শনিবার, ৫ আগস্ট, ২০২৩

Kanch Kamini Temple, 83 B. K. Paul Avenue, Aheritola, Kolkata

 কাচ কামিনী মন্দির, ৮৩ বি. কে. পাল  এভেন্যুয়, আহিরীটোলা, কলকাতা

শ্যামল কুমার ঘোষ

            আহিরীটোলার ২১১ / ২১১এ বাস স্ট্যাণ্ডের কাছে  ৮৩, বি.  কে. পাল এভেন্যুয়ে একটি রাধাকৃষ্ণের মন্দির আছে। মন্দিরটি কাচ কামিনী মন্দির নামে পরিচিত। মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাত্রী শ্রীমতী কামিনী  মণি দাসী। শোনা যায়, কামিনী দেবী ছিলেন এক সাহেবের রক্ষিতা।  সেই সাহেব ছিলেন তখনকার কলকাতার এক কাচ ব্যবসায়ী। তখন কলকাতায় বেলজিয়াম থেকে কাচ ও আয়না আমদানি করা হত।  এদেশে বেলজিয়াম কাচের খুবই চাহিদা ছিল। কামিনী দেবী  সাহেবের সঙ্গে  থেকে কাচ ব্যবসায়ে যুক্ত হন এবং একজন সফল ব্যবসায়ী হয়ে ওঠেন। তবে এই কাহিনীর সত্যতার কোনো প্রমাণ নেই।

            বড়ো দরজা দিয়ে ঢুকলে সামনেই মন্দির। মন্দিরটি তিন খিলানবিশিষ্ট একটি দালান। মাঝের খিলানের নিচে একটি  কলাপসেবল গেট। তার ফাঁক দিয়ে বিগ্রহ দর্শন করা যায়। দু দিকের  দুটি খিলানের নিচে বেলজিয়াম আয়না লাগানো দুটি কাঠের বড়ো  বড়ো দরজা। মন্দিরে ওঠার সিঁড়ি, মন্দিরের সামনের মেঝে এবং  গর্ভগৃহের মেঝে শ্বেতপাথরের তৈরি। মন্দিরের সামনের উপরের দেওয়ালে একটি সুন্দর পঙ্খের কাজ আছে। এত বড়ো পঙ্খের কাজ  সচরাচর দেখা যায় না। গর্ভগৃহে তিনটি কাঠের সিংহাসনের বাঁ  দিকের সিংহাসনে গোপাল মূর্তি, মাঝের সিংহাসনে রাধাকৃষ্ণের  মূর্তি, দুটি সখি, দুটি গোপাল মূর্তি ও দুটি নারায়ণ শিলা এবং ডান দিকের  সিংহাসনে শিব-অন্নপূর্ণা, লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদি বিগ্রহ নিত্য পূজিত।  মন্দিরে ওঠার সিঁড়ির একটি ধাপে ও গর্ভগৃহের মাঝের সিংহাসনের  নিচে শ্বেতপাথরের বেদির গায়ে কামিনী দেবীর নাম খোদাই করা আছে। 

            মন্দিরের সেবায়েতরা হলেন সেন এবং নন্দী পরিবার। মন্দিরটি একটি ট্রাস্টি বোর্ড দ্বারাপরিচালিত হয়। মন্দিরের বর্তমান  পুরোহিত বিজয় ভট্টাচার্য। এঁরা এখানে তিন পুরুষ ধরে পুজো  করছেন। মন্দিরে দুর্গা পূজা হয়। এই মন্দিরটির খোঁজ আমি লেখিকা  সোমা মুখোপাধ্যায়ের পোস্ট থেকে পাই। তাঁকে ধন্যবাদ।

            এখানে উল্লেখ্য, কামিনী দেবী একসময় নবদ্বীপের  বড়ালঘাটে এসে বসবাস করেন এবং সেখানে তিনি একটি নবরত্ন মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বড়ালঘাটের এই মন্দিরটিও কাচ কামিনী মন্দির নামে পরিচিত।  

মন্দিরে পঙ্খের কাজ 

কাচ কামিনী মন্দির, কলকাতা 

মন্দিরে পঙ্খের কাজ - ১

মন্দিরে পঙ্খের কাজ - ২

সিঁড়ির ধাপেকামিনীদেবীর নাম 

মাঝের সিংহাসনের বিগ্রহ 

রাধাকৃষ্ণ 

বাঁ দিকের সিংহাসনের বিগ্রহ ( গোপাল )

ডান দিকের সিংহাসনের বিগ্রহ
শিব-অন্নপূর্ণা, লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদি বিগ্রহ

              কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন : 

                             কলকাতার  মন্দির

                    ----------------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন