বৃহস্পতিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৮

Bishnu Temple, Kamarpukur, Goghat, Hooghly, West Bengal


বিষ্ণু  মন্দির,  কামারপুকুর,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ 


             গোঘাট  থানা  ও  ব্লকের  অন্তর্গত  গ্রাম  কামারপুকুর।  আরামবাগ  ও  তারকেশ্বর  থেকে  সহজেই  এখানে  যাওয়া  যায়।  শ্রীরামকৃষ্ণ  পরমহংসের  জন্মভূমির  আকর্ষণে  কামারপুকুরে  প্রতিদিন  বহু  লোকের  আগমন  হয়।  এখানে  অনেক  গুলি  মন্দির  আছে।  তার  মধ্যে  লাহা  পরিবার  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  বিষ্ণু  মন্দির  পুরাকীর্তির  দিক  থেকে  উল্লেখযোগ্য।  মন্দিরটি  উনিশ  শতকের শেষ  দিকে  নির্মিত।
 
             পূর্বে  গোস্বামী  বংশ  কামারপুকুরের  জমিদার  ছিলেন।  পরে  লাহাবাবুদের  হাতে  জমিদারি  চলে  আসে।  লাহাবংশের  সঙ্গে  শ্রীরামকৃষ্ণের  বাল্যলীলার  বহু  স্মৃতি  বিজড়িত  আছে।  ধর্মদাস  লাহার  সঙ্গে  ক্ষুদিরাম  চট্টোপাধ্যায়ের  বিশেষ  সৌহার্দ্য  ছিল।  ধর্মদাসের  অর্থ  সাহায্যে  গদাধরের  অন্নপ্রাসনে  ক্ষুদিরাম  চট্টোপাধ্যায়  গ্রামের  সকলকে  ভূরিভোজে  আপ্যায়িত  করেন।  লাহাবাবুদের  বংশধরগণ  এখন  বিষ্ণু  মন্দিরের  আশে  পাশে  আলাদা  আলাদা  বাড়ি  করে  বসবাস  করছেন। 

            লাহাদের  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত,  দক্ষিণমুখী  ও  দালান  ধরনের।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরটির  উপরে  ও  নিচে  ঘর  আছে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালের  দু  ধারে  এবং  মাথার  উপর  এক  সারি  ফলকের  মধ্যে  কুড়িটি  টেরাকোটার  দেবদেবীর  মূর্তি  আছে।  মূর্তি  গুলি  হল :  রাম-সীতা,  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গভগীরথের  গঙ্গা  আনয়ন,  মা  ষষ্ঠী,  শালভঞ্জিকা,  রামভক্ত  হনুমান  ও   সিদ্ধিদাতা  গনেশ  ইত্যাদি।  মূর্তি  গুলির  কয়েকটি  এখন  নষ্ট  হয়ে  গেছে।  অলিন্দের  দেওয়ালে  কয়েকটি  হাতে  আঁকা   চিত্র  আছে।  গর্ভগৃহের  দরজার  দুপাশে  দুটি  মানুষের  মূর্তি  উল্লেখযোগ্য।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী  বিষ্ণু  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।  বাল্যকালে  গদাধর  ( শ্রীরামকৃষ্ণ )  পাঠশালায়  পড়তে  না  গিয়ে  এই  মন্দিরে  এসে  মা  কালীর  ছবি  আঁকতেন  ও  ধ্যান  করতেন।  এখানে  উল্লেখ্য,  বাল্যকালে  শ্রীরামকৃষ্ণ  যে  পাঠশালায়  পড়তেন  সেটি  এই  মন্দিরের  পাশেই  অবস্থিত। 

            মন্দিরটির  পরিদর্শনের  তারিখ : ৩০.১২.২০১৭ 
     


বিষ্ণু  মন্দির,  কামারপুকুর 

দধিমন্থন কালে শ্রীকৃষ্ণের দধিভান্ডে হস্ত প্রবেশ 

রাম-সীতা 

     ভগীরথের  গঙ্গা  আনয়ন 

      ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ  

দুই সখি  সহ  কৃষ্ণ 

ষষ্ঠী  ঠাকরুন 

শালভঞ্জিকা 

ঘোড়ায়  চড়ে  শিকার 
গনেশ  জননী 

রামভক্ত  হনুমান 

সঙ্গিনীসহ  পুরুষ 

শিবপুজো 

সিদ্ধিদাতা  গনেশ 

দেওয়াল  চিত্র 

গর্ভগৃহের  সামনে 

শ্রীশ্রী বিষ্ণু  ( নারায়ণ  শিলা )


 সহায়ক  গ্রন্থাবলী / সূত্র :        
১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড )   :  সুধীরকুমার  মিত্র
২)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য
৩)  মন্দিরে  লাগানো  ফলক                                                              

             ---------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। ববইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।





প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।


বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৮

Damodar Temple, Badanganj, Goghat, Hooghly, West Bengal


দামোদর  মন্দির,  বদনগঞ্জ,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            আরামবাগ  মহকুমার  গোঘাট  থানার  অন্তর্গত  একটি  গ্রাম  বদনগঞ্জ।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  গোঘাটের  দূরত্ব  ৯২  কিমি।  হাওড়া  থেকে  ট্রেনে  গোঘাট  গিয়ে  সেখান  থেকে  বাসে  বদনগঞ্জ  যাওয়া  যায়  আরামবাগ  বা  তারকেশ্বর  থেকে  বাসেও  এখানে  যেতে  পারেন।  একসময়  গ্রামটি   তসর  ও  রেশম  শিল্পের  জন্য  প্রসিদ্ধ  ছিল।

            গ্রামে  বরাট  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  দামোদর  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত  ও  নবরত্ন  শৈলীর  মন্দির।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরে  ঢোকার  একটিই  দরজা।  নির্মাণকাল  ১৮১০  খ্রিষ্টাব্দ  বা  ১২১৭  বঙ্গাব্দ।  মন্দিরের  উত্তর  দিকের  দেওয়ালে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  রঙের  প্রলেপে  লেখা  অস্পষ্ট  হলেও  নির্মাণকাল  বোঝা  যাচ্ছে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  'টেরাকোটা'র  অলংকরণ  আছে।  এই  টেরাকোটার  চিত্রাবলী  খুবই  আকর্ষণীয়।  'টেরাকোটা'র  বিষয় :  রাম-রাবণের  যুদ্ধ,  কৃষ্ণলীলা,  কালী,  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ,  নারদ,  বরাহ  অবতার,   মৎস্যাবতার,  ভক্ত  হনুমান,  মহিষাসুরমর্দিনী  মূর্তি  ইত্যাদি।  মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকের  দেওয়ালে  কৃষ্ণকালীর  একটি  ফলক  আছে।  নবরত্ন  মন্দিরের  দ্বিতলের  সামনের  দেওয়ালে  দুটি  'টেরাকোটা'র  গনেশ  মূর্তি  এবং  উত্তরদিকের  দেওয়ালে  পঙ্খের  কাজ  উল্লেখযোগ্য।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী  দামোদর  জিউ  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।

            মন্দিরটির  আশু  সংস্কারের  প্রয়োজন।  সরকারের  কাছে  এবং  বদনগঞ্জের  জন-প্রতিনিধিদের  কাছে  আবেদন  করছি  যাতে  তাঁরা  এ  ব্যাপারে  একটু  সহৃদয়  হন।  পুরাতত্বের  দিক  থেকে  এই  মন্দির  বদনগঞ্জবাসীদের  কাছে  সত্যই  গর্বের  বস্তু।

            মন্দিরটির  পরিদর্শনের  তারিখ : ৩০.১২.২০১৭ 


দামোদর  মন্দিরের  একটি  'টেরাকোটা'  মূর্তি

দামোদর  মন্দিরের  উপরের  অংশ 

মন্দিরের  দ্বিতলের  সামনের  বিন্যাস 

সামনের  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

বিভিন্ন  মুখ 

এক  দিকের  সিদ্ধিদাতা  গনেশ 

অপর  দিকের  সিদ্ধিদাতা  গনেশ 

উত্তর  দিকের  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

মন্দিরের  শিখর 

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

মন্দিরের  ত্রিখিলান  বিন্যাস 

বাঁ   দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

রাম-রাবণের  যুদ্ধ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

বস্ত্রহরণ  ও  অন্যান্য  চিত্র 

কৃষ্ণ

বলরাম 
টেরাকোটার  মূর্তি

শিব  পূজা  ও  মৎস্যাবতার 

বরাহ  অবতার 

অশ্বারোহী  যোদ্ধা  ও  গনেশ   

নারদ  ও  অন্য  চিত্র 

কালী  ও  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ 

কালী 

ছেলে  কাঁকে  মহিলা  ও  অন্য  দুটি  চিত্র 

ছেলে  কাঁকে  মহিলা  ও  ভক্ত  হনুমান  

মহিষাসুরমর্দিনী  ও  দধিমন্থন 

মহিষাসুরমর্দিনী  মূর্তি 

দক্ষিণ  দিকের  দেওয়ালের  ফলক
( কৃষ্ণকালী ) 

প্রতিষ্ঠাফলক 

শ্রীশ্রী দামোদর  জিউ ( নারায়ণ  শিলা )

         সহায়ক  গ্রন্থাবলী :             
                       ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য

                 ------------------------------------

  অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।