শুক্রবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Radhagobinda and Radharaman Temple, Gobindanagar, Paschim Medinipur


শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ  ও  রাধারমণ  জিউর   মন্দির,  গোবিন্দনগর, পশ্চিম  মেদিনীপুর 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

                        পশ্চিম  মেদিনীপুর  জেলার  দাসপুর-২  ব্লকের  অধীন  একটি  গ্রাম  গোবিন্দনগর।  হাওড়া-মেদিনীপুর  রেলপথে  পাঁশকুড়া  স্টেশন  থেকে  ঘাটাল  গামী  বাসে  গৌরাতে  নেমে  এই  গ্রামে  যাওয়া  যায়।  গ্রামে  স্থানীয়  গোস্বামী   পরিবারের  প্রতিষ্ঠিত  শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ  ও  রাধারমণ  জিউর  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।

            মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী,   ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট  ও  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  দুটি  দরজা,  একটি  পূর্ব  দিকে,  অপরটি  দক্ষিণ  দিকে।  সামনের  দেওয়ালের  তিনটি  খিলানের  উপরে,  দুই  প্রান্তের  ও  বাঁকানো  কার্নিসের  নিচের  দুই  সারি  করে  কুলুঙ্গির  মধ্যে  'টেরাকোটা'র  ফলক  আছে।  তিনটি  খিলানের  উপরে  পোড়ামাটির  ফলকে  উৎকীর্ণ  সপরিবারে দুর্গা,  মারীচ  বধ,  সীতাহরণ,  লঙ্কাযুদ্ধ  ও  কৃষ্ণের  বস্ত্রহরণ  প্রভৃতি  খুবই  সুন্দর।  কুলুঙ্গির  মধ্যে  দশাবতার  ও  অন্যান্য  মূর্তি  আছে।  ভিত্তিবেদি  সংলগ্ন  স্তম্ভগুলির  উপরের  সারিতে  আছে  কৃষ্ণলীলা  ও  নিচের  সারিতে  আছে  সামাজিক  দৃশ্য।  তবে  অনেক  'টেরাকোটা'  ফলক  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  মন্দিরের  গর্ভগৃহের  দরজার  পাল্লায়  তক্ষন-ভাস্কর্য  খোদিত  আছে।  যদিও  সেগুলিও  অপটু  হাতে  রং  করার  ফলে  এখন  অনেকটাই  ম্লান ।  মন্দিরটি  ১৭৮১  খ্রিস্টাব্দে  নির্মিত।  দাসপুরের  সাফলরামচন্দ্র  মিস্ত্রী  মন্দিরটি  নির্মাণ  করেন।  গর্ভগৃহে  রাধারমণ,  গোবিন্দ  ও  দুটি  রাধারানী  মূর্তি  নিত্য  পূজিত।  মন্দিরটি  পশ্চিম  বঙ্গ  সরকার  কর্তৃক  সংরক্ষিত।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৬.০১.২০১৯ 


জমিদারের অন্যত্র গমন 

রাধাগোবিন্দ ও রাধারমণ মন্দির

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 
( উপরে, 
সপরিবারে দুর্গা  ও  নিচে  মারীচ  বধ )

সপরিবারে দুর্গা 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

উপরে, লক্ষণের শক্তিশেল ও সীতার  কুটিরে  রাবণের  আগমন
নিচে, রামরাবণের যুদ্ধ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

বস্ত্রহরণ দৃশ্য 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন স্তম্ভের কাজ - ১

বড় করে 

ভিত্তিবেদি সংলগ্ন স্তম্ভের কাজ - ২

পুতনা বধ ও ভালুক নাচ 

জমিদারের অন্যত্র গমন

বাঁকানো কার্নিসের নিচের কাজ 

গর্ভগৃহের দরজার কাজ - ১

গর্ভগৃহের দরজার কাজ - ২

বাঁ দিক থেকে যথাক্রমে রাধারমণ, রাধারানি, গোবিন্দ ও রাধারানি 


 সহায়ক  গ্রন্থ : 
                 ১)  পুরাকীর্তি  সমীক্ষা :  মেদিনীপুর  ~  তারাপদ  সাঁতরা
                 ২)  ঘাটালের  কথা :  পঞ্চানন  রায়  ও  প্রণব  রায়

                         ---------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

1 টি মন্তব্য:

  1. চিন্ময় দাশ, মেদিনীপুর।১০ জানুয়ারি, ২০২৩ এ ৬:৩৭ PM

    দেখেছি মন্দিরটি। কংসাবতীর একটি শাখা বয়ে গিয়েছে পাশ দিয়ে। যেমন অলঙ্কৃত, তেমনই সযত্ন রক্ষিত মন্দিরটি। প্রচুর ভক্ত সমাগম হয় এখানে।

    উত্তরমুছুন