শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫

Raghabeswar Shib Temple, Dignagar, Nadia

        রাঘবেশ্বর  শিব  মন্দির,  দিগনগর, নদিয়া                     

 শ্যামল  কুমার  ঘোষ


              শিয়ালদহ-কৃষ্ণনগর  রেলপথে  কৃষ্ণনগর  শেষ  স্টেশন।  কলকাতা  থেকে  রেলপথে  দূরত্ব  ৯৯  কি মি।  কৃষ্ণনগর  থেকে  ১১  কি. মি.  দূরে  ৩৪  নং  জাতীয়  সড়কের  পশ্চিম  দিকের  একটি  গ্রাম  দিগনগর।  দিগনগরের  পূর্বের  নাম  ছিল  দীর্ঘিকানগর। 

              নদিয়ারাজ-প্রতিষ্ঠাতা  ভবানন্দ  মজুমদারের  পৌত্র (  কৃষ্ণচন্দ্রের  বৃদ্ধপ্রপিতামহ )  রাজা  রাঘব  রায় ( রাজত্বকাল  ১৬৩২ - ১৬৮৩  খ্রিষ্টাব্দ )  মাটিয়ারী  থেকে  রেউই-এ  ( বর্তমান  কৃষ্ণনগর )  রাজধানী  স্থানান্তরিত  করার  পর,  কৃষ্ণনগর  থেকে   শান্তিপুর  পর্যন্ত  একটি  রাস্তা  তৈরি  করেন  এবং  জনসাধারণের  জলকষ্ট  নিবারণের  জন্য  ২০  হাজার  টাকা  ব্যয়ে  বর্তমান  দিগনগরে  এক  বিশাল  দিঘি  খনন  করেন।  দিঘি  বা  দীর্ঘিকা  থেকে  স্থানের  নাম  হয়  দীর্ঘিকানগর।  দিঘির  পূর্ব  দিকে  রাজা  রাঘব  একটি  সুন্দর  অট্টালিকা  ও  কাছাকাছি  দুটি  মন্দির  নির্মাণ  করেন।  একটি  মন্দির  বর্তমানে  বিধ্বস্ত।  অপরটি  এখনও  মোটামুটি  ভাল  অবস্থায়  আছে।  এটি  নদিয়া  জেলার  টেরাকোটা  মন্দিরগুলির  মধ্যে  অন্যতম।  মন্দিরে   ব্ল্যাক  বেসল্টের  তৈরী  'রাঘবেশ্বর'  শিবলিঙ্গ  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরটি  একটি  উঁচু  ভিত্তি  বেদির  উপর  স্থাপিত।  বাংলা  চারচালা  রীতিতে  তৈরী  মন্দিরটিতে  দক্ষিণ,  পূর্ব  ও  পশ্চিম  দিকে  মোট  তিনটি  দরজা।  দরজার  দুপাশে  দুটি  করে  ছোট  ছোট  থাম  এবং  একটি  করে  কারুকার্য  করা  খিলান। 


রাঘবেশ্বর  শিবমন্দির 

              মন্দিরের  পশ্চিমের  দেওয়ালে  বাঁকানো  কার্নিসের  নিচে  শ্লেট  পাথরে  উৎকীর্ণ  প্রতিষ্ঠা-লিপিটি  নিম্নরূপ : 


             
              শ্লোকটির  অর্থ  হল,  ১৫৯১  শকে  ( ১৬৬৯ খ্রীষ্টাব্দে )  পবিত্র  রত্নাকরসদৃশ,  দ্বিজশ্রেষ্ঠ,  ভূমিপালকের  প্রধান  ও  ধীরস্বভাব  শ্রীযুত  রাঘব  স্বচ্ছতরঙ্গমালা  ও  নির্মল  জলের  ধারা  সমুজ্জ্বল  দিঘি  খনন  করে  তার  তীরে  সুরম্য  মন্দিরে  শিবকে  প্রতিষ্ঠা  করেন।  এখানে  সোম = ১,  নব = ৯, ইষু ( বাণ )=৫  এবং  চন্দ্র = ১  ধরে  অঙ্কের  বামাগতি  নিয়মে  প্রতিষ্ঠাকাল  ১৫৯১  শকাব্দ ( ১৬৬৯  খ্রিষ্টাব্দ )।  
              
              এই  মন্দিরে  টেরাকোটা  অলংকরণগুলির  আধিক্য  পশ্চিম  দেওয়ালে  ( উল্লেখ  করা  যেতে  পারে  যে  মন্দিরের  পশ্চিম  দিকে  রাস্তা ), তারপর  দক্ষিণ  দেওয়ালে।  পূর্ব  দিকের  দেওয়ালে  কিছু  ফুল  ছাড়া  অন্য  টেরাকোটা  নেই  এবং  দেওয়ালের  খিলানটিও  বর্তমানে  ভগ্ন।  উত্তর  দিকের  দেওয়াল  পলস্তারা  আবৃত।  ভিত্তিবেদি-সংলগ্ন  দুটি  অনুভূমিক  সারির  নিচের  সারিতে  টেরাকোটায়  জমিদার  বা  রাজার  শিবিকারোহণে  যাত্রা  এবং  সামনে-পিছনে  ঘোড়সওয়ার  ও  লোকলস্কর,  অশ্বারোহী  শিকারী,  খোল-করতাল  সহযোগে  হরিনাম  সংকীর্তন,  হাতির  পিঠে  সওয়ার,  মিথুনদৃশ্য,  গড়গড়ায়  তামাক  সেবন  প্রভৃতি  সমাজচিত্র   উৎকীর্ণ  আছে । উপরের  সারিতে  একটানা  হংস পংক্তির  দৃশ্য।  পশ্চিম  দিকের  প্রবেশ  পথের  খিলানের  ওপরের  চারপাশে  আটচালা  প্রতীক   শিবালয়  ও  তারমধ্যে  শিবলিঙ্গ।  লক্ষণীয়  হল,  দক্ষিণদিকের  দেওয়ালে  দ্বারপথের  খিলানের  ওপরের   চারপাশে   আটচালা  প্রতীক  মন্দিরের  মধ্যে  মাত্র  দুটি  শিবলিঙ্গ  বাকি  সব  মুসলমান  যোদ্ধা।  প্রবেশ  পথের  উপরে  ও  দুপাশে  কুলঙ্গিতে  নিবদ্ধ  দুই  সারি  মূর্তির  মধ্যে  দশাবতার,  কৃষ্ণলীলার  বিভিন্ন  দৃশ্য  যথা  কৃষ্ণরাধিকা, বস্ত্রহরণ,  কালীয়দমন  প্রভৃতিই  প্রধান।  এছাড়া  রাম, বলরাম,  বৃষবাহন  শিব,  প্রহরী,  সৈনিক,  সন্ন্যাসী  প্রভৃতি  মূর্তির  সমারোহ।  একটি  ফলকে  ডানপায়ের  ওপর  বাঁ  পা  রেখে  দণ্ডায়মান  এক  নারীমূর্তি।  তার  পাশে  একটি  হরিণশিশু।  যার  পোশাকি  নাম  'শালভঞ্জিকা'।  এ  মন্দিরে  বিশেষত্ব  হল,  প্রচুর  উৎকৃষ্ট  নকশি  কাজ,  যা  নদিয়ার  খুব  কম  মন্দিরেই  দেখা  যায়।  মন্দিরের  পোড়ামাটির  মূর্তিগুলির  সুক্ষ্ম  কাজ  এই  শতকে  নির্মিত  ভাস্কর্যকলার  বৈশিষ্ট  বহন  করে।  আরেকটি  উল্লেখযোগ্য  হল,  প্রবেশপথের  নিচে  চৌকাঠ  হিসাবে  মোটা  ও  ভারী  কাল  পাথরের  ব্যবহার।  বর্তমানে  মন্দিরটি  পশ্চিমবঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  সংরক্ষিত। 

              দিগনগরে  রবীন্দ্রনাথের  দিদি  থাকতেন।  তাঁর  বড়  বোন  সৌদামিনীর  সঙ্গে  এখানকার  যাদবচন্দ্র  গঙ্গোপাধ্যায়ের  পুত্র  সারদাপ্রসাদের  বিবাহ  হয়।  রবীন্দ্রনাথ  এখানে  কয়েকবার  এসেছিলেন।

              দিগনগরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  লালগোলা  প্যাসেঞ্জার  বা  কৃষ্ণনগর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  কৃষ্ণনগরে।  স্টেশন  থেকে  বাসে  বা  রিকশায়  বাসস্ট্যাণ্ডে  পৌঁছান।  সেখান  থেকে  শান্তিপুরগামী  বাসে  পৌঁছে  যান  দিগনগরে।  স্টপেজ  থেকে  পশ্চিম  দিকে  কিছুটা  হাঁটলে  পৌঁছে  যাবেন  মন্দিরে।



রাঘবেশ্বর  শিবমন্দিরের  মাঝের  অংশ 

শিবমন্দিরের  শিখর  দেশ 

পশ্চিম  দিকের  দরজার  খিলানের  উপরের  কাজ

দক্ষিণ  দিকের  দরজা

দক্ষিণ  দিকের  দরজার  খিলানের  উপরের  কাজ 

রাঘবেশ্বর  শিবমন্দিরের  প্রতিষ্ঠাফলক

ভিত্তিবেদি-সংলগ্ন  টেরাকোটায়  সমাজচিত্র - ১

ভিত্তিবেদি-সংলগ্ন  টেরাকোটায়  সমাজচিত্র - ২

ভিত্তিবেদি-সংলগ্ন  টেরাকোটায়  সমাজচিত্র - ৩

ভিত্তিবেদি-সংলগ্ন  টেরাকোটায়  সমাজচিত্র - ৪

মন্দিরের  একদিকের  কোনাচ 

কোনাচের  টেরাকোটার  অলংকরণ 

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ১ 

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ২

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৩

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৪

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৫

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৬

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৭

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৮

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ৯

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ১০

কুলুঙ্গিতে  নিবদ্ধ  টেরাকোটার  অলংকরণ - ১১

রাঘবেশ্বর  শিবলিঙ্গ 


 সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
        ১.  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায় 
        ২.  নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি মোহিত  রায়  (তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )

            ---------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৫

Madangopal Temple, Birohi,Nadia

    

মদনগোপাল  মন্দির,  বিরহী,  নদিয়া   

                               শ্যামল  কুমার  ঘোষ                         

          শিয়ালদহ-রানাঘাট  রেলপথের  একটি  স্টেশন  মদনপুর।  মদনপুর  স্টেশনের  পূর্ব  দিকে  ৬  কি. মি.  দূরের  একটি  গ্রাম  বিরহী।  এই  বিরহী  গ্রামে  মজা  নদী  যমুনার  তীরে  মদনগোপালের  একটি  দালান  মন্দির  আছে। মন্দিরের  মদনগোপালের  বিগ্রহ  বেশ  প্রাচীন।  বহুকাল  আগে  এক  অজ্ঞাতনামা  বৈষ্ণব  এই  গ্রামের  বাঁধানো  একটি  বটগাছের  তলায়   মদনগোপালের  আরাধনা  করতেন। উক্ত  ভক্ত  সাধক  দেহত্যাগ  করলে  তাঁর  ভক্তগণ  গ্রামে  মদনগোপালের  বিগ্রহ  স্থাপন  করেন।  পরে,  কোন  এক  সময়ে  নদিয়ারাজ  কৃষ্ণচন্দ্রের  পৃষ্টপোষকতায়  মদনগোপালের  এই দালান  মন্দিরটি  নির্মিত  হয়।  বহুবার  সংস্কার  হওয়া  এই  মন্দিরটি   আড়াই  শ  বছরেরও  বেশি  পুরানো।  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  মন্দিরের  গর্ভগৃহ  ও  সংলগ্ন  দালানের  মেঝে  শ্বেতপাথর  দিয়ে  তৈরী।  মন্দিরে  একটি  কাঠের  সিংহাসনে  কাঁঠালকাঠের  বংশীধারী  মদনগোপাল  ও  নিমকাঠের  রাধিকার  মূর্তি  আছে।  এছাড়া  বলরাম, রেবতী  ও  জগন্নাথের  তিনটি  কাঠের  তৈরী  মূর্তি  ও  একটি  ছোট  বিষ্ণু  মূর্তি  আছে।  মন্দিরের   কাঠের  দরজায়  সুন্দর  মূর্তি  ও  নকশা  রঙের  প্রলেপে  এখন  অনেকটাই  ম্লান।  সম্প্রতি মন্দিরের  সামনে  একটি  নাটমন্দির  নির্মিত  হয়েছে। মহারাজ  কৃষ্ণচন্দ্র  মদনগোপালের  সেবার  জন্য  ১৫০  বিঘা  লাখেরাজ  জমি  দান  করেছিলেন।  সে  জমির  খুব  সামান্য  অংশই  এখন   মন্দির  কর্তৃপক্ষের  হাতে  আছে। 

          নদিয়া  জেলার  রাজা  কৃষ্ণচন্দ্রের  রাজ্যের  মধ্যে  বারটি  প্রসিদ্ধ  কৃষ্ণ  বিগ্রহ  আছে।  বিরহীর  মদনগোপাল  ও  বলরাম   ওই  বারটি  বিগ্রহের  দুটি  বিগ্রহ।  অন্যান্ন  বিগ্রহগুলি  হল,  অগ্রদ্বীপের  গোপীনাথ,  তেহট্টের  কৃষ্ণরায়  প্রভৃতি।  বারোদোলের  সময়  এই  বিগ্রহগুলির  সঙ্গে  মদনগোপাল  ও  বলরাম  কৃষ্ণনগর  রাজবাড়িতে  যান  এবং  একমাস  পরে  পুনরায়  বিরহীতে  ফিরে  আসেন। ( আমার  লেখা  বারোদোল  মেলা  দেখুন। )

            বারোদোল  মেলা,  কৃষ্ণনগর,  নদিয়া     

          মন্দিরে  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  ভাইফোঁটার  দিন  মদনগোপালের  বিশেষ  পূজা  হয়  এবং  মন্দির-প্রাঙ্গণে  বিরাট  মেলা  বসে।  মেলাটি  চার  শ  বছরেরও  বেশি  প্রাচীন  বলে  দাবি  করা  হয়।   এছাড়া  দোল  ও  জন্মাষ্টমী  উপলক্ষে  বিশেষ  উৎসব  পালন  করা  হয়।   গ্রামে  মন্দিরের  একটু  দূরে  একটি  দোলমঞ্চ  আছে।  দোলের  সময়  বিগ্রহ  ওই  মঞ্চে  রেখে  দোল   উৎসব  পালন  করা  হয়।  আগে  ভাইফোঁটার  দিন  মেয়েরা  জাতিধর্মনির্বিশেষে   মদনগোপালের   উদ্দেশে   মন্দিরের   দেওয়ালে  ফোঁটা  দিতেন।  কিন্তু  এখন  সে  রেওয়াজ  অনেকটা  কমে গেছে। দেবতাকে  ভাই  হিসাবে  আরাধনা  করা  বা  ভাইফোঁটা  উপলক্ষে  মেলা  আর  কোথাও  দেখা  যায়  না। স্থানীয়  লোকেদের  বিশ্বাস  মদনগোপালের  আশীর্বাদেই   তাঁদের  ফসল  ভাল  হয়।  তাই  সব  ধর্মের  গ্রামবাসীরা  গাছের  প্রথম  ফল  বা  উৎপন্ন  ফসল  মদনগোপালকে  প্রথমে  নিবেদন  করেন।


          মদনগোপাল  প্রথমে  একক  ছিলেন।  কথিত  আছে,  মন্দিরের  পুজারী  এক  রাতে   স্বপ্নে  দেখলেন  মদনগোপাল  তাঁকে   যেন  বলছেন,  ' বহুদিন  বৃন্দাবন  ছেড়ে  এসেছি,  রাধিকা  বিরহে  দিন  কাটছে।  যমুনা  নদীতে  একখণ্ড  নিমকাঠ  ভেসে  আসছে, সেই  কাঠে  রাধিকা  মূর্তি  তৈরী  করে  আমার  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠা  কর।'  কয়েক  দিনের  মধ্যে   সত্য  সত্যই  যমুনা  নদীতে  একখণ্ড  নিমকাঠ  ভেসে  এল।  তখন  নদিয়ারাজ  কৃষ্ণচন্দ্রের  রাজত্বকাল।  কৃষ্ণচন্দ্রের  কানে  এই   সংবাদ  পৌঁছতেই  তিনি  শিল্পী  ডেকে  ঐ  কাঠ  দিয়ে  রাধিকা  মূর্তি  তৈরী  করিয়ে  মন্দিরে  মদনগোপালের  পাশে  প্রতিষ্ঠা  করলেন।  কৃষ্ণচন্দ্র  দেবসেবার  জন্য  নদীর  অপর  পারের  একটি  গ্রাম  দেবোত্তর  করে  দিলেন।  ভোগের  চাল  ঐ  গ্রাম  থেকে  আসত  বলে  গ্রামের  নাম  হল  ভোগের  পাড়া।   মদনগোপাল  এই  গ্রামে  এসে  প্রথমে  রাধিকার  বিরহে  কাতর  ছিলেন  বলে  গ্রামের  নাম  হয়  বিরহী।  আগে  মন্দিরের  কাছে  অন্যত্র  বীর  হনুমানের  ও  শিবের  দুটি  পাথর  ছিল।  বর্তমানে  পাথরদুটি  মন্দিরের  সামনে  রাখা  হয়েছে।  স্থানীয়  পল্লীবাসীদের  নিয়ে  গঠিত  ' শ্রীশ্রী  মদনগোপাল  মন্দির  পরিচালন  কমিটি '  মন্দিরটি  দেখাশোনার  কাজে  নিয়োজিত।


          বিরহীর  মদনগোপাল  মন্দিরে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  সকালের  লালগোলা  প্যাসেঞ্জার, রানাঘাট, শান্তিপুর, গেদে, বা  কৃষ্ণনগর  লোকালে  উঠুন।  নামুন  মদনপুর  স্টেশনে।  রেলগেটের  পূর্বদিকের  রাস্তা  ধরে  একটু  এগিয়ে  অটো  রিকশা  বা  ট্রেকারে  উঠে  পৌঁছে  যান  মন্দিরে।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  ধরেও  যেতে  পারেন।  মনে  রাখবেন,  দুপুরে  মন্দির  বন্ধ  থাকে।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ১২.১০.২০১৫


মদনগোপাল  মন্দির

মদনগোপাল  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ

মদনগোপাল  ও  রাধিকা  বিগ্রহ

বলরাম, রেবতী  ও  জগন্নাথ  বিগ্রহ

মন্দিরের  কাঠের  দরজার  নকশা 

নবনির্মিত  নাটমন্দির 

দোলমঞ্চ

কৃষ্ণনগরের বারোদোল মেলায় বলরাম ও রেবতী বিগ্রহ 

কৃষ্ণনগরের বারোদোল মেলায় মদনগোপাল, রাধিকা ও জগন্নাথ বিগ্রহ

 
সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
        ১. পশ্চিমবঙ্গের পূজা-পার্বণ  ও  মেলা ( ৩ য়  খণ্ড  ) :  অশোক  মিত্র  সম্পাদিত 
        ২.  নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি মোহিত  রায়  (তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )   

                ---------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা
 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Kuliar Pat, Kulia, Gayeshpur, Kalyani, Nadia

   
কুলিয়ার  পাট, গয়েশপুর, কল্যাণী, নদিয়া 
     
শ্যামল  কুমার  ঘোষ


             কুলিয়া  পাটে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে   সকালের  লালগোলা প্যাসেঞ্জাররানাঘাট, শান্তিপুরগেদেকৃষ্ণনগর  বা  কল্যাণী  সীমান্ত  লোকালে  উঠুন   নামুন  কল্যাণী  স্টেশনে  স্টেশনের  পূর্ব  দিক  থেকে  রিকশা  পাবেন   নং  প্ল্যাটফর্মের  স্টেশন  ভবনের  পশিম  দিক  থেকে  কাষ্ঠডাঙ্গা  গামী   ম্যাজিক  গাড়িও  পাবেন  দুপুর  ১২ টা  ৩০ মিনিট  থেকে  বিকাল  ৪ টা  পর্যন্ত   মন্দির  বন্ধ  থাকে  


কুলিয়া  পাটের  মন্দির 

মন্দিরের  শিখর 

গর্ভগৃহের  সামনের  কাজ 

দেবানন্দ  গোস্বামী  ও  চাপাল  গোপালের  সমাধি  মন্দির 

বাঞ্ছাকল্পতরু 

কুলিয়া  বিলের  ঘাট 

গৌর-নিতাই  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ 

গৌর-নিতাই  বিগ্রহ 

কৃষ্ণ  ও  রাধিকা  বিগ্রহ 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৫.০৯.২০১৫

 

----------------------------------------------------------

  অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।