Radhakanta Jiu Mandir Akui Bankura Paschim Banga লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Radhakanta Jiu Mandir Akui Bankura Paschim Banga লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

Radhakanta Jiu Temple, Akui, Bankura



শ্রীশ্রীরাধাকান্ত  জিউ  মন্দির,  আকুই,  বাঁকুড়া 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            বাঁকুড়া  জেলার  ইন্দাস  ব্লকের  অন্তর্গত  আকুই  একটি  গ্রাম।  আরামবাগ-বর্ধমান  বাসে  মঙ্গলমারিতে  নেমে,  সেখান  থেকে  টোটো  বা  বাসে  এই  গ্রামে  যাওয়া  যায়। 

            গ্রামে  ইটের  তৈরি  শ্রীশ্রীরাধাকান্ত  জিউ'র  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট,  পূর্বমুখী  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহে  প্রবেশের  দুটি  দরজা,  একটি  সামনে  অর্থাৎ  পূর্ব  দিকে,  অপরটি  উত্তর  দিকে।  বর্ধমানরাজ  তিলকচাঁদের  দেওয়ান  কানুরাম  দাস  ( পরে  এই  কায়স্থ  পরিবারটি  রায়  উপাধি  গ্রহণ  করেন )  ১৬৮৩  থেকে  ১৬৮৬  শকাব্দের  ( ১৭৬১-'৬৪  খ্রিস্টাব্দ )  মধ্যে  এই  মন্দিরটি  নির্মাণ  করেন।  দেবালয়ের  সামনের  দেওয়ালে  ও  থামে  অসংখ্য  'টেরাকোটা'-অলংকরণ  নিবদ্ধ  আছে।  'টেরাকোটা'র  বিষয় :  সামাজিক,  পৌরাণিক,  রামায়ণ  কাহিনী  ও  কৃষ্ণলীলা  প্রভৃতি।  কিন্তু  রাসায়নিক  রঙের  প্রলেপে  'টেরাকোটা'র  সৌন্দর্য  আজ  অনেকটাই  ম্লান। 

            মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাফলকের  পাঠ  নিম্নরূপ :

                         " শ্রী  শ্রী  রাধাকান্ত  জিউ  ....
                         অশীতিতম  শকাব্দে  শ্রীল  শ্রীরাধাকান্তস্য়
                         শ্রীমন্দিরারম্ভ  ইতি।   সুভমস্তু  সকাব্দা। 
                         ১৬৮৩  মাহ  মাঘ  ১৭  রোজ  মন্দির  আরম্ভ। 
                         মহারাজা  শ্ৰীযুত  তিলোকচন্দ্র  রায়স্য  অধি -
                         কার  পরিচারক  শ্রীকানুরাম  দাস  সাকিম 
                         আকুই  তস্য  জায়া  শ্রীমতি  চাপা  দাসি  শ্রীশ্রী 
                         চরণে  য়র্পণ  করিলেন।  কারিগর  শ্রী  ইস্বরি। ....
                         সাকিম  বল্যাড়া  সংপূর্ণ্ব  সকাব্দা  ১৬৮৬ ।। "  

            লিপিটিতে  বাংলা  ও  সংস্কৃতের  অবাধ  সংমিশ্রণ  ও  আধুনিক  বাংলা  বানানের  থেকে  পার্থক্য  লক্ষণীয়।  কারিগরের  নিবাস  'বল্যাড়া'  সম্ভবতঃ  আজকের  বহুলাড়া  এবং  কারিগরের  নাম  ঈশ্বরী। 
                                                                                      
শ্রীশ্রীরাধাকান্ত  জিউ'র  মন্দির, আকুই, বাঁকুড়া 

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ
( রামরাবণের যুদ্ধ ) 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ
( শ্রীকৃষ্ণের মথুরা গমন, শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক গোপীদের বস্ত্রহরণ ও কংস বধ )

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

রাসমণ্ডল 

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১ 

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ২

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৩

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৪

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৫

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৬

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৭

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৮

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৯

কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১০

প্রতিষ্ঠাফলক - ১

প্রতিষ্ঠাফলক - ২

পর্তুগিজ রণতরী 
সত্যভামার তুলাভরম ব্রত
'টেরাকোটা'র নকশা

উত্তরের দরজার খিলানের উপরের কাজ 

           মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ০৮.০৯.২০১৯



 সহায়ক  গ্রন্থ :
             ১)  বাঁকুড়া  জেলার  পুরাকীর্তি : অমিয়কুমার  বন্দোপাধ্যায়    
                                                                          
                     ----------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।