বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

ShriShri Gopikanta Jiu Temple, Khan Bari, Santipur, Nadia, West Bengal

   

শ্রীশ্রী গোপীকান্ত  জিউ  মন্দির,  খাঁ  বাড়ি,  শান্তিপুর,  নদিয়া

                                                     শ্যামল  কুমার  ঘোষ

             খাঁ  দের  পূর্বপুরুষ গোবিন্দ ( তন্তুবায় ) শ্রীঅদ্বৈতের  সঙ্গী  হয়ে  শ্রীহট্ট  থেকে  শান্তিপুরে  আসেন।  ইঁহারা  সমুদ্রপথে  বাণিজ্য  করতেন।  গোবিন্দের  পুত্র  গৌরী  ব্যবসায়ে  অর্থবান  হয়ে  'ভাগ্যবন্ত' উপাধি  পান।  গৌরীপুত্র  শ্রীমন্ত  নবাব  সরকারে  ঋণদান  করতেন।   সেজন্য  'খাঁ'  উপাধি  পান।  কেউ  কেউ  বলেন  যে  শ্রীশ্রী শ্যামচাঁদ  মন্দির  প্রতিষ্ঠার  সময়  নদিয়ারাজ  খাঁ- দের  'চৌধুরী'  উপাধি  প্রদান  করেন  এবং  মহারাজ  দুলক্ষ  টাকা  গ্রহণ  করেন।   আবার  কেউ  কেউ  বলেন  যে  এই  উপাধি  নবাব  প্রদত্ত।  উড়িষ্যার  রাজার  সঙ্গে  যখন  মুর্শিদাবাদের  নবাবের  যুদ্ধ  হয়  তখন  যাত্রাপথে  নবাবের  সৈন্যবাহিনীকে  আঠার  দিন  বর্ষা  প্রভৃতি  কারণে  শান্তিপুরের  চরে  আটকে  থাকতে  হয়।  সেই  সময়  রামগোপালের ( শ্যামচাঁদ  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাতা )  পিতামহ  যাবতীয়  রসদ  সরবরাহ  করেন  এবং  তিনি  অর্থ  গ্রহণে  অসম্মত  হওয়ায়  নবাব  তাঁহাকে  চৌধুরী  উপাধি  প্রদান  করেন।  সেই  সময়  থেকে  দুটি  বংশ  হয় --  খাঁ  এবং  খাঁচৌধুরী।  পরে  কেবল  খাঁ  বংশই  বর্তমান  থাকে। 

             এই  বংশের  জ্যেষ্ঠ  রামগোপাল  খাঁ  ১৪৪৮  শকাব্দে  শ্যামচাঁদ  মন্দির  প্রতিষ্ঠা  করেন।  তাঁর  অপর  তিন  ভাই  রামজীবন,  রামচরণ  ও  রামভদ্র  পৃথক  পৃথক  শ্রীকৃষ্ণ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  রামচরণ  খাঁ  শ্রীশ্রী গোপীকান্ত  বিগ্রহ  শ্রীরাধিকা  সহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।   মতান্তরে,  শ্রীমন্ত  খাঁর  পুত্র  কৃষ্ণবল্লভ  এই  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন। মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  অলিন্দযুক্ত  এক  দালান  মন্দির।  মন্দির  সংলগ্ন  অন্যান্য  ঘরও  আছে। 

             এখানে  উল্লেখ্য,  মথুরেশের  সময়  থেকে  শান্তিপুরে  রাস  উৎসবের  প্রচলন  থাকলেও  ভাঙ্গারাসের  উৎসব  প্রচলন  করেন  এই  খাঁ  বংশ।  তাঁরা  ১৬৪৯  শকাব্দে  ভাঙ্গারাস  নামে  খ্যাত  শ্রীকৃষ্ণ  ও  রাধিকা  বিগ্রহের  নগর  পরিক্রমা  অনুষ্ঠানের  প্রচলন  করেন।  ক্রমে  তাঁরা  বড়  গোস্বামী  বাড়িকে  আমন্ত্রণ  করে  তাঁদের  পুরোভাগে  রেখে  নিজেরা  তাঁদের  অনুগমন  করেন।  পরে  অন্য  গোস্বামীরা  এসে  যোগ  দেন  এবং  এবং  খাঁচৌধুরীদের  অনুগমন  করেন।
   
             শান্তিপুরের  খাঁ  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই। স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  বড়  গোস্বামী  বাড়ির  কাছে  অবস্থিত  খাঁ  বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 


খাঁ  বাড়ির  ফটক  ও  বাড়ি 

খাঁ  বাড়ির  ঠাকুর  দালান 

শ্রীশ্রী  গোপীকান্ত  ও  রাধিকা  বিগ্রহ
           
সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :           
                   ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা     
                   ২. শান্তিপুর - পরিচয় ( ১ ম  ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য 

                          -------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
     

বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৬

Shrishri Radhaballabh Jiu Temple, Ashananda's House, Santipur, Nadia, West Bengal

শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির,  আশানন্দ  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ

                  উনবিংশ  শতকের  প্রথম  ভাগে  শান্তিপুরে  আশানন্দ  মুখোপাধ্যায়  নামে  এক  বীরপুরুষ  জন্মগ্রহণ  করেন।  তিনি  যেমন  সরল  প্রকৃতি  ও  সহৃদয়  ছিলেন  তেমনই  ছিলেন  অসীম  শক্তির  অধিকারী।  একবার  তিনি  অতিথি  হয়ে  জনৈক  ধনী  গৃহস্থের  বাড়িতে  রাত  কাটাচ্ছিলেন।  ওই  বাড়িতে  রাতে  হঠাৎ  একদল  ডাকাত  পড়ে।  আশ্রয়দাতা  গৃহস্বামীর  এরূপ  বিপদ  দেখে  বীর   আশানন্দ  হাতের  কাছে  অন্য  অস্ত্র  না  পেয়ে  কাছের  একটি  ঢেঁকিশাল  থেকে  এক  প্রকাণ্ড  ঢেঁকি  নিয়ে  ডাকাতদের  মোকাবিলা  করেন  এবং  তাদের  তাড়িয়ে  দেন।  এই  কাজের  জন্য  তিনি  জনসমাজে  'আশানন্দ  ঢেঁকি'  নামে  পরিচিত  হন।  ১৩৩৯  বঙ্গাব্দে  বীর  আশানন্দের  স্মৃতি  রক্ষার  জন্য  তাঁর  বাসভবনের  সামনে  একটি  স্মৃতিস্তম্ভ  নির্মাণ  করা  হয়। 


আশানন্দের  স্মৃতিস্তম্ভ

                 
আশানন্দের  কোন  এক  পূর্বপুরুষ  আনুমানিক  পাঁচশো  বছর  আগে  নিজগৃহে  শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  বিগ্রহ  বর্তমানে  শিখরযুক্ত  এক  দালান  মন্দিরে  স্থাপিত।  আশানন্দের  বংশধরদের  মধ্যে  কেউ  জীবিত  না  থাকায়  এবং  তাঁর  দূর  সম্পর্কের  আত্মীয়-স্বজনের  অবস্থাও  দুর্বল  হওয়ায়  এই  পল্লীর  জনসাধারণ  ১৯৩৩  খ্রিস্টাব্দের  ২০ শে   সেপ্টেম্বর  একটি  ট্রাষ্টিবোর্ড  গঠন  করে  এই  বিগ্রহ  পরিচালনার  ভার  গ্রহণ  করেন।  মন্দিরে  রাধাবল্লভ  জিউর  নিত্যপূজা  ছাড়াও  রাস  পূর্ণিমায়  সাড়ম্বরে  রাসোৎসব  পালন  করা  হয়।  ভাঙারাসের  উৎসবে   আশানন্দ  পল্লীর  শোভাযাত্রায়  ঢেঁকি  হাতে  আশানন্দের  দীর্ঘকায়  পট  সর্বাগ্রে  রাখা  হয়।  এখানে  উল্লেখ্য,  আশানন্দ  পল্লীই  রাসের  শোভাযাত্রায়  প্রথম  মানুষ  সঙ  বার  করে  যা  আজও  চলে  আসছে।


                  শান্তিপুরের  আশানন্দের  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই। স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত    আশানন্দের  বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন।


আশানন্দের  বাড়ির  গেট  ও  শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রী শ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ২

মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১২.০১.২০১৬

সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :           
                   ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা     
                   ২. বাংলায়  ভ্রমণ  ( ১ম  খণ্ড ) : পূর্ববঙ্গ  রেলপথের  প্রচার  বিভাগ  কর্তৃক  প্রকাশিত
      
                         ----------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

Shri Radharaman Jiu Temple, Dindayal Babur Bari, Santipur, Nadia, West Bengal

 শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির, দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ি,  শান্তিপুর,  নদিয়া 

                                           শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            এই  বাড়ির  পূর্বপুরুষরা  আগে  সমুদ্রগড়ে  বাস  করতেন।  প্রায়  তিনশো  বছর  আগে  ব্যবসার  কারণে  তাঁরা  শান্তিপুরে  চলে  আসেন।  তাঁদের  রেশম  ও  বস্ত্রের  ব্যবসা  ছিল।  এঁদেরই   পূর্বপুরুষ  রামচন্দ্র  প্রামাণিক  ১২০৭  বঙ্গাব্দে  একটি  ঠাকুর  দালান   নির্মাণ  করে  গর্ভগৃহে  প্রতিষ্ঠা  করেন  কষ্টিপাথরের  শ্রীরাধারমণ  ও  অষ্টধাতুর  শ্রীমতি  বিগ্রহ।  পরে  তাঁর  পৌত্র  দাশুবাবু  প্রচুর  অর্থব্যয়ে  এই  ঠাকুর  দালানের  আমূল  সংস্কার  করেন।  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  মন্দিরের  সামনে  বাঁধান  ফাঁকা  উঠোন  এবং  তাকে  ঘিরে  চকমিলানো  অন্যান্য  ঘর।  বিগ্রহের  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  অন্যান্য  বৈষ্ণব-উৎসব  ও  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয়।  রাসের  সময়  প্রাচীনকালের  বেলোয়ারি  ঝাড়বাতিতে  মোমবাতির  স্নিগ্ধ  আলোয়  এখানকার  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয়।

             দাশুবাবুর  পুত্রই  জমিদার  দীনদয়াল  প্রামাণিক।  দীনজনের  প্রতি  তিনি  অত্যন্ত  দয়ালু  ছিলেন  বলে  তাঁর  নাম  হয়  দীনদয়াল।  এক  সময়  অর্থাভাবে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল  উচ্চ  বিদ্যালয়ের  শিক্ষকদের  বেতন  বন্ধ  হওয়ার  উপক্রম  হলে  তিনি  সেই  বেতনের  দায়িত্ব  নেন।  এই  বাড়ির  বংশধর  যশোদানন্দন  প্রামাণিক  ছিলেন  অসাধারণ  পণ্ডিত।  তিনি  ১৮৭১  খ্রিস্টাব্দে  এম-এ  পরীক্ষায়  ইতিহাসে  প্রথম  বিভাগে  প্রথমস্থান  পান।  যশোদাবাবু  যথাক্রমে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল   উচ্চ   বিদ্যালয়,  ভবানীপুরের  সাউথ  সুবার্বান  স্কুল  ও  কান্দি  স্কুলের  প্রধান  শিক্ষক  রূপে  কাজ  করেন।  স্যর  আশুতোষ  মুখোপাধ্যায়  ও  রামেন্দ্র  সুন্দর  ত্রিবেদী  তাঁর  ছাত্র  ছিলেন।  তাঁর  গ্রন্থাগারের  সমস্থ  বই  তিনি  শান্তিপুরের  সাধারণ  গ্রন্থাগারে  দান  করেন।  তাঁর  নামেই  ঠাকুর  বাড়ির  সামনের  রাস্তার  নাম  যশোদানন্দন  স্ট্রীট। 

            শান্তিপুরের  দীনদয়াল  বাবুর  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত  দীনদয়াল  বাবুর বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

দীনদয়াল  বাবুর  ঠাকুরবাড়ির  সদর  দরজা

দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ির  ঠাকুরদালান  ও  ঠাকুরবাড়ি 

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ১

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ২

  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                 ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা 

                 ২. শান্তিপুর - পরিচয় ( ২ য়  ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য     

                         -----------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৬

Pagla Goswami Bari, Santipur, Nadia, West Bengal


   শ্রীশ্রী কৃষ্ণরাই  ও  কেশবরাই  জিউ  মন্দির,
    ( পাগলা  গোস্বামী  বাড়ি ),  শান্তিপুর,  নদিয়া  

                                    শ্যামল  কুমার  ঘোষ 




শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  জিউ  মন্দির

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ১

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ

নাটমন্দির

নাটমন্দিরের  কারুকার্য

নাটমন্দিরের  একটি  থামের  কারুকার্য

    অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।