একটি পঞ্চরত্ন টেরাকোটা মন্দির ও অন্য তিনটি মন্দির, চারকলগ্রাম , বীরভূম
শ্যামল কুমার ঘোষ
বীরভূম জেলার নানুর মহকুমা ও ব্লকের অধীন একটি গ্রাম চারকলগ্রাম । বর্ধিষ্ণু গ্রামটি নানুর থেকে ৭ কিমি দূরে অবস্থিত। গ্রামে স্থানীয় চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দেবীচরণ চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি টেরাকোটা মন্দির উল্লেখযোগ্য। অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, পূর্বমুখী মন্দিরটি পঞ্চরত্ন শৈলীর। গর্ভগৃহে ঢোকার একটিই দরজা, সামনে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল পোড়ামাটির অলংকরণযুক্ত। এই অলংকরণের মধ্যে সপরিবারে দুর্গা, সিংহবাহিনী, গজলক্ষ্মী, গণেশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১২৪৫ বঙ্গাব্দে ( ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে ) মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরে একটি প্রতিষ্ঠাফলক আছে। গর্ভগৃহে একটি নন্দী বিগ্রহ ও একটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত। এখানে উল্লেখ্য, মন্দিরে কোন স্ত্রীলোকের প্রবেশাধিকার নেই। পশ্চিমবঙ্গের কোন মন্দিরে এরকম বিধিনিষেধ আছে শুনিনি।
এই মন্দিরের পাশেই তিনটি শিব মন্দির আছে। অল্প উঁচু এবং একই ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত মন্দিরগুলি পশ্চিমমুখী। মন্দির তিনটির উত্তর দিকের মন্দিরটি চারচালা শৈলীর, দক্ষিণ দিকের মন্দিরটি আটচালা শৈলীর এবং মধ্যের মন্দিরটি একটি দালান ঘর মাত্র। তিনটি মন্দিরেরই একটি করে প্রবেশদ্বার, সামনে। মন্দির তিনটির সামনের দেওয়ালে সামান্য টেরাকোটার অলংকরণ আছে। মন্দির তিনটির একটিতে নন্দী ও শ্বেতপাথরের শিবলিঙ্গ এবং অপর দুটিতে একটি করে নন্দীর বিগ্রহ ও একটি করে কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্য পূজিত।
 |
| গজলক্ষ্মী |
 |
| পঞ্চরত্ন মন্দির, চারকলগ্রাম, বীরভূম |
 |
| সপরিবারে দুর্গা |
 |
কুলুঙ্গির কাজ - ১ ( সিংহবাহিনী ও গজলক্ষ্মী ) |
 |
কুলুঙ্গির কাজ - ২ ( গজলক্ষ্মী ) |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ - ৩ |
 |
| কুলুঙ্গির কাজ - ৪ |
 |
কুলুঙ্গির কাজ - ৫ ( গণেশ ও জগদ্ধাত্রী ) |
 |
কুলুঙ্গির কাজ - ৬ ( গণেশ ) |
 |
কুলুঙ্গির কাজ - ৭ ( নকশা ) |
 |
| প্রতিষ্ঠাফলক |
 |
| শিবলিঙ্গ ও নন্দী বিগ্রহ |
 |
| পশ্চিমমুখী তিনটি মন্দির, চারকলগ্রাম, বীরভূম |
 |
| আটচালা মন্দির, চারকলগ্রাম, বীরভূম |
 |
| আটচালা মন্দিরের সামনের কাজ |
 |
| ১ম মন্দিরের গর্ভগৃহের নন্দী বিগ্রহ ও শিবলিঙ্গ |
 |
| ২য় মন্দিরের গর্ভগৃহের নন্দী বিগ্রহ ও শিবলিঙ্গ |
 |
| ৩য় মন্দিরের গর্ভগৃহের নন্দী বিগ্রহ ও শিবলিঙ্গ |
কলকাতা থেকে কী ভাবে যাবেন ? কলকাতা থেকে ট্রেনে বোলপুর-শান্তিনিকেতন। বোলপুরের জামবুনি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাসে উঠে নানুর স্টপেজে নামুন। সেখান থেকে টোটোতে চারকলগ্রামের মন্দির।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বীরভূম জেলার পুরাকীর্তি : দেবকুমার চক্রবর্তী
----------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন