বুধবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৮

Damodar Temple, Badanganj, Goghat, Hooghly, West Bengal


দামোদর  মন্দির,  বদনগঞ্জ,  হুগলি 

শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            আরামবাগ  মহকুমার  গোঘাট  থানার  অন্তর্গত  একটি  গ্রাম  বদনগঞ্জ।  রেলপথে  হাওড়া  থেকে  গোঘাটের  দূরত্ব  ৯২  কিমি।  হাওড়া  থেকে  ট্রেনে  গোঘাট  গিয়ে  সেখান  থেকে  বাসে  বদনগঞ্জ  যাওয়া  যায়  আরামবাগ  বা  তারকেশ্বর  থেকে  বাসেও  এখানে  যেতে  পারেন।  একসময়  গ্রামটি   তসর  ও  রেশম  শিল্পের  জন্য  প্রসিদ্ধ  ছিল।

            গ্রামে  বরাট  বংশ  কর্তৃক  প্রতিষ্ঠিত  দামোদর  মন্দিরটি  উল্লেখযোগ্য।  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথযুক্ত  ও  নবরত্ন  শৈলীর  মন্দির।  গর্ভগৃহের  সামনে  অলিন্দ।  মন্দিরে  ঢোকার  একটিই  দরজা।  নির্মাণকাল  ১৮১০  খ্রিষ্টাব্দ  বা  ১২১৭  বঙ্গাব্দ।  মন্দিরের  উত্তর  দিকের  দেওয়ালে  একটি  প্রতিষ্ঠাফলক  আছে।  রঙের  প্রলেপে  লেখা  অস্পষ্ট  হলেও  নির্মাণকাল  বোঝা  যাচ্ছে।  মন্দিরের  সামনের  দেওয়ালে  'টেরাকোটা'র  অলংকরণ  আছে।  এই  টেরাকোটার  চিত্রাবলী  খুবই  আকর্ষণীয়।  'টেরাকোটা'র  বিষয় :  রাম-রাবণের  যুদ্ধ,  কৃষ্ণলীলা,  কালী,  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ,  নারদ,  বরাহ  অবতার,   মৎস্যাবতার,  ভক্ত  হনুমান,  মহিষাসুরমর্দিনী  মূর্তি  ইত্যাদি।  মন্দিরের  দক্ষিণ  দিকের  দেওয়ালে  কৃষ্ণকালীর  একটি  ফলক  আছে।  নবরত্ন  মন্দিরের  দ্বিতলের  সামনের  দেওয়ালে  দুটি  'টেরাকোটা'র  গনেশ  মূর্তি  এবং  উত্তরদিকের  দেওয়ালে  পঙ্খের  কাজ  উল্লেখযোগ্য।  গর্ভগৃহে  শ্রীশ্রী  দামোদর  জিউ  ( নারায়ণ  শিলা )  নিত্য  পূজিত।

            মন্দিরটির  আশু  সংস্কারের  প্রয়োজন।  সরকারের  কাছে  এবং  বদনগঞ্জের  জন-প্রতিনিধিদের  কাছে  আবেদন  করছি  যাতে  তাঁরা  এ  ব্যাপারে  একটু  সহৃদয়  হন।  পুরাতত্বের  দিক  থেকে  এই  মন্দির  বদনগঞ্জবাসীদের  কাছে  সত্যই  গর্বের  বস্তু।

            মন্দিরটির  পরিদর্শনের  তারিখ : ৩০.১২.২০১৭ 


দামোদর  মন্দিরের  একটি  'টেরাকোটা'  মূর্তি

দামোদর  মন্দিরের  উপরের  অংশ 

মন্দিরের  দ্বিতলের  সামনের  বিন্যাস 

সামনের  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

বিভিন্ন  মুখ 

এক  দিকের  সিদ্ধিদাতা  গনেশ 

অপর  দিকের  সিদ্ধিদাতা  গনেশ 

উত্তর  দিকের  খিলানের  উপরের  পঙ্খের  কাজ 

মন্দিরের  শিখর 

মন্দিরের  সামনের  বিন্যাস 

মন্দিরের  ত্রিখিলান  বিন্যাস 

বাঁ   দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ

বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ

মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

রাম-রাবণের  যুদ্ধ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 

ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ ( বড়  করে )

বস্ত্রহরণ  ও  অন্যান্য  চিত্র 

কৃষ্ণ

বলরাম 
টেরাকোটার  মূর্তি

শিব  পূজা  ও  মৎস্যাবতার 

বরাহ  অবতার 

অশ্বারোহী  যোদ্ধা  ও  গনেশ   

নারদ  ও  অন্য  চিত্র 

কালী  ও  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ 

কালী 

ছেলে  কাঁকে  মহিলা  ও  অন্য  দুটি  চিত্র 

ছেলে  কাঁকে  মহিলা  ও  ভক্ত  হনুমান  

মহিষাসুরমর্দিনী  ও  দধিমন্থন 

মহিষাসুরমর্দিনী  মূর্তি 

দক্ষিণ  দিকের  দেওয়ালের  ফলক
( কৃষ্ণকালী ) 

প্রতিষ্ঠাফলক 

শ্রীশ্রী দামোদর  জিউ ( নারায়ণ  শিলা )

         সহায়ক  গ্রন্থাবলী :             
                       ১)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য

                 ------------------------------------

  অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

Radhaballabh Temple, Khanakul Krishnanagar, Hooghly, West Bengal


রাধাবল্লভ  মন্দির,  খানাকুল-কৃষ্ণনগর,  হুগলি

শ্যামল  কুমার  ঘোষ  

            খানাকুল  থানা  ও  খানাকুল  ব্লকের  অন্তর্গত  একটি  গ্রাম  কৃষ্ণনগর।  খানাকুল  থেকে  সামান্য  দূরে  অবস্থিত।  হুগলি  জেলায়  কৃষ্ণনগর  নামে  আরও  একটি  প্রসিদ্ধ  গ্রাম  আছে।  তাই  তার  থেকে  পৃথক  করার  জন্য  এটিকে  খানাকুল-কৃষ্ণনগর  বলে  অভিহিত  করা  হয়।  অন্য  কৃষ্ণনগরকে  জাঙ্গিপাড়া-কৃষ্ণনগর  বলা  হয়।  তারকেশ্বর  বা  আরামবাগ  থেকে  বাসে  এখানে  যাওয়া  যায়।  যাদবেন্দ্র  সিংহ রায়চৌধুরী  ও  তাঁর  পৌত্র  বংশীধর  সিংহ রায়চৌধুরী  সপ্তদশ  শতাদ্বীতে  পণ্ডিত  নারায়ণ  চন্দ্র  বন্দোপাধ্যায়  ওরফে  নারাণ  ঠাকুরের  সহায়তায়  এই  অঞ্চলের  তিনশ  গ্রাম  নিয়ে  খানাকুল-কৃষ্ণনগরের  সমাজ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  এই  অঞ্চল  সেই  সময়  সমগ্র  বাংলায়  একটি  আদর্শ  স্থান  বলে  গণ্য  হত।  বংশীধর  সিংহ রায়চৌধুরী  খানাকুল-কৃষ্ণনগরের  সমাজ  স্থাপনের  জন্য  বঙ্গের  বিভিন্ন  স্থান  থেকে  সর্বশ্রেষ্ঠ  কুলীন  ও  পণ্ডিতদের  নিয়ে  এসে  এই  স্থানে  বসবাস  করান।  একমাত্র  নবদ্বীপ  ছাড়া  এত  পণ্ডিত  ব্যক্তির  বাস  বাংলায়  আর  কোথাও  ছিল  না  বলে  এই  স্থানকে  তখন  দ্বিতীয়  নবদ্বীপ  বলা  হত।  যাদবেন্দ্র  সিংহ রায়চৌধুরী  প্রতিষ্ঠিত   খানাকুল-কৃষ্ণনগরের  রাধাবল্লভ  জিউর  মন্দিরটি  প্রাচীন  স্থাপত্য  শিল্পের  এক  অপূর্ব  নিদর্শন।  

            উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  পূর্বমুখী  রাধাবল্লভ  মন্দিরটি  একরত্ন  বা  এক  শিখর  বিশিষ্ট।  বর্গাকার  মন্দিরের  গর্ভগৃহের  উপর  চারচালা  শৈলীর  একরত্নটি  ক্রমহ্রস্বমান  আকৃতিতে  সরু  হয়ে  উঠে  যাওয়ায়  একরত্ন  মন্দির  শিল্পের  এক  নতুন  দর্শনীয়  দৃষ্টান্ত  হয়েছে।  মন্দিরের  সামনে  ও  দক্ষিণ  দিকে  তিনটি  খিলানযুক্ত  প্রবেশপথ।  মন্দিরের  সামনে  ও  দক্ষিণ  দিকে  অলিন্দ।  মন্দিরের  পরিমাপ  দৈর্ঘ্যে  ১৪.৯  মিটার  এবং  প্রস্থে  ১৪.২৫  মিটার।  মন্দিরের  সামনের  পুরো  দেওয়াল  জুড়ে  'টেরাকোটা'  অলংকরণ  বর্তমান।  তবে  এই  'টেরাকোটা'য়  মূর্তি  অনুপস্থিত।  দক্ষিণ  দিকের  দেওয়ালে  অল্প  'টেরাকোটা'  এবং  রত্নের  পূর্ব  ও  দক্ষিণ  দিকেও  'টেরাকোটা'  বর্তমান।  অলিন্দে  রঙিন  পঙ্খের  কাজ  দর্শনীয়।  গর্ভগৃহে  রাধাবাবল্লভ-রাধিকা  ও  অপর  একজোড়া  কৃষ্ণ-রাধিকা  মূর্তি  নিত্য  পূজিত। 

            মন্দিরটির  পরিদর্শনের  তারিখ : ২২.১২.২০১৭ 


শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  মন্দির ( বাঁ  দিক  থেকে  তোলা )

রাধাবল্লভ  মন্দিরের  ফটক 
ফটকের  উপরে  পঙ্খের  কাজ 

শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  মন্দির ( বাঁ  দিক  থেকে  তোলা,  বড়  করে )
শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  মন্দির ( সামনে  থেকে  তোলা )
মন্দিরের  সামনের ত্রিখিলান  বিন্যাস 
বাঁ  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ 
মাঝের  খিলানের  উপরের  কাজ 
ডান  দিকের  খিলানের  উপরের  কাজ
দক্ষিণ  দিকের  তিনটি  খিলানের  একটি  খিলান  
মন্দিরের  এক  প্রান্তের  টেরাকোটার  কাজ 
টেরাকোটার  কাজ - ১
টেরাকোটার  কাজ - ২
মন্দিরের  চারচালা রত্ন 


শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ 
        
   সহায়ক  গ্রন্থাবলী :        
         ১)  হুগলি  জেলার  ইতিহাস  ও  বঙ্গসমাজ ( ৩ য়  খণ্ড ) :  সুধীরকুমার  মিত্র
         ২)  হুগলি  জেলার  পুরাকীর্তি :  নরেন্দ্রনাথ  ভট্টাচার্য

            ----------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল। 

বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।




 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।