Terracotta Temples of West Bengal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Terracotta Temples of West Bengal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Radha Damodar Temple, Sonatorpara, Suri, Birbhum

 

রাধা দামোদর মন্দির, সোনাতোড়পাড়া, সিউড়ি, বীরভূম

                    শ্যামল কুমার ঘোষ

              বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়ি। এই শহরের দক্ষিণাংশে সোনাতোড়পাড়ায় অবস্থিত রাধা দামোদর মন্দিরটি  বীরভূম জেলার সবচেয়ে সুন্দর ও প্রাচীন আটচালা মন্দির। 

            মাকড়া পাথরে নির্মিত অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ইঁটের তৈরি দক্ষিণমুখী ও ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত মন্দিরটি আটচালা শৈলীর। মন্দিরটি 'ঘুনসা'র মন্দির নামেও পরিচিত। গর্ভগৃহের সামনে অলিন্দ আছে। গর্ভগৃহে ঢোকার একটিই দরজা,সামনে। গর্ভগৃহে  কোনও বিগ্রহ নেই। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে ফুলপাথরের  উপর অলংকরণ আছে। ফুলপাথর খুব নরম প্রকৃতির পাথর। লালচে রং। এই পাথর রাত্রিতে জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেনি দিয়ে কুঁদে যে কোন অলংকরণ ফুটিয়ে তোলা যায়। এই পাথরের মধ্যে দানা না থাকার জন্য ফুলপাথরের উপর কাজ পোড়ামাটির কাজের মতোই হয়ে থাকে। দুটোর পার্থক্য করা শক্ত।

            মন্দিরের বাঁ দিকের খিলানের উপর কালীয়দমন ও নৃত্যরত কৃষ্ণ, মধ্যের খিলানের উপর রাসমণ্ডল, বস্ত্রহরণ, রাধাকৃষ্ণ ও সংকীর্তনের দৃশ্য এবং ডান দিকের খিলানের উপর অনন্তশায়ী বিষ্ণু, বাহনোপরি ব্রহ্মা, বায়ু, ইন্দ্র, কার্তিক ও গণেশ ইত্যাদির প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ আছে। এ ছাড়াও দেওয়ালের অন্যান্য স্থানে নানা দেবদেবীর মূর্তি আছে। মন্দিরটি কোন সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় তা জানা যায় না, তবে শিল্প-শৈলী দেখে মনে হয় যে মন্দিরটি সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে বা অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমে নির্মিত হয়। মন্দিরটি ভারতীয় প্ৰত্নতাত্ত্বিক সমীক্ষার সংরক্ষণাধীনে থাকলেও বর্তমানে তার কোনও চিহ্ন দেখলাম না। সর্বত্রই অবহেলা চোখে পড়ল।

বাঁ দিক থেকে, গণেশ, কার্তিক, বায়ু, ইন্দ্র, ব্রহ্মা
ও অনন্তশয়ানে বিষ্ণু
 

রাধা দামোদর মন্দির, সিউড়ি, বীরভূম 

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ
( কালীয়দমন ও নৃত্যরত কৃষ্ণ )

কৃষ্ণ কর্তৃক কালীয়দমন

মধ্যের খিলানের উপরের কাজ
( রাসমণ্ডল, রাধাকৃষ্ণ, সংকীর্তনের দৃশ্য ও বস্ত্রহরণ )

রাসমণ্ডল

রাধাকৃষ্ণ ও রাসমণ্ডল 

বস্ত্রহরণ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ
( গণেশ, কার্তিক, বায়ু, ইন্দ্র, ব্রহ্মা
ও অনন্তশয়ানে বিষ্ণু )

 গণেশ, কার্তিক, বায়ু, ইন্দ্র, ব্রহ্মা
ও অনন্তশয়ানে বিষ্ণু

দুই খিলানের মাঝের কাজ - ১

দুই খিলানের মাঝের কাজ - ২

বাঁ দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ 

বাঁ দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ

ডান দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ

ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ

বাঁ দিকের কৌণিক ভাস্কর্য 

কুলুঙ্গির কাজ - ১
( বরাহ ও কূর্ম অবতার )

কুলুঙ্গির কাজ - ২
( কূর্ম ও মৎস্যাবতার )

কুলুঙ্গির কাজ - ৩
( মৎস্যাবতার ও গজেন্দ্রমোক্ষ  )

কুলুঙ্গির কাজ - ৪
( গজেন্দ্রমোক্ষ  )

কুলুঙ্গির কাজ - ৫
( হরগৌরী ও শিব )
 

কুলুঙ্গির কাজ - ৬
( হরগৌরী )

কুলুঙ্গির কাজ - ৭

কুলুঙ্গির কাজ - ৮

কুলুঙ্গির কাজ - ৯

কুলুঙ্গির কাজ - ১০

কুলুঙ্গির কাজ - ১১

কুলুঙ্গির কাজ - ১২

কুলুঙ্গির কাজ - ১৩
( গান্ধর্বী )

কুলুঙ্গির কাজ - ১৪

কুলুঙ্গির কাজ - ১৫
( ঢেঁকিবাহন নারদ )

সেতু বন্ধনে বানরদের শিলা বহন 

গর্ভগৃহের সামনের খিলানের উপরের কাজ 

           কীভাবে যাবেন ?

            হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে সিউড়ি। স্টেশনে নেমে টোটোতে সোনাতোড়পাড়ায় মন্দিরে যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে বাসেও সিউড়ি যেতে পারেন। সিউড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে হেঁটে বা টোটোতে মন্দিরে যাওয়া যায়।   

 সহায়ক  গ্রন্থ :

               ১)  বীরভূম  জেলার  পুরাকীর্তি :  দেবকুমার  চক্রবর্তী           

   ------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।                                                       

রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২

Charchala Dolmancha, Complex of 14 temples, kalitala, Gonpur, Birbhum

 

চারচালা দোলমঞ্চ, ১৪ মন্দির চত্বর, কালীতলা, গণপুর, বীরভূম 

                   শ্যামল কুমার ঘোষ

             বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের অন্তর্গত গণপুর একটি প্রাচীন গ্রাম। মল্লারপুরের নিকটবর্তী এই গ্রাম আগে বর্ধিষ্ণু ও সমৃদ্ধশালী ছিল। গ্রামটি এককালে দেশীয় প্রক্রিয়ায় আকরিক লোহা থেকে লোহা নিষ্কাশনের কেন্দ্র ছিল এবং গ্রামের চৌধুরী বংশ এই লোহার কারবারে বিত্তশালী হন ও প্রসিদ্ধি লাভ করেন। গণপুর গ্রামের পূর্বের প্রাচুর্য সেখানে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মন্দির স্থাপনের মধ্যে প্রতিফলিত। এখানে গ্রামের কালীতলায় অবস্থিত দোলমঞ্চ সম্বন্ধে আলোচনা করবো। দোলমঞ্চে সাধারণ ভাবে দোলের সময় বিগ্রহ এনে দোল উৎসব পালন করা হয়।  

            দোলমঞ্চটি  গ্রামের কালীতলায় অবস্থিত ১৪ টি মন্দির চত্বরের উত্তর-পশ্চিম কোণে অবস্থিত। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, দক্ষিণমুখী ও চারটি স্তম্ভের উপর স্থাপিত দোলমঞ্চটি চারচালা শৈলীর। দোলমঞ্চের সামনের দেওয়ালে ফুলপাথরের উপর অলংকরণ আছে। ফুলপাথর খুব নরম প্রকৃতির পাথর। লালচে রং। এই পাথর রাত্রিতে জলে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেনি দিয়ে কুঁদে যে কোন অলংকরণ ফুটিয়ে তোলা যায়। এই পাথরের মধ্যে দানা না থাকার জন্য ফুলপাথরের উপর কাজ পোড়ামাটির কাজের মতোই হয়ে থাকে। ছবি দেখে দুটোর পার্থক্য করা শক্ত। অনেকে বলেন, এটি পোড়ামাটির অলঙ্করণ। এই দোলমঞ্চে ফুলপাথরের  উপর অলংকরণের বিষয় :  রাসমণ্ডল, Yali, গণেশ,  সিদ্ধি ঘোঁটা, কৃষ্ণের  গিরিগোবর্ধনধারণ,  কালীয়দমন, নৌকাবিলাস ইত্যাদি। দোলমঞ্চটি ১১৮২ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। দোলমঞ্চের কার্নিশের গায়ে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে।

রাসমণ্ডল

দোলমঞ্চ, কালীতলা, গণপুর, বীরভূম

গণপুরের কালীতলায় দোলমঞ্চের অবস্থান 

দোলমঞ্চের সামনের বিন্যাস 

রাসমণ্ডল 

বাঁ দিকের কৌণিক ভাস্কর্য (Yali )
ও গণেশ

ডান দিকের কৌণিক ভাস্কর্য (Yali )
ও সিদ্ধি ঘোঁটা
 

বাঁ দিকের স্তম্ভ

গিরিগোবর্ধনধারণ ও অন্যান্য চিত্র 

ডান দিকের স্তম্ভ 

কালীয়দমন ও অন্যান্য চিত্র 

প্রতিষ্ঠাফলক 

            কীভাবে যাবেন ?

            হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাটগামী ট্রেনে মল্লারপুর স্টেশনে নেমে বাসে বা টোটোতে গণপুর যাওয়া যায়। অথবা সিউড়ি বা রামপুরহাট থেকে বাসে গণপুর। সেখান থেকে টোটোতে গণপুর কালীতলার মন্দির।    

 সহায়ক  গ্রন্থ :

               ১)  বীরভূম  জেলার  পুরাকীর্তি :  দেবকুমার  চক্রবর্তী           

  ------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। ববইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।