পঞ্চরত্ন রত্নেশ্বর শিব মন্দির, ভট্টবাটি, মুর্শিদাবাদ
শ্যামল কুমার ঘোষ
মুর্শিদাবাদ জেলার নবগ্রাম থানার অন্তর্গত একটি গ্রাম ভট্টবাটি। সুলতান হোসেন শাহের সময় ( ১৪৯৪-১৫১৯ খ্রিস্টাব্দ ) এখানে বারোশ ব্রাহ্মণের বসতি ছিল। এঁদের পদবি ছিল 'ভট্ট'। তাই গ্রামের নাম হয় ভট্টবাটি বা ভট্টমাটি । এখন নাম ভট্টবাটি। পূর্ব রেলের কাটোয়া-আজিমগঞ্জ রেলপথে লালবাগ কোর্ট রোড স্টেশনে নেমে টোটোতে এই গ্রামে যাওয়া যায়। গ্রামে পঞ্চরত্ন রত্নেশ্বর শিব মন্দিরটি একটি দ্রষ্টব্য।
উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত দক্ষিণমুখী, অলিন্দ বিহীন মন্দিরটি পঞ্চরত্ন শৈলীর। মন্দিরের গৰ্ভগৃহে প্রবেশের একটিই দরজা, সামনে। মন্দিরের চারদিকের দেওয়ালে ও চূড়াগুলোর গায়ে উচ্চমানের 'টেরাকোটা'-অলংকরণ আছে। 'টেরাকোটা'র বিষয় বলতে গেলে প্রথমেই মন্দিরের সামনের দেওয়ালের 'টেরাকোটা'র কথা উল্লেখ করতে হয়। দরজার খিলানের উপরে প্রথম আয়তাকার আর্চে নানা সামাজিক দৃশ্য দেখা যায়। এর মধ্যে ডান দিকের নিচে একজন জমিদার বা নবাবের সামনে নৃত্যরতা এক বাইজি কে দেখা যায়, সঙ্গে তবলচি। এরই নিচে আছে বিভিন্ন বাজনা বাজিয়ের দল আর উপরে আছে রামের বিয়ের দৃশ্য। বাঁ দিকের নিচের দিকে জমিদার বা ওই শ্রেণীর কাউকে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলাপ করতে দেখা যায়। এর উপরে আছে রাজসভায় উপস্থিত রাজা-রানি। আয়তাকার আর্চের মাঝে আছে মঙ্গল-ঘট। তার উপরে আছে এক দম্পতি। এর উপরের দ্বিতীয় আয়তকার আর্চটিতে আছে দশাবতার, কালী,নারদ সহ মোট চব্বিশটি ছোট ছোট মূর্তি। মূর্তি গুলো খুবই ক্ষুদ্র। কিন্তু প্রতিটি মূর্তি খুবই স্পষ্ট। দেওয়ালের ধারের দুই সারি উলম্ব কুলুঙ্গির বাঁ দিকের কুলুঙ্গিগুলোতে আছে রামায়ণ কাহিনী ও ডান দিকের কুলুঙ্গিগুলোতে আছে কৃষ্ণ লীলা। এছাড়া সামনের দেওয়ালে আছে Yali, সৈন্যদলের কুচকাওয়াজ। মন্দিরের অন্যান্য দেওয়ালের টেরাকোটার বিষয় : গৌর-নিতাই, রাধা-কৃষ্ণ, ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ, রাসমণ্ডল, সপরিবারে দুর্গা, কৃষ্ণ লীলা, বামন অবতার, মৎস্যাবতার ইত্যাদি। মন্দিরে কোন প্রতিষ্ঠাফলক নেই। তবে খ্রিস্টীয় আঠারো শতকের বলে অনুমান করা হয়। গর্ভগৃহে রত্নেশ্বর শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত। মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত। তবে একটি সাইনবোর্ড ছাড়া তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
 |
| পঞ্চরত্ন রত্নেশ্বর মন্দির, ভট্টবাটি |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| দরজার খিলানের উপরের কাজ |
 |
| দরজার খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| বাঁ দিকের কৌণিক ভাস্কর্য ( Yali ) |
 |
| ডান দিকের কৌণিক ভাস্কর্য ( Yali ) |
 |
| বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ |
 |
| বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ ( দশাবতার ও অন্যান্য চিত্র ) |
 |
| বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ ( কালী ও অন্যান্য চিত্র ) |
 |
| নকশা - ১ |
 |
| নকশা - ২ |
 |
| মারিচ বধ ও ভক্ত হনুমান |
 |
| রামরাজা ও হরধনু ভঙ্গ |
 |
| রামায়ণ কাহিনী |
 |
| কৃষ্ণের দুগ্ধ দহন ও শিশু কৃষ্ণ কোলে যশদা |
 |
| কৃষ্ণের দুগ্ধ দোহন |
 |
| শিশু কৃষ্ণ কোলে যশদা |
 |
| দধি মন্থন ও অন্য চিত্র |
 |
| দধি মন্থন |
 |
| বকাসুর বধ ও অন্যান্য চিত্র |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন কাজ -১
( সৈন্যদলের কুচকাওয়াজ ) |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন কাজ - ২
( সৈন্যদলের কুচকাওয়াজ ) |
 |
ভিত্তিবেদি সংলগ্ন কাজ - ৩
( সৈন্যদলের কুচকাওয়াজ ) |
 |
| ভার বাহক |
 |
| মন্দিরের পূর্ব দিকের বিন্যাস |
 |
উপরে, গৌর-নিতাই ও রাধা-কৃষ্ণ নিচে, ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ |
 |
| বাঁ দিকে গৌর-নিতাই ও ডান দিকে রাধা-কৃষ্ণ |
 |
| ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ |
 |
| বাঁ দিকের কৌণিক ভাস্কর্য ( সিংহ মানব ) |
 |
| ডান দিকের কৌণিক ভাস্কর্য ( সিংহ মানব ) |
 |
| টেরাকোটার বড় ফুল - ১ |
 |
| টেরাকোটার বড় ফুল - ২ |
 |
| নকশা - ৩ |
 |
| মন্দিরের উত্তর দিকের বিন্যাস |
 |
| নাথ যোগী ও রাসমণ্ডল |
 |
| রাসমণ্ডল |
 |
| বামন অবতার |
 |
| ডান দিকের কৌণিক ভাস্কর্য |
 |
| নকশা - ৪ |
 |
| নকশা - ৫ |
 |
| মন্দিরের পশ্চিম দিকের বিন্যাস |
 |
| মন্দিরের পশ্চিম দিকের একটি 'টেরাকোটা' চিত্র |
 |
| সপরিবারে দুর্গা |
 |
| সপরিবারে দুর্গা ( বড় করে ) |
 |
| মৎস্যাবতার |
 |
| নকশা - ৬ |
 |
| নকশা - ৭ |
 |
| বড় চূড়ার উপরের কাজ ( গরুড় ) |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বাংলার মন্দির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়
-------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
------------------------------------------------------
আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে WhatsApp করতে পারেন।
ধন্যবাদ আপনাকে। বিস্তারিতভাবে মন্দিরের স্থাপত্য ও ভাস্কর্য তুলে ধরার জন্য । তুলনায় স্বল্প পরিচিত ভট্টবাটি ।আমার যতদূর মনে পরে, স্থানটি অন্যতম বঙ্গাধিকারী জয়নারায়ণের বাসস্থান ছিল ।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ
মুছুনঅসাধারণ,একটু লোকেশান টা পাওয়া যাবে?
উত্তরমুছুনকী ভাবে যাবেন লেখাতে দেওয়া আছে
মুছুন