সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১

Shridhar Jue and Sharabhuj Gouranga Temple, Atchala goswami Bari, Rabindra Sarani, Kumartuli / Bagbazar, Kolkata

 শ্রীধর জিউ ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু  মন্দির, আটচালা গোস্বামী বাড়ি, রবীন্দ্র সরণি,  কুমারটুলি / বাগবাজার, কলকাতা  

                           শ্যামল কুমার ঘোষ 

             কলকাতার কুমারটুলি / বাগবাজার অঞ্চলের ৫৬২/ই, রবীন্দ্র  সরণিতে অবস্থিত শ্রীধর জিউ ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ মন্দির।  

            অল্প উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, দক্ষিণমুখী, অলিন্দবিহীন  মন্দিরটি সমতলছাদবিশিষ্ট একটি দালান শৈলীর মন্দির। ১৩৪৬  বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে ) মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন নিতাই চন্দ্র  গোস্বামীর পুত্র গোবর্দ্ধন গোস্বামী। এই গোবর্দ্ধন গোস্বামী ছিলেন  নিত্যানন্দ প্রভুর বংশধর। গর্ভগৃহে একটি কাঠের সিংহাসনে শ্রীধর  জিউ ( নারায়ণ শিলা ) ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ বিগ্রহ নিত্য পূজিত। 

            বাংলার কিছু মন্দিরে ষড়ভুজ গৌরাঙ্গের দারুমূর্তি দেখা যায়।  ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ চৈতন্য মহাপ্রভুর একটি দিব্যরূপ। এই দিব্যরূপের মধ্যে শ্রীরামের ধনুর্বাণ, সন্যাসগ্রহণরূপ  শ্রীচৈতন্যের দণ্ড ও  কমণ্ডলু ও বংশীবাদনরত শ্রীকৃষ্ণের সমন্বয় ঘটেছে। এই দিব্যরূপটি  চৈতন্যচরিতামৃত ও চৈতন্যভাগবত অনুযায়ী যথাক্রমে শ্রীবাস  নবদ্বীপে এবং বাসুদেব সার্বভৌম নীলাচলে দর্শন করেছিলেন। ষড়ভুজ গৌরাঙ্গের এই দিব্যরূপ দর্শন দেওয়ার মধ্যে দিয়ে  শ্রীচৈতন্য বোঝাতে চেয়েছেন যে শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রীগৌরাঙ্গ এক  এবং অভিন্ন। 

            ষড়ভুজ গৌরাঙ্গের রূপ-বর্ণনা আমরা পাই, নরোত্তমের  'চৈতন্যমঙ্গলে' :

   'হেনই সময়ে প্রভু ষড়ভুজ শরীর।    

   দেখি সার্বভৌম হইল আনন্দে অস্থির।।

   উর্ধ্ব দুই হাতে ধরে ধনু আর শর। 

   মধ্যে দুই হাতে ধরে মুরলী অধর।।

   নিম্ন দুই হাতে ধরে দণ্ড কমণ্ডল। 

   দেখি সার্বভৌম হইল আনন্দে বিহ্বল।।

            অর্থাৎ, ষড়ভুজ গৌরাঙ্গের উপরের দুটি হাতে থাকে  শ্রীরামচন্দ্রের ধনুর্বাণ, মাঝের দুটি হাত যেন শ্রীকৃষ্ণের বংশীবাদন  রূপ ও নিচের দুটি হাতে ধরা থাকে সন্যাসগ্রহণকারী শ্রীচৈতন্যের  দণ্ড ও কমণ্ডলু। আলোচ্য তিনটি দেবতার গাত্রবর্ণ যে রকম কল্পনা  করা হয় ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ মূর্তির হাতের বর্ণ সেই রঙের করা  হয়।   

             মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১৭.১২.২০২১

ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ বিগ্রহ 

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

গর্ভগৃহের সামনে 

শ্রীধর জিউ ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ বিগ্রহ

ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ বিগ্রহ

প্রতিষ্ঠাফলক 

শ্রীনিত্যানন্দ বংশ লিপি  

মন্দির-বাড়ির সামনের ফলক  

 বড় রাস্তার উপরে লাগানো ফলক 
     

            কী ভাবে যাবেন ?

            কুমোরটুলি থেকে রবীন্দ্র সরণির ডান দিকের ফুটপাত ধরে  বাগবাজারের দিকে হাঁটুন। ৫৫২, রবীন্দ্র সরণির একটি বাড়িতে এই  মন্দিরের একটি ফলক লাগানো আছে। এখানে ডান দিকের গলিতে  ঢুকে একটু এগুলেই বাঁ দিকে পড়বে ৫৬২/ই, রবীন্দ্র সরণিতে  অবস্থিত আমাদের কাঙ্ক্ষিত মন্দির।

 সহায়ক  গ্রন্থ / প্রবন্ধ :

     ১)  বাংলার মন্দির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য : প্রণব রায়     

২)  মন্দির ভাস্কর্যে চৈতন্যলীলা : তারাপদ  সাঁতরা 

            কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির


       --------------------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১

Jagannath, Nityananda and Sharabhuj Gouranga Temple, Nimtala Ghat Street, Jorabagan, Kolkata

জগন্নাথ,  নিত্যানন্দ  ও  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  মন্দির,  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিট,  জোড়াবাগান,  কলকাতা 

                           শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

  কলকাতার  নিমতলা  /  জোড়াবাগান  অঞ্চলের  ৬৯/৩,  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিটে  আশুতোষ  লাহার  বাড়িতে  জগন্নাথ,  নিত্যানন্দ  ও  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  মন্দির  অবস্থিত।  

            অল্প  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  তিন-খিলানবিশিষ্ট,    দক্ষিণমুখী,  অলিন্দযুক্ত  মন্দিরটি  সমতলছাদবিশিষ্ট  একটি  দালান  শৈলীর  মন্দির।  আসলে  এটি  একটি  বাড়ির  এক  তলার  অলিন্দযুক্ত  একটি  ঘর  মাত্র।  মন্দিরের  প্রবেশদ্বারের  উপরের  খিলানে  ব্যবহৃত  হয়েছে  ইউরোপীয়  ভাবধারায়  'ফ্যানলাইট'  ( Fanlight )।  তিনটি  প্রবেশ-দ্বারের  মাঝের  দ্বারের  সামনে  একটি  সিংহাসনে  দারু নির্মিত  জগন্নাথ,  নিত্যানন্দ  ও  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠিত।  এ  ছাড়া  দামোদর-রাধিকা,  গোপীনাথ-রাধিকা,  মদনমোহন-রাধিকা  ও  এক  সখি,  গোপাল  ও  অন্যান্য  বিগ্রহও  আছেন।  মন্দিরে  সমস্ত  বিগ্রহ  নিত্য  পূজিত। 

            শোনা  যায়,  শ্রীরামকৃষ্ণ  দেব  এই  মন্দিরে  দেব  দর্শনে  আসেন  এবং  দর্শনকালে  সমাধিস্থ  হন।

            বাংলার  কিছু  মন্দিরে  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গের  দারুমূর্তি  দেখা  যায়।  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  চৈতন্য  মহাপ্রভুর  একটি  দিব্যরূপ।  এই  দিব্যরূপের  মধ্যে  শ্রীরামের  ধনুর্বাণ,  সন্যাসগ্রহণরূপী  শ্রীচৈতন্যের  দণ্ড  ও  কমণ্ডলু  ও  বংশীবাদনরত  শ্রীকৃষ্ণের  সমন্বয়  ঘটেছে।  এই  দিব্যরূপটি  চৈতন্যচরিতামৃত  ও  চৈতন্যভাগবত  অনুযায়ী  যথাক্রমে  শ্রীবাস  নবদ্বীপে  এবং  বাসুদেব  সার্বভৌম  নীলাচলে  দর্শন  করেছিলেন।  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গের  এই  দিব্যরূপ  দর্শন  দেওয়ার  মধ্যে  দিয়ে  শ্রীচৈতন্য  বোঝাতে  চেয়েছেন  যে  শ্রীরাম,  শ্রীকৃষ্ণ  ও  শ্রীগৌরাঙ্গ  এক  এবং  অভিন্ন। 

            ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গের  রূপ-বর্ণনা  আমরা  পাই,  নরোত্তমের  'চৈতন্যমঙ্গলে' :

   'হেনই  সময়ে  প্রভু  ষড়ভুজ  শরীর।    

   দেখি  সার্বভৌম  হইল  আনন্দে  অস্থির।।

   উর্ধ্ব  দুই  হাতে  ধরে  ধনু  আর  শর। 

   মধ্যে  দুই  হাতে  ধরে  মুরলী  অধর।।

   নিম্ন  দুই  হাতে  ধরে  দণ্ড  কমণ্ডল। 

   দেখি  সার্বভৌম  হইল  আনন্দে  বিহ্বল।।

            অর্থাৎ,  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গের  উপরের  দুটি  হাতে  থাকে  শ্রীরামচন্দ্রের  ধনুর্বাণ,  মাঝের  দুটি  হাত  যেন  শ্রীকৃষ্ণের  বংশীবাদন  রূপ  ও  নিচের  দুটি  হাতে  ধরা  থাকে  সন্যাসগ্রহণকারী  শ্রীচৈতন্যের  দণ্ড  ও  কমণ্ডলু।  আলোচ্য  তিনটি  দেবতার  গাত্রবর্ণ  যে  রকম  কল্পনা  করা  হয়  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  মূর্তির  হাতের  বর্ণ  সেই   রঙের  করা  হয়।   

             মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১৭.১২.২০২১

মন্দিরে গর্ভগৃহের সামনের বিন্যাস

 জগন্নাথ, নিত্যানন্দ, ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ ও অন্যান্য বিগ্রহ

জগন্নাথ, নিত্যানন্দ ও ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ বিগ্রহ


দামোদর-রাধিকা বিগ্রহ

গোপীনাথ-রাধিকা বিগ্রহ

মদনমোহন-রাধা ও এক সখির বিগ্রহ


গোপাল বিগ্রহ

            কী  ভাবে  যাবেন ?

            যে  কোন  বাসে  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিট  ও   বি  কে  পাল  এভিনিউ-এর  সংযোগস্থলে  আসুন।  আমি  আহিরীটোলা  বাসস্ট্যান্ড  থেকে  বি  কে  পাল  এভিনিউ  ধরে  এখানে  এসেছিলাম।  মোড়ের  কাছে  অবস্থিত  স্টেট  ব্যাঙ্ক  অফ  ইন্ডিয়া,  নিমতলা  ব্রাঞ্চের  বিপরীতে  ৬৯/৩,  নিমতলা  ঘাট  স্ট্রিটে  আমাদের  কাঙ্ক্ষিত  মন্দির।

 সহায়ক  গ্রন্থ / প্রবন্ধ :

     ১)  বাংলার  মন্দির  স্থাপত্য  ও  ভাস্কর্য  :  প্রণব  রায়     

২)  মন্দির  ভাস্কর্যে  চৈতন্যলীলা  :  তারাপদ  সাঁতরা 

              কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির

     ---------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

শনিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২১

Durgeshwar / Mota Shib Temple, Md. Ramjan Lane, Nimtala, Kolkata

 দুৰ্গেশ্বর / মোটা  শিব  মন্দির, মহম্মদ  রমজান  লেন,  নিমতলা,  কলকাতা 

                           শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            কলকাতার  নিমতলা  অঞ্চলে  ১৬,  মহম্মদ  রমজান  লেনে  দুৰ্গেশ্বর  শিব  মন্দির  অবস্থিত।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  অলিন্দবিহীন,  পশ্চিমমুখী  মন্দিরটি  আটচালা  শৈলীর।  মন্দিরটি  আয়তনের  তুলনায়  অত্যাধিক  উচ্চতাসম্পন্ন।  উচ্চতার  কারণ  গর্ভগৃহে  প্রতিষ্ঠিত  বিশালাকায়  শিবলিঙ্গ।  শিবলিঙ্গের  এই  বিশাল  আকারের  জন্য  স্থানীয়  মানুষের  কাছে  এই  শিবলিঙ্গটি  'মোটা  শিব'  নামে  পরিচিত।  মন্দিরটি  দৈর্ঘ্যে  ৮.৬  মিটার,  প্রস্থে  ৭ মিটার  ও  উচ্চতায়  আনুমানিক  15  মিটার।  কালের  প্রবাহে  মন্দির-শীর্ষে  বট  গাছ  জন্মেছে।  পূর্ব  দিকের  দেওয়ালে  সেই  বটের  ঝুড়ি  নেমেছে।  মন্দিরে  আগে  কিছু  পঙ্খ  ও  টেরাকোটা  অলংকরণ  ছিল।  তবে  এখন  তার  কিছুই  অবশিষ্ট  নেই।           

            মন্দিরের  তিনটি  প্রবেশদ্বার।  উত্তর,  দক্ষিণ  ও  পশ্চিম  দিকে।  দক্ষিণ  দিকের  প্রবেশদ্বার  দিয়ে  প্রবেশ  করা  যায়  না। মন্দিরটি  ১৭১৬  শকাব্দে  বা  ১২০১  বঙ্গাব্দে  বা  ১৭৯৪  খ্রীষ্টাব্দে  প্রতিষ্ঠিত।  প্রতিষ্ঠা  করেন  হাটখোলার  দত্ত  পরিবারের  মদন  মোহন  দত্তের  দুই  পুত্র  রসিকলাল  দাস  দত্ত  ও  হরলাল  দাস  দত্ত।   পশ্চিম  দিকের  প্রবেশপথের  উপরে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  প্রতিষ্ঠাফলকের  পথ  নিম্নরূপ :

              " অঙ্গৌষধীশ ধরণীধর

               শীতরশ্মি।  প্রখ্যাত  শাক 

               সময়ে  পিতৃরাজ্ঞয়ৈতত্

               সংস্থাপিতং  মদনমোহন 

               দত্ত  পুত্রৈ  দুৰ্গেশ্বরাখ্যা  শিব 

               লিঙ্গমভূত  সূসৌধে।।  ১৭১৬  "

            এখানে  মদন  মোহন  দত্তের  সম্পর্কে কিছু  কথা  উল্লেখ  করি :  হাটখোলার  দত্ত  বংশের  রামচন্দ্রের  ছিল  পাঁচ  পুত্র -  কৃষ্ণচন্দ্র,  মানিক্যচন্দ্র,  ভারতচন্দ্র,  শ্যামচন্দ্র  ও  গোরাচাঁদ।  জ্যেষ্ঠ  কৃষ্ণচন্দ্রের  চার  পুত্র -  মদনমোহন,  রামশঙ্কর,  রামকান্ত  ও  রামলাল।  দত্ত  পরিবারের  মদনমোহন  দত্তের  নাম  ছিল  অত্যন্ত  জনপ্রিয়।  তিনি  ছিলেন  সভ্রান্ত  জমিদার,  ব্যাঙ্কিং  ব্যবসায়ী  ও  কয়েকটি  জাহাজের  মালিক।  এঁরই  সাহায্যে  ছাতু  বাবু  ও  লাটু বাবুর  পিতা  রামদুলাল  দে  সাধারণ  অবস্থা  থেকে  বিপুল  সম্পদের  মালিক  হতে  পেরেছিলেন।  মদনমোহন  অত্যন্ত  ধর্মপ্রাণ  ব্যক্তি  ছিলেন।  আমতা,  মেদিনীপুর,  ঢাকা  ও  অন্যান্য  স্থানে  তিনি  পুষ্করিণী  ও  কূপ  খনন  করে  দিয়ে  ছিলেন।  অনেক  গুলি  শিবমন্দিরও   নির্মাণ  করে  ছিলেন।  গয়ার  প্রেতশিলা  পাহাড়ে  চূড়া  প্রর্যন্ত  ওঠার  জন্য সিঁড়ি  করে  দিয়ে  ছিলেন।  তিনি  এই  মন্দিরের  কাছেই   ২,  দত্তপাড়া  লেনে   বাড়ি  করেন।  সেই  বাড়িতে    এখনও  প্রতি  বছর  দুর্গা  পূজা  অনুষ্ঠিত  হয়। 

            মন্দিরের  গর্ভগৃহে  প্রতিষ্ঠিত  বিশালাকায়  শিবলিঙ্গটির  উচ্চতা  প্রায়  ২.৫  মিটার।  শিবলিঙ্গের  মাথায়  জল  ঢালবার  জন্য  সিঁড়ি  আছে।  কষ্টিপাথরে  নির্মিত  শিবলিঙ্গটির  একেবারে  নিচে  পশ্চিম  দিকের  গায়ে  যে  দু'  লাইন  লিপি  খোদিত  আছে  তার  পাঠ  নিম্নরূপ :

                  " শ্রীরসিকলাল  দাস  দত্ত ঃ

                  শ্রীহরলাল  দাস  দত্ত।  সন  ১২০১  সাল "

            এ  ছাড়া  দক্ষিণ  দিকে  আর  একটি  যে  লিপি  খোদিত  আছে  তার  পাঠ :  " শ্রীগদাধর  দাস  ভাস্কর। "  সম্ভবত  ইনিই  শিবলিঙ্গটির  শিল্পী-কারিগর।  তবে  শিল্পীর  নাম  থাকলেও  তাঁর  নিবাস  সম্পর্কে  কোনও  উল্লেখ  নেই।  

          মন্দিরটি  সকল-সন্ধ্যায়  খোলা  থাকে।  বাবার  মাথায়  জল  ঢালার  সময়  ভোর  ৫ টা  থেকে  সকাল  ৬ টা  পর্যন্ত  এবং  সকাল  ৭ টা  ৩০  মিনিট  থেকে  দুপুর  ১২ টা  ১৫ মিনিট  পর্যন্ত।  মন্দিরে  প্রতিদিন শিবলিঙ্গের  মাথায়  জল  ঢালবার  জন্য  ভিড়  হয়।  পুণ্যার্থীরা  তাঁদের  মনস্কামনায়  জন্য  মন্দিরে  ঢিল  বাঁধে।  পূর্ব দিকের  দেওয়ালে  বটের  ঝুড়িতে  এ  রকম  অনেক  ঢিল-বাঁধা  দেখা  যায়। 

            মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ : ১৭.১২.২০২১

দুৰ্গেশ্বর শিব মন্দির 


মন্দিরের প্রতিষ্ঠাফলক 


শিবলিঙ্গের গায়ের লিপি - ১

শিবলিঙ্গের গায়ের লিপি - ২

দুৰ্গেশ্বর শিবলিঙ্গ - ১

দুৰ্গেশ্বর শিবলিঙ্গ - ২

দুৰ্গেশ্বর শিবলিঙ্গের পূজার্চনা 

মনস্কামনায় ঢিল বাঁধা
                   

  সহায়ক  গ্রন্থ :

                   ১)  কলকাতার  মন্দির-মসজিদ :  তারাপদ  সাঁতরা 

                   ২)  কলকাতার  বাবু  বৃত্তান্ত :  লোকনাথ  ঘোষ                   

             কলকাতার অন্যান্য মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন / লিংকের উপর আঙুল দিয়ে টোকা দিন : 

                        কলকাতার  মন্দির 

     --------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।


 
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।