বিশালাক্ষী মন্দির, সিনেট / সেনেট, হুগলি
শ্যামল কুমার ঘোষ
হুগলি জেলার পোলবা-দাদপুর ব্লকের একটি গ্রাম সিনেট বা সেনেট। এই গ্রামের আগের নাম ছিল সেনহাটি বা সানিহাটি। গ্রামটি চুঁচুড়া-ধনিয়াখালি বাস রাস্তায় অবস্থিত। চুঁচুড়া বা ধনিয়াখালি হল্ট স্টেশন থেকে ১৭ নম্বর বাসে যাওয়া যায়। এখানকার বিশালাক্ষী মন্দির বিখ্যাত।
দেবীর দ্বিভুজা মৃন্ময়ী মূর্তি। প্রাচীন কালে স্থানীয় হালদার বংশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। একবার বর্ধমানের মহারাজা সংকটাপন্ন রোগে আক্রান্ত হন। মহারাজের একজন কর্মচারী ছিলেন পোলবা অঞ্চলের বাসিন্দা। তিনি এই বিশালাক্ষীর প্রসাদি ফুল ও চরণামৃত নিয়ে মহারাজকে দেন। চরণামৃত গ্রহণের পর মহারাজের রোগের উপশম হয়। আরোগ্য লাভের পর বর্ধমানের মহারাজা দেবীর বর্তমান মন্দির নির্মাণ করে দেন। উত্তরপাড়ার মুখোপাধ্যায়রা দেবীর সেবার ব্যবস্থা করেন।
অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী, জোড়বাংলা মন্দিরের গায়ে আগে টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত ছিল। কিন্তু সেই টেরাকোটার কিছুই আজ অবশিষ্ট নেই। মন্দিরটি ১২২৯ বঙ্গাব্দে বা ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত বলে পূর্বসূরিদের গ্রন্থে লেখা আছে। কিন্তু ১৪১৯ বঙ্গাব্দে মন্দির সংস্কারের সময় যে লেখা হয়েছে তা ১৪০২ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠাফলক লাগানো থাকলেও তা এখন পড়া যায় না। গর্ভগৃহের সামনে ত্রিখিলান অলিন্দ। মন্দিরের সামনে টিনের চাল দেওয়া একটি নাটমন্দির আছে।
সুদূর অতীতে কেদারমতি নদী যখন বেগবতী ছিল তখন পারাপারের জন্য দুই তীরে দুটি ঘাট ছিল, সেই দুটি ঘাটের উত্তর দিকে অবস্থান ছিল দ্বারবাসিনীর বিষহরি ও দক্ষিণ দিকে অবস্থান ছিল সিনেটের বিশালাক্ষী। দ্বারবাসিনীর বিষহরি ও সিনেটের বিশালাক্ষী বিশেষ লোকধর্মীয় কার্জকরণসূত্রে আবদ্ধ, উভয়ে দুই বোন হিসাবে কল্পিত
গর্ভগৃহে শাড়ি পরিহিতা বিশালাক্ষী দেবীর মূর্তি দণ্ডায়মান। দেবীর বাঁহাতে পান পাত্র, ডানহাতে খাঁড়া, গলায় নরমুণ্ডমালা। শিব দেবীর পদতলে শয়ান। দেবীর ডান পা শিবের উপর সংন্যস্ত এবং বাঁ পা অসুরের খণ্ডিত মস্তকের উপর স্থাপিত। দেবীর মুখের উপরের দন্তপংক্তি বিকশিত, স্মিতহাস্যযুক্ত। দেবীর দক্ষিণ দিকে মহাদেব, লক্ষ্মী, ও গণপতি এবং বাঁ দিকে শ্রীরামচন্দ্র, সরস্বতী ও কার্তিকের মূর্তি আছে। পিছনে আছে ভূত প্রেতাদি।
 |
| মন্দিরের তোরণ |
 |
| নাটমন্দির সহ বিশালাক্ষী মন্দির |
 |
| মন্দিরের সামনের ত্রিখিলান বিন্যাস |
 |
| বিশালাক্ষী মা অন্যান্য দেবদেবীর মূর্তি |
 |
| বিশালাক্ষী মা - ১ |
 |
| বিশালাক্ষী মা - ২ |
সহায়ক গ্রন্থাবলী :
১) হুগলি জেলার ইতিহাস ও বঙ্গসমাজ ( ২ য় খণ্ড ) : সুধীরকুমার মিত্র
২) হুগলি জেলার পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য
৩ ) পশ্চিমবঙ্গ ভ্রমণ ও দর্শন : ভূপতিরঞ্জন দাস
--------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।