রবিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২১

Panihati Rasbari and Radhagobinda Jiu Temple, Panihati, North 24 Parganas

পানিহাটি  রাসবাড়ি  এবং  রাধাগোবিন্দ  জিউ  মন্দির,  পানিহাটি,  উত্তর  ২৪ পরগনা

                          শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            পানিহাটির  দণ্ডমহোৎসবতলার  কিছুটা  আগে  বাজারের  ঘাট।  লর্ড  ক্লাইভের  আমলে  রানি  ভবানীর  দেওয়ান  গৌরীচরণ  রায়চৌধুরী  ( সাবর্ণ  গোত্র )  পানিহাটির  জমিদারি  পান।  গৌরীচরণের  ছেলে  জয়গোপাল  রায়চৌধুরী  এই  বাজার  ও  ঘাট  প্রতিষ্ঠা  করেন।  বাজারের  কাছেই  একটি  পুরান  দোতালা  দালান।  দোতালার  একটি  ঘরে  রায়চৌধুরীদের  রাধাগোবিন্দ  বিগ্রহ  রয়েছেন।  রাধাগোবিন্দের  প্রাচীন  মন্দির  ভেঙে  যাওয়ার  পর  থেকেই  ঠাকুর  এই  দোতালায়  আশ্রয়  নিয়েছেন।  গোবিন্দ  বিগ্রহ  কষ্টিপাথরের।  রাধা  মূর্তি   অষ্টধাতুর।  কাছেই  একটি  আটকোনা  ও  নয়  চূড়াযুক্ত রাসমঞ্চ  ও  চারটি  আটচালা  শিবমন্দির  আছে।

             মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  জন্মাষ্টমী,  দোলযাত্রা,  স্নানযাত্রা,  ঝুলন,  রাসযাত্রা  ইত্যাদি  উৎসব  অনুষ্ঠিত  হয়।  রাসের  সময়  বিগ্রহ  রাসমঞ্চে  বসিয়ে  রাসযাত্রা  উৎসব  পালন  করা  হয়। 

কী  ভাবে  যাবেন ?

            যদি  আপনি  পানিহাটির  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি  দেখে  এখানে  আসতে  চান  তবে  হাওড়া,  শিয়ালদহ  বা  শ্যামবাজার  থেকে  বি. টি. রোড  গামী  বাসে  উঠে  পানিহাটির  মোল্লার  হাটে  নামুন।  সেখান  থেকে  টোটোতে  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি।  হেঁটেও  আসতে  পারেন।  শিয়ালদহ  থেকে  ট্রেনে  এলে  আগরপাড়ায়  নামুন।  সেখান  থেকে  অটোতে  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি।  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি  দেখে  গঙ্গার  ধার  দিয়ে  হেঁটে  পানিহাটি  বাজারের  ঘাট।  কাছেই  রাসমঞ্চ। 

            যদি  আপনি  কেবল  রাসমঞ্চ,  শিবমন্দির  ও  রাধাগোবিন্দ  বিগ্রহ  দেখতে  চান  তবে  হাওড়া,  শিয়ালদহ  বা  শ্যামবাজার  থেকে  বি. টি. রোড  গামী  বাসে  উঠে  সোদপুরে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটোতে  পানিহাটি  ফেরিঘাট।  শিয়ালদহ  থেকে  ট্রেনে  এলে  সোদপুরে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটোতে  পানিহাটি  ফেরিঘাট।  কাছেই  রাসমঞ্চ।  কোন্নগর  ফেরিঘাট  থেকে  গঙ্গা  পেড়িয়ে  পানিহাটি  ফেরিঘাটে  আসতে  পারেন।      

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৫.০৮.২০২১  

রাসমঞ্চ 

দোতালা দালান ( এখানেই দোতালায় রাধাগোবিন্দ থাকেন ) 

দেওয়ালে লাগানো ফলক 

রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ - ১

রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ - ২

চারটি আটচালা শিবমন্দির 

  সহায়ক  গ্রন্থ /  সূত্র : 

                 ১)  পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস         

                        ------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


Giribala Thakurbari, Kamarhati, Panihati, North 24 Parganas

 গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি,  কামারহাটি,  পানিহাটি,  উত্তর  ২৪  পরগনা

                               শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            ব্যারাকপুর  ট্রাঙ্ক  রোডে  অবস্থিত  আগরপাড়ার  মোল্লার  হাটের  মোড়  থেকে  হলধর  বোস  রোড  ধরে  গঙ্গার  দিকে  হাঁটলে  গঙ্গার  ধারে  পড়বে  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ি।  অনেকে  একে  ছোট  দক্ষিনেশ্বর  বলে  থাকেন।  এই  মন্দিরের  অবস্থান  দক্ষিণেশ্বরের  মত  গঙ্গাতীরে  এবং  শিবমন্দিরগুলির  গঠনশৈলী  মোটামুটি  একই  রকম।  দক্ষিণেশ্বরের  মূল  দেবতা  দক্ষিণাকালী,  কিন্তু  এখানকার  মূল  দেবতা  রাধাগোবিন্দ  জিউ।  মন্দিরের  পশ্চিম  দিকে  গিরিবালা  ঘাট।  আছে  নহবত  খানা,  নাটমন্দির।  মন্দিরটি  নির্মাণ  করতে  সেই  সময়ে  প্রায়  সাড়ে  তিন  লক্ষ  টাকা  খরচ  হয়েছিল।   

            মন্দিরটি  বাংলা  ১৩১৮  সালের  (  ১৯১১  খ্রিষ্টাব্দে )  ১৮ই  জ্যৈষ্ঠ  রানি  রাসমনির  নাতবৌ,  কলকাতার  জানবাজারের  গোপালকৃষ্ণ  দাসের  বিধবা  স্ত্রী  গিরিবালা  দাসী  প্রতিষ্ঠা  করেন।  পাঁচিল  দিয়ে  ঘেরা  মন্দির  প্রাঙ্গণের  ঠিক  মাঝখানে  রাধাগোবিন্দজির  মন্দির।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরে  ওঠার  সিঁড়ির  দুপাশে  দুটি  পাথরের  নারীমূর্তি,  হাতে  কাচের  বাতিদান।  মন্দিরের  চারিদিকে  বাঁকানো  কার্নিসের  নিচে  সুন্দর  পঙ্খের  কাজ  আছে।  

            মন্দিরের  সামনে  বড়  নাটমন্দির।  প্রাঙ্গণের  পশ্চিমদিকে   ছটি  আটচালা  শিবমন্দির।  শিবমন্দিরগুলির  নাম  ( দক্ষিণ  দিক  থেকে  উত্তরে ) :  রামেশ্বর,  রাজেশ্বর,  গোপেশ্বর,  তারকেশ্বর,  ভুবনেশ্বর  ও  গিরিশ্বর।  ১ নং  রামেশ্বর  শিবমন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  যুগলমিলন  মূর্তি  এবং  পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  কৃষ্ণ-বলরাম  মূর্তি।  ২ নং  রাজেশ্বর  শিবমন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  মূর্তিটি  ভেঙে  গেছে।  এই  শিবমন্দিরের  পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  রামরাজার  মূর্তি।  ৩ নং  গোপেশ্বর  শিবমন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  রাইরাজার  মূর্তি।  এই  শিবমন্দিরের  পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে নন্দীর  পিঠে  হরপার্বতী  মূর্তি,  এ  ছাড়াও  রয়েছেন  একজন  শিঙ্গাবাদক  ও  একজন  শঙ্খবাদক।  ৪ নং  তারকেশ্বর  শিবমন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  অনন্ত  শয়ানে  বিষ্ণু।  ৫ নং  ভুবনেশ্বর  শিব মন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  রাইমিলন  মূর্তি।  এই  মন্দিরের  পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  শিব  ও  অন্নপূর্ণার  মূর্তি।  ৬ নং  গিরিশ্বর  মন্দিরের  পূর্ব  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  কৃষ্ণের  কালীয়  দমন  মূর্তি।  এই  মন্দিরের  পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপর  রয়েছে  শিবের বাহন নন্দীর  পিঠে  শিব-গণেশজননী  ও  ইন্দ্রের বাহন  ঐরাবতের  পিঠে  ইন্দ্র-শচি।  এখানে বৃষ-গজের  একই মাথা।

            মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কষ্টিপাথরের  কৃষ্ণ,  অষ্টধাতুর  রাধা,  গণেশ,  নারায়ণ  শিলা  ও  অন্যান্য  দেবদেবীর  মূর্তি  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্যপূজিত।  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  সময়  যে  রাধারানির  মূর্তিটি  ছিল  সে  মূর্তিটি  চুরি  হওয়ার  পরে  শ্বেতপাথরের  একটি  রাধারানি  মূর্তি  পূজা  করা  হত।  রাধারানিকে  স্নান  করানোর  সময়  পুরোহিতের  অসাবধানতায়  তা  ভেঙে  যায়।  সেই  ভাঙা  মূর্তিটি  জোড়া  দিয়ে  দীর্ঘদিন  পূজা  করা  হয়।  ১৯৮৫  সালের  ২০ শে  জানুয়ারি  গিরিবালা  দাসীর  বংশধররা  মন্দিরের  রক্ষণাবেক্ষণের  দায়িত্ব  ভোলাগিরি  আশ্রম  কর্তৃপক্ষের  হাতে  অর্পণ  করেন।  তারপর  স্বামী  শিবানন্দ  গিরি  মহারাজ  এই  মন্দিরে  ভারপ্রাপ্ত  হয়ে  আসেন।  তিনি  বৃন্দাবন  ধাম  থেকে  একটি  অষ্টধাতুর  রাধারানির  মূর্তি  এনে  অভিষেক  করিয়ে  পূজার  ব্যবস্থা  করেন।  এখনও  সেই  মূর্তিই  পূজিত  হচ্ছেন।

            মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠা  দিবসের  উৎসব,  রাধাষ্টমী,  জন্মাষ্টমী,  দোলযাত্রা,  স্নানযাত্রা,  ঝুলন,  রাসযাত্রা  ইত্যাদি  উৎসব  অনুষ্ঠিত  হয়।  তবে  আগেকার  মত  এখন  আর  সেরকম  জাঁকজমক  হয়  না।  শিবরাত্রির  দিন  সারারাত  শিবমন্দিরগুলিতে  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।

            মন্দিরের  পূর্ব  দিকে  সারি  সারি  ঘর।  এগুলি  নানা  কাজে  ব্যবহৃত  হয়।  মন্দিরের  পরিবেশ  খুবই  সুন্দর।  এক  দিনের  ভ্রমণের  জন্য  অবশ্যই  এটি  নির্বাচন  করা  যেতে  পারে। 

  কী  ভাবে  যাবেন ?

            হাওড়া,  শিয়ালদহ  বা  শ্যামবাজার  থেকে  বি. টি. রোড  গামী  বাসে  উঠে  পানিহাটির  মোল্লার  হাটে  নামুন।  সেখান  থেকে  টোটো  পাবেন।  হেঁটেও  যেতে  পারেন।  শিয়ালদহ  থেকে  ট্রেনে  এলে  আগরপাড়ায়  নামুন।  সেখান  থেকে  অটো। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৫.০৮.২০২১

গোপেশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( রাইরাজা )

রাধাগোবিন্দ মন্দির 

মন্দিরের সামনের নিচের দিকের বিন্যাস 

সিঁড়ির এক পাশের নারীমূর্তি

সিঁড়ির অপর পাশের নারীমূর্তি

মন্দিরের সামনের বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ 

সামনের বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ ( বড় করে )

পশ্চিম দিকের দেওয়ালের কাজ 

পশ্চিম দিকের খিলানের উপরের কাজ 

উত্তর দিকের খিলানের উপরের কাজ 


পূর্ব দিকের দেওয়ালের কাজ

রামেশ্বর শিবমন্দির 

রামেশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( যুগলমিলন ) 

রামেশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( কৃষ্ণ ও বলরাম )

রাজেশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( রামরাজা )

গোপেশ্বর শিবমন্দির 

গোপেশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( রাইরাজা )

গোপেশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( নন্দী পৃষ্ঠে শিব-পার্বতী )

তারকেশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( অনন্ত শয়ানে বিষ্ণু )

তারকেশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ


ভুবনেশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( রাইমিলন )

গিরিশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
                ( শিব ও অন্নপূর্ণা )               
গিরিশ্বর শিবমন্দিরের সামনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( কৃষ্ণের কালীয় দমন )

ভুবনেশ্বর শিবমন্দিরের পিছনের দরজার খিলানের উপরের কাজ
( হরিহর )

রাধাগোবিন্দ ও অন্যান্য বিগ্রহ 

রাধা ও গোবিন্দ বিগ্রহ - ১

রাধা ও গোবিন্দ বিগ্রহ - ২

 সহায়ক  গ্রন্থ /  সূত্র : 

                 ১)  পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস 
                 ২)  পানিহাটি  পৌরসভার  ওয়েবসাইট 
                 ৩)  শতবর্ষে  গিরিবালা  ঠাকুরবাড়ী :  কৃশানু  ভট্টাচার্য্য 

                     ----------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

Bhabani Kali Temple / Trananath Babu's Kali Bari, Panihati, North 24 Parganas

ভবানী  কালীমন্দির /  ত্রাণনাথ  কালী  বাড়ি,  পানিহাটি,  উত্তর  ২৪  পরগনা  

                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            ভবানী  কালী  মন্দির  পানিহাটি  ফেরিঘাটের  কাছে অবস্থিত  একটি  প্রাচীন  কালী  মন্দির।  যদিও  মন্দিরটি  ত্রাণনাথ  বাবুর  কালীবাড়ি  নামেই  বেশি  পরিচিত।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  স্থাপিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  পঞ্চরত্নের  শিখরগুলি  রেখ  ধরণের  খাঁজ  কাটা।  মন্দিরের  কার্নিস  সোজা।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে  মা  ভবানীর  কষ্টিপাথরে  নির্মিত  বিগ্রহ  একটি  কাঠের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্যপূজিত।  বিগ্রহ  আগে  ছিল  একটি  রুপোর  সিংহাসনে।  ১৯৭৫  সালে  সিংহাসনটি  চুরি  যায়।  মন্দিরে  তিনটি  আটচালা,  পশ্চিমমুখী  শিবমন্দিরে  তিনটি  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  দুটি  শিবলিঙ্গ  কষ্টিপাথরের,  তৃতীয়টি  একটু  অন্যরকম।  গৌরীপট্ট  শ্বেতপাথরের  এবং  লিঙ্গভাগ  কষ্টিপাথরের।  এখানে  শিবশক্তি  রূপের  প্রকাশ  ঘটেছে।  মন্দিরের  কাছেই  আছে  ত্রাণনাথ  বাবুর  ঘাট।  গঙ্গার  ধারে  অবস্থিত  মন্দিরটির  প্রাকৃতিক  পরিবেশ  খুব  সুন্দর। 

            খ্রিষ্টীয়  তৃতীয়  শতকে  বেড়াচাঁপার  রাজা  চন্দ্রকেতু  গড়  স্থাপন  করে  তার  ভিতরে  ভবানী  নাম  এক  কালিকা  মূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মুসলমান  আক্রমণের  সময়  চন্দ্রকেতুর  বংশধরেরা  নিহত  হন।  জনৈক  ব্রহ্মচারী  বিগ্রহ  নিয়ে  বেড়াচাঁপা  থেকে  পালিয়ে  আসেন  এখানকার  গঙ্গাতীরে।  পঞ্চমুন্ডি  আসন  স্থাপন  করে  মায়ের  পূজা  আরাম্ভ  করেন।  ব্রহ্মচারীর  শিষ্য  পরম্পরায়  ওই  বিগ্রহ  পূজিত  হচ্ছিল।  শেষ  ব্রহ্মাচারী  ত্রাণনাথ  বাবুর  বাবা  নসীরাম  ( অন্যমতে,  মসিরাম )  বন্দোপাধ্যায়ের  হাতে  পূজার  ভার  দিয়ে  দেহ  রাখেন।  নসীরাম  বাবুর  পর  ত্রাণনাথ  বাবু  এই  মন্দির  নির্মাণ  করে  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  অন্যমতে,  রাজা  চন্দ্রকেতু  পানিহাটিতে  একটি  গড়  বা  কেল্লা  তৈরি  করেন।  আর  সেই  গড়ে  মন্দির  স্থাপন  করে  প্রতিষ্ঠা  করেন  ভবানীর  মূর্তি।  কেল্লার  নাম  হয়  গড়  ভবানী।  পানিহাটির  উত্তর  অংশের  নাম  হয়  ভবানীপুর। মুসলিম  আক্রমণের  সময়  সেই  কালী  মূর্তি  হারিয়ে  যায়।  পরে  কলকাতার  বাগবাজারের  গাঙ্গুলি  পরিবারে  সেই  মূর্তি  খুঁজে  পাওয়া  যায়  এবং  গঙ্গা  তীরে  মন্দির  তৈরি  করে  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়। 

     কী  ভাবে  যাবেন ?

            হাওড়া,  শিয়ালদহ  বা  শ্যামবাজার  থেকে  বি. টি. রোড  গামী  বাসে  উঠে  পানিহাটিতে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটো  পাবেন।  শিয়ালদহ  থেকে  ট্রেনে  এলে  সোদপুরে  নামুন।  সেখান  থেকে  অটো। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৫.০৮.২০২১ 


ভবানী মন্দিরের  শিখর 

ভবানী কালীমন্দির ( পিছনের দিক থেকে তোলা )

ভবানী কালীমন্দির ( সামনে থেকে তোলা )

মা ভবানী - ১

মা ভবানী - ২

সহায়ক  গ্রন্থ /  সূত্র : 
                 ১)  পশ্চিমবঙ্গ  ভ্রমণ  ও  দর্শন :  ভূপতিরঞ্জন  দাস 
                 ২)  পানিহাটি  পৌরসভার  ওয়েবসাইট 

                                               *********
            পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                    --------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।