দুটি শিব মন্দির, পিরতলা, দাসপুর,
পশ্চিম মেদিনীপুর
শ্যামল কুমার ঘোষ
পাঁশকুড়া-ঘাটাল বাস রাস্তার একটি স্টপেজ পিরতলা। এই পিরতলা থেকে লাওদা যাওয়ার রাস্তার ডান দিকে গুঁই পরিবার প্রতিষ্ঠিত দুটি শিব মন্দির দেখা যায়। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পরস্পরের মুখোমুখি অবস্থিত মন্দির দুটি আটচালা শৈলীর। একটি মন্দির উত্তরমুখী ও অপরটি দক্ষিণমুখী। মন্দিরদুটিতে একটি করে দরজা, সামনে। উত্তরমুখী মন্দিরটিতে কিছু পঙ্খের কাজ আছে। এই মন্দিরটিতে একটি শ্বেতপাথরের ফলক আছে। তাতে লেখা আছে, 'শ্রী নদের চাঁদ গুঁই / সা. পদমপুর / সন ১৩১৭ সাল ২৭ ফাল্গুন।' অর্থাৎ মন্দির দুটি ১৩১৭ বঙ্গাব্দে ( ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ) প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিষ্ঠাতা শ্রী নদের চাঁদ গুঁই। উত্তরমুখী শিব মন্দিরে একটি শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ ও দক্ষিণমুখী শিব মন্দিরে একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।
 |
| উত্তরমুখী শিব মন্দির |
 |
| পঙ্খের কাজ |
 |
| পঙ্খের কাজ |
 |
| শ্বেতপাথরের প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
| শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ |
 |
| দক্ষিণমুখী শিব মন্দির |
 |
| কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ |
কী ভাবে যাবেন ? হাওড়া থেকে মেদিনীপুর গামী ট্রেনে উঠে পাঁশকুড়া স্টেশনে নামুন। স্টেশনের কাছেই পাঁশকুড়া বাস স্ট্যান্ড। সেখান থেকে ঘাটাল গামী বাসে উঠে পিরতলা স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে লাওদা যাওয়ার রাস্তার ডান দিকে পড়বে মন্দির।
********
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন