সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

Dolmancha of Radhagobinda Jiu, Gurbari, Hooghly, West Bengal


রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ,  গুড়বাড়ি,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            হাওড়া-বর্ধমান  কর্ড  লাইনে  গুড়াপ  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  গুড়াপ  ১৮  তম  রেলস্টেশন। রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৫৭.৪  কিমি।  গুড়াপ  স্টেশন  থেকে  বাসে  মৌবেশ হয়ে  গুড়বাড়ি  যেতে  হয়।   

             গুড়বাড়ি  গ্রামে  শ্রীশ্রী  রাধাগোবিন্দ  জিউর  বিরাট  মন্দির  ও  দোলমঞ্চ  খুবই  দর্শনীয়।  ১৭১১  শকাব্দে ( ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দে )  রামনারায়ণ  চৌধুরী  এই  দুটি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  বীরভূম  জেলার  কেন্দুবিল্বের  নিকট  সেনপাহাড়ি  গ্রাম  থেকে  এঁরা  এখানে  এসেছিলেন। এই  বংশের  নিধিরাম  রায়  সম্রাট  আকবরের  কাছ  থেকে  চৌধুরী  উপাধি  পান।  তিনি  চার-পাঁচটি  ভাষায়  পারদর্শী  ছিলেন।  তিনি  প্রভূত  সম্পত্তি  রেখে  যান।  রায়চৌধুরীদের  দুটি  বাড়িতে  দুটি  মন্দির।  বড়  বাড়িতে  রামনারায়ণ  প্রতিষ্ঠিত  রাধাগোবিন্দ  ও  ছোট  বাড়িতে  ইন্দ্রনারায়ণ  প্রতিষ্ঠিত  লক্ষ্মীনারায়ণের  মন্দির।  'টেকনো  ইণ্ডিয়া'র  সত্তম  রায়চৌধুরী  ছোট  বাড়ির  বংশধর।  

            রাধাগোবিন্দের  মন্দির  পাঁচ  খিলান  বিশিষ্ট  একটি  দালান।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  আগেই  দিয়েছি।  মন্দিরের  বাইরে  আছে  রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ।  দোলমঞ্চটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  উপরে  ওঠার  বাঁকানো  সিঁড়ি।  অষ্টকোণ  ও  আটটি  খিলানযুক্ত।  দোলমঞ্চের  বাইরে  দুই  খিলানের  মধ্যবর্তী  অংশে,  খিলানের  উপরে,  কার্নিশের  নিচে,  স্তম্ভে  ও  ভিতরের  খিলানের  উপরে  অপূর্ব  পঙ্খের  কাজ  আছে।  এমন  সুন্দর  পঙ্খের  কাজযুক্ত  দোলমঞ্চ   কালের  করাল  গ্রাসে  আজ  ধ্বংসের  পথে।  বড়  বাড়ির  এক  প্রতিনিধির  সঙ্গে  আমার  দেখা  হয়ে  ছিল।  তাঁরা  আর্থিক  কারণে  দোল  মঞ্চটির  সংস্কার  করতে  অপারক,  কারো  হাতে  তুলে  দিতে  চান।  রাধাগোবিন্দ  মন্দির  ও  বিগ্রহের  ভার  ইতিমধ্যে  ওঙ্কার  সেবক  সংঘের  হাতে  অর্পণ  করেছেন।

            দোলমঞ্চটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২১.০৩.২০১৭

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ

রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ

দোলমঞ্চের  শিখর

দোলমঞ্চের  মাঝের  অংশের  বিন্যাস

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ১

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ২

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৩

খিলানের  উপরের  কাজ

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৪

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৫

দোলমঞ্চে  ভিতরের  খিলানের  কাজ 


সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 
        )  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল  :  সুধীর  কুমার  মিত্র

                    -----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন