বুধবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Lakshmi-Janardan Temple, Goura, Paschim Medinipur


লক্ষ্মীজনার্দন  মন্দির,  গৌরা, পশ্চিম  মেদিনীপুর 

                  শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            পশ্চিম  মেদিনীপুর  জেলার  দাসপুর-২  ব্লকের  অধীন  একটি  গ্রাম  গৌরা।  হাওড়া-মেদিনীপুর  রেলপথে  পাঁশকুড়া   স্টেশন  থেকে  ঘাটাল  গামী  বাসে  গৌরা   মোড়ে  নেমে  এই  গ্রামে  যাওয়া  যায়।  গ্রামে  হাঁড়া  পাড়ায়  স্থানীয়  হাঁড়া  পরিবারের  প্রতিষ্ঠিত  শ্রীশ্রী লক্ষ্মীজনার্দনের  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।

            প্রায়  ভূমি  সমতলে  অবস্থিত  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  মন্দিরটি  দক্ষিণমুখী,   ত্রিখিলান  প্রবেশপথ  বিশিষ্ট  ও  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  একটিই   দরজা।  মন্দিরটির  অবস্থা  খুবই  করুণ।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালের  তিনটি  খিলানের  উপরে  'টেরাকোটা'  ফলক  আছে।  'টেরাকোটা'র  বিষয় : কৃষ্ণলীলা  ও  রামায়ণের  কাহিনী।  বাঁকানো  কার্নিসের  নিচে  দুই  সারি  কুলুঙ্গির  মধ্যে  টেরাকোটা  মূর্তি  আছে।  তার  মাঝে  মাঝে  বড়  বড়  পাঁচটি  টেরাকোটা  মূর্তি  আছে।  এগুলির  মধ্যে  মাঝখানে  একটি  কৃষ্ণ  মূর্তি  ও  দুপাশে  দুটি  করে  চারটি  বাদিকা  মূর্তি।   মন্দিরে  পাশাপাশি  অবস্থিত  দুটি  প্রতিষ্ঠাফলকের  পাঠ  নিম্নরূপ :

  " ৭ শ্রীশ্রী  জিউ      সাং  গোউরা  
   লক্ষি  জনা             সন  ১২৩১
   দন  জিউ               তাং  ২২য় 
   সরণং  সকা           ঘ্রায়ন :
   বদা   ১৭৪৬           পুন্বমাস।" 
    
            অর্থাৎ  মন্দিরটি  ১৮২৪  খ্রিস্টাব্দে  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরে  শ্রীশ্রী লক্ষ্মীজনার্দন  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ৩১.০১.২০১৯ 


রামরাজা ও অন্যান্য চিত্র

লক্ষ্মীজনার্দনের  মন্দির

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

কৃষ্ণের মথুরাগমন দৃশ্য  

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

রামরাজা ও অন্যান্য চিত্র 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

বড় করে 

কৃষ্ণের নৌকায় মস্তকে দধিভাণ্ডবহনরত গোপীরা   

কৃষ্ণকে যমুনার জলপূর্ণ ঘটের দ্বারা স্নান করানো  

প্রতিষ্ঠাফলক 

শঙ্খবাদিকা 

সেতারবাদিকা

কাঁসরবাদিকা

কৃষ্ণ 

 
সহায়ক  গ্রন্থ : 
                 ১)  পুরাকীর্তি  সমীক্ষা :  মেদিনীপুর  ~  তারাপদ  সাঁতরা

                  ------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন