রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

Shib Temple, Nakashipara, Nadia,West Bengal


শিবমন্দির, নাকাশিপাড়া, নদিয়া

                         শ্যামল কুমার  ঘোষ  

            শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে বেথুয়াডহরী একটি স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব ১২৮ কিমি। স্টেশন থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে নাকাশীপাড়া গ্রাম। বেথুয়াডহরী স্টেশন থেকে টোটোতে সহজেই এই গ্রামে যাওয়া যায়। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক বেথুয়াডহরীর উপর দিয়ে গেছে। তাই ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ধরেও এই গ্রামে যাওয়া  যায়।     

            নাকাশিপাড়া খুব প্রাচীন গ্রাম। পূর্বে এর নাম ছিল  ''নাগরকিপাড়া'' বা নাগরিকপাড়া। পরে এর নাম হয় নাকাশিপাড়া। পূর্বে গ্রামটি কাটোয়া মহকুমার অধীন অগ্রদ্বীপ থানার অন্তর্গত ছিল। পরে কৃষ্ণনগর মহকুমার অধীন হয়ে এই গ্রামে নাকাশীপাড়া থানা তৈরি হয়। আরও পরে ১৯২০ সালে এপ্রিল মাসে যাতায়াতের অসুবিধার জন্য রেলওয়ে স্টেশনের কাছে, বেথুয়াডহরীতে থানা উঠে গেলেও থানার নাম 'নাকাশীপাড়া'ই থেকে  যায়।

            গ্রামের স্কুলের কাছে একই ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত তিনটি পাশাপাশি চারচালা মন্দির আছে। মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠিত হয় অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট ও জমিদার শিবেন্দ্রনাথ সিংহরায়ের আমলে। দু পাশের মন্দির দুটিতে দুটি শিবলিঙ্গ পূজিত হন। একটি শিবলিঙ্গ শ্বেতপাথরের, অন্যটি কালো কষ্টিপাথরের। মাঝের  মন্দিরটিতে  ছিল  লক্ষ্মী জনার্দনের স্বর্ণমূর্তি। এক সময় দুটি শিবলিঙ্গ ও স্বর্ণমূর্তি চুরি  যায়।  প্রশাসনের তৎপরতায় শিবলিঙ্গ দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে শাস্ত্রবিধি মেনে দুটি শিবলিঙ্গই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে গ্রামের মেয়েরা পাটুলি ঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে এসে শিবের মাথায় ঢালেন। আশেপাশের দশ বারোটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্ন-ব্যঞ্জন-পরমান্ন প্রসাদ বিতরণ করা হয়। লক্ষ্মী-জনার্দনের স্বর্ণমূর্তিটি না পাওয়ার জন্য অনেকদিন মাঝের মন্দিরটি ফাঁকাই পড়ে থাকে। অনেক পরে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ ও শ্রীমার মূর্তি স্থাপিত হয়। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে সুন্দর পঙ্খের কাজ আছে। কোন প্রতিষ্ঠাফলক না থাকায় প্রতিষ্ঠাকাল বলা সম্ভব নয়। তবে কমবেশি দু'শ বছর আগে, মন্দির টেরাকোটা শিল্পের অবনতির যুগে, নতুন ভাবে পঙ্খের অলংকরণের সূচনা হয়। অতএব, এ পুরাকীর্তিগুলি কমবেশি ২০০ বছরের পুরানো হতে পারে। গ্রামের স্থানীয় স্কুলের সামনে একটি ষড়ভুজ রাসমঞ্চও  আছে।

            মন্দিরগুলি পরিদর্শনের তারিখ : ১৫.০৮.২০১৭



তিনটি  চারচালা  শিবমন্দির 

বাঁ  দিকের  শিবমন্দির 

মন্দিরটির  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

মাঝের  শিবমন্দির 

ডান  দিকের  শিবমন্দির 

মন্দিরটির  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

রাসমঞ্চ
    
সহায়ক গ্রন্থ :

           ১) নদীয়া জেলার পুরাকীর্তি : মোহিত রায় ( তথ্য-সংকলন ও গ্রন্থনা )

           ২) আমাদের গ্রাম : সমীরেন্দ্র নাথ সিংহরায়
           ৩) অখণ্ড নাকাশিপাড়া কথা : দিলীপ মজুমদার 
  

          --------------------------------------------

  অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                       

৪টি মন্তব্য: