মঙ্গলবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৩

Dayamayi Durga Temple, Sitaram Ghosh Street, Kolkata

 দয়াময়ী দুর্গা মন্দির, সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট,  কলকাতা 

                    শ্যামল কুমার ঘোষ

            মধ্য কলকাতার কলেজ স্ট্রিটের কাছে ১৪, সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটে দয়াময়ী দুর্গা মন্দির অবস্থিত। সাদামাটা মন্দির। দুটি বাড়ির মাঝখানে একটি একটি ছোটো দালান শৈলীর একতলা মন্দির। গর্ভগৃহের সামনে একটি ঢাকা অলিন্দ আছে। অলিন্দের সামনে একটি কলাপসিবল গেট। গর্ভগৃহে ঢোকার একটিই কাঠের দরজা। মন্দিরে পুরোহিত না থাকলে গর্ভগৃহের দরজা খোল  থাকে। কিন্তু কলাপসিবল গেট টানা থাকে যাতে জনসাধারণ বাইরে থেকে মাকে দর্শন করতে পারেন। পুরোহিত উপস্থিত থাকলে কলাপসিবল গেট খোলা থাকে। তখন যাঁরা পুজো দিতে ইচ্ছুক তাঁরা পূজা দিতে পারেন। তবে কাছাকাছি কোনো পুজোর সামগ্রীর দোকান নেই। পুজো দিতে হলে নিজেকেই সব কিছু নিয়ে যেতে হবে। সাধারণত সকাল ১০ টা পর্যন্ত মন্দিরে পুরোহিত উপস্থিত থাকেন।         

            গর্ভগৃহে শ্বেতপাথরের বেদির উপর কষ্টিপাথরের দয়াময়ী দুর্গা বিরাজিত। দয়াময়ী দুর্গা মূর্তি হল একক দশভুজা মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গামূর্তি। এখানে দুর্গার সঙ্গে তাঁর পুত্রকন্যারা অনুপস্থিত। দেবীর বাহন ঘোড়ামুখো সিংহ। শ্বেত বর্ণের। মহিষাসুরের বর্ণ সবুজ। মূর্তিটি মাঝে মাঝে অঙ্গরাগ করা হয়। গর্ভগৃহে দুর্গা মূর্তির সঙ্গে আছেন নারায়ণ শিলা এবং শিবলিঙ্গ।

            মন্দিরের সামনের উপরের প্রতিষ্ঠাফলক থেকে জানা যায়, মন্দিরটি ১২৫৭ বঙ্গাব্দে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রী নীলকমল মিত্র দাস এবং মন্দিরটির সেবায়েত স্থানীয় ঘোষাল পরিবার। তবে জানা গেল যে বর্তমানে মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষন ও নিত্য পূজার দেখাশোনা করেন মন্দিরের পাশের দত্ত পরিবার। নিত্য পূজা ছাড়াও দুর্গা পূজার সময় বিগ্রহের বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।                    

দয়াময়ী দুর্গা - ১

দয়াময়ী দুর্গা মন্দির

প্রতিষ্ঠাফলক

প্রতিষ্ঠা ও অন্য একটি ফলক 

দয়াময়ী দুর্গা - ২

দয়াময়ী দুর্গা - ৩

            কী ভাবে যাবেন? 

            মহাত্মা গান্ধী রোড ও রাজা রামমোহন সরণির সংযোগস্থলের কাছে রাজা রামমোহন সরণি পোস্ট অফিস। এই পোস্ট অফিসের বিপরীত দিকের রাস্তার উপর একটি শিব মন্দির আছে। এই শিব মন্দিরের পাশের রাস্তার নাম সীতারাম ঘোষ স্ট্রিট। এই রাস্তা ধরে কিছুটা এগিয়ে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই পেয়ে যাবেন মন্দির।  

                                         **********


        
          

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।




  প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।


অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন