Kali Temples of North Kolkata লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Kali Temples of North Kolkata লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২১

Nistarini Kali Temple, 25 Bethune Row, Hedua, Kolkata, West Bengal

 নিস্তারিণী  কালী  মন্দির  /  নানেদের  কালী  মন্দির,  ২৫ বেথুন  রো,  কলকাতা,  পশ্চিমবঙ্গ 

                       শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            নিস্তারিণী  কালী  মন্দির  উত্তর  কলকাতার  হেদুয়া  পার্কের  কাছে  ২৫  নম্বর  বেথুন  রো-তে  অবস্থিত।  স্থানীয়  লোকেদের  কাছে  এই  মন্দির  নানেদের  কালী  মন্দির  নামে  পরিচিত।  

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  নবরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ  আছে।  মন্দিরে  সামান্য  পঙ্খের  কাজ  আছে।  ১৭৮৭  শকাব্দে  ( ১২৭২  বঙ্গাব্দে )  অর্থাৎ  ১৮৬৫  খ্রিস্টাব্দে  মন্দিরটি  প্রতিষ্ঠা  করেন  ঈশ্বর  চন্দ্র  নান।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  প্রতিষ্ঠাফলকটি  এই  রকম :

                 " শ্রীশ্রীনিস্তারিণী  জয়তি 

       কালিকে  চরম  কালে  তব  রাঙ্গা  পায় 

          ঈশ্বরের  মনঃপ্রাণ  সকলী  মিশায়

                      শকাব্দা :  ১৭৮৭

                       সন  ১২৭২  সাল "

            ঈশ্বরচন্দ্রের  প্রতিবেশী  কৃষ্ণচন্দ্র  সিংহ  বারাণসী  থেকে  কষ্টিপাথরের  দক্ষিণা  কালীর  একটি  মূর্তি  তৈরি  করে  আনেন।  কিন্তু  কোন  কারণে  তিনি  বিগ্রহটি  প্রতিষ্ঠা  করতে  না  পেরে  মূর্তিটি   ঈশ্বরচন্দ্রকে  দিয়ে  দেন।  পরে  ঈশ্বরচন্দ্র  বেথুন  রো-তে  এই  নবরত্ন  মন্দির  তৈরি  করে  ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দের  রথযাত্রার  দিন  বিগ্রহটি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মন্দিরের  সামনের  দুপাশে  আছে  দুটি  আটচালা  শিব  মন্দির।  দুটি  মন্দিরের  ভিতরে  দুটি  কষ্টিপাথরের  শিবলিঙ্গ  আছে।  নিস্তারিণী  কালী  ও  দুটি  শিবলিঙ্গ  নিত্যপূজিত।  নিত্যপূজা  ছাড়াও  প্রতি  অমাবস্যায়  মায়ের  বিশেষ  পূজা  ও  হোম  হয়ে  থাকে।  এছাড়া  কালীপূজা  ও  প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে  সমারোহ  সহকারে  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  বৈষ্ণব  মতে  মায়ের  পূজা  হয়।  তাই  মন্দিরে  কোন  পশুবলি  হয়  না।  মন্দির  খোলা  থাকার  সময় :  সকাল  ৭ টা  থেকে  ১০ টা  এবং  সন্ধ্যা  ৬ টা  থেকে  রাত   ৯ টা।

            মন্দিরে  কালীমন্দির  ও  শিব  মন্দির  ছাড়াও  আছে  নারায়ণের  ঘর  ও  দুর্গা  দালান।  কালী  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  আগে  থেকেই  এই  পরিবারে  পালা  করে  দুর্গা  পূজা  হয়।  দুর্গা  পূজার  সময়  দুর্গা  পূজা  হয়  এই  দুর্গা  দালানে।

           মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ১৬.০৯.২০২১           

নিস্তারিণী মন্দির, বেথুন রো, কলকাতা 
 
নিস্তারিণী মন্দির, বেথুন রো, কলকাতা

মন্দিরের শিখর 

মন্দিরের সামনে 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

খিলানের উপরের কাজ 

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

মা নিস্তারিণী 

বাঁ দিকের শিব মন্দির 

বাঁ দিকের শিব মন্দিরের শিবলিঙ্গ 
                                                                        
            কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন : 

                        কলকাতার  মন্দির

           -------------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

Nistarini Kali Temple / Goho Kali Temple, 11 Brindaban Bose Lane, North Kolkata

 নিস্তারিণী  কালীমন্দির / গোহো  কালীমন্দির,  বৃন্দাবন  বসু  লেন,  উত্তর  কলকাতা 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 


            উত্তর  কলকাতার  হেদুয়া  পার্ক  কে  ডান  দিকে  রেখে  বিধান  সরণি'র  বাঁ  ফুটপাত  ধরে  যদি  আপনি  হাতিবাগানের  দিকে  হাঁটতে  থাকেন  তবে  একটি  প্রসিদ্ধ  তেলেভাজার  দোকান  ( লক্ষ্মীনারায়ণ  সাউ  এন্ড  সন্স )  পড়বে।  এই  দোকানের  পাশের  গলি  বৃন্দাবন  বসু  লেন।  গলিতে  ঢুকে  একটু  এগুলেই  ডান  দিকে  দেখতে  পাবেন  নিস্তারিণী  কালীমন্দির  অর্থাৎ  গোহোদের  কালীমন্দির। 

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  দালান  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে  কষ্টিপাথরে  নির্মিত  'নিস্তারিণী'  কালীর  বিগ্রহ  শ্বেতপাথরের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরটি  ১২৫৭  বঙ্গাব্দে ( ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে )  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  প্রতিষ্ঠা  করেন  শিবচন্দ্র  গোহো।  মন্দিরের  সামনে  থামগুলির  ফাঁকে  ফাঁকে  কাঠের  'ঝিলমিল' ( Venetian  blind )  লাগানো  আছে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  তাতে  শিবচন্দ্রের  জায়গায়  শিবচরণ *  লেখা  হয়েছে।  মন্দিরের  বাঁ  দিকে  একটি  আটচালা  শিবমন্দির  আছে।  গর্ভগৃহে  'শান্তিনাথ'  নামক  কষ্টিপাথরের  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত। 

            দক্ষিণেশ্বরের  ভবতারিণীর  বিগ্রহ  তৈরি  করেছিলেন  পূর্ব  বর্ধমান  জেলার  কাটোয়া  মহকুমার  অন্তর্গত  দাঁইহাটের  শিল্পী  নবীন  ভাস্কর।  সেই  সময়  তিনি  তিনটি  মূর্তি  তৈরি  করেছিলেন।  প্রথম  যে  মূর্তিটি  তিনি  তৈরি  করেন  তা  'নিস্তারিণী'  নামে  এই  মন্দিরে  ১২৫৭  বঙ্গাব্দে ( ১৮৫০ খ্রীষ্টাব্দে )  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  দ্বিতীয়  মূর্তিটি  'ব্রহ্মময়ী'  কালী  রূপে  প্রতিষ্ঠিত  হয়  বরানগরের  প্রামাণিক  কালীবাড়িতে  ১২৫৯  বঙ্গাব্দে ( ১৮৫৩ খ্রীষ্টাব্দে )।  প্রতিষ্ঠা  করেন  রামগোপাল  দে  ও  দুর্গাপ্রসাদ  দে।  সম্পর্কে  তাঁরা  ছিলেন  কাকা-ভাইপো।  তৃতীয়  মূর্তিটি  'ভবতারিণী'  নামে  দক্ষিণেশ্বরের  মন্দিরে  ১৮৫৫ খ্রীষ্টাব্দে  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  অনেকে  বলেন,  প্রথম  দুটি  মূর্তি  দক্ষিণেশ্বর  মন্দিরের  গর্ভগৃহের  সঙ্গে  মানানসই  না  হওয়ার  জন্য  রানি  রাসমণি  গ্রহণ  করেন  নি। 

            মন্দিরে  তিন  জন  পুরোহিত  আছেন।  হরপ্রসাদ  চক্রবর্তী,  সোমনাথ  ব্যানার্জী  ও  মনোজ  মুখার্জী।  এঁরা  পুরুষানুক্রমে  মন্দিরে  পূজা  করছেন।  মন্দির  খোলা  থাকার  সময় :

                      সকাল  ৪ টা  ৩০ মিনিট  থেকে  দুপুর  ১২ টা এবং  বিকাল  ৪ টা  ৩০ মিনিট  থেকে  রাত   ৯ টা।  

            মন্দিরে  এখনও  পাঁঠাবলি  প্রথা  চালু  আছে। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৬.০৯.২০২১

        * কলকাতার  মন্দির-মসজিদ :  তারাপদ  সাঁতরা

 

গোহো কালীমন্দির 

শান্তিনাথ শিবমন্দির ও গোহো কালীমন্দির 
কাঠের  'ঝিলমিল' ( Venetian  blind )

 প্রতিষ্ঠাফলক

নিস্তারিণী মা - ১

নিস্তারিণী মা - ২

নিস্তারিণী মা - ৩


শান্তিনাথ শিবলিঙ্গ

********

                  পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                  কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির

            ---------------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
             ---------------------------------------