বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Baneshwar Shib Temple, Mahakalpota, Daspur, Paschim Medinipur


বাণেশ্বর  শিব  মন্দির,  মহাকালপোতা,  দাসপুর,  পশ্চিম  মেদিনীপুর 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            পশ্চিম  মেদিনীপুর  জেলার  দাসপুর-২  ব্লকের  অধীন  একটি  গ্রাম  মহাকালপোতা।  চলতি  নাম  মাকালপোতা।  হাওড়া-মেদিনীপুর  রেলপথে  পাঁশকুড়া  স্টেশন  থেকে  ঘাটালগামী  বাসে  প্রথমে  সুলতাননগর  মোড়।  সেখান  থেকে  অটো  বা  ট্রেকারে  সোনাখালী  স্কুল  মোড়।  সেখান  থেকে  টোটোতে  বা  হেঁটে  মহাকালপোতা  বা  মাকালপোতা  গ্রাম।  গ্রামে  শ্রীশ্রী বাণেশ্বর  শিবের  আটচালা  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  মন্দিরটি  পশ্চিমমুখী  ও   ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  দুটি  দরজা।  একটি  পশ্চিম  দিকে,  অপরটি  দক্ষিণ  দিকে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালের  তিনটি  খিলানের  উপরে  নিবদ্ধ  হয়েছে  পুতনা  ও  কংস  বধ,  রামরাবণের  যুদ্ধ,  রামসীতা  প্রভৃতি  'টেরাকোটা'  ফলক।  কুলুঙ্গির  মধ্যে  দশাবতার  মূর্তি  ও  কৃষ্ণলীলার  দৃশ্য  দেখা  যায়।  মন্দিরের  অনেক  ফলক  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  মন্দিরে  উৎকীর্ণ  প্রতিষ্ঠাফলকের  পাঠ  :  "শ্রীশ্রীসিব / সন  ১২/  ২৬  সাল /  মন্দির  সাঙ্গ"  অর্থাৎ  ১৮১৯  খ্রিস্টাব্দে  মন্দিরটি  নির্মিত  হয়।  ১৩৩৯  বঙ্গাব্দে  মন্দিরটি  সংস্কার  করা  হয়।  সংস্কার  করেন  কিস্মত  রাধাকান্তপুরের  জমিদার  বিজন  বিহারী  মণ্ডল।  মন্দিরে  শ্বেতপাথরের  একটি  সংস্কারফলক  আছে।  দক্ষিণ  দিকের  দরজার  দুপাশে  দুটি  'মালাজপরত'  মূর্তি ও  উত্তর  দিকের  দেওয়ালে  'ছেলে  কাঁকে  মহিলা'  মূর্তি  আছে। 


            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৮.০২.২০১৯  


বাজিয়ের দল 

বাণেশ্বর শিব মন্দির, মহাকালপোতা ( সামনে থেকে ) 

বাণেশ্বর শিব মন্দির, মহাকালপোতা ( ডান দিক থেকে ) 

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

পুতনা বধ 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

রামরাবণের যুদ্ধ ও অন্য চিত্র 

বাজিয়ের দল

নৃসিংহ ও বরাহ অবতার 

বলরাম ও পরশুরাম 

যশোদার দধিমন্থনকালে কৃষ্ণের ননীপাত্রে হস্তপ্রবেশ  

গোষ্ঠে কৃষ্ণ

দক্ষিণ দিকের দরজার পাশের মূর্তি 

ছেলে কাঁকে মহিলা 

পাখি 

সংস্কারফলক 

প্রতিষ্ঠাফলক 

সহায়ক  গ্রন্থ :
 

১)  পুরাকীর্তি  সমীক্ষা :  মেদিনীপুর  ~  তারাপদ  সাঁতরা

                     ------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন