Temples of Hooghly District লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Temples of Hooghly District লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Anandamayi Kali Temple, Sukharia, Somrabazar, Hooghly

 আনন্দময়ী  কালী  মন্দির,  সুখাড়িয়া,  সোমরাবাজার,  হুগলি 

                                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            ব্যাণ্ডেল-কাটোয়া  রেলপথে  সোমরাবাজার  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৬৭  কিমি।  শিয়ালদহ  থেকে  সকাল  ৮ টা  ০৬  মিনিটের  কাটোয়া  লোকালে  বা  হাওড়া  থেকে  যে  কোন  কাটোয়া  লোকালে  এখানে  যাওয়া  যায়।  ব্যাণ্ডেল  থেকেও  সোমরাবাজার  যেতে  পারেন।  স্টেশন  থেকে  টোটোতে  সুখাড়িয়ার  আনন্দময়ী  কালী  মন্দিরে  যাওয়া  যায়।

            সুখাড়িয়ার  মুস্তৌফী  বংশ  নদিয়া  জেলার  উলার  মুস্তাফী  বা  মুস্তৌফী  বংশের  একটি  শাখা।  উলার  রামেশ্বর  মিত্রমুস্তাফী  বা  মিত্রমুস্তৗফী  ছিলেন  এই  বংশের  প্রতিষ্ঠাতা।  রামেশ্বর  নবাব  মুর্শিদকুলি  খাঁর  শাসনকালে  সুবে  বাংলার  রাজস্ব  বিভাগের  মুস্তৗফী  (= নায়েব  কানুনগো )  পদে  উন্নীত  হন।  এই  রামেশ্বরের  পুত্র  অনন্তরাম  মুস্তৗফী  মহারাজ  কৃষ্ণচন্দ্রের  বিরাগভাজন  হওয়ার  ফলে  উলা  ছেড়ে  সুখারিয়া  গ্রামে  চলে  আসেন।  তাঁর  দাদা  রঘুনন্দন  শ্রীপুরে  ( বলাগড় )  বসতি  স্থাপন  করেন।

            সুখাড়িয়ার  মন্দিরগুলির  মধ্যে  আনন্দময়ী  কালীমন্দির  উল্লেখযোগ্য।  ১৮১৩  খ্রিস্টাব্দে  বীরেশ্বর  মুস্তৗফী  মন্দিরটি  নির্মাণ  করেন।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঁচিশরত্ন  শৈলীর।  ত্রিতল  মন্দিরটিতে  মোট  পঁচিশটি  চূড়া  বা  রত্ন  আছে।  প্রথম  তলের  প্রতিটি  কোণে  তিনটি  হিসাবে  বারোটি,  দ্বিতীয়  তলের  প্রতিটি  কোণে  দুটি  হিসাবে  আটটি,  তৃতীয়  তলের  প্রতিটি  কোণে  একটি  হিসাবে  চারটি  এবং  সর্বোপরি  কেন্দ্রীয়  শিখর  বা  রত্ন।  এই  ধরণের  পঞ্চবিংশতিরত্ন  মন্দির  পশ্চিমবঙ্গে  আরও  চারটি  আছে,  বর্ধমান  জেলার  কালনায়  তিনটি  এবং  বাঁকুড়া  জেলার  সোনামুখীতে  একটি।  ১৮৯৭  খ্রিস্টাব্দে  ভূমিকম্পে  এই  মন্দিরের  সর্বোচ্চ  পাঁচটি  চূড়া  ক্ষতিগ্রস্ত  হলে  সেগুলিকে  আবার  নূতন  করে  স্থাপন  করা  হয়। মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটার  অলংকরণ  আছে।  কিন্তু  কালের  প্রবাহে  বর্তমানে  সেগুলি  ক্ষতিগ্রস্ত।  টেরাকোটা  মূর্তিগুলির  মধ্যে  অন্নপূর্ণা,  জগদ্ধাত্রী,  কালী,  পঞ্চমুখী  গণেশ  ও  সিংহবাহিনী  উল্লেখযোগ্য।  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  বেদির  উপর  শায়িত  শিবের  বক্ষোপরি  উপবিষ্টা  আনন্দময়ী  কালীর  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত।  বিগ্রহ  উচ্চতায়  প্রায়  ৩  ফুট ( ৯১.৪ সেমি )।  মন্দিরের  একটি  ঘরে  শ্রীধর  জিউ  নামক  নারায়ণ  শিলা  ও  অপর  একটি  নারায়ণ  শিলাও  নিত্য  পূজিত। 

            মন্দির  এলাকার  মধ্যে  দুই  সারিতে  ছয়টি  করে  বারোটি  মন্দির  আছে।  এর  মধ্যে  দুটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকিগুলো  আটচালা  শৈলীর।  পশ্চিমমুখী  ৬ টা  মন্দিরের  উত্তর  দিকে  একটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকি  ৫ টি  আটচালা  শৈলীর।  ৫ টা  আটচালা  মন্দিরের  মাঝের  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  সাদা  শিবলিঙ্গ  ও  বাকি  ৪ টা  আটচালা  ও  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কালো  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  পূর্বমুখী  ৬ টা  মন্দিরের  উত্তর  দিকে  একটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকি  ৫ টি  আটচালা  শৈলীর।  ৫ টা  আটচালা  মন্দিরের  মাঝের  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  সাদা  শিবলিঙ্গ  ও  বাকি  ৪ টা  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কালো  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  গণেশ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠিত।  এই  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটা  ফলক  বর্তমান।  অষ্টাদশ  শতকের  গোড়ার  দিকে  এটি  নির্মিত  হয়।  মন্দির  চত্বরের  পশ্চিম  দিকে  একটি  বড়  পুকুর  আছে।  এই  পুকুরের  অপর  পাড়  থেকে  মন্দিরগুলি  খুব  সুন্দর  দেখায়।                                    

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :

আনন্দময়ী কালী মন্দির চত্বর, সুখাড়িয়া, হুগলি 

আনন্দময়ী কালী মন্দির, সুখাড়িয়া, হুগলি
মন্দিরের শিখর ( পূর্ব দিক থেকে )

মন্দিরের সামনের বিন্যাস


মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

পূর্ব দিকের একটি সিংহ মূর্তি 

অন্নপূর্ণা মূর্তি 

জগদ্ধাত্রী

কালী

পঞ্চমুখী গণেশ

সিংহবাহিনী

গর্ভগৃহের  সামনের  অলিন্দের কাজ 

পূর্বমুখী ৬ টি মন্দির 

পশ্চিমমুখী ৬ টি মন্দির 

পূর্বমুখী পঞ্চমুখী গনেশ মন্দির 

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -১

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -২

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -৩

গণেশ মূর্তি 

শ্রীধর জিউ ও অন্য একটি নারায়ণ শিলা

আনন্দময়ী কালী মূর্তি - ১

আনন্দময়ী কালী মূর্তি - ২

পুকুরের অপর পাড় থেকে মন্দির - ১

পুকুরের অপর পাড় থেকে মন্দির - ২


            সহায়ক  গ্রন্থ :

                           ১) হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

------------------------------------------------------------------------
           

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮

Nilkantheshwari Temple,Gondalpara,Chandannagar,Hooghly,West Bengal


নীলকন্ঠেশ্বরী  মন্দির,  গোন্দলপাড়া, চন্দননগর, হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  চন্দননগর  ত্রয়োদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩২.৬  কিমি।  চন্দননগর  নামটি  সম্ভবত  'চন্দ্র  নগর'  নাম  থেকে  এসেছে।  কেউ  কেউ  বলেন  যে  গঙ্গানদী  এখানে  চন্দ্রাকার  বলে  প্রথমে   'চন্দ্রনগর'  এবং  তার  থেকে  'চন্দননগর'  হয়েছে।  আবার  অনেকের  মতে  একসময়  এখানে  চন্দনকাঠের  বড়  বাণিজ্যকেন্দ্র  ছিল।  তা  থেকে  'চন্দননগর'  নামটির  উদ্ভব।  এক  সময়  শহরটি  ফরাসীদের  অধিকারে  থাকার  জন্য  নাম  হয়  'ফরাসডাঙা'।

            চন্দননগরের  গোন্দলপাড়ায়  নীলকন্ঠেশ্বরীর  মন্দির  ১৮৩৫  শকাব্দে,  ইং  ১৯১৩ সালের  ১০ ই  জুলাই  ( ১৩২০ বঙ্গাব্দের  ২৬ শে  আষাঢ় )  শিবনাথ  মুখোপাধ্যায়  ও  তাঁর  স্ত্রী  শরৎকুমারী  দেবী  প্রতিষ্ঠা  করেন।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী,  সমতল  কার্নিসযুক্ত  পঞ্চশিখর  মন্দির।  বাংলায়  ইংরেজ  রাজত্ব  প্রতিষ্ঠিত  হওয়ার  পর  বাংলার  মন্দির  শিল্পে  ইউরোপীয়  প্রভাবের  সূত্রপাত  হয়  এবং  তার  ফলে  বাংলা  মন্দিরে  বক্র  চালের  পরিবর্তে  সমতল  ছাদের  সৃষ্টি  হয়।  গর্ভগৃহের  ছাদের  নিচের  দিকটি  গম্বুজাকৃতি।  দ্বিতলের  পঞ্চশিখরযুক্ত  কক্ষটি  গর্ভগৃহের  আবরণ  হিসাবে  নির্মিত।  উপরের  কক্ষের  দুপাশে  দুটি  চালামন্দির  স্থাপন  করা  হয়েছে।  এর  নিচে  দুটি  ছোট  ছোট  ঘর।  বাঁদিকের  ঘরে  বাণেশ্বর  নামক  কষ্টিপাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত।  ডান  দিকের  ঘরটিতে  বর্তমানে  কোন  বিগ্রহ  নেই।  মন্দিরের  সামনে  উঠোন  ও  তিন  দিকে  চকমিলানো  অনেকগুলি  ঘর।  উঠোনে  কয়েকটি  গাছ।  চূড়াগুলি  যদি  না  থাকতো  তবে  মন্দিরের  পরিবর্তে  এটিকে  বাসভবন  বলে  মনে  হত।  মন্দিরটি  নির্মাণে  প্রায়  এক  লক্ষ  টাকা  ব্যয়  হয়।   

            মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কষ্টিপাথরের  নীলকন্ঠেশ্বরী  কালীর  সুন্দর  মূর্তি  নিত্য  পূজিত। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৩.০৯.২০১৭       


নীলকন্ঠেশ্বরীর  মন্দির

মন্দিরের  শিখর - ১

মন্দিরের  শিখর - ২

নীলকন্ঠেশ্বরী  বিগ্রহ - ১

নীলকন্ঠেশ্বরী  বিগ্রহ - ২


 সহায়ক  গ্রন্থ :

                 ১)  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল :  সুধীর  কুমার  মিত্র 

                                                                       ******
               পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন :  

             ------------------------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


মঙ্গলবার, ২৯ মে, ২০১৮

Nabaratna Temple, Boraichanditala, Goswami Ghat,Chandannagar, Hooghly,West Bengal


নবরত্ন  মন্দির,  বোড়াইচণ্ডীতলা,  গোস্বামী ঘাট,  চন্দননগর,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 


            হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  চন্দননগর  ত্রয়োদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩২.৬  কিমি।  চন্দননগর  নামটি  সম্ভবত  'চন্দ্র  নগর'  নাম  থেকে  এসেছে।  কেউ  কেউ  বলেন  যে  গঙ্গানদী  এখানে  চন্দ্রাকার  বলে  প্রথমে   'চন্দ্রনগর'  এবং  তার  থেকে  'চন্দননগর'  হয়েছে।  আবার  অনেকের  মতে  একসময়  এখানে  চন্দনকাঠের  বড়  বাণিজ্যকেন্দ্র  ছিল।  তা  থেকে  'চন্দননগর'  নামটির  উদ্ভব।  এক  সময়  শহরটি  ফরাসীদের  অধিকারে  থাকার  জন্য  নাম  হয়  'ফরাসডাঙা'।

            অষ্টাদশ  শতকের  শেষ  ভাগে  চন্দননগরের  বোড়াইচণ্ডীতলায়  দেবীচরণ  সরকার  নামে  এক  বিশিষ্ট  কায়স্থ  বাস  করতেন।  সেই  সময়  চন্দননগরে  প্রায়  দেড়  হাজার  তাঁতির  বাস  ছিল।  তাঁদের  তৈরি  লুঙ্গি  বিদেশে  চালান  দিয়ে  তিনি  প্রচুর  ধন  উপার্জন  করেন।  দানে  তিনি  মুক্ত  হস্ত  ছিলেন।  দেবীচরণের  মৃত্যুর  পর  তাঁর  ছোট  ভাই  বিশ্বনাথ  সরকারও  অপুত্রক  অবস্থায়  অকালে  মারা  যান।  স্বামীর  মৃত্যুর  পর  বিশ্বনাথের  স্ত্রী  গৌরমণি  সরকার  ১৮০৮  খ্রীষ্টাব্দে  ( ১৭৩০  শকাব্দে )  তাঁর  সমস্ত  সম্পত্তি  দেবসেবায়  নিয়োজিত  করেন।  তিনি  গোস্বামী  ঘাটে  গঙ্গা-তীরে  ভবতারিণী  কালীর  মন্দির  ও  দু-পাশে  ছটি  করে  বারটি  শিবমন্দির  স্থাপন  করেন।  এই  সব  দেবগৃহ  নির্মাণে  তাঁর  এক  লক্ষ  টাকা  এবং  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  জন্য  আরও  পঞ্চাশ  হাজার  টাকা  ব্যয়  হয়।  এছাড়া  বিগ্রহের  সেবাপূজার  জন্য  তিনি  এক  লক্ষ  টাকা  গচ্ছিত  রাখেন।  গৌরমণি  'সরকার  বংশ'-এ  কনিষ্ঠা  বধূ  ছিলেন  বলে  তিনি  সকলের  কাছে  'কনে  বৌ'  নামে  পরিচিত  ছিলেন।  তাই  সেকালে  এই  মন্দির  জন  সাধারণের  কাছে   'কনে  বৌয়ের  মন্দির'  বলে  পরিচিত  ছিল।

            এই  দানশীলা  মহিলা  অকালে  পারলোকগমন  করলে  এই  মন্দির  সরকার  পরিবারের  এক  কুলাঙ্গার  রাখালদাস  সরকারের  হাতে  আসে।  রাখালদাস  ছিলেন  নাস্তিক।  মদ্যপান  ছাড়াও  লম্পট  বলে  তাঁর  কুখ্যাতি  ছিল।  ভবতারিণী  কালীর  দুটি  হাত  ভেঙে  গেলে  তিনি  দেবীকে  গঙ্গায়  বিসর্জন  দেন।  তারপর  মন্দিরের  শিবগুলি  লোপাট  হয়ে  যায়।  রাখাল  সরকার  ঠাকুরের  দেবোত্তর  সম্পত্তি  নাড়ুয়া  নিবাসী  জনৈক  থাকচন্দ্র  সিংহ  রায়  কে  বিক্রি  করে  দেন।  তাঁর  কাছ  থেকে  ঠাকুরের  জমি  কেনেন  রাজেন্দ্রনাথ  গঙ্গোপাধ্যায়।  ১৮১৮  খ্রীষ্টাব্দে  গঙ্গার  গতি  পরিবর্তনের  ফলে  একটি  শিবমন্দির  ভেঙে  যায়।  এইভাবে  অনেকবার  মন্দিরের  সম্পত্তির  হাত  বদল  হয়।  কিন্তু  আর্থিক  ক্ষতি,  সাংসারিক  বিপর্যয়,  আন্তীয়  বিয়োগ  প্রভৃতির  কারণে  কেউই  এই  সম্পত্তি  ভোগ  করতে  পারেন  নি।  ১৯১৫  খ্রীষ্টাব্দে  ব্রজেন্দ্রনাথ  গোস্বামী  মন্দিরের  জমিতে  একটি  টালিখোলা  করেন।  কিন্তু  তিনিও  অকৃতকার্য  হন।  তারপর  সিদ্ধেশ্বর  কুমার  মন্দিরগুলি  কেনেন।   তিনি  নবরত্ন  মন্দির  সংলগ্ন  তিনটি  মন্দির  বাদে  বাকি  শিবমন্দিরগুলি  ভেঙে  ফেলে  তার  ইঁট  দিয়ে  সুরকি  প্রস্তুত  করেন।  কিন্তু  মন্দিরের  সুরকি  কেউ  না  কেনায়  হারানচন্দ্র  ঘোষ  মাত্র  একশ  টাকায়  সমস্ত  কিনে  নেন।  তারপর  নবরত্ন  ও  অবশিষ্ট  শিবমন্দিরগুলি  ভেঙে  ফেলতে  মনস্ত  করলে  এক  সাধু  ব্যথিত  চিত্তে  তাকে  মন্দির  ভাঙতে  নিষেধ  করেন।  হারান  সাধুকে  বলেন,  'আপনার  যখন  এত  দরদ  তখন  আপনি  কিনে  নিন।'  তেজদীপ্ত  সাধু  ভিক্ষালব্ধ  অর্থে  মন্দিরগুলি  কিনে  নেন  এবং  মন্দিরগুলি  রক্ষা  করেন।  এই  সাধুর  নাম  শ্রীমৎ  নৃসিংহদাস  বাবাজী।       

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত  বিশালাকায়  মন্দিরটি  সোজা  কার্নিসযুক্ত  নবরত্ন  শৈলীর।  বাংলায়  ইংরেজ  রাজত্ব  প্রতিষ্ঠিত  হওয়ার  পর  বাংলার  মন্দির  শিল্পে  ইউরোপীয়  প্রভাবের  সূত্রপাত  হয়  এবং  তার  ফলে  বাংলা  মন্দিরে  বক্র  চালের  পরিবর্তে  সমতল  ছাদের  সৃষ্টি  হয়।  এছাড়া  মন্দিরকে  সৌন্দর্যমণ্ডিত  করার  জন্য  মন্দিরের  সামনে  স্থাপন  করা  হয়  বড়  বড়  বিদেশী  স্তম্ভ।  এ  মন্দিরের  ক্ষেত্রেও  তা  করা  হয়েছে।  মন্দিরের  সামনে  মন্দির  লাগোয়া  একটি  নাটমন্দির  নির্মাণ  করা  হয়েছে।  এটি  হয়তো  পরবর্তী  কালে  সংযোজিত।  ছয়টি  সিঁড়ি  দিয়ে  ওঠবার  পর  মন্দির  প্রবেশের  তিনটি  দরজা।  মন্দিরের  সামনে  সিঁড়ির  দু'  ধারে  দুটি  রেখ-দেউল  মন্দিরটির  সৌন্দর্য  বৃদ্ধিতে  সহায়তা  করেছে।  এগুলি  অবশ্য  পরবর্তীকালে  সংযোজিত  হয়েছে।           
           
              বাবাজী  নৃসিংহজীর  কাছ  থেকে  এই  মন্দির  প্রবর্তক  সংঘের  প্রতিষ্ঠাতা  মতিলাল  রায়ের  হাতে  আসে।  জাতি-তপস্যার  মহাতীর্থরূপে  'শ্রীমন্দির'  গড়ে  তোলার  সংকল্প  নেন  মতিলাল। কোন  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  না  করে  মহাশিল্পী  আচার্য  অবনীন্দ্রনাথ  ঠাকুর  শব্দ-ব্রহ্ম  'মহাপ্রণব' -  রজত  কলসের  গায়ে  সুবর্ণের  বিগ্রহ  ওঁ-কার  স্থাপনের  পরিকল্পনা  করেন।  ১৯২৩  খ্রীষ্টাব্দে  পুণ্য  অক্ষয়  তৃতীয়ার  দিন  দেশনায়ক  বিপিনচন্দ্র  পালের  সভাপতিত্বে  এবং  নেতাজি  সুভাষচন্দ্র  বসুর  উপস্থিতিতে  মন্দিরটি   জাতীয়  মন্দিরে  পরিণত  হয়  এবং  জাতির  উদ্দেশ্যে  সমর্পিত  হয়।  ১৯৩৭  খ্রীষ্টাব্দে  মন্দির  থেকে  সর্বস্বীকৃত  প্রতীকটি  চুরি  যায়।  শিল্পী  সুন্দর  শর্মা  সংঘের  প্রতীকের  যে  রূপ  দেন  সেটি  ১৯৩৮  খ্রীষ্টাব্দে  অক্ষয়  তৃতীয়ার  দিন  জাতীয়  মন্দিরে  স্থাপন  করা  হয়।  ১৯৪৩  খ্রীষ্টাব্দে  ৬ ই  মে,  অক্ষয়  তৃতীয়ার  দিন  এই  শ্রীমন্দিরে  'তৃবৃৎ  লিঙ্গ  সংযুক্ত'  প্রণব  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়। এটিও  নির্মাণ  করেছিলেন  শিল্পী  সুন্দর  শর্মা। বেদান্তের  বাণী  অনুযায়ী  অনল ( অগ্নি  বা  তেজ ),  জল ( অপ্ )  ও  ক্ষিতি  নিয়ে  তৃবৃৎকরণ।   তেজের  সৃষ্টিশক্তি,  ক্ষিতির  স্থিতিশক্তি  এবং  অপে  বিশ্বের  লয় -  এই  তিন  শক্তি  নিয়েই  প্রণব।  এখানে  উল্লেখ্য,  জন্মবিপ্লবী  ও  প্রবর্তক  সংঘের  প্রতিষ্ঠাতা  ছিলেন  মতিলাল  রায়।  তাঁর  জন্ম  ৬ই  জানুয়ারি,  ১৮৮২।  ঈশ্বর  গুপ্ত  সম্পাদিত  'প্রভাকর'  পত্রিকায়  তিনি  কবিতা  লিখতেন। তিনি  নাটকও  রচনা  করেছিলেন।  এক  সময়  নবদ্বীপে  যাত্রাদল  গঠন  করে  তিনি  বহু  অর্থ  ও  খ্যাতি  অর্জন  করেন।  'সীতা  হরণ',  'নিমাই  সন্ন্যাস'  ইত্যাদি  গীতিনাট্য  রচনা  করেন।  প্রবর্তক  সংঘের  সংগঠনের  কাজে  তিনি  অসামান্য  প্রতিভার  পরিচয়  দেন।  এক  সময়  তাঁর  সংঘ  ছিল  বিপ্লবীদের  আশ্রয়স্থল।  ১০ই  এপ্রিল,  ১৯৫৯  এই  দেশনায়কের  মৃত্যু  হয়। 

            বর্তমানে  মন্দির  চৌহদ্দির  মধ্যে  প্রবর্তক  সংঘ  পরিচালিত  দুঃস্থ  ও  অনাথ  শিশুদের  জন্য  একটি  ছাত্রাবাস  আছে। 

          মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৪.০৯.২০১৭ 


নবরত্ন  মন্দির 

মন্দিরের  শিখর
   
গর্ভ  গৃহের  চিত্র, 
দু  পাশে  সংঘ  গুরু  ও  গুরু-মাতার  মূর্তি 

সংঘ  গুরু  মতিলাল  রায় 


     তথ্য  সূত্র :
                  ১)  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল :  সুধীর  কুমার  মিত্র 
                  ২)  মৃত্যুঞ্জয়ী :  তথ্য  ও  সংস্কৃতি  বিভাগ,  পশ্চিমবঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  প্রকাশিত 
                  ৩)  প্রবর্তক  সংঘের  লেখা  ফ্লেক্স 

            -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।