মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০১৬

Shri Shri Krishna Chandra Jiu Temple, RayBari, Radhaballabhi Acharya Para, Santipur, Nadia

            শ্রী শ্রী  কৃষ্ণচন্দ্র  জিউ  মন্দির,  রায়বাড়ি,
                  রাধাবল্লভী  আচার্য  পাড়া,  শান্তিপুর,  নদিয়া 

                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            শান্তিপুরের  বিগ্রহ  বাড়িগুলির  মধ্যে  রায়  বাড়ি  অন্যতম।  এই  বাড়ির  বিগ্রহ  শ্রীশ্রী  কৃষ্ণচন্দ্র  একটি  মন্দিরে  কাঠের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরে  অন্যান্য  বিগ্রহের  সঙ্গে  একটি  বহু  পুরানো  শিবলিঙ্গও  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরটি  বাংলা  চারচালা  রীতির।  পূর্বে  মন্দিরের  সামনের  দেওয়াল  যে  টেরাকোটা  সমৃদ্ধ  ছিল  তা  অনুমান  করা  যায়।  কিন্তু  কালের  প্রবাহে  এবং  সাদা  কলিচুনের  প্রলেপে  সেই  টেরাকোটার  সামান্যই  আজ  অবশিষ্ট  আছে।

            আগে  রায়  পরিবার  শাক্ত  বলেই  পরিচিত  ছিল।  দুর্গা  ও  কালী  পূজা  উপলক্ষ্যে  ছাগ  বলিরও  প্রচলন  ছিল।  পরে  বৈষ্ণবীয়  ভক্তি  আন্দোলনের  জোয়ারে  শান্তিপুরের  অনেক  পরিবারের  মত  শক্তির  উপাসক  রায়  পরিবারের  প্রাণপুরুষ  শম্ভুনাথ,  বিশ্বনাথ  এবং  নরসিংহনাথদের  মনেও  ভাবান্তর  আসে  এবং  তাঁরা  বৈষ্ণব  ধর্মে  দীক্ষিত  হন।  বর্তমানে  দশ  পুরুষ  ধরে  এই  পরিবার  শ্রী শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র  জিউর  নিত্য  পূজা  ও  অন্যান্য  বৈষ্ণব-পার্বণ  পালন  করে  আসছেন।  ভাঙ্গারাসের  শোভাযাত্রায়  এই  বাড়ির  অন্যতম  আকর্ষণ  রাইরাজা।

শ্রীশ্রী কৃষ্ণচন্দ্র  মন্দির,  রায়বাড়ি,  শান্তিপুর

শ্রীশ্রী কৃষ্ণচন্দ্র  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ

শ্রীশ্রী কৃষ্ণচন্দ্র  ও  রাধিকা  বিগ্রহ

            শান্তিপুরের  রায়বাড়ি  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কিমি।    ট্রেনে  সময়  লাগে  আড়াই  ঘন্টা।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  রাধাবল্লভী  আচার্য  পাড়ায়  অবস্থিত  রায়বাড়ি।  



 সহায়ক  গ্রন্থ :
              ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা        

         ----------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন