বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

Shib Temple and Buri Ma Temple, Bahirgachhi,Nadia,West Bengal


শিবমন্দির ও বুড়িমার মন্দির, বহিরগাছি, নদিয়া

শ্যামল কুমার ঘোষ 

            শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে মুড়াগাছা একটি স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব ১১৭ কিমি। মুড়াগাছা স্টেশন থেকে ৩ কিমি পশ্চিমে বহিরগাছি গ্রাম। মুড়াগাছার পরের স্টেশন বেথুয়াডহরী। সেখান থেকেও টোটোতে ধর্মদা হয়ে এই গ্রামে যাওয়া  যায়। কৃষ্ণনগর থেকে বাসেও যেতে পারেন।     

            বহিরগাছি ছিল নদিয়ারাজাদের গুরুর গ্রাম। গ্রামের পাশ দিয়ে মৃতপ্রায় নদী গুড়গুড়িয়া বা গুড়গুড়ে প্রবাহিত। মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র এই নদী পথে গুরুগৃহে আসতেন। রঘুনাথ সিদ্ধান্তবাগীশ ছিলেন নদিয়ারাজ রুদ্র রায়ের গুরুদেব। পণ্ডিত রামভদ্র ন্যায়ালংকার ছিলেন নদিয়ারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের গুরু। তাঁদের আদি নিবাস ছিল যশোহর জেলার সারল গ্রামে। কৃষ্ণনগর থেকে সারল গ্রামের দূরত্বের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগরের কাছে, বহিরগাছি গ্রামে, গুরুদেবের জন্য বাসগৃহ, দ্বাদশ শিবমন্দির, দেবালয় ইত্যাদি নির্মাণ করে দেন। 

            বারোটি শিবমন্দিরের মধ্যে এখন একটি চারচালা মন্দির অবশিষ্ট আছে। বহুবার সংস্কৃত এই মন্দিরের সামনে খিলানের উপর সামান্য কাজ আছে। মন্দিরের মধ্যে কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ নিত্যপূজিত। ভট্টাচার্য পাড়ায় এই পণ্ডিত বংশের বিভিন্ন শরিকদের গৃহে পুরানো পুঁথি ও অন্যান্য পুৱাবস্তু আজও বর্তমান। 


শিবমন্দির 

খিলানের উপরের কাজ 

মন্দিরের শিবলিঙ্গ 


            বহিরগাছি গ্রামের গ্রাম্য দেবী বুড়িমা। বুড়িমা কালীরই এক রূপ। বটগাছের নিচে  তাঁর বেদি। পাশেই তাঁর মন্দির। বুড়িমা খুব জাগ্রত দেবী। মাঘ মাসের শেষে খুব ধুমধামের সঙ্গে ব্যৎসরিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়। 


বুড়িমার নতুন মন্দির 

বুড়িমা 

          ---------------------------

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।


 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

            প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।



                                                             

সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

Dolmancha of Radhagobinda Jiu, Gurbari, Hooghly, West Bengal


রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ,  গুড়বাড়ি,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ


            হাওড়া-বর্ধমান  কর্ড  লাইনে  গুড়াপ  একটি  রেলস্টেশন।  হাওড়া  থেকে  গুড়াপ  ১৮  তম  রেলস্টেশন। রেলপথে  হাওড়া  থেকে  দূরত্ব  ৫৭.৪  কিমি।  গুড়াপ  স্টেশন  থেকে  বাসে  মৌবেশ হয়ে  গুড়বাড়ি  যেতে  হয়।   

             গুড়বাড়ি  গ্রামে  শ্রীশ্রী  রাধাগোবিন্দ  জিউর  বিরাট  মন্দির  ও  দোলমঞ্চ  খুবই  দর্শনীয়।  ১৭১১  শকাব্দে ( ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দে )  রামনারায়ণ  চৌধুরী  এই  দুটি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  বীরভূম  জেলার  কেন্দুবিল্বের  নিকট  সেনপাহাড়ি  গ্রাম  থেকে  এঁরা  এখানে  এসেছিলেন। এই  বংশের  নিধিরাম  রায়  সম্রাট  আকবরের  কাছ  থেকে  চৌধুরী  উপাধি  পান।  তিনি  চার-পাঁচটি  ভাষায়  পারদর্শী  ছিলেন।  তিনি  প্রভূত  সম্পত্তি  রেখে  যান।  রায়চৌধুরীদের  দুটি  বাড়িতে  দুটি  মন্দির।  বড়  বাড়িতে  রামনারায়ণ  প্রতিষ্ঠিত  রাধাগোবিন্দ  ও  ছোট  বাড়িতে  ইন্দ্রনারায়ণ  প্রতিষ্ঠিত  লক্ষ্মীনারায়ণের  মন্দির।  'টেকনো  ইণ্ডিয়া'র  সত্তম  রায়চৌধুরী  ছোট  বাড়ির  বংশধর।  

            রাধাগোবিন্দের  মন্দির  পাঁচ  খিলান  বিশিষ্ট  একটি  দালান।  এই  মন্দিরের  বিবরণ  আগেই  দিয়েছি।  মন্দিরের  বাইরে  আছে  রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ।  দোলমঞ্চটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  উপরে  ওঠার  বাঁকানো  সিঁড়ি।  অষ্টকোণ  ও  আটটি  খিলানযুক্ত।  দোলমঞ্চের  বাইরে  দুই  খিলানের  মধ্যবর্তী  অংশে,  খিলানের  উপরে,  কার্নিশের  নিচে,  স্তম্ভে  ও  ভিতরের  খিলানের  উপরে  অপূর্ব  পঙ্খের  কাজ  আছে।  এমন  সুন্দর  পঙ্খের  কাজযুক্ত  দোলমঞ্চ   কালের  করাল  গ্রাসে  আজ  ধ্বংসের  পথে।  বড়  বাড়ির  এক  প্রতিনিধির  সঙ্গে  আমার  দেখা  হয়ে  ছিল।  তাঁরা  আর্থিক  কারণে  দোল  মঞ্চটির  সংস্কার  করতে  অপারক,  কারো  হাতে  তুলে  দিতে  চান।  রাধাগোবিন্দ  মন্দির  ও  বিগ্রহের  ভার  ইতিমধ্যে  ওঙ্কার  সেবক  সংঘের  হাতে  অর্পণ  করেছেন।

            দোলমঞ্চটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ২১.০৩.২০১৭

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ

রাধাগোবিন্দের  দোলমঞ্চ

দোলমঞ্চের  শিখর

দোলমঞ্চের  মাঝের  অংশের  বিন্যাস

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ১

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ২

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৩

খিলানের  উপরের  কাজ

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৪

দোলমঞ্চে  পঙ্খের  কাজ - ৫

দোলমঞ্চে  ভিতরের  খিলানের  কাজ 


সহায়ক  গ্রন্থাবলী :
         ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য 
        )  হুগলি  জেলার  দেব  দেউল  :  সুধীর  কুমার  মিত্র

                    -----------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

Shib Temple, Nakashipara, Nadia,West Bengal


শিবমন্দির, নাকাশিপাড়া, নদিয়া

                         শ্যামল কুমার  ঘোষ  

            শিয়ালদহ-লালগোলা রেলপথে বেথুয়াডহরী একটি স্টেশন। শিয়ালদহ থেকে দূরত্ব ১২৮ কিমি। স্টেশন থেকে ৫ কিমি পশ্চিমে নাকাশীপাড়া গ্রাম। বেথুয়াডহরী স্টেশন থেকে টোটোতে সহজেই এই গ্রামে যাওয়া যায়। ৩৪ নং জাতীয় সড়ক বেথুয়াডহরীর উপর দিয়ে গেছে। তাই ৩৪ নং জাতীয় সড়ক ধরেও এই গ্রামে যাওয়া  যায়।     

            নাকাশিপাড়া খুব প্রাচীন গ্রাম। পূর্বে এর নাম ছিল  ''নাগরকিপাড়া'' বা নাগরিকপাড়া। পরে এর নাম হয় নাকাশিপাড়া। পূর্বে গ্রামটি কাটোয়া মহকুমার অধীন অগ্রদ্বীপ থানার অন্তর্গত ছিল। পরে কৃষ্ণনগর মহকুমার অধীন হয়ে এই গ্রামে নাকাশীপাড়া থানা তৈরি হয়। আরও পরে ১৯২০ সালে এপ্রিল মাসে যাতায়াতের অসুবিধার জন্য রেলওয়ে স্টেশনের কাছে, বেথুয়াডহরীতে থানা উঠে গেলেও থানার নাম 'নাকাশীপাড়া'ই থেকে  যায়।

            গ্রামের স্কুলের কাছে একই ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত তিনটি পাশাপাশি চারচালা মন্দির আছে। মন্দিরগুলি প্রতিষ্ঠিত হয় অনারারি ম্যাজিস্ট্রেট ও জমিদার শিবেন্দ্রনাথ সিংহরায়ের আমলে। দু পাশের মন্দির দুটিতে দুটি শিবলিঙ্গ পূজিত হন। একটি শিবলিঙ্গ শ্বেতপাথরের, অন্যটি কালো কষ্টিপাথরের। মাঝের  মন্দিরটিতে  ছিল  লক্ষ্মী জনার্দনের স্বর্ণমূর্তি। এক সময় দুটি শিবলিঙ্গ ও স্বর্ণমূর্তি চুরি  যায়।  প্রশাসনের তৎপরতায় শিবলিঙ্গ দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে শাস্ত্রবিধি মেনে দুটি শিবলিঙ্গই পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালে গ্রামের মেয়েরা পাটুলি ঘাট থেকে গঙ্গাজল নিয়ে এসে শিবের মাথায় ঢালেন। আশেপাশের দশ বারোটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্ন-ব্যঞ্জন-পরমান্ন প্রসাদ বিতরণ করা হয়। লক্ষ্মী-জনার্দনের স্বর্ণমূর্তিটি না পাওয়ার জন্য অনেকদিন মাঝের মন্দিরটি ফাঁকাই পড়ে থাকে। অনেক পরে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ ও শ্রীমার মূর্তি স্থাপিত হয়। মন্দিরের সামনের দেওয়ালে সুন্দর পঙ্খের কাজ আছে। কোন প্রতিষ্ঠাফলক না থাকায় প্রতিষ্ঠাকাল বলা সম্ভব নয়। তবে কমবেশি দু'শ বছর আগে, মন্দির টেরাকোটা শিল্পের অবনতির যুগে, নতুন ভাবে পঙ্খের অলংকরণের সূচনা হয়। অতএব, এ পুরাকীর্তিগুলি কমবেশি ২০০ বছরের পুরানো হতে পারে। গ্রামের স্থানীয় স্কুলের সামনে একটি ষড়ভুজ রাসমঞ্চও  আছে।

            মন্দিরগুলি পরিদর্শনের তারিখ : ১৫.০৮.২০১৭



তিনটি  চারচালা  শিবমন্দির 

বাঁ  দিকের  শিবমন্দির 

মন্দিরটির  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

মাঝের  শিবমন্দির 

ডান  দিকের  শিবমন্দির 

মন্দিরটির  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

রাসমঞ্চ
    
সহায়ক গ্রন্থ :

           ১) নদীয়া জেলার পুরাকীর্তি : মোহিত রায় ( তথ্য-সংকলন ও গ্রন্থনা )

           ২) আমাদের গ্রাম : সমীরেন্দ্র নাথ সিংহরায়
           ৩) অখণ্ড নাকাশিপাড়া কথা : দিলীপ মজুমদার 
  

          --------------------------------------------

  অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                       

শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৭

Chinmayi and Siddheswari Kali Mata Temple, Ranaghat, Nadia,West Bengal


চিন্ময়ী  ও  সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মাতা  মন্দির,  রানাঘাট, নদিয়া

                শ্যামল কুমার ঘোষ 

          নদিয়া  জেলার  রানাঘাট  থানার  অন্তর্গত  এবং  রানাঘাট  রেল  স্টেশন  থেকে  ১১  কিমি  দক্ষিণ-পশ্চিমে  অবস্থিত  হরধাম  গ্রাম।  নদিয়ারাজ  কৃষ্ণচন্দ্র  এই  গ্রামের  পত্তন  ও  নামকরণ  করেন।  তিনি  এখানে  রাজপ্রাসাদ,  মন্দির  ইত্যাদি  নির্মাণ  করেন।  সেই  সমস্তই  আজ  ধ্বংসস্তুপে  পরিণত  হয়েছে।  

            কৃষ্ণচন্দ্রের  মৃত্যুর  পর  তাঁর  দ্বিতীয়া  মহিষীর  গর্ভজাত  একমাত্র  শম্ভুচন্দ্রই  এখানে  অবস্থান  করেন  এবং  তাঁর  বংশধররা  এখানে  বসবাস  করতেন।  এই  শাখা  বংশ  কৃষ্ণচন্দ্রের  সঙ্গে  সাক্ষাৎ  রক্তসম্পর্কিত। 

            শম্ভুচন্দ্রের  মধ্যম  পুত্র  পৃথ্বীচন্দ্রের  পত্নী  রাধামণি  দেবী  ১৭৮৫  শকাব্দে  ( ১৮৬৩  খ্রিস্টাব্দে )  পঙ্খের  অলংকরণযুক্ত  একটি  দক্ষিণমুখী  চারচালা  মন্দির  নির্মাণ  করে  চিন্ময়ী  নামে  কষ্টিপাথরের  এক  কালীমূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করেন। 

            চাকদহ  থানার  অন্তর্গত  সুখসাগর  গ্রামে  নদিয়ারাজ  কৃষ্ণচন্দ্র  এক  চারচালা  মন্দির  নির্মাণ  করে  উগ্রচণ্ডী  বা  সিদ্ধেশ্বরী  নামে   পাথরের  এক  কালী  মূর্তি  প্রতিষ্ঠা  করেন। বহুদিন  পূর্বে  মন্দিরটি  নদীগর্ভে  নিমজ্জিত  হওয়ার  আশঙ্খা  হলে  মূর্তিটি  হরধামের  চিন্ময়ী  মন্দিরে  রাখা  হয়।  আগেই  বলা  হয়েছে,  হরধামের  রাজপ্রাসাদ-মন্দিরও  আজ  ধ্বংসস্তুপে  পরিণত  হয়েছে। 

            বর্তমানে  চিন্ময়ী  ও  সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মূর্তি  নদিয়ারাজ  বংশের  হরধাম  শাখার  বংশধর  যোগেশচন্দ্র  রায়ের ( রানাঘাট,  ছোটবাজারের  কাছে )  বাসভবনে  এক  শিখরযুক্ত  দালান  মন্দিরে  একটি  কাঠের  সিংহাসনে  প্রতিষ্ঠিতা  ও  নিত্যপূজিতা। 

সিদ্ধেশ্বরী  ও  চিন্ময়ী  কালী  মূর্তি

মন্দিরের  শিখর

চিন্ময়ী  কালী  মূর্তি - ১

চিন্ময়ী  কালী  মূর্তি - ২

সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মূর্তি - ১

সিদ্ধেশ্বরী  কালী  মূর্তি - ২

সহায়ক  গ্রন্থ :


                 ১)  নদীয়া  জেলার  পুরাকীর্তি : মোহিত  রায় ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )  

                                                           ******

                 পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য কালী মন্দির সম্বন্ধে জানতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন : 
         

          ------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন। আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না। অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য - ৫৯৯ টাকা।



 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।