সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

Radhabinod Temple, Purba Gopalpur, Panskura, Purba Medinipur


রাধাবিনোদ  মন্দির,  পূর্ব  গোপালপুর, পূর্ব  মেদিনীপুর 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            পূর্ব  মেদিনীপুর  জেলার  পাঁশকুড়া  ব্লকের  অধীন  একটি  গ্রাম  পূর্ব  গোপালপুর।  হাওড়া-মেদিনীপুর  রেলপথে  পাঁশকুড়া   স্টেশন  থেকে  ঘাটাল  গামী  বাসে  পিতপুর।  সেখান  থেকে   হেঁটে  এই  গ্রামে  যাওয়া  যায়।  গ্রামে  শ্রীশ্রী রাধাবিনোদ  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।  মন্দিরের  সেবায়েত  অধিকারী  পরিবার।  কৃষ্ণের  সেবায়েত  বলে  এঁরা  নিজেদের  গোঁসাই  বা গোস্বামী  বলেও  পরিচয়  দেন।  হুগলি  জেলার  জাহানাবাদ  থেকে  এঁরা  এখানে  এসেছিলেন।  বৈষ্ণব  ধর্মানুরাগী  রাধামাধব  অধিকারী  শ্রীপাট  গোপীবল্লভপুর  থেকে  বৈষ্ণব  ধর্মে  দীক্ষা  নেন।  তাঁর  অনেক  শিষ্য  ছিল।  তাঁদেরই  একজন  গুরুর  জন্য  এই  মন্দিরটি  নির্মাণ  করে  দেন।      

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  মন্দিরটি  দক্ষিণমুখী,   ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট  ও  পঞ্চরত্ন  শৈলীর।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  গর্ভগৃহে   প্রবেশের  দুটি  দরজা।  একটি  দক্ষিণ  দিকে,  অপরটি  পূর্ব  দিকে।  সামনের  দেওয়ালের  তিনটি  খিলানের  উপরে  ও  দুই  প্রান্তের  এক  সারি  করে  কুলুঙ্গির  মধ্যে  'টেরাকোটা'র  ফলক  আছে।  দুটি  পূর্ণ  স্তম্ভের  উপরের  দিকেও  কিছু  টেরাকোটা  ফলক  আছে।  নিচের  দিকের  ফলকগুলি  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  'টেরাকোটা'র  বিষয় : রামায়ণের  কাহিনী,  কৃষ্ণলীলা,  দশাবতার,  মহিষমর্দিনী  ও  গনেশ  মূর্তি  প্রভৃতি।  মন্দিরে  কয়েকটি  মিথুন  ফলক  আছে।  তার  মধ্যে  একটি  পশু-মৈথুন  ফলক  যা  বাংলার  মন্দিরে  বিরল।  প্রণব  রায়ের  লেখা  "মেদিনীপুর  জেলার  প্রত্ন-সম্পদ"  গ্রন্থ  থেকে  জানা  যায়  যে  আগে  মন্দিরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  ছিল।  তা  থেকে  জানা  যায়,  মন্দিরের  প্রতিষ্ঠাকাল :  ১১৮১  বঙ্গাব্দ ( ১৭৭৪  খ্রিস্টাব্দ )।    

            গর্ভগৃহে  রাধাবিনোদ,  রাধিকা,  বালগোপাল  ও  গিরিধারী  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত।

            গ্রামের  পশ্চিমপ্রান্তে  রাধাবিনোদের  সতেরো  চূড়ার  একটি  রাসমঞ্চ  আছে।  চূড়াগুলি  'বিহারী  রসুন'  রীতির।  তবে  রাসমঞ্চটি  এখন  ভগ্ন। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৮.০২.২০১৯


গণেশ মূর্তি

রাধাবিনোদ মন্দির, পূর্ব গোপালপুর 

মন্দিরের শিখর

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ

মারিচ  বধ

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

সুর্পনখার নাসিকা ছেদন ও জটায়ুর রাবণের রথ আক্রমণ

রামের বনবাস গমন

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

গোপিনীদের দধিভান্ডবহন ও কৃষ্ণকে প্রদান

গণেশ মূর্তি

মহিষাসুরমর্দিনী

শ্রীকৃষ্ণ কর্তৃক গোপিনীদের বস্ত্রহরণ

ডান প্রান্তের কুলুঙ্গির কাজ

শ্রীকৃষ্ণ

ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ 

পাখি হাতে পথিক 

মিথুন - ১ 

তামাক সেবন

মিথুন - ২

বাঁ প্রান্তের কুলুঙ্গির কাজ 

নৃসিংহ অবতার  

বরাহ অবতার 

মৎস্যাবতার 

মল্লযুদ্ধ 

তামাক সেবন ও মালাজপরত সাধু  

স্তম্ভের কাজ ( পশু-মৈথুন ) 

স্তম্ভের কাজ ( কৃষ্ণ লীলা )

রাধাবিনোদ, রাধিকা ও বালগোপাল বিগ্রহ



রাধাবিনোদের রাসমঞ্চ 

                   ----------------------------------


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন