মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১

Gorakshanath Temple, Arjunpur, near Baguiati / Teghoria, North 24 Parganas

           গোরক্ষনাথ  মন্দির,  অর্জুনপুর,  বাগুইআটি / তেঘরিয়া,  উত্তর  ২৪  পরগনা 

          শ্যামল  কুমার  ঘোষ 
         
          উত্তর  ২৪  পরগনা  জেলার  বাগুইআটি  থানার  অনতিদূরে  অর্জুনপুরে  অবস্থিত  গোরক্ষনাথের  মন্দির।  অর্জুনপুর  নাম  নিয়ে  অনেক  কিংবদন্তী  শোনা  যায়।  প্রথমটি,  আদিতে  অর্জুনপুর  গ্রামটি  ছিল  খাণ্ডব।  মহাভারতে  বর্ণিত  অর্জুন  এই  খাণ্ডববন  দহন  করার  পর  গ্রামের  নাম  হয়  অর্জুনপুর।  দ্বিতীয়টি,  বহুবছর  আগে  স্থানটি  ছিল  জঙ্গলাবৃত,  সুন্দরবনের  অংশ।  তখন  এই  স্থান  ছিল  অসংখ্য  অর্জুন  গাছে  পূর্ণ।  পাশ  দিয়ে  বয়ে  যেত  বিদ্যাধরী  নদী।  এই  নদী  পথে  ব্যবসায়ীরা  এই  গ্রামের  পাশ  দিয়ে  যাতয়াতের  সময়  অর্জুন  গাছের  নিচে  বসে  বিশ্রাম  করত।  তাদের  মুখে  মুখে  স্থানটি  অর্জুনপুর  নামে  পরিচিত  হয়ে  ওঠে।

             অর্জুনপুরে  গোরক্ষবাসী  রোডে  অবস্থিত,  ৬০ বিঘা  জমির  ওপর  গোরক্ষনাথ  মন্দির।  বিনয়  ঘোষের  মতে,  কয়েক  হাজার  বছর  আগে  কপিলমুনি  এই  যোগীক্ষেত্রে  সাধনা  করেন।  তারপর  গোরক্ষনাথের  অনুরোধে  তিনি  এই  স্থান  পরিত্যাগ  করে  গঙ্গাসাগর  চলে  যান।  এখানে  গোরক্ষনাথের  মন্দির  নির্মাণ  করেন  হরিয়ানা  থেকে  আগত  নাথ  সম্প্রদায়ের  লোকেরা।  এখানকার  মন্দিরের  মধ্যে  কপিলমুনির  শ্বেতপাথরের  একটি ছোট  মূর্তি  আছে।  মন্দিরের  পশ্চিম  দিকের  একটি  ঘরে  রয়েছে  অনির্বাণ  ধুনি।  মঠবাসীরা  বলেন  এই  আগুন  হল  মহাকালের  প্রতীক।  এই  আগুন  নেভে  না।  আসলে,  উৎসবের
  সময়  এই  ধুনি  নতুন  করে  জ্বালানো  হয়।  আশ্রমে  প্রতি  বছর  মাঘী  পূর্ণিমায়  মহাসমারোহে  গোরক্ষনাথের  বার্ষিক  উৎসব  অনুষ্ঠিত  হয়।  পৌষমাসে  এই  আশ্রমে  সাধু-সন্ন্যাসীর  সমাগম  হয়।  পৌষসংক্রান্তিতে  সাগরমেলা  যাওয়ার  পথে  ভারতের  বিভিন্ন  স্থান  থেকে  আগত  সাধু-সন্ন্যাসীরা  এখানে  কয়েক  দিন  অতিবাহিত  করেন।  পুর্নার্থীরা  গোরক্ষনাথের  নিকট  রোট  ও  লেঙ্গট  মানত  করেন।  এ  ছাড়া  ফাল্গুণ  মাসে  শিবরাত্রি  উপলক্ষ্যে  শিবলিঙ্গের  বিশেষ  পূজা  ও  চৈত্রসংক্রান্তিতে  চড়ক  উৎসব  অনুষ্ঠিত  হয়।

             আশ্রম  চত্তরের  মধ্যে  গোরক্ষনাথ  ও  ভৈরবনাথ  মন্দির  ছাড়াও  কালী,  বিষ্ণু,  হনুমান  ও  শনি  প্রভৃতি  দেবদেবীর  মন্দির  আছে।  বাগানের  মধ্যে  অনেকগুলি  সমাধি  আছে।  লাল  রঙের  বড়  সমাধি  গুলি  যোগীদের  সমাধি।  আর  ছোট  সমাধি  গুলি  মাছেদের।  একটা  বড়  পুকুরে  বড়  বড়  অনেক  মাছ  দেখা  যায়।  এখানে  মাছ  মরে  গেলে  সমাধি  দেওয়া  হয়।  আশ্রমে  
মোহান্তের  বাসস্থান,  অতিথি  ও  অন্যান্য  মঠবাসীদের  থাকার  ব্যবস্থা  আছে।  মন্দির  পরিচালনার  জন্য  একটি  ট্রাস্টি  বোর্ড  আছে।  এখন  মন্দির  চত্বরের  মধ্যে  একটি  পার্ক  হয়েছে।  মন্দিরটি  সকাল  ৫ টা  থেকে  দুপুর  ১২ টা  পর্যন্ত  এবং  বিকাল  ৩ টা  থেকে  রাত  ৮ টা  পর্যন্ত  খোলা  থাকে। 

কী  ভাবে  যাবেন ?
            গোরক্ষনাথ  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  এল  ২৩৮  বা  তেঘরিয়া  মিনি,  শিয়ালদহ  থেকে  ডি. এন. ১৭  বা  ৪৫ নং  বাসে,  এসপ্লানেড  থেকে  ৪৬ নং  বাসে,  উল্টোডাঙ্গা  থেকে  ভি. আই. পি. রোড  দিয়ে  এয়ারপোর্ট  গামী  যে  কোন  বাসে  উঠুন।  নামুন  তেঘরিয়া  স্টপেজে।  সেখান  থেকে  পশ্চিম  দিকে  হেঁটে  বা  রিকশায়  পৌঁছে  যান  গোরক্ষনাথের  মন্দির।

ডান দিকে গোরক্ষনাথের মন্দির, বাঁ দিকে ধুনি ঘর 

ধুনি 

কপিল মুনি ও অন্যান্য বিগ্রহ 

কৃষ্ণ ও রাধা 

গোরক্ষনাথ ও অন্যান্য বিগ্রহ 

কালী মন্দির 

কালী

ভৈরবনাথের বিগ্রহ 

বিষ্ণু মন্দির 

বিষ্ণু বিগ্রহ

হনূমান বিগ্রহ 

শিবমন্দির 

শিবলিঙ্গ 

নন্দিকেশ্বর 

যোগীদের সমাধি 

   সহায়ক গ্রন্থ  :
                    ১. চব্বিশ  পরগণা  কমল  চৌধুরী
                    ২. পশ্চিম  বঙ্গের  পূজা-পার্বণ  ও  মেলা  ( তৃতীয়  খণ্ড  ) :   অশোক  মিত্র  সম্পাদিত  


                       -------------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১

Temples of Ranaghat, Ranaghat, Nadia

 রানাঘাটের  মন্দির ,  রানাঘাট,  নদিয়া

শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            চুর্নি  নদীর  তীরে  অবস্থিত  রানাঘাট  নদিয়া  জেলার  অন্যতম  মহকুমা  শহর।  রানাঘাট  নাম  নিয়ে  অনেক  মত  প্রচলিত  আছে।  বহুকাল  আগে  এখানে  রনা  বা  রানা  নামের  এক  ডাকাতের  ঘাঁটি  ছিল।  তার  নাম  থেকে  রানার  ঘাঁটি  এবং  তার  থেকে  হয়েছে  রানাঘাট।  অন্য  মতে,  নদিয়ারাজমহিষীর  ঘাট  অর্থাৎ  রানির  ঘাট  থেকে  হয়েছে  রানাঘাট।  এখানে  উল্লেখ্য,  মহারাজা  কৃষ্ণচন্দ্রের  ছোট  রানির  বাপের  বাড়ি  ছিল  রানাঘাটের  কাছেই  নৌকাড়ি  গ্রামে।  আবার  কেউ  বলেন,  রাণা  মানসিংহ  যশোহর  আক্রমনের  সময়  এখানে  চুর্নি  নদী  তীরে  অবতরণ  করেন।  রাণার  ঘাট  থেকে  হয়েছে  রানাঘাট।

            রানাঘাট  স্টেশন  থেকে  কাছেই  সিদ্ধেশ্বরীতলায়  বহুকাল  পূর্বের  রনা  ডাকাতের  প্রতিষ্ঠিত  সিদ্ধেশ্বরী  কালী  এক  দালান  মন্দিরে  আজও  পূজিত  হচ্ছেন।  পাল  চৌধুরী  (  রানাঘাটের  জমিদার )  বাড়ির  কাছে  আছে  নিস্তারিণী  কালীর  মন্দির।  এই  দুটি  মন্দিরের  বিবরণ  আগেই  দিয়েছি।  সিদ্ধেশ্বরী  ও  ইস্তারিণী  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিংকে  ক্লিক  করুন :

         সিদ্ধেশ্বরী  ও  নিস্তারিণী  মন্দির,  রানাঘাট,  নদিয়া 

           

            কাছেই  একটি  দালান  মন্দিরে  পাল  চৌধুরীদের   কাঠের  জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা,  কষ্টিপাথরের  বংশীধারী   গোপীনাথ,  অষ্টধাতুর  রাধিকা,  পাথরের  গোপাল,  শ্রীধর  ও  রাধাগোবিন্দ-রাধিকা  মূর্তি  নিত্য  পূজিত  হন।  পাল  চৌধুরীদের  প্রাচীন  গোপীনাথ  মন্দির  চুর্নি  গর্ভে  বিলীন  হবার  পর  আনুমানিক  দেড়শ  বছর  আগে  এই  মন্দির  নির্মাণ  করা  হয়।  ১৯৫৮  খ্রীষ্টাব্দে  এই  মন্দিরের  পূর্ণ  সংস্কার  করা  হয়।  পাল  চৌধুরী  বাড়ির  সদস্য  অঞ্জন  পাল  চৌধুরী  আমাকে  গোপীনাথের  ফটো  তুলতে  সাহায্য  করেন।  সেজন্য  তাঁকে  ধন্যবাদ।


গোপীনাথ  মন্দির

জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা  বিগ্রহ

গোপীনাথ  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ 

গোপীনাথ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ


            কাছেই  রানাঘাটের  অন্যতম  জমিদার  পাল  চৌধুরীদের  ভদ্রাসন।  'পাল  চৌধুরী'   নদিয়ারাজ  কর্তৃক  প্রদত্ত  উপাধি।  এই  বংশের  পূর্বপুরুষ  কৃষ্ণ  চন্দ্র  পান্তি  অতি  সাধারণ  অবস্থা  থেকে  নিজের  চেষ্টায়  প্রচুর  ভূসম্পত্তির  অধিকারী  হন।  রানাঘাটের  পাল  চৌধুরী  বাড়ির  এলাকার  মধ্যে  একই  ভিত্তিবেদির  উপর  একজোড়া  শিবমন্দির  আছে।  ( মন্দিরের  বিস্তারিত  বিবরণ  আমার  ব্লগের  অন্যত্র  দিয়েছি । )   এক  সময়  শম্ভুচন্দ্রের  ( কৃষ্ণচন্দ্রের  মেজ  ভাই )  বজরায়  স্থাপিত  দুটি  কামান  এই  বাড়ির  ফটকে  রক্ষিত  আছে।

পাল  চৌধুরী  বাড়িতে  রক্ষিত  একটি  কামান 
            নিস্তারিণী  মন্দিরের  কাছেই  ব্রজবল্লভ  দালান  মন্দির।  মন্দিরে  কষ্টিপাথরের  কৃষ্ণ  এবং  অষ্টধাতুর  রাধিকা  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ  নিত্যপূজিত।  লাগোয়া  একটি  দালানের  উপর  নবচূড়াযুক্ত  মন্দিরে  একটি  প্রাচীন  শিবলিঙ্গ,  সিংহবাহিনী  ও  গণেশ  বিগ্রহ  নিত্যপূজিত। 


ব্রজবল্লভ  মন্দিরের  panoramic ছবি

কৃষ্ণ  ও  রাধিকা   বিগ্রহ

অন্যান্য  বিগ্রহ

শিবলিঙ্গ

সিংহবাহিনী  বিগ্রহ

গণেশ   বিগ্রহ 

কী  ভাবে  যাবেন ?
            
রানাঘাটের  উপরোক্ত   মন্দিরগুলোতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  লালগোলা  পাসেঞ্জার,  রানাঘাট,  শান্তিপুর, গেদে  বা  কৃষ্ণনগর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  রানাঘাটে। স্টেশন  থেকে  হেঁটে,  রিকশায়  বা  টোটোতে  প্রথমে  পৌঁছান  সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মন্দিরে।  রানাঘাট  থেকে  কৃষ্ণনগর,  লালগোলা,  শান্তিপুর,  গেদে,  বনগাঁ  ও  শিয়ালদেহের  ট্রেন  পাওয়া  যায়।  ৩৪  নং  জাতীয়  সড়ক  ধরেও  রানাঘাট  যেতে  পারেন।  শিয়ালদহ  থেকে  রানাঘাট  যেতে  ট্রেনে  সময়  লাগে  দু  ঘন্টা।

    সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                      ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি :  মোহিত  রায়  ( তথ্য  সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
                      ২. Nadia Gazetteer - Chapter XVI


           --------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।  

Temples of Singur, Singur, Hooghly

  সিঙ্গুরের  মন্দির,  সিঙ্গুর,  হুগলি 

                  শ্যামল কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-তারকেশ্বর  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  সিঙ্গুর  দ্বাদশ  রেলস্টেশন।  শেওড়াফুলি  থেকে  তৃতীয়  স্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  সিঙ্গুরের  দূরত্ব  ৩৩  কিমি। 

            প্রাচীনকালে  সিঙ্গুর  সরস্বতী  নদী  তীরে  মহারাজা  সিংহবাহুর  রাজধানী  সিংহপুর  বলে  প্রসিদ্ধ  ছিল।  খ্রীষ্টপূর্ব  ৭০০  অব্দে   মহারাজ  সিংহবাহু  সিংহপুরে  রাজত্ব  করতেন।  তাঁর  জ্যেষ্ঠপুত্র  বিজয়সিংহ  পিতার  অবাধ্য  হওয়ায়  পিতা  কর্তৃক  বিতাড়িত  হয়ে  সাতশত  যুদ্ধকুশল  অনুচর  নিয়ে  সমুদ্রযাত্রা  করেন  এবং  তাম্রপর্ণি  দ্বীপে  অবতরণ  করে  সেখানকার  অধিবাসীদের  পরাস্ত করে  লঙ্কাদ্বীপ  অধিকার  করেন।  তিনি  তাম্রপর্ণি  বা  লঙ্কাদ্বীপ  অধিকার  করে  সেখানকার  রাজকন্যাকে  বিবাহ  করেন  এবং  সেখানকার  রাজা  হন।  রাজা  হওয়ার  পর  তিনি  ওই  দ্বীপের  নাম  রাখেন  সিংহল। 

            সিঙ্গুরের  মন্দিরগুলি  দেখতে  হলে  তারকেশ্বর  লোকালে  উঠে  সিঙ্গুর  স্টেশনে  নামুন।  স্টেশনের  দক্ষিণ  দিকে  এস. এন. মল্লিক  রোডে   সিঙ্গুর  বাজার।  বাজারের  মোড়ে  সিঙ্গুর  স্কুল।  এই  স্কুলের  কাছেই  সাত  মন্দিরতলায়  একই  সারিতে  সাতটি  শিবের  মন্দির  অবস্থিত।  মন্দিরগুলি  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  প্রথাগত  আটচালা।  মন্দিরগুলি  এক  দ্বার  বিশিষ্ট।  কোন  টেরাকোটার  অলংকরণ  নেই।  মন্দিরগুলি  প্রতিষ্ঠা  করেন  সিঙ্গুরের  জমিদার  দ্বারিকানাথ।  পাঞ্জাবের  সেরিনগাঁও নামক  পল্লী  থেকে  দ্বারিকানাথের  পিতা   গোপীনাথ  বঙ্গদেশে  ব্যবসা  করতে  আসেন  এবং  সিঙ্গুরের  তৎকালীন  প্রসিদ্ধ  ব্যক্তি  মহাতাব  বাবুর  পরিবারে  বিবাহ  করে  এখানে  স্থায়ীভাবে  বসবাস  করতে  থাকেন।  মন্দিরগুলির  প্রতিষ্ঠাকাল  ঊনবিংশ  শতাব্দীর  গোড়ার  দিকে।  সপ্ত  শিবমন্দিরের  মধ্যে  একটি  সম্প্রতি  সংস্কার  করা  হয়েছে। 


সপ্ত  শিব  মন্দির

            শিবমন্দিরগুলি  দেখে  
এস. এন. মল্লিক  রোডে  এসে  নসিবপুর  গামী  বাস,  অটো  বা  টোটোতে  উঠে  ডাকাত  কালী  মন্দিরে  নামুন।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  আমি  অন্যত্র  দিয়েছি।  ডাকাত  কালীমন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  নিচের  লিংকে  ক্লিক  করুন :

                     ডাকাত  কালী  মন্দির,  সিঙ্গুর,  হুগলি   


            এই  মন্দির  দেখে  রাস্তার  বিপরীত  দিক  থেকে  টোটো  বা  অটোতে  উঠুন।  হেঁটেও  যেতে  পারেন।  রাস্তাটি  কিছু  দূর  গিয়ে  তারকেশ্বর  রোডে  পড়েছে।  আরও  কিছুতা  এগুলে  পুরুষোত্তমপুর  ব্রাহ্মণপাড়ায়  নামুন।  বাঁ  দিকে  বন  বিশালাক্ষী  মন্দির।  কেউ  কেউ বলেন  বিশালক্ষ্মী।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  অন্যত্র  দিয়েছি।  মন্দিরটি  সম্বন্ধে  জানতে  ক্লিক  করুন :

                বন  বিশালাক্ষী  মন্দির,  পুরুষোত্তমপুর,  সিঙ্গুর 

            এই  মন্দির  দেখে  মন্দিরের  সামনে  থেকে  আবার  টোটো  বা  অটোতে  উঠুন।  নামুন  বিশালাক্ষীতলায়  বিশালাক্ষী  মন্দিরে।  মন্দিরটি  অল্প  উঁচু  ভিত্তি বেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত  দালান।  গর্ভগৃহের  সামনে  ঢাকা  বারান্দা। মন্দির  সংলগ্ন  নাটমন্দির  আছে।  গর্ভগৃহে  দেবী  বিশালাক্ষী  প্রতিষ্ঠিত  ও  নিত্য  পূজিত।  দেবী  দ্বিভুজা,  সৌম্য  মূর্তি, গলায়  একত্রিশটি  মুণ্ডের  মালা।  গায়ের  রং  শিউলি  ফুলের  বোঁটার  মত।  দেবী  মহাকালের  উপর  ডান  পা  এবং  বিরূপাক্ষের  উপর  বাঁ  পা  দিয়ে  দণ্ডায়মানা।  পঞ্চমুণ্ডীর  আসনে  দেবী  প্রতিষ্ঠিত।  দেবীর  তন্ত্রমতে  পূজা  হয়।  চক্রবর্তী  পরিবারের  শরিকরা  পালাকরে  দেবীর  পূজা  করে  থাকেন।


বিশালাক্ষী  দেবীর  মন্দির

মন্দিরের  শিখরদেশ

শ্রীশ্রী  বিশালাক্ষী  মাতা - ১

শ্রীশ্রী  বিশালাক্ষী  মাতা - ২

            এই  মন্দিরের  কাছেই  সিঙ্গুরের  আগের  স্টেশন  নসিবপুর।  সেখান  থেকে  ফিরতি  ট্রেন  ধরে  বাড়ি  ফিরুন

            মন্দিরগুলি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৪.১১.২০১৬ 

   সহায়ক  গ্রন্থ :
                 ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র 
                                 
           -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।