বিল্বেশ্বরী ও মদনমোহন মন্দির, বিল্বগ্রাম, নদিয়া
শ্যামল কুমার ঘোষ
শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে বেথুয়াডহরী একটি স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব ১২৮ কিমি। স্টেশন থেকে ৬.৫ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম বিল্বগ্রাম। গ্রামটি নাকাশীপাড়া থানার অন্তর্গত।বেথুয়াডহরী স্টেশন থেকে টোটোতে সহজেই এই গ্রামে যাওয়া যায়। গ্রামটি পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালংকারের জন্মস্থান। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক বেথুয়াডহরীর উপর দিয়ে গেছে। তাই ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ধরেও এই গ্রামে যাওয়া যায়।
গ্রামটি একদা গঙ্গাতীরবর্তী ছিল। এখন গঙ্গা অনেকটাই পশ্চিমে সরে গেছে।
এই গ্রামের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হলেন বিল্বেশ্বরী। দুর্গামূর্তির অনুরূপ তাঁর প্রস্তরমূর্তি এক দালান-মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত। মূর্তিটি খুবই ছোটো। বর্তমান মন্দিরটি খুবই সাধারণ মানের এবং অসম্পূর্ণ। বিল্বেশ্বরীর নিত্যপূজা ছাড়াও চৈত্র মাসে, বাসন্তী পূজার সময়, বিল্বেশ্বরীর সর্বজনীন পূজা হয়। মন্দিরে দু-তিনটি বড় পাথর ও কয়েকটি ভগ্ন শিবলিঙ্গও আছে।
![]() |
| বিল্বেশ্বরী মন্দির, বিল্বগ্রাম, নদিয়া |
![]() |
| বিল্বেশ্বরী ও অন্যান্য বিগ্রহ |
![]() |
| বিল্বেশ্বরী মূর্তি |
গ্রামে আর একটি দালান মন্দিরে মদনমোহন নামে খ্যাত কালো পাথরের কৃষ্ণ ও অষ্টধাতুর রাধিকা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত ও নিত্যপূজিত। স্থানীয় পণ্ডিত কালিদাস সিদ্ধান্ত এই মন্দির ও বিগ্রহের প্রতিষ্ঠাতা। মন্দিরটির বহুবার সংস্কার করা হয়েছে। ১৪০৬ বঙ্গাব্দে ডঃ অশোক কুমার চট্টোপাধ্যায় মন্দিরটি পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেন। নিত্য পূজা ছাড়াও স্নানযাত্রা, জন্মাষ্টমী, রাসযাত্রা, দোল উৎসব ইত্যাদি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
![]() |
| মদনমোহন মন্দির - ১ |
![]() |
| মদনমোহন মন্দির - ২ |
![]() |
| মদনমোহন বিগ্রহ - ১ |
![]() |
| মদনমোহন বিগ্রহ - ২ |
একদা, এই গ্রামে বহু সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতের বাস ছিল। এখানকার আদি পণ্ডিত বিষ্ণুদাস ঠাকুরের ২৯ তম পুরুষ পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালংকার এই গ্রামের সন্তান। তাঁর জন্মভিটায় তাঁর স্মৃতিতে একটি স্মারক-স্তম্ভ নির্মিত হয়েছে। তাঁর জন্মদিনে এখানে সভাদি হয়ে থাকে।
গ্রামটি পরিদর্শনের তারিখ : ১৫.০৮.২০১৭
সহায়ক গ্রন্থ :
১) নদীয়া জেলার পুরাকীর্তি : মোহিত রায় ( তথ্য-সংকলন ও গ্রন্থনা )
------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।











কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন