গোপীনাথ মন্দির, ধর্মদা, নদিয়া
শ্যামল কুমার ঘোষ
শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে মুড়াগাছা একটি স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব ১১৭ কিমি। মুড়াগাছা স্টেশন থেকে ৩ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম ধর্মদহ বা ধর্মদা। মুড়াগাছার পরের স্টেশন বেথুয়াডহরী থেকে টোটোতে বা কৃষ্ণনগর থেকে বাসেও এখানে যাওয়া যায়।
ধর্মদা প্রাচীন গ্রাম। কেউ বলেন, ধৰ্ম নামে জনৈক নৃপতির নামানুসারে এ গ্রামের নাম। আবার অনেকে বলেন, দেবতা ধর্মরাজের নাম থেকেই গ্রামের নাম হয়েছে ধর্মদহ বা ধর্মদা। এখানে নদিয়ারাজের বৃত্তিভোগী পণ্ডিতদের বাস ছিল।
ধর্মদা বাজার থেকে কিছু দূরে অবস্থিত গোপীনাথ মন্দির। পুরানো গোপীনাথের মন্দির ১২৫৬ বঙ্গাব্দে রাজেন্দ্র বিদ্যাবাগীশ কর্তৃক স্থাপিত হয় এবং তিনিই গোপীনাথের কষ্টিপাথরের বিগ্রহটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই মন্দির ভগ্ন হয়ে গেলে ১৩৪১ বঙ্গাব্দে তাঁর বংশের দুর্গানাথ বন্দোপাধ্যায় নতুন করে এই মন্দির তৈরী করেন।
মন্দিরটি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, দক্ষিণমুখী, একটি দালান মাত্র। দক্ষিণ দিকে দুই-খিলানবিশিষ্ট ও পূর্ব দিকে চার-খিলানবিশিষ্ট অলিন্দ আছে। গর্ভগৃহে ঢোকার দুটি দরজা, একটি দক্ষিণ দিকে ও একটি পূর্ব দিকে। পূর্ব ও উত্তর দিকে দুটি করে জানলা আছে। গর্ভগৃহে একটি কাঠের সিংহাসনে কষ্টিপাথরের গোপীনাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত ও নিত্য পূজিত। এখানে কৃষ্ণ বিগ্রহ একক। কোন রাধিকা মূর্তি নেই। মন্দিরে নিত্যপূজা ছাড়াও রাস, দোল ইত্যাদি উৎসবও হয়ে থাকে। বর্তমানে বন্দোপাধ্যায় বংশের তিন শরিক পালা করে গোপীনাথের সেবাকার্য করে থাকেন।
মন্দিরটি অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত, দক্ষিণমুখী, একটি দালান মাত্র। দক্ষিণ দিকে দুই-খিলানবিশিষ্ট ও পূর্ব দিকে চার-খিলানবিশিষ্ট অলিন্দ আছে। গর্ভগৃহে ঢোকার দুটি দরজা, একটি দক্ষিণ দিকে ও একটি পূর্ব দিকে। পূর্ব ও উত্তর দিকে দুটি করে জানলা আছে। গর্ভগৃহে একটি কাঠের সিংহাসনে কষ্টিপাথরের গোপীনাথ বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত ও নিত্য পূজিত। এখানে কৃষ্ণ বিগ্রহ একক। কোন রাধিকা মূর্তি নেই। মন্দিরে নিত্যপূজা ছাড়াও রাস, দোল ইত্যাদি উৎসবও হয়ে থাকে। বর্তমানে বন্দোপাধ্যায় বংশের তিন শরিক পালা করে গোপীনাথের সেবাকার্য করে থাকেন।
![]() |
| গোপীনাথ মন্দির |
![]() |
| প্রতিষ্ঠা-ফলক |
![]() |
| গোপীনাথ বিগ্রহ - ১ |
![]() |
| গোপীনাথ বিগ্রহ - ২ |
![]() |
| গোপীনাথ বিগ্রহ ( স্নানের আগে ) |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) নদীয়া জেলার পুরাকীর্তি : মোহিত রায় ( তথ্য-সংকলন ও গ্রন্থনা )
|
------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।







This temple is now totally renovated, may even be said rebuilt. Devotees of the Lord could rebuild this temple from their own donations and contributions. Unfortunately the renovated temple has lost the original grandeur somewhat.
উত্তরমুছুন