Kali Temples of West Bengal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Kali Temples of West Bengal লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

Adi Anandamayi Kali / Basa Kali Temple, 160/2, Ramdulal Sarkar Street, Kolkata

 আদি আনন্দময়ী কালী / বসা কালী মন্দির,  

১৬০/২, রামদুলাল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা

শ্যামল কুমার ঘোষ  


            আদি আনন্দময়ী কালী মন্দির উত্তর কলকাতার চিত্তরঞ্জন এভেনিউ ও রামদুলাল সরকার স্ট্রিট-এর সংযোগস্থলের কাছে  ১৬০/২, রামদুলাল সরকার স্ট্রিটে অবস্থিত। স্থানীয় লোকেদের কাছে এই মন্দির 'বসা কালীর মন্দির' নামে পরিচিত। ১১২৫বঙ্গাব্দে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন মতিলাল দেবশর্মা। মন্দির প্রবেশের আগে ডানদিকের দেওয়ালে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে।

প্রতিষ্ঠাফলকের পাঠ :

                       জয় আদি শ্রীশ্রী   ঁ আনন্দময়ী কালী

                                স্থাপিত : সন ১১২৫ সাল 

                        স্বত্ত্বাধিকারী - শ্রী মতিলাল দেবশৰ্ম্মা।  

              সাদামাটা লাল রঙের মন্দির। আসলে এটি মন্দির বললে  ভুল হবে। এখানে একটি বাড়ির একটি ঘরে মা বিরাজ করছেন। অন্যান্য কালী মূর্তির থেকে এখানে মাতৃ মূর্তির বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। এখানে   মা শায়িত মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে উপবিষ্টা। এ রকম মূর্তি আর কোথাও দেখা যায় না। মায়ের মূর্তির দক্ষিণ দিকে কাল ভৈরবের  মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরের প্রবেশ পথে রয়েছে হাড়িকাঠ।  

            এই বন্দোপাধ্যায় পরিবারে কোনো পুত্র সন্তান না থাকার কারণে পরিবারের দুই বোন মধুশ্রী চ্যাটার্জী ও তনুশ্রী চক্রবর্তী মায়ের সেবা-কার্য ও মন্দিরটি দেখাশোনা করেন। এঁদের ঠাকুরদার বাবা  মতিলাল বন্দোপাধ্যায় (দেবশৰ্ম্মা ) স্বপ্নাদেশ পেয়ে সংলগ্ন জঙ্গলের মধ্যে থেকে মাকে উদ্ধার করেন। তিনশো বছর আগে এই স্থান ছিল জঙ্গলাকীর্ণ। এই জায়গা ছিল তখনকার স্থানীয় জমিদার মিত্র পরিবারের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত। তাঁরা মতিলাল বাবুকে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেন।

            মন্দিরে মায়ের নিত্য পূজা ছাড়াও প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও ফলহারিণী কালীপূজা, রটন্তী কালীপূজা ও  দীপান্বিতা কালীপূজায় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মানসিকের পূজায় জোড়া নারকেল ও  বাতাসা দেওয়া হয়। প্রতি অমাবস্যায় নিশিপুজো হয়। অমাবস্যার ভোগে খিচুড়ি, আলুর দম, মাছ দেওয়া হয়। অম্বুবাচির চার দিনের দিন মাকে প্রতীকী স্নান করানো হয়। মাকে নতুন গামছা, আলতা-সিঁদুর দেওয়া হয়। কালীপূজার আগে মায়ের  অঙ্গরাগ হয়। দীপান্বিতা অমাবস্যায় মায়ের ধুমধাম করে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজার ভোগে অবশ্যই ষোল মাছ দেওয়া হয়।

        

আদি আনন্দময়ী কালী মা -১

আদি আনন্দময়ী কালী মা -২

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

              ------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Anandamayi Kali Temple, Sukharia, Somrabazar, Hooghly

 আনন্দময়ী  কালী  মন্দির,  সুখাড়িয়া,  সোমরাবাজার,  হুগলি 

                                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            ব্যাণ্ডেল-কাটোয়া  রেলপথে  সোমরাবাজার  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৬৭  কিমি।  শিয়ালদহ  থেকে  সকাল  ৮ টা  ০৬  মিনিটের  কাটোয়া  লোকালে  বা  হাওড়া  থেকে  যে  কোন  কাটোয়া  লোকালে  এখানে  যাওয়া  যায়।  ব্যাণ্ডেল  থেকেও  সোমরাবাজার  যেতে  পারেন।  স্টেশন  থেকে  টোটোতে  সুখাড়িয়ার  আনন্দময়ী  কালী  মন্দিরে  যাওয়া  যায়।

            সুখাড়িয়ার  মুস্তৌফী  বংশ  নদিয়া  জেলার  উলার  মুস্তাফী  বা  মুস্তৌফী  বংশের  একটি  শাখা।  উলার  রামেশ্বর  মিত্রমুস্তাফী  বা  মিত্রমুস্তৗফী  ছিলেন  এই  বংশের  প্রতিষ্ঠাতা।  রামেশ্বর  নবাব  মুর্শিদকুলি  খাঁর  শাসনকালে  সুবে  বাংলার  রাজস্ব  বিভাগের  মুস্তৗফী  (= নায়েব  কানুনগো )  পদে  উন্নীত  হন।  এই  রামেশ্বরের  পুত্র  অনন্তরাম  মুস্তৗফী  মহারাজ  কৃষ্ণচন্দ্রের  বিরাগভাজন  হওয়ার  ফলে  উলা  ছেড়ে  সুখারিয়া  গ্রামে  চলে  আসেন।  তাঁর  দাদা  রঘুনন্দন  শ্রীপুরে  ( বলাগড় )  বসতি  স্থাপন  করেন।

            সুখাড়িয়ার  মন্দিরগুলির  মধ্যে  আনন্দময়ী  কালীমন্দির  উল্লেখযোগ্য।  ১৮১৩  খ্রিস্টাব্দে  বীরেশ্বর  মুস্তৗফী  মন্দিরটি  নির্মাণ  করেন।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  পঁচিশরত্ন  শৈলীর।  ত্রিতল  মন্দিরটিতে  মোট  পঁচিশটি  চূড়া  বা  রত্ন  আছে।  প্রথম  তলের  প্রতিটি  কোণে  তিনটি  হিসাবে  বারোটি,  দ্বিতীয়  তলের  প্রতিটি  কোণে  দুটি  হিসাবে  আটটি,  তৃতীয়  তলের  প্রতিটি  কোণে  একটি  হিসাবে  চারটি  এবং  সর্বোপরি  কেন্দ্রীয়  শিখর  বা  রত্ন।  এই  ধরণের  পঞ্চবিংশতিরত্ন  মন্দির  পশ্চিমবঙ্গে  আরও  চারটি  আছে,  বর্ধমান  জেলার  কালনায়  তিনটি  এবং  বাঁকুড়া  জেলার  সোনামুখীতে  একটি।  ১৮৯৭  খ্রিস্টাব্দে  ভূমিকম্পে  এই  মন্দিরের  সর্বোচ্চ  পাঁচটি  চূড়া  ক্ষতিগ্রস্ত  হলে  সেগুলিকে  আবার  নূতন  করে  স্থাপন  করা  হয়। মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটার  অলংকরণ  আছে।  কিন্তু  কালের  প্রবাহে  বর্তমানে  সেগুলি  ক্ষতিগ্রস্ত।  টেরাকোটা  মূর্তিগুলির  মধ্যে  অন্নপূর্ণা,  জগদ্ধাত্রী,  কালী,  পঞ্চমুখী  গণেশ  ও  সিংহবাহিনী  উল্লেখযোগ্য।  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  বেদির  উপর  শায়িত  শিবের  বক্ষোপরি  উপবিষ্টা  আনন্দময়ী  কালীর  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত।  বিগ্রহ  উচ্চতায়  প্রায়  ৩  ফুট ( ৯১.৪ সেমি )।  মন্দিরের  একটি  ঘরে  শ্রীধর  জিউ  নামক  নারায়ণ  শিলা  ও  অপর  একটি  নারায়ণ  শিলাও  নিত্য  পূজিত। 

            মন্দির  এলাকার  মধ্যে  দুই  সারিতে  ছয়টি  করে  বারোটি  মন্দির  আছে।  এর  মধ্যে  দুটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকিগুলো  আটচালা  শৈলীর।  পশ্চিমমুখী  ৬ টা  মন্দিরের  উত্তর  দিকে  একটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকি  ৫ টি  আটচালা  শৈলীর।  ৫ টা  আটচালা  মন্দিরের  মাঝের  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  সাদা  শিবলিঙ্গ  ও  বাকি  ৪ টা  আটচালা  ও  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কালো  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  পূর্বমুখী  ৬ টা  মন্দিরের  উত্তর  দিকে  একটি  পঞ্চরত্ন  ও  বাকি  ৫ টি  আটচালা  শৈলীর।  ৫ টা  আটচালা  মন্দিরের  মাঝের  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  সাদা  শিবলিঙ্গ  ও  বাকি  ৪ টা  আটচালা  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  কালো  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত।  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  গণেশ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠিত।  এই  পঞ্চরত্ন  মন্দিরের  গায়ে  টেরাকোটা  ফলক  বর্তমান।  অষ্টাদশ  শতকের  গোড়ার  দিকে  এটি  নির্মিত  হয়।  মন্দির  চত্বরের  পশ্চিম  দিকে  একটি  বড়  পুকুর  আছে।  এই  পুকুরের  অপর  পাড়  থেকে  মন্দিরগুলি  খুব  সুন্দর  দেখায়।                                    

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :

আনন্দময়ী কালী মন্দির চত্বর, সুখাড়িয়া, হুগলি 

আনন্দময়ী কালী মন্দির, সুখাড়িয়া, হুগলি
মন্দিরের শিখর ( পূর্ব দিক থেকে )

মন্দিরের সামনের বিন্যাস


মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

পূর্ব দিকের একটি সিংহ মূর্তি 

অন্নপূর্ণা মূর্তি 

জগদ্ধাত্রী

কালী

পঞ্চমুখী গণেশ

সিংহবাহিনী

গর্ভগৃহের  সামনের  অলিন্দের কাজ 

পূর্বমুখী ৬ টি মন্দির 

পশ্চিমমুখী ৬ টি মন্দির 

পূর্বমুখী পঞ্চমুখী গনেশ মন্দির 

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -১

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -২

গনেশ মন্দিরের সামনের দেওয়ালের কাজ -৩

গণেশ মূর্তি 

শ্রীধর জিউ ও অন্য একটি নারায়ণ শিলা

আনন্দময়ী কালী মূর্তি - ১

আনন্দময়ী কালী মূর্তি - ২

পুকুরের অপর পাড় থেকে মন্দির - ১

পুকুরের অপর পাড় থেকে মন্দির - ২


            সহায়ক  গ্রন্থ :

                           ১) হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

------------------------------------------------------------------------           

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

Nistarini Kali Temple, 25 Bethune Row, Hedua, Kolkata, West Bengal

 নিস্তারিণী  কালী  মন্দির  /  নানেদের  কালী  মন্দির,  ২৫ বেথুন  রো,  কলকাতা,  পশ্চিমবঙ্গ 

                       শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            নিস্তারিণী  কালী  মন্দির  উত্তর  কলকাতার  হেদুয়া  পার্কের  কাছে  ২৫  নম্বর  বেথুন  রো-তে  অবস্থিত।  স্থানীয়  লোকেদের  কাছে  এই  মন্দির  নানেদের  কালী  মন্দির  নামে  পরিচিত।  

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  নবরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ  আছে।  মন্দিরে  সামান্য  পঙ্খের  কাজ  আছে।  ১৭৮৭  শকাব্দে  ( ১২৭২  বঙ্গাব্দে )  অর্থাৎ  ১৮৬৫  খ্রিস্টাব্দে  মন্দিরটি  প্রতিষ্ঠা  করেন  ঈশ্বর  চন্দ্র  নান।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  প্রতিষ্ঠাফলকটি  এই  রকম :

                 " শ্রীশ্রীনিস্তারিণী  জয়তি 

       কালিকে  চরম  কালে  তব  রাঙ্গা  পায় 

          ঈশ্বরের  মনঃপ্রাণ  সকলী  মিশায়

                      শকাব্দা :  ১৭৮৭

                       সন  ১২৭২  সাল "

            ঈশ্বরচন্দ্রের  প্রতিবেশী  কৃষ্ণচন্দ্র  সিংহ  বারাণসী  থেকে  কষ্টিপাথরের  দক্ষিণা  কালীর  একটি  মূর্তি  তৈরি  করে  আনেন।  কিন্তু  কোন  কারণে  তিনি  বিগ্রহটি  প্রতিষ্ঠা  করতে  না  পেরে  মূর্তিটি   ঈশ্বরচন্দ্রকে  দিয়ে  দেন।  পরে  ঈশ্বরচন্দ্র  বেথুন  রো-তে  এই  নবরত্ন  মন্দির  তৈরি  করে  ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের  রথযাত্রার  দিন  বিগ্রহটি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মন্দিরের  সামনের  দুপাশে  আছে  দুটি  আটচালা  শিব  মন্দির।  দুটি  মন্দিরের  ভিতরে  দুটি  কষ্টিপাথরের  শিবলিঙ্গ  আছে।  নিস্তারিণী  কালী  ও  দুটি  শিবলিঙ্গ  নিত্যপূজিত।  নিত্যপূজা  ছাড়াও  প্রতি  অমাবস্যায়  মায়ের  বিশেষ  পূজা  ও  হোম  হয়ে  থাকে।  এছাড়া  কালীপূজা  ও  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে  সমারোহ  সহকারে  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  বৈষ্ণব  মতে  মায়ের  পূজা  হয়।  তাই  মন্দিরে  কোন  পশুবলি  হয়  না।  মন্দির  খোলা  থাকার  সময় :  সকাল  ৭ টা  থেকে  ১০ টা  এবং  সন্ধ্যা  ৬ টা  থেকে  রাত   ৯ টা।

            মন্দিরে  কালীমন্দির  ও  শিব  মন্দির  ছাড়াও  আছে  নারায়ণের  ঘর  ও  দুর্গা  দালান।  কালী  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  আগে  থেকেই  এই  পরিবারে  পালা  করে  দুর্গা  পূজা  হয়।  দুর্গা  পূজার  সময়  দুর্গা  পূজা  হয়  এই  দুর্গা  দালানে।

           মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ১৬.০৯.২০২১           

নিস্তারিণী মন্দির, বেথুন রো, কলকাতা 
 
নিস্তারিণী মন্দির, বেথুন রো, কলকাতা

মন্দিরের শিখর 

মন্দিরের সামনে 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

খিলানের উপরের কাজ 

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

মা নিস্তারিণী 

বাঁ দিকের শিব মন্দির 

বাঁ দিকের শিব মন্দিরের শিবলিঙ্গ 
                                                                        
            কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন : 

                        কলকাতার  মন্দির

           -------------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।