সীতানাথ মন্দির, ঝিখিরা, হাওড়া
শ্যামল কুমার ঘোষ
হাওড়া জেলার আমতা ২ নং ব্লকের অন্তর্গত একটি গ্রাম ঝিখিরা। হাওড়া স্টেশনের হাওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে ঝিখিরার বাসে এই গ্রামে যাওয়া যায়। সময় লাগে ২ ঘন্টা ১৫ মিনিট। বাসটি ঝিখিরার হলেও রাউতারা পর্যন্ত যায়। ঝিখিরা ও রাউতারা পাশাপাশি দুটি গ্রাম। ঝিখিরার উল্লেখযোগ্য পুরাকীর্তি, কাঁড়ার পাড়ায় অবস্থিত টেরাকোটাযুক্ত সীতানাথ ( শালগ্রাম শিলা ) মন্দির।
মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিবেদির উপর স্থাপিত, ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট, দক্ষিণমুখী, অলিন্দযুক্ত ও বাংলা আটচালা শৈলীর। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। তিনটি খিলানের উপরের টেরাকোটার বিষয় : লঙ্কা যুদ্ধ। ভিত্তিভূমির সংলগ্ন অনুভূমিক দুই সারির উপরের সারিতে আছে কৃষ্ণলীলার বিভিন্ন দৃশ্য ও নিচের সারিতে আছে সেকালের অভিজাত সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রার নানান দৃশ্য। বাঁকানো কার্নিসের নিচের এক অনুভূমিক সারি ও দেওয়ালের ধারের দুই উলম্ব সারির বর্গাকার কুলুঙ্গিতে আছে দশাবতার ও বিভিন্ন পৌরাণিক মূর্তি। বাঁকানো কার্নিসের নিচের কেন্দ্রস্থলে একটি কুলুঙ্গিতে আছে একটি গণেশ মূর্তি। মন্দিরের প্রতিষ্ঠালিপির পাঠ - "শুভমস্তু শকাব্দা ১৭০৫/২/২৮/৮/৩২ ।" অর্থাৎ ১৭০৫ শকাব্দের ( ১৭৮৩ খ্রিস্টাব্দের পৌষ মাসের ২৮ তারিখে ৮ দণ্ড ৩২ পলের সময় মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা হয়। মন্দিরের বাঁকানো কার্নিসের নিচে একটি সাল লেখা আছে ১৩৬১ সন। সম্ভবত সেটি সংস্কারের সময় লেখা হয়েছে। দেবালয়টির দৈর্ঘ ৫.৯ মি, প্রস্থ ৫.৩ মি এবং উচ্চতা প্রায় ১০.৭ মি। মন্দিরের পাশে একটি রাসমেঞ্চ আছে।
মন্দিরটি পরিদর্শনের তারিখ : ১১. ০৭. ২০১৮
 |
| গণেশ মূর্তি ও অন্যান্য চিত্র |
 |
| সীতানাথ মন্দির, ঝিকিরা |
 |
| মন্দিরের সামনের বিন্যাস |
 |
| বাঁদিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| বাঁদিকের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| বিষ্ণু ও ব্রহ্মা |
 |
| মাঝের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| ডানদিকের খিলানের উপরের কাজ |
 |
| ডানদিকের খিলানের উপরের কাজ ( বড় করে ) |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ১ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ২ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৩ |
 |
| কুলুঙ্গির মধ্যে কাজ - ৪ |
 |
| শিব পূজা |
 |
| ঘোড়সওয়ার ও বামন অবতার |
 |
| ঘোড়সওয়ার |
 |
| বামন অবতার |
 |
| নারদ ও বিষ্ণু |
 |
| নারদ |
 |
| বিষ্ণু |
 |
| ছেলে কাঁকে মহিলা ও অন্যান্য চিত্র |
 |
| ছেলে কাঁকে মহিলা |
 |
| মিথুন মূর্তি |
 |
| বাঁদিকের অর্ধস্তম্ভের কাজ |
 |
| কৃষ্ণের বাল্যলীলা |
 |
| ডানদিকের অর্ধস্তম্ভের কাজ |
 |
| পুতনা, শকটাসুর ও বকরাক্ষস বধ |
 |
| কংস বধ |
 |
| শিকার দৃশ্য |
 |
| প্রমোদভ্রমণ |
 |
| মন্দিরের প্রাতিষ্ঠাফলক |
 |
| রাসমঞ্চ |
 |
| রাসমঞ্চের মাঝের অংশ |
 |
| রাসমঞ্চের শিখর |
সহায়ক গ্রন্থ :
১) হাওড়া জেলার পুরাকীর্তি : তারাপদ সাঁতরা
---------------------------------------------
অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।
আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে এ জন্মে, এমনকি পরজন্মেও বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না।বিধবাদেরও পরজন্মে বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।
অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।
বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির ও বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি'। মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা।
রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।
প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।
বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন : 9038130757 এই নম্বরে।
কলকাতার কলেজস্ট্রিটের কাছে ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশনে ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।
----------------------------------------------------------------------
আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে WhatsApp করতে পারেন।