Terracotta Temple of Murshidabad লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Terracotta Temple of Murshidabad লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২০

Eastern and Southern Side Temples of Char Bangla Temple Complex, Baranagar, Azimganj, Murshidabad


পূর্ব  ও  দক্ষিণ  দিকের  মন্দির,  চার  বাংলা  মন্দির  চত্বর,  বড়নগর,  আজিমগঞ্জ,  মুর্শিদাবাদ 

                    শ্যামল  কুমার  ঘোষ 

             রানি  ভবানী  পূর্ব  বাংলার  ( বর্তমানে  বাংলাদেশ )  রাজশাহী  জেলার  অন্তর্গত  ছাতিম  গ্রামের  আত্মারাম  চৌধুরীর  কন্যা।  তাঁর  মাতার  নাম  জয়দুর্গা।  রাজশাহীর ( নাটোর )  জমিদার  রাজা  রামকান্ত  রায়ের  সঙ্গে  তাঁর  বিয়ে  হয়।  রামকান্ত  ১১৫৩  বঙ্গাব্দে  পরলোকগমন  করলে  রানি  ভবানী  তাঁর  সমস্ত  সম্পত্তির  উত্তরাধিকারিণী  হয়ে  বাংলার  জমিদারদের  মধ্যে  শ্রেষ্ঠ  স্থান  অধিকার  করেন।  তাঁর  জমিদারির  আয়  ছিল  প্রায়  দেড়  কোটি  টাকা।  তার  মধ্যে  ৭০  লক্ষ  টাকা  সরকারকে  রাজস্ব  দিতে  হত।  বাকি  টাকার  প্রায়  সমস্তটাই  তিনি  পুণ্যকাজে  ব্যয়  করতেন।  সেই  সময়  বঙ্গের  সমস্ত  জমিদারদের  মধ্যে  নাটোর  বংশের  আয়  ছিল  সবচেয়ে  বেশি

              মুর্শিদাবাদ  জেলার  বড়নগর  ভাগীরথী  নদীর  পশ্চিম  তীরের  একটি  গ্রাম।  এই  গ্রামের  ১  কিমি  দূরের  রেলস্টেশন  আজিমগঞ্জ  সিটি  এবং  ২  কিমি  দূরের  স্টেশন  আজিমগঞ্জ  জংশন।  কলকাতা  থেকে  আজিমগঞ্জ  জংশন  ২১৯  কিমি।  হাওড়া  থেকে  এক্সপ্রেস  ট্রেনে  গেলে  আজিমগঞ্জ  জংশনে  নামতে  হবে।  সেখান  থেকে  টোটোতে   আজিমগঞ্জ  সিটিতে  যাওয়া  যায়।  শিয়ালদহ  থেকে  প্যাসেঞ্জার  ট্রেনে  গেলে  আজিমগঞ্জ  সিটিতে  নামতে  পারেন।  থাকার  জন্য  সিটি  স্টেশনের  পাশে  কয়েকটি  হোটেল  আছে।  শিয়ালদহ-লালগোলা  লাইনের  জিয়াগঞ্জ  স্টেশনে  নেমে  গঙ্গা  পেরিয়েও  বড়নগরে  যেতে  পারেন। নশিপুর ব্রিজ হওয়ার পরে এখন এই লাইন দিয়ে সরাসরি আজিমগঞ্জ  জংশন যেতে পারেন।  

            বড়নগর  রানি  ভবানীর  অতি  প্রিয়  ছিল।  জীবনের  শেষ  ভাগ  তিনি  এখানেই  অতিবাহিত  করেন।  সেকালে  বড়নগর  ছিল  মুর্শিদাবাদের  বারাণসী।  এখানে  তিনি  বেশ  কয়েকটি  মন্দির  নির্মাণ  করেন।  তার  মধ্যে  'চারবাংলা'  মন্দিরগুচ্ছ  অন্যতম।  চারটি  কারুকার্যখচিত  একবাংলা  ( দোচালা )  মন্দির  একটি  অল্পপরিসর  বর্গাকার  প্রাঙ্গণে  অবস্থিত।  এগুলি  রানি  ভবানীর  অক্ষয়  কীর্তি।  এখানে  আমি  পূর্ব  ও  দক্ষিণ  দিকের  মন্দিরদুটি  নিয়ে  আলোচনা  করব।  অন্য  দুটি  মন্দির  আমি  অন্যত্র  আলোচনা  করেছি।  নিচে  সেই  দুটি  মন্দিরের  লিংক  দিলাম। 
             
     ১) উত্তর  দিকের  মন্দির,  চার  বাংলা  মন্দির  চত্বর,  বরনগর 

    ২) পশ্চিম  দিকের  মন্দির,  চার  বাংলা  মন্দির  চত্বর,  বরনগর 

            প্রথমে  পূর্ব  দিকের  মন্দির।  এই  মন্দিরটি  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত  পশ্চিমমুখী  ও  এক  বাংলা  ( দোচালা )  শৈলীর।  মন্দিরের  সামনে  তিনটি  খিলানযুক্ত  প্রবেশপথ।  মন্দিরের  সামনের দেওয়ালে  পঙ্খের  সুন্দর  কাজ  আছে।  শম্ভু  ভট্টাচার্য  তাঁর  'পশ্চিম  বঙ্গের  মন্দির'  গ্রন্থে  লিখেছেন,  " চুনবালির  পলস্তারা  কাটতে  শিল্পীগণ  এখানে  'অস্ত্র'  চালিয়েছেন  ক্যানভাসে  তুলি  চালানোর  মতন  করে।"  মন্দিরে  পঙ্খ  অলঙ্করণের  বিষয় : রামায়ণের  কাহিনী,  কৃষ্ণলীলা,  দশাবতার  চিত্র,  ষড়ভুজ  গৌরাঙ্গ,  তৃষ্ণার্তকে  সুন্দরীর  জলদান,  মা  ও  শিশু,  সপরিবারে  দুর্গা,  উড়ন্ত   পক্ষীদলের  মধ্যে  সীতা-সহ  রাবণের  রথ  ইত্যাদি।  কিন্তু  অযত্নে,  ছাতলার ( ছত্রাক )  প্রকোপে  এগুলি  এখন  খুবই  ম্লান।

রামরাজা, ভক্ত হনুমান ও অন্য একটি চিত্র

চার বাংলার পূর্ব দিকের মন্দির

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ

মাঝের খিলানের উপরের কাজ

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ

কুলুঙ্গির কাজ - ১
( রাবণ কর্তৃক সীতাহরণ, রামরাজা ও অন্য একটি চিত্র )

কুলুঙ্গির কাজ - ২
( রামরাজা, ভক্ত হনুমান ও অন্য একটি চিত্র )

কুলুঙ্গির কাজ - ৩
( সপরিবারে দুর্গা )

কুলুঙ্গির কাজ - ৪
( গণেশ, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা )


কুলুঙ্গির কাজ - ৫
( মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা, সরস্বতী ও কার্তিক  )

কুলুঙ্গির কাজ - ৬
( কৃষ্ণলীলা - ১ )
কুলুঙ্গির কাজ - ৭
( কৃষ্ণলীলা - ২ )

কুলুঙ্গির কাজ - ৮

কুলুঙ্গির কাজ - ৯
( দুই গোপিনীসহ  কৃষ্ণ )

কুলুঙ্গির কাজ - ১০
( রাবণ কর্তৃক সীতাহরণ )

কুলুঙ্গির কাজ - ১১
 ( মৎসাবতার )

কুলুঙ্গির কাজ - ১২
 ( কূর্মাবতার )

কুলুঙ্গির কাজ - ১৩
( ষড়ভুজ গৌরাঙ্গ )



            এবার  দক্ষিণ  দিকের  মন্দির।  এই  মন্দিরটিও  উঁচু  ভিত্তিবেদির  উপর  স্থাপিত,  উত্তরমুখী  ও  এক  বাংলা  ( দোচালা )  শৈলীর।  মন্দিরের  সামনে  তিনটি  খিলানযুক্ত  প্রবেশপথ।  মন্দিরের  সামনের দেওয়ালে  খুব  সামান্যই  টেরাকোটা  অলংকরণ  আছে।
চার বাংলার দক্ষিণ দিকের মন্দির 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

বাঁ দিকের কৌণিক ভাস্কর্য 

ডান দিকের কৌণিক ভাস্কর্য 
  সহায়ক  গ্রন্থ : 
               ১) মুর্শিদাবাদ-কাহিনী :  নিখিলনাথ  রায় 
             
                  ----------------------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                          ------------------------------------------------------------

         আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে  WhatsApp করতে পারেন।


বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২০

Panchamukhi Shib Temple, Baranagar, Azimganj, Murshidabad


পঞ্চমুখী  শিব  মন্দির,  বরনগর,  আজিমগঞ্জ,  মুর্শিদাবাদ
 
                      শ্যামল  কুমার  ঘোষ

            মুর্শিদাবাদ  জেলার  বড়নগর  ভাগীরথী  নদীর  পশ্চিম  তীরের  একটি  গ্রাম।  এই  গ্রামের  ১  কিমি  দূরের  রেলস্টেশন  আজিমগঞ্জ  সিটি  এবং  ২  কিমি  দূরের  স্টেশন  আজিমগঞ্জ  জংশন।  কলকাতা  থেকে  আজিমগঞ্জ  জংশন  ২১৯  কিমি।  হাওড়া  থেকে  এক্সপ্রেস  ট্রেনে  গেলে  আজিমগঞ্জ  জংশনে  নামতে  হবে।  সেখান  থেকে  টোটোতে   আজিমগঞ্জ  সিটিতে  যাওয়া  যায়।  শিয়ালদহ  থেকে  প্যাসেঞ্জার  ট্রেনে  গেলে  আজিমগঞ্জ  সিটিতে  নামতে  পারেন।  থাকার  জন্য  সিটি  স্টেশনের  পাশে  কয়েকটি  হোটেল  আছে।  শিয়ালদহ-লালগোলা  লাইনের  জিয়াগঞ্জ  স্টেশনে  নেমে  গঙ্গা  পেরিয়েও  বড়নগরে  যেতে  পারেন।

            আজিমগঞ্জ  সিটি  স্টেশন  থেকে  বরনগরে  যাওয়ার  পথে  ডান  দিকে  গঙ্গার  ধারে  একটি  শিব  মন্দির  দেখা  যায়  যেটি  পঞ্চমুখী  বা  পাঁচমুখী  শিব  মন্দির  বলে  পরিচিত।

            প্রায়  ভূমি  সমতলে  অবস্থিত,  ত্রিখিলান  প্রবেশপথবিশিষ্ট,   দক্ষিণমুখী  মন্দিরটি  'দোচালা'  বা  'এক  বাংলা'  শৈলীর।  মন্দিরের  সামনের  তিনটে  খিলানের  উপর  'টেরাকোটা'র  অলংকরণ  আছে।  যদিও  রঙের  প্রলেপে  সেই  'টেরাকোটা'  এখন  অনেকটাই ম্লান।  টেরাকোটার  বিষয় :  রামরাবণের  যুদ্ধ।  মন্দিরটির  প্রতিষ্ঠাতা  ও  প্রতিষ্ঠাকাল  জানা  যায়  না।  ১৯৪০  খ্রিস্টাব্দে  স্থানীয়  জৈন ব্যবসায়ী  D. L. Nowlakha  মন্দিরটির  সংস্কার  করেন।  মন্দিরটি  একটি  ঘেরাক্ষেত্রে  অবস্থিত।  সামনে  সুন্দর  ফুলের  বাগান।  মন্দিরের  গর্ভগৃহে  একটি  পঞ্চমুখী  শিব  নিত্য  পূজিত। 

Add caption

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের ত্রিখিলান বিন্যাস

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

পঞ্চমুখী শিব 
    
             -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                             -------------------------------------------------------

            আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে  WhatsApp করতে পারেন।


মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৯

Gangeshwar Jor Bangla Shib Temple, Baranagar, Azimganj, Murshidabad


গঙ্গেশ্বর জোড় বাংলা শিবমন্দির, বড়নগর, আজিমগঞ্জ, মুর্শিদাবাদ 

                         শ্যামল কুমার ঘোষ 

            রানি ভবানী পূর্ব বাংলার ( বর্তমানে বাংলাদেশ ) রাজশাহী জেলার অন্তর্গত ছাতিম গ্রামের আত্মারাম চৌধুরীর কন্যা। তাঁর মাতার নাম জয়দুর্গা। রাজশাহীর ( নাটোর ) জমিদার রাজা রামকান্ত রায়ের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। রামকান্ত ১১৫৩ বঙ্গাব্দে পরলোকগমন করলে রানি ভবানী তাঁর সমস্ত সম্পত্তির উত্তরাধিকারিণী হয়ে বাংলার  জমিদারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। তাঁর জমিদারির আয় ছিল প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার মধ্যে ৭০ লক্ষ টাকা সরকারকে রাজস্ব দিতে হত। বাকি টাকার প্রায় সমস্তটাই তিনি পুণ্যকাজে ব্যয় করতেন। সেই সময় বঙ্গের সমস্ত জমিদারদের মধ্যে নাটোর বংশের আয় ছিল সবচেয়ে বেশি

              মুর্শিদাবাদ জেলার বড়নগর ভাগীরথী নদীর পশ্চিম তীরের একটি গ্রাম। এই গ্রামের ১ কিমি দূরের রেলস্টেশন আজিমগঞ্জ সিটি এবং ২ কিমি দূরের স্টেশন আজিমগঞ্জ জংশন। কলকাতা থেকে  আজিমগঞ্জ জংশন ২১৯ কিমি। হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে গেলে আজিমগঞ্জ জংশনে নামতে হবে। সেখান থেকে টোটোতে  আজিমগঞ্জ সিটিতে যাওয়া যায়। শিয়ালদহ থেকে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে গেলে আজিমগঞ্জ সিটিতে নামতে পারেন। থাকার জন্য সিটি স্টেশনের পাশে কয়েকটি হোটেল আছে। শিয়ালদহ লালগোলা লাইনের জিয়াগঞ্জ স্টেশনে নেমে গঙ্গা পেরিয়েও বড়নগরে যেতে পারেন। নশিপুর ব্রিজ হওয়ার পরে এখন এই লাইন দিয়ে কলকাতা থেকে সরাসরি  আজিমগঞ্জ  জংশন যেতে পারেন।   

            বড়নগর রানি ভবানীর অতি প্রিয় ছিল। জীবনের শেষ ভাগ তিনি এখানেই অতিবাহিত করেন। সেকালে বড়নগর ছিল মুর্শিদাবাদের বারাণসী। এখানে তিনি বেশ কয়েকটি মন্দির নির্মাণ করেন। তার মধ্যে গঙ্গেশ্বর শিবমন্দিরটি উল্লেখযোগ্য।

            প্রায় ভূমিসমতলে অবস্থিত ইঁটের তৈরি 'জোড়বাংলা' মন্দিরটি  পশ্চিমমুখী ও ত্রিখিলান প্রবেশপথবিশিষ্ট। দুটি 'দোচালা' বা 'এক বাংলা' জোড়া দিয়ে এ ধরণের মন্দির তৈরি হয় বলে এই স্থাপত্য শৈলীর নাম 'জোড়বাংলা'। মন্দিরের সামনের দোচালাটি পরিদর্শন কক্ষ বা জগমোহন হিসাবে এবং পিছনের দোচালাটি গর্ভগৃহ হিসাবে ব্যবহৃত হোত। এখন অবশ্য সামনের দিকটি খোলা হয় না। মন্দিরের সামনের দিকে গর্ভগৃহে ঢোকার তিনটি দরজা। দক্ষিণ দিকে আর একটি দরজা আছে। মন্দিরের সামনের দেওয়াল টেরাকোটা অলংকারে অলংকৃত। উত্তর ও দক্ষিণ দিকে অল্প টেরাকোটা অলংকার আছে। যদিও কালের করালগ্রাসে অনেক 'টেরাকোটা' ফলক এখন ভগ্ন। 'টেরাকোটা'র বিষয় :  রামায়ণের কাহিনী, কৃষ্ণলীলার নানা দৃশ্য ও সমকালীন সমাজচিত্র। সামনের দেওয়ালের বাঁকানো কার্নিসের নিচের এক সারি কুলুঙ্গির মধ্যে 'টেরাকোটা'র কালী মূর্তি আছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে তিনটি শিবলিঙ্গ বিরাজিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মন্দিরটি  আনুমানিক ১৭৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত।      


গঙ্গেশ্বর শিবমন্দির, বড়নগর, মুর্শিদাবাদ 

মন্দিরের সামনের বিন্যাস 

মন্দিরের সামনের ত্রিখিলান বিন্যাস 

বাঁ দিকের খিলানের উপরের কাজ 

মাঝের খিলানের উপরের কাজ 

ডান দিকের খিলানের উপরের কাজ 

কৌণিক ভাস্কর্য, সামনের দেওয়াল 

কৌণিক ভাস্কর্য, সামনের দেওয়াল 

কৌণিক ভাস্কর্য, উত্তর দিকের দেওয়াল
( ময়ূর ও সাপ )

কৌণিক ভাস্কর্য, উত্তর দিকের দেওয়াল
( ময়ূর ও সাপ )

বাঁ দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ 
বনবাসের পথে রাম-লক্ষণ-সীতা, সারথি সুমন্ত্র  

রামকে অযোধ্যায় ফিরিয়ে আনতে ভরত ও শত্রুঘ্ন   

পঞ্চবটি  বনে কুটির নির্মাণ 

বাঁ দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ 

তাড়কা বধ ও অন্যান্য চিত্র 

বাঁ দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ (আংশিক )

রাম কর্তৃক অহল্যা-উদ্ধার ও অন্য চিত্র   

বাঁ দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ

ডান দিকের পূর্ণ স্তম্ভের কাজ

নবনারীকুঞ্জর 

ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ
ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ ( বড় করে )

কৃষ্ণের এক আঙুলে গিরিগোবর্ধন ধারণ 

যশোদার দধিমন্থন কালে কৃষ্ণ-বলরামের ননীপাত্রে হস্থপ্রবেশ  

ডান দিকের অর্ধ স্তম্ভের কাজ ( বড় করে )

উপরে : শিয়াল প্রদর্শিত পথে বাসুদেবের যমুনা অতিক্রমের দৃশ্য ও নিদ্রিত প্রহরীরা
নিচে : শিকার  

সীতার বিবাহ 

মারীচ বধ 

বাঘের সঙ্গে লড়াই 

কালী 

বিভিন্ন টেরাকোটা চিত্র - ১

বিভিন্ন টেরাকোটা চিত্র - ২

বিভিন্ন টেরাকোটা চিত্র - ৩

বিভিন্ন টেরাকোটা চিত্র - ৪

রাম-রাবণের যুদ্ধ ( এখানে  রাবণ  জোড়হস্থে )

যুদ্ধরত রাম 

কালী 

কালী ও অন্য চিত্র 

চতুর্মুখ ব্রহ্মা ও অন্য চিত্র 

চতুর্মুখ ব্রহ্মা

আর একটি টেরাকোটা চিত্র 

দশভুজা কর্তৃক শিবপূজা 

অমিততেজ পুরুষ 

কৃষ্ণ লীলা - ১

কৃষ্ণ লীলা - ২

কৃষ্ণ লীলা - ৩

রাম-রাবণের যুদ্ধ ( রাম এখানে হনুমানের কাঁধে ) 

রাম কর্তৃক মহিষমর্দিনীর আবাহন  

গর্ভগৃহের মাঝের দরজার উপরে 
( শুম্ভ-নিশুম্ভের সঙ্গে চণ্ডীর যুদ্ধ )

বড় করে 

নকশা - ১

নকশা - ২
   

সহায়ক গ্রন্থ / প্রবন্ধ  :    

               ১) মুর্শিদাবাদ-কাহিনী : নিখিলনাথ রায় 

           -------------------------------------------

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে নিয়ে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে শোভাবাজার রাজবাড়ির মহারাজা নবকৃষ্ণের মামলা হয়েছিল এবং সে মামলা প্রিভি কাউন্সিল পর্যন্ত গড়িয়েছিল।

 বিষ্ণুপুরের প্রাণের দেবতা মদনমোহনকে মল্লরাজ চৈতন্য সিংহ কলকাতার গোকুল মিত্রের কাছে বন্ধক দিয়েছিলেন।

 আড়ংঘাটার যুগলকিশোর দর্শন করতে আসা মহিলাদের বিশ্বাস, জ্যৈষ্ঠমাসে যুগলকিশোর দর্শন করে পুজো দিলে জন্মে, এমনকি পরজন্মেও  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হয় না। বিধবাদেরও পরজন্মে  বৈধব্যদশা ভোগ করতে হবে না।

 অনেক ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রীরামপুরের বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, খড়দহের শ্যামসুন্দর এবং 
সাঁইবনার নন্দদুলাল -এই তিনটি বিগ্রহ উপবাসে থেকে একই দিনে দর্শন করলে আর
পুনর্জন্ম হয় না।

 বঙ্গের এইরকম চোদ্দোটি মন্দির বিগ্রহের অজানা কাহিনি নিয়ে আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই  'মন্দির ও বিগ্রহের কাহিনি' মুদ্রিত মূল্য: ৩৯৯ টাকা। 



রামায়ণের ৭টি খণ্ডের ৬৪ টি উপাখ্যান ও ১৮৫ টি টেরাকোটা ফলকের আলোকচিত্র সংবলিত আমার লেখা এবং 'রা প্রকাশন' কর্তৃক প্রকাশিত বই 'বাংলার টেরাকোটা মন্দিরে রামায়ণ'। বইটির মুদ্রিত মূল্য — ৭৯৯ টাকা।



 প্রকাশনীতে বইটি সেরা বইয়ের সম্মান স্বর্ণকলম ২০২৫ পেয়েছে ।




 বই দুটি ডাক যোগে সংগ্রহ করতে হলে যোগাযোগ করুন :  9038130757 এই নম্বরে। 

কলকাতার কলেজস্ট্রিটের চার মাথা মোড়ের হাওড়ার দিকের রাস্তায় ৯৩, মহাত্মা গান্ধী রোডে অবস্থিত হিন্দু সৎকার সমিতি বিল্ডিং-এর দু তলায় ( টেকনো ওয়ার্ল্ড -এর বিপরীতে ) 'রা প্রকাশন ও মুদ্রণের' বিপণি 'রা বইহেমিয়ন'। ওখান থেকে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন। কোনও অসুবিধা হলে উপরোক্ত নম্বরে ফোন করতে পারেন।

                              ---------------------------------------------------------

          আমার WhatsApp no. 8961961262. প্রয়োজনে  WhatsApp করতে পারেন।