বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৬

Shrishri Radhaballabh Jiu Temple, Ashananda's House, Santipur, Nadia, West Bengal

শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির,  আশানন্দ  বাড়ি,  শান্তিপুর, নদিয়া

                                                            শ্যামল  কুমার  ঘোষ

                  উনবিংশ  শতকের  প্রথম  ভাগে  শান্তিপুরে  আশানন্দ  মুখোপাধ্যায়  নামে  এক  বীরপুরুষ  জন্মগ্রহণ  করেন।  তিনি  যেমন  সরল  প্রকৃতি  ও  সহৃদয়  ছিলেন  তেমনই  ছিলেন  অসীম  শক্তির  অধিকারী।  একবার  তিনি  অতিথি  হয়ে  জনৈক  ধনী  গৃহস্থের  বাড়িতে  রাত  কাটাচ্ছিলেন।  ওই  বাড়িতে  রাতে  হঠাৎ  একদল  ডাকাত  পড়ে।  আশ্রয়দাতা  গৃহস্বামীর  এরূপ  বিপদ  দেখে  বীর   আশানন্দ  হাতের  কাছে  অন্য  অস্ত্র  না  পেয়ে  কাছের  একটি  ঢেঁকিশাল  থেকে  এক  প্রকাণ্ড  ঢেঁকি  নিয়ে  ডাকাতদের  মোকাবিলা  করেন  এবং  তাদের  তাড়িয়ে  দেন।  এই  কাজের  জন্য  তিনি  জনসমাজে  'আশানন্দ  ঢেঁকি'  নামে  পরিচিত  হন।  ১৩৩৯  বঙ্গাব্দে  বীর  আশানন্দের  স্মৃতি  রক্ষার  জন্য  তাঁর  বাসভবনের  সামনে  একটি  স্মৃতিস্তম্ভ  নির্মাণ  করা  হয়। 


আশানন্দের  স্মৃতিস্তম্ভ

                 
আশানন্দের  কোন  এক  পূর্বপুরুষ  আনুমানিক  পাঁচশো  বছর  আগে  নিজগৃহে  শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  বিগ্রহ  প্রতিষ্ঠা  করেন।  বিগ্রহ  বর্তমানে  শিখরযুক্ত  এক  দালান  মন্দিরে  স্থাপিত।  আশানন্দের  বংশধরদের  মধ্যে  কেউ  জীবিত  না  থাকায়  এবং  তাঁর  দূর  সম্পর্কের  আত্মীয়-স্বজনের  অবস্থাও  দুর্বল  হওয়ায়  এই  পল্লীর  জনসাধারণ  ১৯৩৩  খ্রিস্টাব্দের  ২০ শে   সেপ্টেম্বর  একটি  ট্রাষ্টিবোর্ড  গঠন  করে  এই  বিগ্রহ  পরিচালনার  ভার  গ্রহণ  করেন।  মন্দিরে  রাধাবল্লভ  জিউর  নিত্যপূজা  ছাড়াও  রাস  পূর্ণিমায়  সাড়ম্বরে  রাসোৎসব  পালন  করা  হয়।  ভাঙারাসের  উৎসবে   আশানন্দ  পল্লীর  শোভাযাত্রায়  ঢেঁকি  হাতে  আশানন্দের  দীর্ঘকায়  পট  সর্বাগ্রে  রাখা  হয়।  এখানে  উল্লেখ্য,  আশানন্দ  পল্লীই  রাসের  শোভাযাত্রায়  প্রথম  মানুষ  সঙ  বার  করে  যা  আজও  চলে  আসছে।


                  শান্তিপুরের  আশানন্দের  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই। স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত    আশানন্দের  বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে ।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন।


আশানন্দের  বাড়ির  গেট  ও  শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রী শ্রী  রাধাবল্লভ  জিউ  মন্দির

শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী রাধাবল্লভ  বিগ্রহ - ২

মন্দিরটি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ১২.০১.২০১৬

সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :           
                   ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা     
                   ২. বাংলায়  ভ্রমণ  ( ১ম  খণ্ড ) : পূর্ববঙ্গ  রেলপথের  প্রচার  বিভাগ  কর্তৃক  প্রকাশিত
      
                         ----------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

Shri Radharaman Jiu Temple, Dindayal Babur Bari, Santipur, Nadia, West Bengal

 শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির, দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ি,  শান্তিপুর,  নদিয়া 

                                           শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

            এই  বাড়ির  পূর্বপুরুষরা  আগে  সমুদ্রগড়ে  বাস  করতেন।  প্রায়  তিনশো  বছর  আগে  ব্যবসার  কারণে  তাঁরা  শান্তিপুরে  চলে  আসেন।  তাঁদের  রেশম  ও  বস্ত্রের  ব্যবসা  ছিল।  এঁদেরই   পূর্বপুরুষ  রামচন্দ্র  প্রামাণিক  ১২০৭  বঙ্গাব্দে  একটি  ঠাকুর  দালান   নির্মাণ  করে  গর্ভগৃহে  প্রতিষ্ঠা  করেন  কষ্টিপাথরের  শ্রীরাধারমণ  ও  অষ্টধাতুর  শ্রীমতি  বিগ্রহ।  পরে  তাঁর  পৌত্র  দাশুবাবু  প্রচুর  অর্থব্যয়ে  এই  ঠাকুর  দালানের  আমূল  সংস্কার  করেন।  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত।  মন্দিরের  সামনে  বাঁধান  ফাঁকা  উঠোন  এবং  তাকে  ঘিরে  চকমিলানো  অন্যান্য  ঘর।  বিগ্রহের  নিত্য  পূজা  ছাড়াও  অন্যান্য  বৈষ্ণব-উৎসব  ও  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয়।  রাসের  সময়  প্রাচীনকালের  বেলোয়ারি  ঝাড়বাতিতে  মোমবাতির  স্নিগ্ধ  আলোয়  এখানকার  রাস  উৎসব  পালন  করা  হয়।

             দাশুবাবুর  পুত্রই  জমিদার  দীনদয়াল  প্রামাণিক।  দীনজনের  প্রতি  তিনি  অত্যন্ত  দয়ালু  ছিলেন  বলে  তাঁর  নাম  হয়  দীনদয়াল।  এক  সময়  অর্থাভাবে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল  উচ্চ  বিদ্যালয়ের  শিক্ষকদের  বেতন  বন্ধ  হওয়ার  উপক্রম  হলে  তিনি  সেই  বেতনের  দায়িত্ব  নেন।  এই  বাড়ির  বংশধর  যশোদানন্দন  প্রামাণিক  ছিলেন  অসাধারণ  পণ্ডিত।  তিনি  ১৮৭১  খ্রিস্টাব্দে  এম-এ  পরীক্ষায়  ইতিহাসে  প্রথম  বিভাগে  প্রথমস্থান  পান।  যশোদাবাবু  যথাক্রমে  শান্তিপুর  মিউনিসিপ্যাল   উচ্চ   বিদ্যালয়,  ভবানীপুরের  সাউথ  সুবার্বান  স্কুল  ও  কান্দি  স্কুলের  প্রধান  শিক্ষক  রূপে  কাজ  করেন।  স্যর  আশুতোষ  মুখোপাধ্যায়  ও  রামেন্দ্র  সুন্দর  ত্রিবেদী  তাঁর  ছাত্র  ছিলেন।  তাঁর  গ্রন্থাগারের  সমস্থ  বই  তিনি  শান্তিপুরের  সাধারণ  গ্রন্থাগারে  দান  করেন।  তাঁর  নামেই  ঠাকুর  বাড়ির  সামনের  রাস্তার  নাম  যশোদানন্দন  স্ট্রীট। 

            শান্তিপুরের  দীনদয়াল  বাবুর  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি. মি. ;  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই।  স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  পটেশ্বরী  পাড়ার  কাছে  অবস্থিত  দীনদয়াল  বাবুর বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 

দীনদয়াল  বাবুর  ঠাকুরবাড়ির  সদর  দরজা

দীনদয়াল  বাবুর  বাড়ির  ঠাকুরদালান  ও  ঠাকুরবাড়ি 

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ১

শ্রীরাধারমণ  ও  শ্রীমতি  বিগ্রহ - ২

  সহায়ক  গ্রন্থাবলি  :
                 ১. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা 

                 ২. শান্তিপুর - পরিচয় ( ২ য়  ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য     

                         -----------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না, বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।





 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৬

Pagla Goswami Bari, Santipur, Nadia, West Bengal


   শ্রীশ্রী কৃষ্ণরাই  ও  কেশবরাই  জিউ  মন্দির,
    ( পাগলা  গোস্বামী  বাড়ি ),  শান্তিপুর,  নদিয়া  

                                    শ্যামল  কুমার  ঘোষ 




শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  জিউ  মন্দির

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী  কৃষ্ণরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ১

শ্রীশ্রী কেশবরাই  জিউ  মন্দির - ২

শ্রীশ্রী কেশবরাই  ও  রাধিকা  বিগ্রহ

নাটমন্দির

নাটমন্দিরের  কারুকার্য

নাটমন্দিরের  একটি  থামের  কারুকার্য

    অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাসজ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে  জন্মেএমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাসশ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভখড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 

সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির  বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 




রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান ( রা বইহেমিয়ন )। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।           

Radharaman Jiu Temple, Baro Goswami Bari, Santipur

                       

     শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির, বড়  গোস্বামী  বাড়ি, শান্তিপুর, নদিয়া

                                                             শ্যামল  কুমার  ঘোষ

              বৈষ্ণব  চূড়ামণি  শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের  সাধনক্ষেত্র  শ্রীধাম  শান্তিপুর।  কথিত  আছে,  প্রায়  সাড়ে  পাঁচশো  বছর  আগে  পিতৃ-মাতৃ  বিয়োগের  পর  শ্রীঅদ্বৈতাচার্য  ভারত  ভ্রমণে  বেড়িয়ে  বর্তমান  নেপালের  গণ্ডকী  নদী  থেকে  এক  পবিত্র  নারায়ণ  শিলা  পান।  সেই  নারায়ণ  শিলা  তিনি  পরম  শ্রদ্ধায়  তাঁর  শান্তিপুরের  বাড়িতে  এনে  নিত্যসেবা  করতে  থাকেন।  অপ্রকট  হওয়ার  আগে  তিনি  সেই  নারায়ণ  শিলার  পূজার্চনার  ভার  তাঁর  প্রিয়  পুত্র  বলরামের  হাতে  অর্পণ  করেন।  পরে  বলরাম ওই  নারায়ণ  শিলার  পূজার্চনার  দায়িত্ব  দেন  জ্যেষ্ঠ  পুত্র  মথুরেশের  হাতে।  সেই  থেকেই  বংশ  পরম্পরায়  বড়  গোস্বামী  বাড়িতে  পূজিত  হচ্ছেন  অদ্বৈতপ্রভু  প্রতিষ্ঠিত  নারায়ণ  শিলা।  শ্রীঅদ্বৈতপ্রভুর  পৌত্র  মথুরেশ  গোস্বামীর  জ্যেষ্ঠ  পুত্র  রাঘবেন্দ্রের  বাড়ি  হিসাবে  পরবর্তী  কালে  এই  বাড়ি  'বড়  গোস্বামী  বাড়ি'  নামে  খ্যাত  হয়।

              বড়  গোস্বামী  বাড়িতে  শ্রীশ্রী রাধারমণ  বিগ্রহ  এক  দালান  মন্দিরে  প্রতিষ্ঠিত।  মন্দিরে   শ্রীশ্রী রাধারমণের  বিগ্রহের  পিছনের  পাথরে  উৎকীর্ণ  লিপির  কিছু  অংশ :  

     " পুণ্যক্ষেত্র  পুরীধামে  শ্রীদোলগোবিন্দ
     বিরাজিলে  কতকাল  বিতরি  আনন্দ,   
     বসন্ত  রায়ের  প্রেমে  যশোরাগমন ।  
     যবে  মানসিংহ  করে  রাজ্য  আক্রমণ  
     শ্রীঅদ্বৈত-পৌত্র  মথুরেশ  মহামতি 
     আনিলেন  শান্তিপুরে  এ  মোহন  মূরতি । 
     জীবেরে  করুণা  করি  শ্রীরাধারমণ 
     শ্রীরাসবিহারী  রূপে  দিলে  দরশন । "

              উৎকলীয়  ভাস্কর্যরীতির  এই  বিগ্রহটি  প্রথমে  উড়িষ্যারাজ  ইন্দ্রদ্যুম্ন  কর্তৃক  দোলগোবিন্দ  (একক  কৃষ্ণমূর্তি )  নামে  পুরীধামে  প্রতিষ্ঠিত  হয়।  যশোহর  রাজ  প্রতাপাদিত্য  তাঁর  খুল্লতাত  বসন্ত  রায়ের  আদেশে  পুরী  থেকে  সেটিকে  যশোহরে  নিয়ে  এসে  প্রতিষ্ঠা   করেন।  শান্তিপুরের  মথুরেশ  ছিলেন  এই  বিগ্রহের  পুরোহিতের  গুরু।  মানসিংহের  যশোহর  আক্রমণের  সময়  মথুরেশ  সেখানে  উপস্থিত  ছিলেন।  তিনি  বিগ্রহটিকে  শান্তিপুরে  নিয়ে  এসে  নিজগৃহে  নবরূপে  'রাধারমণ'  নামে  প্রতিষ্ঠা  করেন।  মথুরেশ  তিন  বিগ্রহ  তিন  পুত্রকে  দেন ;  শ্রীশ্রী  রাধারমণ  রাঘবেন্দ্রকে,  শ্রীশ্রী  রাধাবিনোদ  ঘনশ্যামকে  এবং  শ্রীশ্রী  রাধাবল্লভ  রামেশ্বরকে।  মুকুন্দদেবের  ( রাঘবেন্দ্র  পুত্র )  পুত্র  ব্রজকিশোরের  সময়  এই  বিগ্রহ  অপহৃত  হয়।  'কাত্যায়নী'  পূজার  অনুকরণে  সেই  সময়  বড়  গোস্বামী  বাড়িতে  দুর্গাপূজার  প্রবর্তন  হয়।  কাত্যায়ন  মুনি  সর্বাগ্রে  তাঁর  উপাসনা  করেন  বলে  এই  নাম।  দিগনগরের  ঘোলার  বিলে  অপহৃত  বিগ্রহ  পাওয়া  যায়।  কৃষ্ণনগরের  রাজবাড়িতে  নিদর্শন  দেখিয়ে  বিগ্রহ  ফিরিয়ে  এনে  পুনরায়  প্রতিষ্ঠা  করা  হয়।  গোস্বামী  পরিবারের  অনেকে  মনে  করলেন  যে  শ্রী রাধারমণ  একা  থাকার  জন্যই  অপহৃত  হন।  তাঁর  সঙ্গে  শ্রী রাধিকা  বিগ্রহ  থাকলে  হয়তো  এই  অঘটন  ঘটত  না।  ফলে  প্রায়  ৪০০০  টাকা  ব্যয়ে  তাঁর  পাশে  এক  রাধিকা  বিগ্রহের  প্রতিষ্ঠা  অনুষ্ঠান  বা  লৌকিক  বিবাহ  হয়।  দিনটা  ছিল   রাস  পূর্ণিমা।  এই  বিবাহে  শান্তিপুরের  সকল  ঠাকুরের  আগমণ  হয় । সেই  থেকেই  শান্তিপুরের  রাস-শোভাযাত্রার  সৃষ্টি  হয় ।  তার  আগে  মথুরেশের  সময়  থেকে  রাসের  প্রবর্তন  হয়।  সে  দিনের  সেই  রাস-শোভাযাত্রা  কালের  গণ্ডি  পেরিয়ে  আজকের  ভাঙ্গারাসের  শোভাযাত্রা  নামে  খ্যাত  হয়েছে।  বড়  গোস্বামী  বাড়ির  সেদিনের  শোভাযাত্রায়  অন্যতম  উদ্যোগী  হিসাবে  আয়োজনের  দায়িত্বে  ছিলেন  বড়  গোস্বামী  বাড়ির  শিষ্যকুল  তৎকালীন  খাঁ  চৌধুরী  পরিবারের  লোকজন।

              বর্গীর  হাঙ্গামার  সময়  এই  শাখার  কেউ  কেউ  শ্রীশ্রী  রাধারমণ  কে  নিয়ে  পাবনা  জেলার ( বর্তমানে বাংলাদেশ )  কাঁকুড়কাঁটা  গ্রামে  পালিয়ে  যান  এবং  পরে  হাঙ্গামা  কেটে  গেলে  পুনরায়  শান্তিপুরে  ফিরে  আসেন। 
   
              শ্রীরাধারমণ-শ্রীমতি  ছাড়াও  বড়গোস্বামী  বাড়িতে  পূজিত  হন  শ্রীঅদ্বৈতের  প্রিয়  শ্রীমদনমোহন-শ্রীমতি  সহ  বিভিন্ন  নামে  রাধাকৃষ্ণের  আরও  চারটি  যুগলমূর্তি।  এছাড়া,  জগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রা,  গোপাল,  শ্রীরামচন্দ্র,  ষড়ভুজ  মহাপ্রভু,  অদ্বৈতাচার্য-সীতাদেবী  এবং  অচ্যুতানন্দের  মূর্তিও  এখানে  নিত্য  পূজিত  হন।  রাঘবেন্দ্রপুত্র  বিষ্ণুদেব  সুপণ্ডিত  ছিলেন।  তিনি  শ্রীশ্রী  মদনমোহন  ও  শ্রীরামচন্দ্রের  মূর্তিটি  প্রতিষ্ঠা  করেন।  নদিয়ারাজ  কৃষ্ণচন্দ্র  রামচন্দ্র  বিগ্রহের  জন্য  এক  পঞ্চচূড়  রথ  ও  ৮০  বিঘা  ব্রহ্মোত্তর   জমি  দান  করেন। রাঘবেন্দ্রের  অপর  পুত্র  কালাচাঁদ   সিদ্ধ  পুরুষ  ছিলেন।  তিনি  সন্তোষের  রাজবংশের  দীক্ষাগুরু  ছিলেন।  কুচবিহার  রাজার  দেওয়ান,  পাবনার  পরদার  জমিদার  প্রভৃতি  তাঁর  শিষ্য  ছিলেন।  কালাচাঁদের  শাখার  কৃষ্ণকুমার  ভক্ত,  সাধক  ও  দিগ্বিজয়ী  পণ্ডিত  ছিলেন।  মহাপ্রভুর  ষড়ভুজ  মূর্তিটি  তিনি  স্থাপন  করেন।
   
              প্রধান  দুই  উৎসব  রাসযাত্রা  এবং  আচার্যদেবের  আবির্ভাব  তিথি  মাকড়ি  সপ্তমী  উপলক্ষে  'অদ্বৈত  উৎসব'  ছাড়াও  এখানে  বৈষ্ণব  ধর্মের  প্রতিটি  উৎসব-অনুষ্ঠান  যথোচিত  মর্যাদায়  পালিত  হয়।  এখানে  উল্লেখ্য,  শান্তিপুরে  শ্রীঅদ্বৈতাচার্য়ের  বংশধরদের  যে  বিগ্রহবাড়িগুলো  আছে  তার  মধ্যে  মধ্যম  গোস্বামী  বাড়ি  ও  বড়  গোস্বামী  বাড়িতেই  একমাত্র  দুর্গোৎসব  হয়। 
  
              শান্তিপুরের  বড়  গোস্বামী  বাড়িতে  যেতে  হলে  শিয়ালদহ  থেকে  শান্তিপুর  লোকাল  ধরুন।  রেলপথে  শান্তিপুরের  দূরত্ব  ৯৩  কি মি।  ট্রেনে  সময়  লাগে  ঘন্টা  আড়াই। স্টেশন  থেকে  রিকশায়  বা  টোটোতে  পৌঁছে  যান  বড়  গোস্বামী  বাড়ি।  ৩৪ নং  জাতীয়  সড়ক  শান্তিপুরের  ওপর  দিয়ে  গেছে।  তাই  বাসে  বা  গাড়িতেও  যেতে  পারেন। 


বড়  গোস্বামী  বাড়ির  তোরণপথ

বড়  গোস্বামী  বাড়ির  ফটক

বড়  গোস্বামী  বাড়ি 

নাটমন্দির

শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ  মন্দির 

শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ'র  দোল-ঝুলন  মঞ্চ 

শ্রীশ্রী রাধারমণ  জিউ'র  রাসমন্দির

শ্রীশ্রী মদনমোহন  ও  অন্যান্য  বিগ্রহ

শ্রীশ্রী মদনমোহন ও রাধারানি বিগ্রহ

শ্রীশ্রী রাধারমণ ও রাধারানি বিগ্রহ - ১

শ্রীশ্রী রাধারমণ ও রাধারানি বিগ্রহ - ২

শ্রীশ্রী রামচন্দ্র  বিগ্রহ

জগন্নাথ-বলভদ্র-সুভদ্রা  বিগ্রহ 

ষড়ভুজ  মহাপ্রভু
শ্রীঅদ্বৈতাচার্য ,  সীতাদেবী  ও  অচ্যুতানন্দের  মূর্তি 


বড় গোস্বামী বাড়িতে দুর্গা ( কাত্যায়নী ) পূজা

    বড়  গোস্বামী  বাড়ি  পরিদর্শনের  তারিখ :  ০৩.০১.২০১৬

সহায়ক  গ্রন্থাবলি   : 
            ১. নদিয়া  জেলার  পুরাকীর্তি :  মোহিত  রায় ( তথ্য-সংকলন  ও  গ্রন্থনা )
            ২. রাসোৎসব - ২০১৫  উপলক্ষে  শান্তিপুর  বিগ্রহবাড়ি  সমন্বয়  সমিতি  কর্তৃক  প্রকাশিত  পুস্তিকা 
            ৩. শান্তিপুর - পরিচয় ( ২ য় ভাগ ) :  কালীকৃষ্ণ  ভট্টাচার্য 
                                                   
                                                                     *******

রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ' প্রকাশিত হয়েছে।

 বইটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের মোড়ে দুই মোহিনীমোহন কাঞ্জিলালের কাপড়ের দোকানের মাঝের রাস্তা ১৫, শ্যামাচরণ দে স্ট্রিটের উপর অবস্থিত বিদ্যাসাগর টাওয়ারের দু'তলায় 'রা প্রকাশনে'র দোকান। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

            প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।