সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৬

Dashabhuja Temple, Dashabhujatala, Barasat, Chandannagar, Hooghly Distrtct

শ্রীশ্রী দশভুজা  মন্দির,  দশভুজাতলা,  বারাসাত,  চন্দননগর,  হুগলি 

                                                       শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  চন্দননগর  ত্রয়োদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩২.৬  কিমি।  চন্দননগরের  বারাসাতের  দশভুজাতলায়  দেবী  দশভুজা  দুর্গার  নামানুসারে  দশভুজা  মন্দির  অবস্থিত।  মন্দিরটি  চন্দননগরে  অবস্থিত  হলেও  চন্দননগরের  আগের  স্টেশন  মানকুণ্ড  স্টেশন  থেকে  কাছে। 

            উচ্চ  ভিত্তিবেদির  উপর  প্রতিষ্ঠিত,  ত্রিখিলানযুক্ত  এই  আটচালা  মন্দিরের  সম্মুখভাগ  একদা  টেরাকোটা  অলংকরণে  অলংকৃত  ছিল।  কিন্তু  লাল  রঙের  প্রলেপে  সেই  টেরাকোটা  সৌন্দর্যের  সামান্যই  আজ  অবশিষ্ট  আছে।

            আটচালা  শৈলীর  মন্দিরের  বৈশিষ্ট  চালের  কমনীয়  বক্রাকৃতি,  দৈর্ঘ্য-প্রস্থ  ও  উচ্চতার  মধ্যে  সামঞ্জস্য  বিধান  এবং  প্রথম  চারচালার  সঙ্গে  সমতা  রক্ষা  করে  দ্বিতীয়  চারচালার  গঠন।  এই  তিনটি  স্থাপত্য  বৈশিষ্ট  দশভুজা  মন্দিরে  বিদ্যমান।  কিন্তু  মন্দিরের  সামনে,  প্রায়  মন্দির  সংলগ্ন  করে  একটি  নাটমন্দির  নির্মাণ  করায়  মন্দিরের  সামনের  দিকটা  ঢাকা  পরে  গেছে।  ফলে  মন্দিরটির  সৌন্দর্য  অনেকটাই  নষ্ট  হয়েছে। 

            মন্দিরের  উচ্চতা  প্রায়  ষাট  ফুট।  পশ্চিমমুখী।  তবে  দক্ষিণ  দিকেও  একটি  প্রবেশ  পথ  আছে।  কোন  প্রতিষ্ঠাফলক  না  থাকায়  মন্দির  নির্মাণের  তারিখ  সঠিক  ভাবে  বলা  যায়  না।  সম্ভবত  অষ্টাদশ  শতকের  শেষের  দিকে  মন্দিরটি  নির্মিত।
       
            মন্দিরে  দশভুজা  দুর্গার  অষ্টধাতু  নির্মিত  মূর্তি  নিত্য  পূজিত।  খুবই  ছোট  মূর্তি।  মন্দিরে  রাধাকৃষ্ণের  বিগ্রহও  দেবী  দশভূজার  সঙ্গে  নিত্য  পূজিত  হন।  মন্দির  প্রাঙ্গণে  একটি  দুর্গা  দালান  আছে। 

            মন্দিরের  চূড়ায়  একটি গাছ  জন্মেছে।  গাছটি  মন্দিবের  কিছুটা  ক্ষতি  করেছে।  এখনই  ব্যবস্থা  না  নিলে  ভবিষ্যতে মন্দিরটির  আরো  ক্ষতি  হওয়ার  আশঙ্খা  থাকছে।

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৪.১০.২০১৬ 

নাটমন্দিরসহ  শ্রীশ্রী দশভুজা  মন্দির 

শ্রীশ্রী দশভুজা  মন্দির

মন্দিরের  সামনে  ত্রিখিলান  বিন্যাস 

খিলানের  উপরের  টেরাকোটা  কাজ,  রামরাবনের  যুদ্ধ 

শ্রীশ্রী  দশভুজা  মাতা  বিগ্রহ 

রাধাকৃষ্ণ  বিগ্রহ

         সহায়ক  গ্রন্থ :
                     ১)  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল : সুধীর  কুমার  মিত্র  
  

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৬

Nandadulal Temple, Chandannagar, Hooghly District

     
 শ্রীশ্রী নন্দদুলাল  মন্দির,  চন্দননগর,  হুগলি 

                     শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  চন্দননগর  ত্রয়োদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৩২.৬  কিমি।  চন্দননগরের  লালবাগান  অঞ্চলে  শ্রীদুর্গা  ছবিঘরের  কাছে  নন্দদুলাল  মন্দির  বিখ্যাত।  মন্দিরটি  ১১৪৬  বঙ্গাব্দে ( ১৭৩৯  খ্রিস্টাব্দে )  চন্দননগরের  তদানীন্তন  ফরাসি  সরকারের  দেওয়ান  ইন্দ্রনারায়ণ  চৌধুরী  প্রতিষ্ঠা  করেন

            খ্রিস্টীয়  সপ্তদশ  শতাব্দীর  শেষভাগে  তিনি  ও  তাঁর  জ্যেষ্ঠ  ভ্রাতা  রাজারাম  যশোহরের  সর্বরাজপুর  গ্রাম  থেকে  তাঁদের  বিধবা  মায়ের  সঙ্গে  দশ/ বার  বছর  বয়সে  চন্দননগরে  আসেন। লেখাপড়া  শিখে  ফরাসি  কম্পানির  অধীনে  হিসাবরক্ষকের  চাকরি  নেন।  পরে  ব্যবসা  শুরু  করেন।  ফরাসিদের  তিনি  খাদ্য  ও  বস্ত্র  সরবরাহ  করে  বিপুল  সম্পদের  অধিকারী  হন।  ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে  তিনি  মারা  যান।  তিনি  কৃষ্ণনগরের  রাজা  কৃষ্ণচন্দ্রের  বন্ধু  ছিলেন  এবং  প্রয়োজনে  কৃষ্ণচন্দ্রকে  টাকা ধার  দিতেন।  তাঁরই  সুপারিশে  কৃষ্ণচন্দ্র  রায়  গুনাকর  ভারতচন্দ্রকে  তাঁর  সভায়  স্থান  দেন।  ১৭৫৬  খ্রিস্টাব্দে  ইংল্যাণ্ড  ও  ফ্রান্সের  মধ্যে  সপ্তবর্ষের  যুদ্ধ  শুরু  হলে  ক্লাইভ  জলপথে  ও  স্থলপথে  চন্দননগর  আক্রমণ  করেন  এবং  ধ্বংস  করেন।  চন্দননগর  অবরোধের  সময়  ইংরেজ  সৈন্য  ইন্দ্রনারায়ণের  বাসভবন  লুণ্ঠন  করে  তখনকার  দিনে ৬৫  লক্ষ  টাকা  মূল্যের  নগদ  সোনার  টাকা  ও  অলংকার  নিয়ে  যায়।  ক্লাইভের  গোলায়  ইন্দ্রনারায়ণের  প্রাসাদসম  বাসভবন  চূর্ণ  হয়।  ইন্দ্রনারায়ণের  বাসভবন  নন্দদুলাল  মন্দিরের  কিছুটা  উত্তরে  ছিল।  একটি  গোলা  ছিটকে  নন্দদুলাল  মন্দিরের  পিছনে  এসে  লাগে।  মন্দিরের  নিচে  একটি  গুপ্তকক্ষ  আছে।  কথিত  আছে,  ওখানেও  ধন-দৌলত  মজুত  ছিল।  ক্লাইভের  সৈন্য  তাও  লুট  করে।  নন্দদুলাল  বিগ্রহের  ভেতর  সোনা  লুকানো  আছে  ভেবে  বিগ্রহ  ভেঙে  ফেলে  মন্দিরের  পাশের  পুকুরে  ফেলে  দেয়।  ( অন্য  মতে,  বর্গীর  হাঙ্গামার  সময়  বিগ্রহটি  ভাঙে। )  আসল  মূর্তিটির  পায়ের  ভাঙা  অংশ  চন্দননগরের  ফ্রেঞ্চ  ইনস্টিটিউট  বা  চন্দননগর  মিউজিয়াম -এ  রক্ষিত  আছে।  

            নন্দদুলালের  মন্দিরটি  মাঝারি  উঁচু  ভিত্তি  বেদির  উপর  স্থাপিত  সমতল  ছাদবিশিষ্ট,  দক্ষিণমুখী  দালান।  দৈর্ঘ্যে  ৫১  ফুট  ৯ ইঞ্চি  এবং  প্রস্থে  ১১  ফুট।  মন্দিরের  সামনে  এক  বাংলা  ধরনের  জগমোহন,  দৈর্ঘ্যে  মন্দিরের  দৈর্ঘ্যের  সমান,  প্রস্থে  ১৪  ফুট  ২  ইঞ্চি।  একবাংলার  সংলগ্ন  দালান  থাকায়  মন্দিরের  স্থায়িত্ব  বৃদ্ধি  পেয়েছে।  একবাংলাটির ( দোচালা )  উচ্চতা  মূল  মন্দিরের  চেয়ে  বেশি।  একবাংলাটি  পাঁচ  খিলান  বিশিষ্ট,  দুটি  খিলান  ভরাটকরা।  একবাংলা  জগমোহন  দালানরীতির  গর্ভগৃহকে  এমন  ভাবে  ঢেকে  রেখেছে  যে  সামনে  দাঁড়ালে  মন্দিরটি  এক  বাংলা-ই  মনে  হয়।  মন্দিরটির  সামনে  ও  পশ্চিমদিকের  দেওয়ালে  পোড়ামাটির  কয়েকটি  ছোটো  ছোটো  ফুল  ছাড়া  অন্য  কোনো  কাজ  নেই।  মন্দিরে  একটি  পোড়ামাটির  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  পরে  আরও  একটি  শ্বেতপাথরের  ফলক  লাগানো  হয়েছে।  সুধীর  কুমার  মিত্র  তাঁর  'হুগলি  জেলার  দেব  দেউল'  গ্রন্থে  লিখেছেন  যে  আগে  এই  মন্দির  পোড়ামাটির  অলংকরণে  অলংকৃত  ছিল।  সংস্কারের  সময়  বহু  লোনা  লাগা  ফলক  খসিয়ে  ফেলা  হয়েছে।  কিন্তু  সংস্কারের  আগের  মন্দিরের  যে  ছবিটি  আমি  তপন  কুমার  চ্যাটার্জীর  কাছ  থেকে  পেয়েছি  তাতে  দেখছি  সংস্কারের  আগের  ও  পরের  টেরাকোটা  অলংকরণের  কোনো  পার্থক্য  নেই।  আগে  মন্দিরে  ওঠার  সিঁড়ি  এক  পাশে  ছিল।  এখন  মাঝখানে  হয়েছে।  

            মন্দিরে  শ্রীশ্রী  নন্দদুলাল  জিউর  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত।  মন্দির  সংস্কারের  পরেও  বহুদিন  মন্দিরে  কোন  বিগ্রহ  ছিল  না।  মন্দিরে  পুরানো  বিগ্রহের  ছবিকেই পূজা  করা  হত।  পরে  ২০০৫  খ্রিস্টাব্দে  ( ১০ ই  ভাদ্র,  ১৪১২,  জন্মাষ্টমী )  শঙ্কর  সেবক  বড়ালের  স্মৃতিতে  তাঁর  স্ত্রী  দুর্গারানী  বড়াল  ও  তাঁর  পুত্রকন্যাগণ  প্রদত্ত  নন্দদুলালের  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়।  পুরানো  বিগ্রহের  ছবিটি  বর্তমান  বিগ্রহের  পাশে  রাখা  আছে।  মন্দিরটির  সম্বন্ধে  তথ্য  দিয়ে  সহায়তা  করেছেন  নন্দদুলাল  মন্দির  কমিটির  বর্তমান  ( ২০১৬)  সভাপতি  তপনকুমার  চ্যাটার্জী।  তাঁকে  অসংখ্য  ধন্যবাদ।  )

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২৬.১০.২০১৬ 


নন্দদুলালের  বর্তমান মন্দির 

সংস্কারের  আগের  মন্দির  (  তপন  কুমার  চ্যাটার্জী' র  কাছ  থেকে  প্রাপ্ত )

নন্দদুলাল  মন্দির ( পশ্চিম  দিক  থেকে  তোলা )

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস

গর্ভগৃহের  সামনের  বিন্যাস

টেরাকোটার  ফুল  ও  প্রতিষ্ঠাফলক

প্রতিষ্ঠাফলক 

শ্রীশ্রী নন্দদুলাল  বিগ্রহ

উপরে  নন্দদুলালের  বিছানা, নিচে  গুপ্তঘরের  দরজা 

গুপ্তঘরের  দরজা

            উপরোক্ত  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  পূর্বরেলের  মেন  লাইনের  লোকালে  উঠুন।  নামুন  চন্দননগর  স্টেশনে।  স্টেশনের  পূর্ব  দিক  থেকে  অটো   বা  টোটোতে  উঠে  পৌঁছে  যান  মন্দিরে।  জি. টি.  রোড  দিয়ে  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

 সহায়ক  গ্রন্থ : 
                 ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি : নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


Annapurna Temple, Babubazar, Telenipara, Bhadreswar, Hooghly


শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা  মন্দির, বাবুবাজার, তেলেনিপাড়া,  ভদ্রেশ্বর,  হুগলি 

               শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

             হাওড়া-ব্যাণ্ডেল  রেলপথে  ভদ্রেশ্বর  একাদশতম  রেলস্টেশন।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ২৮  কিমি।  ভদ্রেশ্বরের  তেলেনিপাড়ার বাবুবাজারের  ফেরিঘাট  স্ট্রীটে  অন্নপূর্ণা  মন্দির  অবস্থিত।  মন্দিরটি  স্থানীয়  জমিদার  বৈদ্যনাথ  বন্দোপাধ্যায়  বাংলা  ১২০৮  সালে  ফাল্গুনী  পূর্ণিমায়  প্রতিষ্ঠা  করেন।  অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  বিশালায়তন,  দক্ষিণমুখী,  নবরত্ন  মন্দির।  নবরত্ন  মন্দিরের  ছাদের  গঠনে  বক্রতা  না  এনে  সমতল  করায়  বিশালায়তন  এই  মন্দিরের  গঠনে  সার্বিক  লালিত্য  অনেকটা  ক্ষুন্ন  হয়েছে।  নবরত্নটির  প্রথম  তলের  চার  কোণে  চারটি  শিখর  এবং  দ্বিতলের  চার  কোণে  চারটি  প্রথম  তলের  চেয়ে  অপেক্ষাকৃত  ছোট  শিখর  আছে।  তাদের  মাঝখানে  মূল  রত্নটি  অবস্থিত।  দ্বিতীয়  তলের  কক্ষটিতে  বঙ্গীয়  স্থাপত্য-রীতি  অনুসারে  তিনটি  খিলানের  জন্য  দূর  থেকে  মন্দিরটিকে  গাম্ভীর্যমণ্ডিত  মনে  হয়।  মন্দিরের  সম্মুখভাগে  পত্রাকৃতি  ত্রিখিলানের  পরিবর্তে  ইউরোপীয়  স্থাপত্যরীতি  অনুসারে  স্তম্ভের  ব্যবহার  করা  হয়েছে।  মন্দিরের জগমোহনটি  ত্রিখিলান।   

             গর্ভগৃহে  কাঠের  সিংহাসনে  অষ্টধাতুর  মা  অন্নপূর্ণা  উপবিষ্টা।  অন্নদানে  রতা  মাতৃমূর্তি।  তাঁর  ডান  হাতে অন্নদান  করার  হাতা  এবং  বাঁ  হাতে  অন্নপাত্র।  দেবীর  ডানপাশে  রুপোর  তৈরী  মহাদেব,  বাঁ  হাতে  শিঙা  ও  ডমরু  এবং  ডান  হাতে  ভিক্ষাপাত্র।  এ  ছাড়া  সিংহাসনে  আছেন  নারায়ণ-লক্ষ্মী-সরস্বতী ও  নারায়ণ  শিলা।  মন্দির  প্রাঙ্গণে  তিনটি  ঘরে  তিনটি  শিবলিঙ্গ  প্রতিষ্ঠিত। দেবীর  তন্ত্র  মতে  পুজো  হয়।  দেবীকে  ভোগে  প্রতিদিন  মাছ  দেওয়া  হয়।  আগে  মোষ  বলি  দেওয়া  হত।  এখন  কোন  পশু  বলি  দেওয়া  হয়  না।

             দেবীর  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  চৈত্র  মাসে  অন্নপূর্ণা  পুজোর  সময়  বিশেষ  পূজা  হয়।  আর  একটি  উল্লেখযোগ্য,  অক্ষয়  তৃতীয়ার  অনুষ্ঠান।  ওই  দিন  দেবী  রথে  চড়ে  পল্লীবাসীদের  পুজো  নিতে  নিতে  গঙ্গার  ঘাটে  যান  এবং  সেখানে  অপরাহ্ন  পর্যন্ত  অবস্থান  করেন।  সেখানে  বিশেষ  পূজা  ও  হোম  হয়।  বিকাল  বেলায়  মন্দিরের  লক্ষ্মী-নারায়ণকে  সঙ্গে  নিয়ে  সবাই  মিলে  গান গাইতে  গাইতে  সেখানে  যান  এবং  দেবীকে  ফিরিয়ে  নিয়ে  আসেন।  এই  উপলক্ষে  মন্দিরের  কাছে  এক  বিরাট  মেলা  বসে।  গানটি  হল : 

  আনতে  শিব  অন্নপূর্ণা       চল  সবে  যাই  গো  ত্বরা,
  অবসান  হল  দিবা,             উচিত  নয়  বিলম্ব  করা।। 
  তৃতীয়ার  উপলক্ষে,            হর  গৌরী  অন্তরীক্ষে,
  রথেতে  গঙ্গা  সমক্ষে         বিরাজিছেন  মনোহরা।।
  সত্বর  পদ  সঞ্চারে,            চল  যাই  জাহ্নবী  তীরে,
  বুঝি  মা  রেখেছেন  হরে    হয়ে  বিরহ  কাতরা।। 
  ত্যজি  দম্ভ  গর্বমদ,            হেরিগে  সেই  অভয়পদ,
  যে  পদ  সম্পদপ্রদ            সর্বাপদ  নাশ  করা।।  

( গানটির  কথা  ও  সুর -  জীতেন্দ্র  নাথ  বন্দোপাধ্যায় ( কালোবাবু ),  রাগিনী  মিশ্র  বাগেশ্রী,  তাল  ঝাঁপতাল। ) 

             মন্দির  প্রাঙ্গনে  প্রতি  বছর  দূর্গা  পূজা,  কালী  পূজা  ও  সরস্বতী  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়।  মন্দিরের দেবসেবা  বন্দোপাধ্যায়  বংশের  সকলে  পালাক্রমে  করে  থাকেন।  মন্দিরের  বর্তমান (২০১৬ )  পুরোহিত  অক্ষয়  বন্দোপাধ্যায়। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ২২০.১০.২০১৬ 


শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা  মন্দির - ১

শ্রীশ্রী অন্নপূর্ণা  মন্দির - ২

জগমোহনের  ত্রিখিলান  বিন্যাস

তিনটি  শিবলিঙ্গের  একটি

লক্ষ্মী-নারায়ণ-সরস্বতী  বিগ্রহ

অন্নপূর্ণা  ও  মহাদেব  মূর্তি - ১

অন্নপূর্ণা  ও  মহাদেব  মূর্তি - ২

মা  অন্নপূর্ণা  ও  বাবা  ভোলানাথ  ( মন্দির  থেকে  প্রাপ্ত )

            
 উপরোক্ত  মন্দিরে  যেতে  হলে  হাওড়া  থেকে  পূর্বরেলের   মেন  লাইনের  লোকালে  উঠুন।  
নামুন  ভদ্রেশ্বর  স্টেশনে।  স্টেশনের  পূর্ব  দিক  থেকে  অটো   রিকশায়  উঠে  পৌঁছে  যান  বাবুবাজার।  সেখান  থেকে  টোটোতে  বা  হেঁটে  পৌঁছে  যান  মন্দিরে।  অথবা,  শিয়ালদহ  থেকে  মেন  লাইনের  লোকালে  উঠুন।  নামুন  শ্যামনগর।  গঙ্গার  ঘাট  থেকে  তেলেনিপাড়ার  ফেরি  নৌকায়  উঠে  তেলেনিপাড়ার  ঘাটে  নামুন।  সেখান  থেকে  কাছেই  মন্দির।  জি. টি.  রোড  দিয়ে  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 


 সহায়ক  গ্রন্থ :

                 ১)  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল :  সুধীর  কুমার  মিত্র 

----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।