রবিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২২

Three Shib temples and one Ras Mancha, Dihi Baliharipur, Daspur, Paschim Medinipur

 তিনটি শিব মন্দির ও একটি রাস মঞ্চ, ডিহি বলিহারপুর, দাসপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর

                       শ্যামল কুমার ঘোষ


            পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া-ঘাটাল বাস রাস্তায় প্রায় ২৫.৮ কিমি দূরে ( পাঁশকুড়া থেকে ) দাসপুর গ্রাম। দাসপুরের পূর্ব দিকের একটি গ্রাম ডিহি বলিহারপুর। গ্রামটি দাসপুর থানা ও দাসপুর ১ ব্লকের অধীন। 

            গ্রামে গোস্বামী পরিবারের দুটি পূর্বমুখী, একটি দক্ষিণমুখী শিব মন্দির এবং একটি রাস মঞ্চ আছে। শিব মন্দিরগুলি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির স্থাপিত ও আটচালা শৈলীর। কোন অলিন্দ নেই। প্রতিটি মন্দিরের একটি করে প্রবেশদ্বার। পূর্বমুখী শিব মন্দির দুটিতে খিলানের উপরে সামান্য টেরাকোটার অলংকরণ আছে। এই মন্দির দুটির দক্ষিণ দিকের বানেশ্বর শিব মন্দিরটি ১২২৬ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে এবং উত্তর দিকের বীরেশ্বর শিব মন্দিরটি ১২১৯ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। মন্দির দুটিতে দুটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। দক্ষিণমুখী বিশ্বেশ্বর শিব মন্দিরে কোন টেরাকোটা ফলক নেই। মন্দিরটিতে কোন প্রতিষ্ঠাফলকও নেই। তিনটি মন্দিরের প্রবেশদ্বারের দু পাশে দুটি করে দ্বারপাল আছে। রাসমঞ্চটি চাঁদনি আকৃতির। প্রণব রায় তাঁর "মেদিনীপুর জেলার প্রত্ন-সম্পদ" গ্রন্থে লিখেছেন এটি রাধাকৃষ্ণের 'চাঁদনি' মন্দির ছিল এবং এটি ১৭২৪ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। মন্দিরগুলির সামনে খুব সুন্দর ফুলের বাগান আছে। তিনটি মন্দিরের গর্ভগৃহে তিনটি শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।   

ডিহি বালিহারপুরের মন্দির চত্বর 

পূর্বমুখী দুটি মন্দির 

বাঁ দিকের মন্দির 

বাঁ দিকের মন্দিরের সামনের দেওয়ালের বিন্যাস 

ডান দিকের মন্দির

ডান দিকের মন্দিরের সামনের দেওয়ালের বিন্যাস

দক্ষিণমুখী মন্দির 
     

              কী ভাবে যাবেন ?

             হাওড়া থেকে মেদিনীপুর গামী ট্রেনে উঠে পাঁশকুড়া স্টেশনে নামুন। স্টেশনের কাছেই পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ড। সেখান থেকে ঘাটাল গামী বাসে দাসপুরে নামুন। দাসপুর থেকে টোটোতে ডিহি বলিহারপুরের মন্দিরে যাওয়া যায়।

            সহায়ক গ্রন্থ :

                ১) পুরাকীর্তি সমীক্ষা - মেদিনীপুর :  তারাপদ সাঁতরা

               ২) মেদিনীপুর জেলার প্রত্ন-সম্পদ : প্রণব রায়


                    ******************************* 

 

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। ববইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।   

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন