বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

Gopinath Temple, Dasghara, Hooghly

      
গোপীনাথ  মন্দির,  বিশ্বাস  পাড়া,  দশঘরা,  হুগলি 
                                   শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            হাওড়া-বর্ধমান  কর্ড  লাইনে  গুড়াপ  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  গুড়াপ   ১৮  তম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৫৭.৪  কিমি।  গুড়াপ-তারকেশ্বর  বাস  রাস্তায় দশঘরা  একটি  গ্রাম।  এই  গ্রামের  বিশ্বাস  পাড়ায়  বিখ্যাত  বিশ্বাস  পরিবারের  প্রতিষ্ঠাতা  জগমোহন  দেব  বিশ্বাস  বারদুয়ারী  রাজবংশের  রামনারায়ণ  পালচৌধুরীর  বদান্যতায়  এখানে  বসতি  স্থাপন  করেন।  তাঁর  বংশধর  সদানন্দ  বিশ্বাস  ১৬৫১  শকাব্দে  ( ১৭২৯  খ্রীষ্টাব্দে )  রাধাগোপীনাথের  পঞ্চরত্ন  শৈলীর  মন্দিরটি  নির্মাণ  করেন।  মন্দির  সংলগ্ন  দুর্গাদালান,  রাসমঞ্চ,  দোলমঞ্চ  ও  শিবের  আটচালা  মন্দিরও  বর্তমান। 
  
             মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পশ্চিমমুখী  ও    ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  দুটি  দরজা,  একটি  পশ্চিম  দিকে,  অপরটি  উত্তর  দিকে।  মন্দিরের  বাইরের  তিন  দিকের  (  পশ্চিম,  উত্তর  ও  দক্ষিণ )  দেওয়াল  টেরাকোটা  অলংকারে  অলংকৃত।  তবে  এই  'টেরাকোটা'র  বেশির  ভাগই  মন্দিরের  সামনের  অর্থাৎ  পশ্চিম  দিকের  দেওয়ালে  স্থাপিত।

            মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালের  টেরাকোটা  অলংকারগুলির  মধ্যে  রাম-রাবণের  যুদ্ধ,  কৃষ্ণলীলা,  শ্রীচৈতন্যের  সপারিষদ  ও   ভক্তগণসহ  সংকীর্তন, মহিষাসুরমর্দিনী-লক্ষ্মী-সরস্বতী  মূর্তি,  স্ত্রীলোকের  চরকাকাটা,  স্ত্রীলোকের  কেশবিন্যাস,  বেহালা  বাদন,  মালা  জপরত  সাধু,  গড়গড়া  হাতে  ব্যক্তি,  বন্দুক  হাতে  সাহেব  ইত্যাদি  উল্লেখযোগ্য।  দক্ষিণ  ও  উত্তর  দিকে  পোড়ামাটির  মূর্তির  বদলে  ফুল  ও  লতাপাতার  'টেরাকোটা'র  ফলক  আছে।  দ্বিতলে  মূল  রত্নের  গায়েও  ফুল  ও  লতাপাতার  'টেরাকোটা'র  ফলক  সন্নিবেশিত।  ভাস্কর্যের  ক্ষেত্রে  'কল্পলতা'  বা  'মৃত্যুলতা'কে  দেওয়ালের  কোণে  বা  গায়ে  খাড়া  করে  লাগানোই  প্রচলিত  রীতি।  এখানেও  মন্দিরের  চার  কোণে  তা  নিবদ্ধ  এবং  তা  একতলার  কার্নিস  পর্যন্ত  উঠে  গেছে।  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে। 
              
            ১৯৩৭-৩৮  খ্রীষ্টাব্দে  তৎকালীন  বিশ্বাস  বংশের  কর্তা  পৃথ্বীশ  চন্দ্র  বিশ্বাসের  ইচ্ছায়  কুমোরটুলির  শিল্পী  তারাপদ  পাল,  যিনি  বিশ্বাসবাড়ির  দুর্গাপ্রতিমা  তৈরী  করতেন,  জীর্ণ  হয়ে  যাওয়া  মৃৎফলকগুলি  নতুন  করে  তৈরি  করে  দেওয়ালে  যথাস্থানে  স্থাপন  করেন।  এই  কাজের  জন্য  পাল  মহাশয়  তাঁর  আদি  নিবাস  নদিয়ার  কৃষ্ণনগর  থেকে  চার  জন  সহকারীকে  নিয়োগ  করেছিলেন। 

            মন্দিরের  গর্ভগৃহের  পশ্চিম  দিকের  কাঠের  দরজা  কারুকার্যযুক্ত।  যদিও  অযত্নে  ও  রঙের  প্রলেপে  তা  অনেকটাই  ম্লান ।  গর্ভগৃহে  গোপীনাথ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরের সামনে  ১৮৩৬  খ্রীষ্টাব্দে  নির্মিত  একটি  চারদিক  খোলা  খিলানযুক্ত  নাটমন্দির  বর্তমান। 



মন্দিরের সামনের বিন্যাস

মন্দিরের শিখরদেশ ( দক্ষিণ দিক থেকে তোলা )

শিখরের মূলরত্ন ( দক্ষিণ দিক থেকে তোলা )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১ক

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১খ 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১গ 
বসুদেব-দেবকী কর্তৃক চতুর্ভূজ কৃষ্ণ ( বিষ্ণু ) বন্দনা, নিদ্রিত  প্রহরীরা ও বসুদেব  কর্তৃক শিশুকৃষ্ণের পা যমুনার জলে ছোঁয়ানো। )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১ঘ
( বন্দুক হাতে সাহেব )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ১ঙ
(  তৃণবর্তাসুর বধ।)

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২ক 
যশোদা দধিমন্থনকালে  বালক  কৃষ্ণের  ননীপাত্রে  হস্তপ্রবেশ। )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২খ 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২গ 
( কৃষ্ণের নিকট যুধিষ্ঠির ও দুর্যোধন )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২ঘ 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ২ঙ
( কৃষ্ণের গোষ্ঠলীলা ) 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৩

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৩ক 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৩খ 
শ্রীচৈতন্যের সপারিষদ ও  ভক্তগণসহ সংকীর্তন )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৩গ
বকাসুর  বধ ) 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪ক 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪খ
(  কৃষ্ণের নিকট চতুর্ভুজ ব্রহ্মার নতিস্বীকার )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪গ 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪ঘ 
কৃষ্ণের মথুরাগমন দৃশ্য )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪ঙ

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪চ
কুবলয়পীড় ও কংস  বধ )

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪ছ 
কুবলয়পীড় বধ )



স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ১ 

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ২

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৩
( অঘাসুর বধ )

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৪

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৫
স্ত্রীলোকের চরকাকাটা )

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৬
স্ত্রীলোকের কেশবিন্যাস )

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৭

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৮
( মহিষাসুরমর্দিনী-লক্ষ্মী-সরস্বতী )

স্তম্ভের গায়ের 'টেরাকোটা'র কাজ - ৯
কৃষ্ণের দাবাগ্নি ভক্ষণ  )

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৩
বেহালা বাদিকা )

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৪

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৫

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৬
মালা জপরত সাধু )

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৭

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৮

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ৯

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১০

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১১
( ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ )

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১২

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৩

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৪

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৫

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৬

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৭

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৮

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ১৯

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২০

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২১

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২২

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২৩

কুলুঙ্গির মধ্যের 'টেরাকোটা'র কাজ- ২৪

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

ডান  দিকের খিলানের উপরের কাজ

মাঝের  খিলানের উপরের কাজ 

যুদ্ধরত রাম-লক্ষণ ও অন্যান্যেরা

যুদ্ধরত রাবণ ও অন্যান্যেরা 

মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 

কল্পলতা বা মৃত্যুলতা - ১

কল্পলতা বা মৃত্যুলতা - ২

কল্পলতা বা মৃত্যুলতা - ৩

কল্পলতা বা মৃত্যুলতা - ৪

বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ - ১

বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ - ২

বাঁকানো কার্নিসের নিচের  কাজ - ৩

দক্ষিণ দিকের দেওয়ালের বিন্যাস

মন্দিরের কাঠের দরজার কাজ - ১

মন্দিরের কাঠের দরজার কাজ - ২

গোপীনাথের সিংহাসনের উপরের অংশ 

শ্রীগোপীনাথ ও  শ্রীরাধিকা বিগ্রহ - ১

শ্রীগোপীনাথ ও  শ্রীরাধিকা বিগ্রহ - ২

            গোপীনাথ  মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকে  ঝিলের  ধারে  দুর্গাদালান,  একটি  আটকোণা  রাসমঞ্চ,  একটি  চারচালা  দোলমঞ্চ  ও  একটি  আটচালা  শিবমন্দির  অবস্থিত।  শিবমন্দিরটি  পশ্চিমমুখী।  



ঝিলের  ধারে  রাসমঞ্চ, দোলমঞ্চ, চণ্ডীমণ্ডপ  ও  শিবমন্দির 

শিবমন্দিরের সামনের দ্বারী 

রাসমঞ্চ 

দোলমঞ্চ
           
            দশঘরার  গ্রামে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  কর্ড  লাইনের  বর্ধমান  লোকাল  ধরুন।  নামুন  গুড়াপ  স্টেশনে।  স্টেশন  থেকে  তারকেশ্বর  গামী  বাসে  বা  দশঘরা  গামী  ট্রেকারে  উঠুন।  নামুন  দশঘরা  মোড়ে।  সেখান  থেকে  অন্য  একটি  গাড়িতে  বিশ্বাস  পাড়া  স্টপেজ।  সেখান  থেকে  হেঁটে  মন্দির  তারকেশ্বর  বা  চুঁচুড়া  থেকেও  দশঘরা  যেতে  পারেন।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১২.০১.২০১৭ 

 সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 
         )  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য :  প্রণব  রায় 
         )  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল  :  সুধীর  কুমার  মিত্র       
         ৪)  দেখা  হয়  নাই :  অমিয়কুমার  বন্দোপাধ্যায় 

    দশঘরার  অন্যান্য  মন্দির  সম্বন্ধে  জানতে  ক্লিক  করুন :
                বিশালাক্ষী  ও  অন্যান্য  মন্দির,  দশঘরা,  হুগলি 

                -----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। ইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
                       

Bishalakshi and other Temples, Dasghara, Hooghly

বিশালাক্ষী  ও  অন্যান্য  মন্দির,  দশঘরা,  হুগলি

                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-বর্ধমান  কর্ড  লাইনে  গুড়াপ  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  গুড়াপ  ১৮  তম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৫৭.৪  কিমি।  গুড়াপ-তারকেশ্বর  বাস  রাস্তায়  দশঘরা  একটি  গ্রাম।  এই  গ্রামের  বিশ্বাস  পাড়ায়  রাধাগোপীনাথের  পঞ্চরত্ন  শৈলীর  মন্দিরটি  স্থাপত্য  ও  'টেরাকোটা'-অঙ্গসজ্জার  জন্য  প্রসিদ্ধ।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  অন্যত্র  দিয়েছি।  মন্দিরটি  সম্বন্ধে  জানতে  ক্লিক  করুন : 

                    গোপীনাথ  মন্দির,  দশঘরা,  হুগলি 
  
            এইবার  চলুন  দশঘরার  অন্যান্য  মন্দিরগুলি  দেখে  নিই। 

            দশঘরার  বিশালাক্ষী  তলায়  বিশালাক্ষী  দেবীর  'জোড়বাংলা'  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত। দক্ষিণমুখী  এই  মন্দিরটির  অনেক  বার  সংস্কার  হয়েছে।  গর্ভগৃহে  শাড়ি  পরিহিতা  বিশালাক্ষী  দেবীর  মূর্তি  দণ্ডায়মান।  গলায়  নরমুণ্ডমালা।  দেবীর  মুখের  দন্তপংক্তি  বিকশিত,  স্মিতহাস্যযুক্ত।

বিশালাক্ষী  মাতা

বিশালাক্ষী  মাতার  মন্দির,  দশঘরা,  হুগলি 

বিশালাক্ষী  মাতা - ১ 

বিশালাক্ষী  মাতা - ২

            এই  মন্দিরের  পাশে  ইঁটের  তৈরি  শিবের  আটচালা  মন্দিরটি  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত।  
পশ্চিমমুখী  এই   মন্দিরের  সামনে  ত্রিখিলান  প্রবেশপথ।  মন্দিরে  আগে  যে  প্রতিষ্ঠালিপি  ছিল  তা  থেকে  জানা  যায়  যে  মন্দিরটি  ১৭৪৬  খ্রীষ্টাব্দে   নির্মিত।  মন্দিরটির  ত্রিখিলান  প্রবেশ  পথের  উপরের  তিনপ্রস্থে  'টেরাকোটা'র  প্রতীক  শিবমন্দির  ও  তার  মধ্যে  শিবলিঙ্গ,  ফুলকারি  নকশা,  কয়েকটি  ফুল  ও  দু-একটি  মূর্তি  আছে।


শিবমন্দির,  দশঘরা 

মন্দিরের  সামনের  ত্রিখিলান  বিন্যাস

এক  পাশের  খিলানের  উপরের  কাজ

মাঝের   খিলানের  উপরের  কাজ

মাঝের   খিলানের  উপরের  কাজ (বড় করে )

টেরাকোটার  ফুল

টেরাকোটার  নকশা - ১

টেরাকোটার  নকশা - ২

টেরাকোটার  নকশা - ৩

            এবার  চলুন  রায়  পাড়ায়।  পিচের  রাস্তার  যে  দিকে  বিশ্বাস  পাড়া  তার  বিপরীত  দিকে  রায়  পাড়া।  রায়  পরিবার  কর্তৃক  ঊনিশ  শতকের  শেষের  দিকে  প্রতিষ্ঠিত  শিবমন্দিরটি  স্থাপত্যের  দিক  থেকে  বৈশিষ্ট্যপূর্ণ।  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  পশ্চিমমুখী  মন্দিরটির  শিখরদেশ  গম্বুজাকার। সামনের  ঢাকা  বারান্দার  ছাদ  চালা  ধরনের।



রায়পাড়ার  শিবমন্দির

            এখানে  উল্লেখ্য,  দশঘরার  পুরাকীর্তির  ক্ষেত্রে  বিপিন  কৃষ্ণ  রায়ের  দান  অসামান্য।  তিনি  দশঘরায়  রাজভবনের  ফটকের  ন্যায়  বিরাট  ক্লক  টাওয়ার  সমন্বিত  ফটক  ও  বিরাট  বাড়ি,  ঠাকুরবাড়ি,  দূর্গাদালান,  মন্দির,  চিকিৎসালয়  প্রভৃতি  নির্মাণ  করে  তিনি  দশঘরা  গ্রামটিকে  বিশেষ  মর্যাদায়  ভূষিত  করেন।  তিনি  চারদিকে  রেলিং  দিয়ে  ঘেরা  বাগানের  মধ্যে  একটি  ঝিল  খনন  করে  তার  পাশে  মাননীয়  অতিথিদের  জন্য  একটি  দ্বিতল  ভবন  নির্মাণ  করেন  যা  'ব্রাডলি  বার্ট'  বাংলো  নামে  পরিচিত।  Mr. F. B. Bradly  Birt I. C. S. হুগলির  তদানীন্তন  Magistrate  Collector   ছিলেন।  তিনি  বিশ্রামার্থে  এই  বাংলোতে  প্রায়ই  এসে  বাস  করতেন। 

রায়বাড়ির  ফটক - ১

রায়বাড়ির  ফটক - ২

ফটকের  স্তম্ভের  কাজ - ১

ফটকের  স্তম্ভের  কাজ - ২

          দশঘরার  গ্রামে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  কর্ড  লাইনের  বর্ধমান  লোকাল  ধরুন।  নামুন  গুড়াপ  স্টেশনে।  স্টেশন  থেকে  তারকেশ্বর  গামী  বাসে  বা  দশঘরা  গামী  ট্রেকারে  উঠুন।  নামুন  দশঘরা  মোড়ে।  সেখান  থেকে  অন্য  একটি  গাড়িতে  বিশ্বাস  পাড়া  স্টপেজ।  সেখান  থেকে  হেঁটে  
বিশালাক্ষী  তলা।  তারকেশ্বর  বা  চুঁচুড়া  থেকেও  দশঘরা  যেতে  পারেন। 

            মন্দিরগুলি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১২.০১.২০১৭ 

 সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 
         )  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য :  প্রণব  রায় 
         )  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীর  কুমার  মিত্র       

 -----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।