শুক্রবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৩

Annapurna, Bameshwar and Bamdev shib Temples, Raja Rajballav Street, Bagbazar, Kolkata

 মা অন্নপূর্ণা, বামেশ্বর ও বামদেব শিব মন্দির, 

রাজা রাজবল্লব স্ট্রিট, বাগবাজার, উত্তর কলকাতা 

                     শ্যামল কুমার ঘোষ

            উত্তর কলকাতার বাগবাজারের ১৮/ ৮, রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিটে অবস্থিত মা অন্নপূর্ণা, বামেশ্বর ও বামদেব নামক শিব মন্দির।  

            মন্দিরের প্রবেশদ্বার দিয়ে প্রবেশ করলে বাঁ দিকে দেখা যাবে  তিনটি মন্দির। উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী তিনটি  আটচালা শৈলীর মন্দির পাশাপাশি অবস্থিত। একটি টিনের ছালা  দিয়ে মন্দির তিনটিকে সংযুক্ত করা হয়েছে যেটা মন্দিরের সামনে ও পাশে ঢাকা অলিন্দের কাজ করছে। তিনটি মন্দিরেরই আছে একটি করে প্রবেশদ্বার। মন্দির তিনটির মধ্যে মাঝের মন্দিরের গর্ভগৃহে  কাঠের বাক্সের উপর ধাতুময়ী মা অন্নপূর্ণা উপবিষ্টা। অন্নদানে রতা মাতৃমূর্তি। তাঁর ডান হাতে অন্নদান করার হাতা এবং বাঁ হাতে অন্নপাত্র। দেবীর ডানপাশে দণ্ডায়মান ধাতুময় মহাদেব, কাঁধে রাখা ধাতুর ত্রিশূল, দু হাতে ধরা ভিক্ষাপাত্র। পাশেই রাখা আছে একটি ভিক্ষার ঝুলি। দেবীর নিত্য পূজা ছাড়াও চৈত্র মাসে অন্নপূর্ণা পুজোর সময় বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দু পাশের মন্দিরের মধ্যে বাঁ দিকের মন্দিরের গর্ভগৃহে বামেশ্বর নামক কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ ও ডান দিকের মন্দিরের গর্ভগৃহে বামদেব নামক কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত। উভয় শিবলিঙ্গই নিত্য পূজিত।

           মন্দিরটি ১২৯৯ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় মুখার্জী পরিবার। মন্দিরের প্রবেশ-দ্বারের ডান দিকের দেওয়ালে একটি শ্বেতপাথরের প্রতিষ্ঠাফলক আছে। মন্দিরের ওঠার সিঁড়ির একটি ধাপে হাতে লেখা একটি নাম উল্লেখ আছে শ্রী অঘর চন্দ্র মিস্ত্রি  এবং সাল উল্লেখ আছে ১২৯৯ এবং এটি নিশ্চয় বঙ্গাব্দ। নামটি সম্ভবত মন্দিরের নির্মাতা-কারিগর অথবা সংস্কারের সময়ের মিস্ত্রির। মন্দির তিনটির সামনে টিনের চাল দেওয়া চারিদিক খোলা একটি  নাটমন্দির আছে। মন্দির চত্বর গাছপালা পরিবেষ্টিত ও পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। মন্দিরগুলির আশু সংস্কার প্রয়োজন।          

অন্নপূর্ণা ও মহাদেব মূর্তি - ১

মন্দিরের  প্রবেশ-দ্বার

তিনটি আটচালা মন্দির 

অন্নপূর্ণা মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

সিঁড়ির উপর লেখা 

বামেশ্বর শিবলিঙ্গ

বামেদেব শিবলিঙ্গ

অন্নপূর্ণা ও মহাদেব মূর্তি - ২

            কী ভাবে যাবেন?

            উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের পাঁচমাথার মোড়ে যে পাঁচটি  রাস্তা এসে মিলিত হয়েছে তার একটি রাস্তার নাম ভূপেন্দ্র বসু এভেন্যুউ। এই রাস্তা ধরে এগুলে রাস্তাটি যেখানে যতীন্দ্র  মোহন এভেন্যুয়ে মিশেছে সেখানে বিবেকানন্দের একটি মূর্তি আছে। এবার এই মোড়ের ডান দিকে যতীন্দ্র মোহন এভেন্যুউ ধরে একটু এগুলেই বাঁ দিকে পড়বে রাজা রাজবল্লভ স্ট্রিট। এই রাস্তায় ঢুকে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই পেয়ে যাবেন কাঙ্খিত মন্দির।
                              ******

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন