পরিত্যক্ত আটচালা বিষ্ণু মন্দির, গণপুর, বীরভূম
শ্যামল কুমার ঘোষ
বীরভূম জেলার মহম্মদ বাজার ব্লকের অন্তর্গত গণপুর একটি প্রাচীন গ্রাম। মল্লারপুরের নিকটবর্তী এই গ্রাম আগে বর্ধিষ্ণু ও সমৃদ্ধশালী ছিল। গ্রামটি এককালে দেশীয় প্রক্রিয়ায় আকরিক লোহা থেকে লোহা নিষ্কাশনের কেন্দ্র ছিল এবং গ্রামের চৌধুরী বংশ এই লোহার কারবারে বিত্তশালী হন ও প্রসিদ্ধি লাভ করেন। গণপুর গ্রামের পূর্বের প্রাচুর্য সেখানে প্রতিষ্ঠিত অসংখ্য মন্দির স্থাপনের মধ্যে প্রতিফলিত। গ্রামের কালীতলায় অবস্থিত ১৪ টি চারচালা মন্দির ও একটি দোলমঞ্চ এবং কাছেই অবস্থিত ৫ টি চারচালা মন্দিরগুচ্ছের সম্বন্ধে আগেই আলোচনা করেছি। এখানে গ্রামের উত্তর দিকে অবস্থিত ভবসিন্ধু মণ্ডলের গৃহ সংলগ্ন একটি আটচালা মন্দির সম্বন্ধে আলোচনা করবো।
অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথযুক্ত, পূর্বমুখী মন্দিরটি আটচালা শৈলীর। তবে এখন আর আটচালার কোন চিহ্ন নেই। পীরিতরাম মণ্ডল কর্তৃক ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ( বঙ্গাব্দ ১১৭৬ সালে ) মন্দিরটি নির্মিত হয় বলে জানা যায়। শোনা যায়, বিষ্ণুর জন্য মন্দিরটি নির্মিত হলেও মন্দিরে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হয় নি। মন্দিরটি এখন ধ্বংসোন্মুখ। শুধু খিলানের উপর তিনটি ফলক অবশিষ্ট আছে। ফুলপাথরের ফলকে রাম-রাবণের যুদ্ধ, সপরিবারে মহিষাসুরমর্দিনী, গোপিনীসহ কৃষ্ণের প্রতিকৃতি প্রবেশপথের খিলানের উপর উৎকীর্ণ। অপূর্ব কারুকার্য। অযত্ন-অবহেলা সত্ত্বেও এখনও ফলকগুলির দিকে তাকালে চোখ ফেরানো মুশকিল। কাঠের উনুনের কালো ধোঁয়ার স্পর্শ ফলকের সর্বাঙ্গে প্রতিফলিত। সপরিবারে দুর্গা মূর্তির গণেশের ফলকটি খুলে পড়ে গেছে। মন্দিরের সামনে সামান্য জায়গা। ছবি তোলার খুবই অসুবিধা। এই সুন্দর ভগ্ন-পরিত্যক্ত মন্দিরটি আমি সৌমেন বাবুর ( সৌমেন নাথ ) সহায়তায় খুঁজে পেয়েছিলাম। তাঁকে ধন্যবাদ।
![]() |
| লক্ষ্মী-সরস্বতী সহ দুর্গা |
![]() |
| রাম-রাবণের যুদ্ধ |
![]() |
| সপরিবারে দুর্গা মূর্তি |
![]() |
| লক্ষ্মী-সরস্বতী সহ দুর্গা |
![]() |
| দুই গোপিনীসহ কৃষ্ণ |
হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাটগামী ট্রেনে মল্লারপুর স্টেশনে নেমে বাসে বা টোটোতে গণপুর যাওয়া যায়। অথবা সিউড়ি বা রামপুরহাট থেকে বাসে গণপুর। সেখান থেকে টোটোতে মন্দির।
সহায়ক গ্রন্থ :
১) বীরভূম জেলার পুরাকীর্তি : দেবকুমার চক্রবর্তী
-------------------------------------------------
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবংসাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আরপুনর্জন্ম হয় না।বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।








কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন