরটি  জীর্ণ  হয়ে  গেলে  সর্বসাধারণের  আর্থিক  ও  সক্রিয়  সহায়তায়  ৬ ই  আশ্বিন,  ১৪১৩  সনে  মন্দিরটি  নতুন  ভাবে  গড়ে  ওঠে।  বর্তমান  মন্দিরের  বাইরের  দেওয়ালে  কোন   টেরাকোটার  অলংকরণ  নেই।  অলিন্দে  সামান্যই  টেরাকোটা  অবশিষ্ট  আছে।  মন্দিরটি  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  পূর্বমুখী,  আটচালা  রীতির।  গর্ভগৃহের  সামনে  আবৃত  অলিন্দ  আছে।  মন্দিরের  পিছনে  পঞ্চমুণ্ডীর  আসন  ও  পাশে  দেবীর  পুকুর  এখনও  আছে। 

            গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী দ্বারিকা  চণ্ডী  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্য  পূজিত।  দ্বারিকা  চণ্ডী  চতুর্ভুজা  দুর্গা  মূর্তি।  দেবীর  সঙ্গে  আছেন  লক্ষ্মী,  সরস্বতী,  কার্তিক  ও  গনেশ।  কিন্তু  মহিষাসুর  অনুপস্থিত।  দুর্গা  পুজোর  সময়  দ্বারিকা  চণ্ডীর  বলিদান  হওয়ার  পর  চারপাশের  দশ-বারটি  গ্রামের  পুজোর  বলিদান  হয়। 

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডীর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা 

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

মন্দিরের  শিখরদেশ

মন্দিরের  পিছনের  পঞ্চমুমুণ্ডীর  আসন 

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডী  মাতা - ১

শ্রীশ্রী  দ্বারিকা  চণ্ডী  মাতা - ২

            দ্বারহাট্টার  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  তারকেশ্বর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  হরিপাল  স্টেশনে।  স্টেশনের  পাশ  থেকে  বড়গাছিয়া  গামী  বাসে  উঠুন।  নামুন  রামহাটিতলা।  সেখান  থেকে  রিকশায়  বা  হেঁটে  মন্দির।  রিকশায়  গেলে  রিকশা  ছাড়বেন  না।  কারণ  ফিরতি  পথে  রিকশা  পাবেন  না। 
            

   সহায়ক  গ্রন্থ :
                 ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র 
                
         দ্বারহাট্টার  আর  একটি  মন্দির  রাজরাজেশ্বর  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিঙ্কে  ক্লিক  করুন :
              শ্রীশ্রী  রাজরাজেশ্বর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা,  হুগলি 

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

Rajrajeshwar Temple, Dwarhatta, Hooghly

শ্রীশ্রী রাজরাজেশ্বর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা,  হরিপাল,  হুগলি

                                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-তারকেশ্বর  রেলপথে  হরিপাল  ১৬ তম   রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৪৫  কিমি।  হরিপাল  স্টেশন  থেকে  নয়/ দশ  কিমি  দূরের  একটি  গ্রাম  দ্বারহাট্টা। প্রাচীন  গ্রাম্য  দেবী  দ্বারিকা  চণ্ডীর  নামানুসারে  গ্রামের  নাম  হয় দ্বারহাট্টা।  আগে  দ্রারহাট্টা  মহকুমা  ছিল।  দিনেমার  শাসিত  শ্রীরামপুর  ইস্ট  ইণ্ডিয়া  কোম্পানী  ক্রয়  করলে  উহা  হুগলি  জেলার  অন্তভুক্ত  হয়  এবং  দ্বারহাট্টা  মহকুমার বদলে  শ্রীরামপুর  মহকুমা  হয়। 

            দ্বারহাট্টা  গ্রামে  প্রথম  দ্রষ্টব্য  দ্বারিকা  চণ্ডীর  মন্দির।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  আগেই  দিয়েছি।  এই  গ্রামের  দ্বিতীয়  দ্রষ্টব্য  বাবু  পাড়ার  রাজরাজেশ্বর  মন্দির।  অপূর্বমোহন  সিংহরায়  এই  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাতা।  মন্দিরের  গায়ে  যে  প্রতিষ্ঠা-ফলক  আছে  তাতে  মন্দিরটি  ১১৩৬  সালে  নির্মিত  বলে  লেখা  আছে।  ব্যবসা  করে  সিংহরায়  বংশ  প্রচুর  অর্থের  অধিকারী  হন  এবং  এই  অঞ্চলের  বহু  জমিদারি  কেনেন।  দান,  পূজাপার্বণ,  পুষ্করিণী  খনন,  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  ইত্যাদি  করে  তিনি  সমাজে  প্রতিষ্ঠা  লাভ  করেন।  ষোড়শ  শতাব্দীর  মধ্যভাগে  সম্রাট  আকবরের  রাজত্বকালে  যোধপুর  থেকে  এঁদের  পূর্বপুরুষ  এখানে  এসে  বাস  করেন।  মানসিংহের  বোনের  সঙ্গে  আকবরের  বিবাহের  পর  মুসলমানদের  সঙ্গে  সম্বন্ধ  করবার  ভয়ে  বহু  ছত্রী  সেই  সময়  জয়পুর,  যোধপুর  প্রভৃতি  স্থান  থেকে  বাংলাদেশে  চলে  আসেন।  

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত, পূর্বমুখী,  ত্রিখিলান  প্রবেশদ্বারযুক্ত  মন্দিরটি  আটচালা  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  ঢাকা  বারান্দা।  গর্ভগৃহে  ঢোকার  একটাই  প্রবেশদ্বার। মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে,  খিলানের  উপর,  স্তম্ভের  গায়ে,  ঢাকা  বারান্দায়,  প্রচুর  টেরাকোটার  অলংকরণ  আছে।  এই  'টেরাকোটা'র  অনেকটাই  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  যা  অবশিষ্ট  আছে  তা  দেখে  বোঝা  যায়  এই  টেরাকোটা  উচ্চ  শ্রেণীর।  টেরাকোটাগুলির  মধ্যে  রামরাবনের  যুদ্ধ,  দুর্গা,  কালী  ইত্যাদি  পৌরাণিক  চিত্র,  গড়গড়ায়  ধুমপান,  ফিরিঙ্গি  সৈন্য  ইত্যাদি  সামাজিক  চিত্র,  হংসসারি,  নকশা  ইত্যাদি  উল্লেখযোগ্য।  গর্ভগৃহে  সিংহরায়  বংশের  কুলদেবতা  শ্রীশ্রী রাজরাজেশ্বর  ( শালগ্রাম  শিলা )  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্যপূজিত। 

শ্রীশ্রী রাজরাজেশ্বর  মন্দির,  দ্বারহাট্টা

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ

ডান   দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ
মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ

রাম-রাবণের  যুদ্ধ

মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাফলক

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ১

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ২

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৩

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৪

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৫

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৬

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৭

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৮

ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  টেরাকোটার  কাজ - ৯

স্তম্ভের  গায়ের  কাজ - ১

স্তম্ভের  গায়ের  কাজ - ২

স্তম্ভের  গায়ের  কাজ - ৩

কুলঙ্গির  মধ্যে  নিবদ্ধ  কাজ - ১

কুলঙ্গির  মধ্যে  নিবদ্ধ  কাজ - ২

কালী  মূর্তি 

টেরাকোটার  নকশা

অলিন্দের  দেওয়ালে  টেরাকোটার  ঘোড়া 

শ্রীশ্রী  রাজরাজেশ্বর ( শালগ্রাম  শিলা )

            দ্বারহাট্টার  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  তারকেশ্বর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  হরিপাল  স্টেশনে।  স্টেশনের  পাশ  থেকে  বড়গাছিয়া  গামী  বাসে  উঠুন।  নামুন  রামহাটিতলা।  সেখান  থেকে  রিকশায়  বা  হেঁটে  মন্দির। রিকশায়  গেলে  রিকশা  ছাড়বেন  না। কারণ  ফিরতি  পথে  রিকশা  পাবেন  না। 
             

   সহায়ক  গ্রন্থ :
                 ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র                    

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

Dakat Kali Temple, Singur, Hooghly

                  
 ডাকাত  কালী  মন্দির,  সিঙ্গুর,  হুগলি 

             শ্যামল কুমার  ঘোষ 


            হাওড়া-তারকেশ্বর  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  সিঙ্গুর  দ্বাদশ  রেলস্টেশন।  শেওড়াফুলি  থেকে  তৃতীয়  স্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩৩  কিমি। 

            প্রাচীনকালে  সিঙ্গুর  সরস্বতী  নদী  তীরে  মহারাজা  সিংহবাহুর  রাজধানী  সিংহপুর  বলে  প্রসিদ্ধ  ছিল।  খ্রিস্টপূর্ব  ৭০০  অব্দে   মহারাজ  সিংহবাহু  সিংহপুরে  রাজত্ব  করতেন।  তাঁর  জ্যেষ্ঠপুত্র  বিজয়সিংহ  পিতার  অবাধ্য  হওয়ায়  পিতা  কর্তৃক  বিতাড়িত  হয়ে  সাতশত  যুদ্ধকুশল  অনুচর  নিয়ে  সমুদ্রযাত্রা  করেন  এবং  তাম্রপর্ণি  দ্বীপে  অবতরণ  করে  সেখানকার  অধিবাসীদের  পরাস্ত করে  লঙ্কাদ্বীপ  অধিকার  করেন।  তিনি  তাম্রপর্ণি  বা  লঙ্কাদ্বীপ  অধিকার  করে  সেখানকার  রাজকন্যাকে  বিবাহ  করেন  এবং  সেখানকার  রাজা  হন।  রাজা  হওয়ার  পর  তিনি  ওই  দ্বীপের  নাম  রাখেন  সিংহল। 

            সিঙ্গুরের  ডাকাত  কালীমন্দির  দেখতে  হলে  তারকেশ্বর  লোকালে  উঠে  সিঙ্গুর  স্টেশনে  নামুন।  স্টেশনের  দক্ষিণ  দিকে  এস. এন. মল্লিক  রোডে  এসে  নসিবপুর  গামী  বাস,  অটো  বা  টোটোতে  উঠে  ডাকাত  কালী  মন্দিরে  নামুন।  

            ডাকাত  কালী  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  দক্ষিণমুখী,  আটচালা  মন্দির।  গর্ভগৃহের  সামনে  ত্রিখিলান  প্রবেশদ্বারযুক্ত  অলিন্দ।  অলিন্দের  সামনে  রোয়াক। গর্ভগৃহে  ঢোকার  একটিই  প্রবেশদ্বার।  আগে  মন্দিরের  সামনের  দিকে  টেরাকোটা  অলংকরণে  অলংকৃত  ছিল।  কিন্তু  এখন  সেই  টেরাকোটার  সামান্যই  অবশিষ্ট  আছে।  মন্দিরের  সামনে  চাঁদনি  আকৃতির  নাটমন্দির  আছে।  মন্দির  চত্বর  পাঁচিল  দিয়ে  ঘেরা। 

            বহু  পূর্বে  ডাকাতির  জন্য  এই  অঞ্চল  প্রসিদ্ধ  ছিল  এবং  এই  স্থানের  ডাকাত-কালীর  নিকট  প্রতি  অমাবস্যায়  নরবলি  দেওয়া  হত।  তখন  এই  অঞ্চলে  ডাকাত  গগন  সর্দারের  দাপট  ছিল।  কথিত  আছে,  মা  সারদা  একবার  অসুস্থ  রামকৃষ্ণদেবকে  দেখতে  কামারপুকুর  থেকে  দক্ষিণেশ্বর  যাচ্ছিলেন।  পথে  ডাকাতরা  তাঁর  পথ  আটকে  দাঁড়ায়।  পরে  মায়ের  মুখে  কালীর  মুখের  প্রতিচ্ছবি  দেখে  ডাকাতরা  ক্ষমা  চায়।  রাত্রি  হয়ে  যাওয়ায়  মা  সারদা  ডাকাতদের  ডেরায়  থাকতে  বাধ্য  হন।  রাতে  মা  সারদাকে  খেতে  দেওয়া  হয়  চাল  ও  কড়াই  ভাজা।  তাই  কালীপুজোর  সময়  ভোগে  অন্যান্য  উপকরণের  সঙ্গে  চাল  ও  কড়াই  ভাজা  দেওয়া  হয়।  সেই  প্রথা  এখনও  চলে  আসছে। 

            গর্ভগৃহে   ভীষণ  মূর্তি  কালী  মাতা  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্য  পূজিত।  ডাকাতরাই  এই  মূর্তি  প্রতিষ্ঠা করে।  পরে  স্বপ্নাদৃষ্ট  হয়ে  সিঙ্গুর  থানার  চালকেবাটির  মোড়লরা  এই  মন্দির  নির্মাণ  করে  দেন।  তাই  কালীপুজোর  দিন  মোড়লদের  পুজো   আগে  হয়।       কোন  প্রতিষ্ঠাফলক  না  থাকায়  মন্দিরটি  কবে  প্রতিষ্ঠা  হয়েছিল  তা  সঠিক  ভাবে  বলা  যায়  না।  সম্ভবত  অষ্টাদশ  শতাব্দীতে  মন্দিরটি  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  মন্দিরের  বর্তমান  সেবায়েতবৃন্দ :  স্বর্গীয়  কৃষ্ণধন  ব্যানার্জীর  দুই  পুত্র,  স্বর্গীয়  কালীপদ  চট্টোপাধ্যায়ের  দুই  পুত্র  ও  স্বর্গীয়  শংকরনাথ  সিমলাই- এর  দুই  পুত্র।  এঁরাই  পালাক্রমে  পূজাকার্য  সম্পাদন  করেন।  এ  ছাড়া  মন্দিরের  উন্নয়ণের  জন্য  আছে  "ডাকাতকালী  মন্দির উন্নয়ণ  কমিটি"।  ডাকাত  কালী  মন্দিরের  রাস্তার  বিপরীত  দিকে  একটি  শিবমন্দির  আছে।  শিবমন্দিরটি  কালীমন্দিরের  পরে  প্রতিষ্ঠিত  হয়।


ডাকাত  কালী  মন্দির ( পূর্ব  দিক  থেকে  তোলা )

ডাকাত  কালী  মন্দির ( সামনে  থেকে  তোলা )

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস

মন্দিরের  খিলান 

মন্দিরের  শিখর  দেশ 

ডাকাত  কালী  মাতা - ১

ডাকাত  কালী  মাতা - ২

শিবমন্দির 

শিবমন্দিরে  শিবলিঙ্গ  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ


            এই  মন্দির  দেখা  শেষ  করে  অটো  করে  সিঙ্গুর  বা  সিঙ্গুরের  আগের  স্টেশন  নসিবপুর  আসুন।  সেখান  থেকে  ফিরতি  ট্রেন  ধরে  বাড়ি  ফিরুন।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৪.১১.২০১৬ 

   সহায়ক  গ্রন্থ :
                 ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র 
                                 
                                              *********  

            পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন : 


              সিঙ্গুরের  অন্যান্য  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিঙ্কে  ক্লিক  করুন :


----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।